বাউল
| বাউল সঙ্গীত | |
|---|---|
| দেশ | বাংলাদেশ ও ভারত |
| সূত্র | 00 |
| ইউনেস্কো অঞ্চল | এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর |
| অন্তর্ভূক্তির ইতিহাস | |
| অন্তর্ভূক্তি | ২০০৮ (তৃতীয় অধিবেশন অধিবেশন) |
| তালিকা | প্রতিনিধি |
বাউল হলো সুফিবাদ ও বৈষ্ণব সহজিয়ার মিশ্র তত্ত্বে গঠিত একদল সাধক ও যাযাবর গায়ক-বাদক, যাদের বসবাস বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের বরাক উপত্যকা ও মেঘালয়ে।[১][২] বাউলরা একই সঙ্গে একটি সংকর ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং একটি সংগীতধারা। তারা একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় গোষ্ঠী, যার মধ্যে বহু উপসম্প্রদায় রয়েছে; তবে তাদের সদস্যদের অধিকাংশই গৌড়ীয় বৈষ্ণব অনুসারী বাঙালি হিন্দু ও সুফি বাঙালি মুসলমান।[৩][৪] তাদের স্বতন্ত্র পোশাক ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই চেনা যায়। ইতিহাসে লালন শাহ সর্বাধিক খ্যাতিমান বাউল সাধক হিসেবে পরিচিত।[৫][৬][৭]
বাঙালি জনসংখ্যার মধ্যে বাউলরা সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে অল্প হলেও বাংলা সংস্কৃতিতে তাদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। তাদের এই সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের “বাউল ঐতিহ্য”-কে মানবতার মৌখিক ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।[৮]
ব্যুৎপত্তি
‘বাউল’ শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, শব্দটি সংস্কৃত ‘ভাতুল’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘পাগল’ বা ‘উন্মাদ’; আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি সংস্কৃত ‘ব্যাকুল’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘অধীরভাবে আগ্রহী’ বা ‘উদ্বিগ্ন’। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, বাউলরা ‘বা‘আল’ নামে পরিচিত সুফিবাদের একটি বিশেষ শাখার উত্তরসূরি হতে পারে।[৯] দার্শনিক শশিভূষণ দাশগুপ্তের মতে, এই সব ব্যুৎপত্তিই শব্দটির আধুনিক অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—অর্থাৎ এমন একদল অনুপ্রাণিত মানুষ, যারা আধ্যাত্মিক জীবনে উন্মত্ত ব্যাকুলতায় চিরন্তন প্রিয়ের সঙ্গে মিলন অনুভব করতে চায়।[১০] অন্য একটি মত অনুযায়ী, ‘বাউল’ শব্দটি ফারসি ‘আউল’ শব্দ থেকেও উদ্ভূত হতে পারে।[১১]
ইতিহাস
বাউলদের সঠিক উৎপত্তি নির্ভুলভাবে জানা যায় না; তবে ‘বাউল’ শব্দের উল্লেখ পঞ্চদশ শতকের বাংলা সাহিত্যেই পাওয়া যায়। বৃন্দাবন দাস ঠাকুর রচিত চৈতন্য ভাগবত[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য চরিতামৃত-এ এই শব্দটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।[১২] কিছু গবেষকের মতে, ‘বাউল’ শব্দটি কবে ‘উন্মাদ’ বা ‘উদ্বিগ্ন’ অর্থ থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বতন্ত্র সম্প্রদায়ের পরিচায়ক হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বাউলরা গ্রামীণ বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের উৎপত্তি নির্ণয়ের জন্য বহু প্রচেষ্টা চালানো হলেও গবেষকদের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।[১৩] তবে সবাই একমত যে, বাউলদের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা নেই—এ কথা বাউল সমাজ নিজেরাও স্বীকার করে এবং বাইরের গবেষকরাও তা মেনে নেন।[১৪]
