হিন্দুধর্মের সমালোচনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হিন্দুধর্মের সমালোচনা বলতে হিন্দু ও অহিন্দুদের করা হিন্দুদের প্রথা ও বিশ্বাসগুলির সমালোচনাকে বোঝায়। প্রথম যুগের হিন্দু ধর্মসংস্কারকরা হিন্দুধর্মের প্রচলিত অপব্যাখ্যাগুলির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। পরবর্তীকালের সংস্কারকরাও তাদের সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তাই করেছিলেন।[১][২][৩][৪][৫]

সামাজিক গঠন[সম্পাদনা]

নেপালভারতের বর্ণব্যবস্থা বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত। এই বর্ণব্যবস্থা একটি ক্রমোচ্চ শ্রেণীবিভাগ হিসেবে বর্ণিত হয়। এখানে সমাজের নানা স্তরের মানুষদের উচ্চ ও নিম্ন বিভিন্ন বর্ণে ভাগ করা হয়। এই বর্ণভিত্তিক সমাজব্যবস্থা হিন্দুধর্মের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।[৬] হিন্দুধর্মের বর্ণব্যবস্থা জন্মগত বলে বর্ণিত হলেও হিন্দু শাস্ত্রের অনেক জায়গায় বর্ণ বা পিতামাতার বর্ণের পরিচয় নয়, মানুষ নিজের কর্মের পরিচয়ে নির্দিষ্ট বর্ণের অন্তর্ভুক্ত হয় বলে উল্লিখিত হয়েছে।[৭] উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, বাল্মীকির রামায়ণে একজন শূদ্র ব্রাহ্মণের স্তরে উন্নীত হচ্ছে। আবার ক্ষত্রিয় রাজা ভরতের পৌত্র বিশ্বামিত্র ব্রাহ্মণ হচ্ছেন।

ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু বর্ণব্যবস্থা আইনি স্বীকৃতি পায়।[৮] এই সময় জমি নীতি এক নতুন শ্রেণীর জমিদার সৃষ্টি করে এবং বহু সংখ্যক মানুষ তাদের প্রজা ও কৃষিমজুরে পরিণত হয়।[৯] বর্ণব্যবস্থা ব্যক্তির কাজের ভিত্তিতে সৃষ্ট হলেও, ক্রমে তা জন্মভিত্তিক হয়ে পড়েছিল।

ধর্মগ্রন্থ[সম্পাদনা]

হিন্দুধর্মের বহু বিশ্লেষক দাবি করেন যে, হিন্দুধর্ম সমসাময়িক সকল ধর্মের উপাদানকে নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করে থাকে[১০] এবং হিন্দুধর্মের বেদ পুরাণ সহ বহু ধর্মগ্রন্থে বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্মশিখধর্মের উপাদান রয়েছে এবং তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্রিক ধর্ম ও জরাথুস্ট্রবাদের যেন আবেস্তা নামক ধর্মগ্রন্থ হতে ধর্মীয় উপাদান গ্রহণ করেছে, যেমনঃ অহুর থেকে অসুর, দেইব থেকে দেব, আহুরা মাজদা থেকে একেশ্বরবাদ, বরুণ, বিষ্ণুগরুদ, অগ্নিপুজা, হোম নামক পানীয় থেকে সোম নামক স্বর্গীয় সুধা, ভারতীয় ও পারসিকদের বাকযুদ্ধ থেকে দেবাসুরের যুদ্ধ, আর‍্য থেকে আর্য, মিত্রদেব, দিয়াউসপিত্র দেব (বৃহস্পতি দেব), ইয়াস্না থেকে ইয়যোনা বা যজ্ঞ, নারীয়সঙ্ঘ থেকে নরাশংস (মানুষের মাঝে প্রশংসিত জন), অন্দ্র থেকে ইন্দ্র, গান্দারেওয়া থেকে গন্ধর্ব, বজ্র, বায়ু, মন্ত্র, যম, আহুতি, হুমাতা থেকে সুমতি ইত্যাদি।[১১][১২] অনেক বিশেষজ্ঞের দাবিমতে, কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে জন্মেছিলেন, সে সময়কালে পারস্যের (বর্তমান ইরান) রাজা ছিল দ্বিতীয় আর্টাক্সেরেক্সেস বা দ্বিতীয় দারিয়াস বা তৃতীয় আর্ট্যাক্সারেক্সেস, যারা সকলেই জরাথুস্ট্রবাদের অনুসারী ছিলেন, সে সময় হয়তো দ্বৈপায়ন সেখানে গিয়ে এসব তথ্য অনুলিপি করেছেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Axel Michaels, Hinduism: Past and Present 188-97 (Princeton 2004) আইএসবিএন ০-৬৯১-০৮৯৫৩-১
  2. Nitin Mehta (২০০৬-১২-০৮)। "Caste prejudice has nothing to do with the Hindu scriptures"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৮ 
  3. M V Nadkarni (২০০৩-১১-০৮)। "Is Caste System Intrinsic to Hinduism? Demolishing a Myth"। Economic and Political Weekly। ২০০৭-০৩-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৮ 
  4. "suttee." Encyclopædia Britannica. 2004 Encyclopædia Britannica Premium Service.
  5. Euthanasia and Hinduism - ReligionFacts
  6. Ganguly, Rajat; Phadnis, Urmila (২০০১)। Ethnicity and nation-building in South Asia। Thousand Oaks: Sage Publications। পৃষ্ঠা 88। আইএসবিএন 0-7619-9439-4 
  7. "Caste System in India: A Historical Perspective", Ekta Singh, 2005, p. 25
  8. "Religion, Caste, and Politics in India", by Christophe Jaffrelot, p. 450
  9. "Identity and Genesis of Caste System in India", by Ramesh Chandra, p. 77
  10. Swamy, Subramanian (২০০৬)। Hindus Under Siege: The Way Out (ইংরেজি ভাষায়)। Har-Anand Publications। পৃষ্ঠা 45। আইএসবিএন 978-81-241-1207-6। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  11. Muesse, Mark W. (২০১১)। The Hindu Traditions: A Concise Introduction (ইংরেজি ভাষায়)। Fortress Press। পৃষ্ঠা 30-38। আইএসবিএন 978-1-4514-1400-4। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  12. Griswold, H. D.; Griswold, Hervey De Witt (১৯৯৯)। The Religion of the Ṛigveda (ইংরেজি ভাষায়)। Motilal Banarsidass Publishe। পৃষ্ঠা 1-21। আইএসবিএন 978-81-208-0745-7। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

Burns, John। "Once Widowed in India, Twice Scorned" (PDF)NY Times articles। 1998 The New York Times Company। ৯ জুন ২০১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ 10/12/2012  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)