রাধা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাধা
Radharani3.jpg
রাজস্থানী চিত্রকলায় রাধা
দেবনাগরীराधा
অন্তর্ভুক্তিদেবী, কৃষ্ণময়ী, পরমাপ্রকৃতি, আদিশক্তি, বৃন্দাবনেশ্বরী, মহালক্ষী, কৃষ্ণের শাশ্বত সঙ্গিনী , আনন্দদায়িনী শক্তি
আবাসবৈকুন্ঠ, গোলোকধাম, বৃন্দাবন, ব্রজধাম, মথুরা।
মন্ত্রগায়ত্রী : ওঁ বৃষভানুজায়ৈ বিদ্মহে কৃষ্ণপ্রিয়ায়ৈ ধীমহি তন্নো রাধা প্রচোদয়াৎ

প্রণাম মন্ত্র : তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরি ।

বৃষভানুসুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে ।।
বাহনময়ূর
কৃষ্ণ ও রাধার রাসলীলা

দেবী রাধিকা বা শ্রীমতী রাধা বা রাধারাণী (দেবনাগরী লিপিতে: श्री राधा) হলেন শ্রী কৃষ্ণের পরমাপ্রকৃতি । সংস্কৃত শব্দ রাধার (সংস্কৃত:राधा) অন্যতম অর্থ হল "শক্তিধাত্রী", “সৌভাগ্যদায়িনী", সফল”। দেবী রাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণের সর্বপ্রথম স্ত্রী,(ব্রহ্ম বিবাহ বা গুপ্ত বিবাহ) শিশু কালের বিবাহিতা স্ত্রী। স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা ভান্ডির বনে দেবী রাধিকার সহিত ভগবানের শ্রীকৃষ্ণের বৈদিক শাস্ত্রীয় রীতিতে ব্রহ্ম বিবাহ দেন । অতি সুপ্রাচীন "ঋক বেদ"-এর "রাধিকা উপনিষদ"ও বিবিধ পুরান মতে দেবী রাধা হলেন শ্রী কৃষ্ণের সর্বপ্রিয়া আরাধিকা/স্ত্রী/প্রেমিকা/সখি।[১] "রাধাতন্ত্র" অনুসারে দেবী রাধা "ত্রিপুরাসুন্দরী মাতা" রূপে তন্ত্রে পূজিতা হন। দেবী রাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণের আদিশক্তি, কৃষ্ণার্ধতনু, কৃষ্ণবক্ষস্থলস্থিতা, কৃষ্ণহৃদয়েশ্বরী, তিনিই কৃষ্ণের পরমেশ্বরী, তিনিই আদিমহালক্ষী। দেবী রাধা মহালক্ষী রূপে সর্বত্র পূজিতা হন। "শাক্ত উপনিষদ" মতে দেবী রাধিকা হলেন "কুলকুণ্ডলিনী শক্তি"। রাধাষ্টমী তিথিতে দেবী রাধারানীর জন্ম-উৎসব পালন করা হয়।

দেবী রাধিকার অন্যান্য নাম হল রাধা, বার্ষভানবী, সর্বেশ্বরী, মহালক্ষ্মী, বৈকুন্ঠেশ্বরী, মানিনী, মালিনী, বৃন্দাবনেশ্বরী, মথুরেশ্বরী, কৃষ্ণময়ী, মাধবী, কেশবি, রাহী, শ্যামা, কৃষ্ণা, রাই, কিশোরী, শ্রী, কৃষ্ণাত্মিকা, ব্রজেশ্বরী, বিনোদিনী, বনলক্ষী, গোবিন্দমোহিনী আরও অনেক।

রাধিকা বা রাধারাণী হলেন হিন্দু ভারতীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায় দের আরাধ্য দেবী, মহালক্ষী। । বৈষ্ণব ভক্তেরা তাঁকে বলেন শ্রীমতী। হিন্দুধর্মের বহু গ্রন্থে বিশেষত শাক্ত সম্প্রদায়, রা উত্তর ভারতীয় বৈষ্ণব তত্ত্ববিদ্যা অনুসারে, রাধা হলেন পরম সত্ত্বা শ্রীকৃষ্ণের শাশ্বত সঙ্গী বা তাঁর দিব্যলীলার শক্তি ('নাদশক্তি')। রাধা ও কৃষ্ণের যুগলমূর্তিকে 'রাধাকৃষ্ণ রূপে আরাধনা করা হয়। যদিও ভগবানের এই রূপের অনেক প্রাচীন, কিন্তু দ্বাদশ শতাব্দীতে যখন জয়দেব গোস্বামী সুবিখ্যাত কাব্য গীতগোবিন্দ রচনা করেন, তখন থেকেই দিব্য কৃষ্ণ ও তাঁর পরমাপ্রকৃতি রাধার মধ্যেকার দিব্য ও নিত্য প্রেম সমগ্র ভারতবর্ষে আরও বেশি মূর্ত হয়ে ওঠে।