বাউলরা বিভিন্ন নামধারী দলে বিভক্ত, এবং প্রতিটি দল কোনো নির্দিষ্ট হিন্দু অথবা মুসলিম গুরুকে অনুসরণ করে। এ ছাড়া দারবেশি, নেড়া এবং কর্তাভজাদের দুটি উপশাখা—আউল ও সাঁই—পরবর্তীকালে নিজেদের বাউলদের সঙ্গে যুক্ত বা সম্বন্ধযুক্ত বলে পরিচয় দিয়েছে। বাউলরা নিজেরাই তাদের ইতিহাসসংক্রান্ত লিখিত তেমন কোনো দলিল না থাকার কারণ হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো চিহ্ন রেখে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেন। ড. জিন ওপেনশ’র মতে, উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত বাউল সংগীত সম্পূর্ণভাবে মৌখিক ধারার মাধ্যমেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হতো; পরে বাইরের পর্যবেক্ষকদের উদ্যোগেই প্রথম তা লিপিবদ্ধ করা হয়।[১৫]
বাউলরা মূলত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত—একদল সংসারত্যাগী বাউল এবং অন্যদল সংসারী বাউল।[২] সংসারত্যাগী বাউলরা পরিবার ও সমাজজীবন পরিত্যাগ করে ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। তাদের কোনো স্থায়ী বাসস্থান নেই; তারা এক আখড়া থেকে অন্য আখড়ায় ঘুরে বেড়ান। বাংলাদেশের সংসারত্যাগী পুরুষ বাউলরা সাধারণত সাদা লুঙ্গি ও লম্বা সাদা আলখাল্লা পরেন, আর নারীরা সাদা শাড়ি পরিধান করেন। তারা ভিক্ষার জন্য কাঁধে ঝোলা বহন করেন। তারা সন্তান জন্ম দেন না বা লালন-পালনও করেন না এবং সমাজে তাদের ‘জ্যান্ত মারা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেসব নারী সংসারত্যাগী বাউলদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের ‘সেবাদাসী’ বলা হয়। একজন পুরুষ বাউলের সঙ্গে একজন সেবাদাসী থাকতে পারে, যিনি সাধনা ও ভক্তিচর্চায় তার সহযোগী হন। ১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়া জেলায় সংসারত্যাগী বাউলের সংখ্যা ছিল ২৫২ জন; ১৯৮২–৮৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০৫ জনে এবং ২০০০ সালে এ সংখ্যা প্রায় ৫,০০০ জনে পৌঁছায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
যেসব বাউল সংসারী জীবন বেছে নেন, তারা স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গ্রামের নিরিবিলি কোনো অংশে বসবাস করেন। তারা সাধারণত সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করেন না। সংসারত্যাগী বাউলদের তুলনায় তাদের আচার-অনুশাসন অপেক্ষাকৃত শিথিল। বাউল হওয়ার জন্য তারা কিছু তত্ত্বমূলক বা আধ্যাত্মিক পদ আবৃত্তি করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় আচার পালন করেন।[২]
ধারণা এবং অনুশীলন

বাউল সংগীত মূলত ঐশ্বরিক প্রেমের উদযাপন করে, তবে তা প্রকাশ পায় অত্যন্ত মানবিক ও পার্থিব ভাষায়—যেমন বাউলের তার বোস্টমী বা জীবনসঙ্গীর প্রতি প্রেমঘোষণার মাধ্যমে। প্রেমকে এভাবে উদার ও মুক্ত দৃষ্টিতে দেখার ফলে বাউল ভক্তিগীতি ধর্মের সীমা অতিক্রম করে এক সার্বজনীন রূপ লাভ করেছে। এ কারণেই লালনের মতো বহু খ্যাতনামা বাউল স্রষ্টা ধর্মীয় বিভেদের বাহ্যিকতা ও সংকীর্ণতার সমালোচনা করেছেন।
সব লোকে কয় "লালন কি জাত সংসারে?"
লালন বলে জাতের কি রূপ?
দেখলাম না এই নজরে।
কেউ মালা কেউ তসবিহ গলে,
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলে
আসা কিংবা যাওয়ার কালেজাতের চিহ্ন রয় কারে?"[১৬]
বাউলদের ধর্মচর্চা মূলত দেহসাধনা এবং মনসাধনার -এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাদের কিছু আচার-অনুশীলন তারা বহিরাগতদের কাছ থেকে গোপন রাখে, কারণ সেগুলো অনেকের কাছে অসংযত বা ভোগবাদী বলে মনে হতে পারে।[১৭] বাউলরা তাদের আধ্যাত্মিক সাধনার অনেকটাই কেন্দ্রীভূত করেন দেহের চারটি তরল, দেহের নয়টি দ্বার, ‘প্রকৃতি’কে ‘প্রাকৃতিক শক্তি’ বা ‘আদি চালিকাশক্তি’ হিসেবে ধারণা করা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসভিত্তিক সাধনার ওপর।
সঙ্গীত

বাউলদের সংগীত, যা ‘বাউল সঙ্গীত’ নামে পরিচিত, এক বিশেষ ধরনের লোকগীতি। এই সংগীতের মাধ্যমে বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে আধ্যাত্মিকতার বাণী প্রচারিত হয়ে আসছে। বাউলরা তাদের অনুভূতি গানেই উজাড় করে দেন, কিন্তু সেগুলো লিখে রাখার প্রবণতা তাদের নেই; কারণ বাউল সঙ্গীতের ধারা মূলত মৌখিক। বলা হয়ে থাকে, সর্বশ্রেষ্ঠ বাউল সাধক লালন ফকির (১৭৭৪–১৮৯০) বহু দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে গান রচনা ও পরিবেশন করেছেন, কিন্তু কখনোই তা সংশোধন বা লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মৃত্যুর পরই মানুষ তাঁর গান সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ নেয়।
বাউল গানের কথায় গভীর আধ্যাত্মিকতা এবং পরম সত্তার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে ওঠে। তাদের দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘দেহতত্ত্ব’, যেখানে মন নয়, দেহকে কেন্দ্র করেই সাধনা ও আধ্যাত্মিকতা গড়ে ওঠে। তারা ঈশ্বরকে মানুষে মানুষেই খুঁজে ফেরেন। দার্শনিক ও অতীন্দ্রিয় বিষয়গুলো তারা অত্যন্ত বিনয়ী ও সহজ ভাষায় প্রকাশ করেন। বাউলরা জীবনের ভোগবিলাস উপভোগ করলেও তার বন্ধনে আবদ্ধ না থাকার শিক্ষা দেন। তাদের মতে, আমরা সবাই ঐশ্বরিক শক্তির দান, মানবদেহ একটি মন্দির এবং সেই শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পথই হলো সংগীত।[১৮]
বাউল গানের একটি ধারাবাহিক বিষয় হলো দেহকেন্দ্রিক সাধনা, যার উদ্দেশ্য কামবাসনার নিয়ন্ত্রণ। গোপনীয় ভাষায় রচিত তাদের গানে গর্ভধারণ ও গর্ভনিরোধ সম্পর্কিত গূঢ় জ্ঞানও প্রকাশ পায়, যা গুরুর ব্যাখ্যার মাধ্যমে শিষ্যদের কাছে বোধগম্য ও অনুভবযোগ্য হয়।[১৯]
গ্রামীণ দৈনন্দিন জীবনের প্রচলিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি, বাউল গান সবসময়ই পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা দেখিয়েছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক নতুনত্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক বাউল রচনায় আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয় আধুনিক, শহুরে ও প্রযুক্তিগত শব্দভাণ্ডারের মাধ্যমে। এমনকি বাউল গানের মাঝে মোবাইল ফোন, রেডিও চ্যানেল, ফুটবল ম্যাচ এবং টেলিভিশনের মতো বিষয়কে গানদ্বয়েও স্থান দিতে দেখা যায়, যা এখন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।[২০]
বাউলরা বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো একতারা, যা এক তারবিশিষ্ট “প্লাকড ড্রাম” ধরনের ড্রোন বাদ্যযন্ত্র। এটি লাউয়ের খোলের মূল অংশ থেকে খোদাই করা হয় এবং বাঁশ ও ছাগলের চামড়ার সাহায্যে তৈরি করা হয়। অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে আছে দোতারা, একটি লম্বা-ঘাড়যুক্ত ফ্রেটবিহীন লুট। যদিও এর নামের অর্থ “দুটি তারবিশিষ্ট”, সাধারণত এতে চারটি ধাতব তার থাকে এবং এটি কাঁঠালের বা নিম গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। এছাড়া খামাক নামে একটি এক-মাথার ঢোল আছে, যার সাথে একটি তার সংযুক্ত থাকে এবং এটি প্লাকড করে বাজানো হয়। একতারার থেকে একমাত্র পার্থক্য হলো, খামাকে বাঁশ ব্যবহার করে তার টানানো হয় না; এক হাত দিয়ে তার ধরে রাখা হয়, আর অন্য হাতে দিয়ে প্লাকড করা হয়।[২১] অন্যান্য ঢোলজাত বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে আছে দুগ্গি, একটি ছোট হাতে ধরা মাটির ঢোল; এবং ঢোল ও খোল। এছাড়া ক্ষুদ্র সাইম্বল খারতাল ও মঞ্জিরা এবং বাঁশের বাঁশি ব্যবহার করা হয়। ঘুঙরু ও নুপুর হলো খাঁপা যুক্ত পায়ের অলঙ্কার, যা যিনি পরেন, তিনি নাচার সময় বাজে।