রাধা-বল্লভ সম্প্রদায় একটি রাধা কেন্দ্রিক । তাদের ঐতিহ্যে শুধুমাত্র রাধাকেই পরম দেবী হিসেবে পূজা করা হয়।[২] অন্যত্র রাধা বিশেষ করে কৃষ্ণায়িত নিম্বার্ক সম্প্রদায়, পুষ্টিমার্গ ঐতিহ্য, স্বামীনারায়ণ সম্প্র‌দায়, বৈষ্ণব-সহজিয়া এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত।[৩][৪][৫][৬]এই মতে রাধাকে স্বয়ং কৃষ্ণের নারী রূপ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। [৭]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, তিনি হলেন গোকুলনিবাসী বৃষভানু ও কলাবতীর কন্যা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণদেবীভাগবতের মতে, রাধার সৃষ্টি ভগবান কৃষ্ণের শরীরের বামভাগ থেকে হয় এবং সেই রাধাই দ্বাপর যুগে বৃষভানুর পুত্রী রুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ অনুসারে শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধার ব্রহ্ম বিবাহ বা গুপ্ত বিবাহ হয়েছিল। পরে শ্রীরাধার বৃন্দাবনের আয়ান ঘোষ-এর সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল।

শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার প্রেম বিষয়ক বহু গাঁথা কবিতা বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য ঐশ্বর্য। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনেও রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা সুবিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। বাংলার ভক্তি আন্দোলনেও এর সুদুরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল।তবে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণচরিত্র বইয়ে রাধার অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তাঁর বাড়িতে রাধাকৃষ্ণের নিত্য পূজা হতো।[৮][৯][১০]

শ্রীকৃষ্ণের বামপার্শ্বে দণ্ডায়মানা দেবী রাধা, ইসকন, মায়াপুর

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Leza Lowitz, Reema Datta (2009) "Sacred Sanskrit Words", p.156
  2. Rosenstein, Lucy (1998). "The Rādhāvallabha and the Haridāsā Samprādayas: A Comparison". Journal of Vaishnava Studies. 7 (1): 5–18.
  3. Hawley, John Stratton; Wulff, Donna Marie, eds. (1982). The Divine Consort: Rādhā and the Goddesses of India. Delhi: Motilal Banarsidass. ISBN 978-0-89581-102-8.
  4. Dalal, Roshen (2010). Hinduism: An Alphabetical Guide. New Delhi: Penguin Books India. ISBN 978-0-14-341421-6.
  5. Hayes, Glen Alexander (2005). "Contemporary Metaphor Theory and Alternative Views of Krishna and Rādhā in Vaishnava Sahajiyā". In Guy L. Beck (ed.). Alternative Krishnas: Regional and Vernacular Variations on a Hindu Deity. Albany, NY: SUNY Press. pp. 19–32. ISBN 978-0-7914-6415-1.
  6. "সহজিয়া - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০১ 
  7. Bhandarkar, R. G. (২০১৯-০৫-২০)। "X. The Pāñcaratra or Bhāgavata System"Vaisnavism, Saivism and minor religious systems (ইংরেজি ভাষায়)। De Gruyter। পৃষ্ঠা 38–41। আইএসবিএন 978-3-11-155197-5ডিওআই:10.1515/9783111551975-010 
  8. Encyclopaedia of Hindu gods and goddesses By Suresh Chandra http://books.google.co.in/books?id=mfTE6kpz6XEC&pg=PA198&dq=goddess+lakshmi
  9. "Radha - Goddess Radha, Sri Radharani, Radha-Krishna, Radhika"। Festivalsinindia.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-১৩ 
  10. Radha in Hinduism, the favourite mistress of Krishna. In devotional religion she represents the longing of the human soul for God: The Oxford Dictionary of Phrase and Fable, 2006, by ELIZABETH KNOWLES

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]