একটি বাউল পরিবার ১৯৭১, ১৯৭২ এবং ১৯৭৮ সালে লন্ডনের হাইড পার্কে রোলিং স্টোনসের কনসার্টে মঞ্চে গান পরিবেশন করেছিল, যেখানে হাজার হাজার দর্শক তাদের সঙ্গীত উপভোগ করেছিলেন।[২২]
বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পূর্বাঞ্চলে বাউলদের দেখা মেলে । উনিশ শতক এবং বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাউল আন্দোলন তার তুঙ্গে ছিল, কিন্তু আজও মাঝেমধ্যেই বাউলদের একতারা (এক তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র) নিয়ে দেখা যায়।
বাংলাদেশ

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়ায় “লালন স্মরণ উৎসব” (লালন স্মৃতি উৎসব) অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে আগত বাউল ও লালনভক্তরা এসে লালনের সাধনা ও মরমি দর্শনের পরিবেশনা ও প্রচার করেন।[২৩]
বাংলাদেশি সংগঠন পল্লী বাউল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ২০০০ সাল থেকে বাউল ঐতিহ্য ও দর্শন সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি প্রায়ই শহুরে শ্রোতাদের জন্য লোকগানের নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নিয়মিতভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসব ও সেমিনারের আয়োজন করে থাকে, যেখানে বাউল সংগীত পরিবেশিত হয় এবং বাউল ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিভিন্ন সময়ে ইসলামপন্থীদের দ্বারা বাউলরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, কারণ তারা বাউলদের ধর্মত্যাগী হিসেবে দেখেন এবং সংগীতের বিরোধিতা করেন।[২৪]
ভারত
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার জয়দেব কেঁদুলি গ্রামে পৌষ মাসে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কবি জয়দেবের স্মরণে একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় এত বিপুল সংখ্যক বাউল সমবেত হন যে একে “বাউল মেলা” বলেও অভিহিত করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার সময়েও অসংখ্য বাউল একত্রিত হয়ে তাঁদের সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে মুগ্ধ করেন।
অন্যান্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও ‘ওয়েস্টার্ন বাউল’ নামে বাউলদের একটি ধারার অস্তিত্ব রয়েছে, যারা যোগী রামসুরতকুমারের শিষ্য লি লোজোভিকের আধ্যাত্মিক নির্দেশনায় পরিচালিত হন। তাঁদের সংগীতের ধরন (রক/গসপেল/ব্লুজ) ভিন্ন হলেও পূর্বের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভাব বজায় রাখা হয়েছে।[২৫]
উল্লেখযোগ্য গায়ক
আরো দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ "Baul | Folk Singers, Mysticism & Sufism"। Encyclopædia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২৪।
- 1 2 3 Karim, Anwarul (২০১২)। "Baul"। Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A. (সম্পাদকগণ)। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh।
- ↑ "Baul (Indian music)"। Encyclopædia Britannica। ১৮ জুন ২০১৫।
- ↑ "Bauled over"। The Times of India। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০। ৪ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৩।
- ↑ World and its People: Eastern and Southern Asia। New York: Marshal Cavendish Corporation। ২০০৭। পৃ. ৪৮০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৪-৭৬৩১-৩।
- ↑ Paul, Harendra Chandra (১৯৮৭)। "Origin of the Bauls and their Philosophy"। Khan, Shamsuzzaman (সম্পাদক)। Folklore of Bangladesh। খণ্ড ১। Dhaka: Bangla Academy। পৃ. ২৫৭।
Faquir Lalan-Shah (1775–1891 A.D.), its greatest exponent
- ↑ Chowdhury, Kabir (১৯৮৫)। Folk Poems From Bangladesh। Dhaka: Bangla Academy। পৃ. ii।
- ↑ UNESCOPRESS। "UNESCO - The Samba of Roda and the Ramlila proclaimed Masterpieces of the Oral and Intangible Heritage of Humanity"। portal.unesco.org। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Karim, Anwarul (২০১২)। "Baul"। Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A. (সম্পাদকগণ)। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh।
- ↑ Dasgupta, Shashibhushan (১৯৬২) [First published 1946]। Obscure Religious Cults। Calcutta: Firma KLM। পৃ. ১৬০–১৬১। ওসিএলসি 534995।
- ↑ Urban, Hugh B. (নভেম্বর ২০০১)। "The Marketplace and the Temple: Economic Metaphors and Religious Meanings in the Folk Songs of Colonial Bengal"। The Journal of Asian Studies। ৬০ (4): ১০৯১। ডিওআই:10.2307/2700021। জেস্টোর 2700021।
- ↑ Dasgupta, Shashibhushan (১৯৬২) [First published 1946]। Obscure Religious Cults। Calcutta: Firma KLM। পৃ. ১৬১। ওসিএলসি 534995।
- ↑ Openshaw, Jeanne (২০০২)। Seeking Bauls of Bengal। Cambridge University Press। পৃ. ৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮১১২৫-৫।
- ↑ Openshaw, Jeanne (২০০২)। Seeking Bauls of Bengal। Cambridge University Press। পৃ. ৫৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮১১২৫-৫।
- ↑ Openshaw, Jeanne (২০০২)। Seeking Bauls of Bengal। Cambridge University Press। পৃ. ৫৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮১১২৫-৫।
- ↑ Lopez, Donald (১৯৯৫)। Religions in India in Practice - "Baul Songs"। Princeton, NJ: Princeton University Press। পৃ. ১৮৭–২০৮। আইএসবিএন ০-৬৯১-০৪৩২৪-৮।
- ↑ Lorea, Carola Erika (২৫ মে ২০১৮)। ""I Am Afraid of Telling You This, Lest You'd Be Scared Shitless!": The Myth of Secrecy and the Study of the Esoteric Traditions of Bengal"। Religions। ৯ (6): ১৭২। ডিওআই:10.3390/rel9060172।
Moreover, according to most of my informants, while practices are fit to be covered by secrecy and a secret jargon, theories are not.
- ↑ Music (২৬ জুলাই ২০১১)। "Bauls of Bengal – The Liberation Seekers"। Emaho Magazine। ২৯ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Lorea, Carola (২০১৪)। "Why do you go swimming in the river full of algae? Conception and contraception in Baul songs and oral teachings"। Journal of Folklore and Folkloristics। ৭ (1): ৯–৪৫।
- ↑ Lorea, Carola Erika (জানুয়ারি ২০১৪)। "Searching for the Divine, Handling Mobile Phones"। History and Sociology of South Asia (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ (1): ৫৯–৮৮। ডিওআই:10.1177/2230807513506629। আইএসএসএন 2230-8075। এস২সিআইডি 146915924।
- ↑ Dilip Ranjan Barthakur (২০০৩)। The Music And Musical Instruments of North Eastern India। Mittal Publications। পৃ. ১৩০–। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৯৯-৮৮১-৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৩।
- ↑ Music (২৬ জুলাই ২০১১)। "Bauls of Bengal – The Liberation Seekers"। Emaho Magazine। ২৯ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Aman, Amanur (১৩ মার্চ ২০১২)। "Lalon Smaran Utshab ends"। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Aman, Amanur (১২ মার্চ ২০২৩)। "No country for bauls"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ Helen Crovetto, "Embodied Knowledge and Divinity: The Hohm Community as Western-style Bāuls," Nova Religio: The Journal of Alternative and Emergent Religions 10, no. 1 (August 2006): pp. 69-95.