ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির, কুমারটুলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির
Dhakeswori Mata (Close View).jpg
ঢাকেশ্বরী মাতা, কুমারটুলী, কলকাতা
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
জেলাকলকাতা
অবস্থান
অবস্থানকুমারটুলি
দেশভারত

ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের কুমারটুলি অঞ্চলে অবস্থিত।[১] ঢাকা শহরে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল বিগ্রহটি এই মন্দিরে পুন:প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের সময় এই মূর্তিটি বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

বিগ্রহের ইতিহাস[সম্পাদনা]

Original
মূল বিগ্রহ: কলকাতার কুমারটুলিতে রক্ষিত আসল বিগ্রহ
Replica
রেপ্লিকা: ঢাকায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রক্ষিত
কলকাতা ও ঢাকায় রক্ষিত দুটি ভিন্ন মূর্তি

রাজা বিজয় সেনের স্ত্রী স্নান করার জন্য লাঙ্গলবন্দ গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পথে তিনি একটি পুত্র বল্লাল সেনকে জন্ম দেন। পরবর্তীকালে সিংহাসনে আরোহণের পর বল্লাল সেন  স্বীয় জন্মস্থানকে মহিমান্বিত করার জন্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।[২] কিংবদন্তী অনুযায়ী, বল্লাল সেন একবার জঙ্গলে  আচ্ছাদিত দেবতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বল্লাল সেন সেখানে দেবীকে  আবিষ্কার করেন এবং একটি মন্দির নির্মাণ করান। মূর্তিটি ঢাকা ছিল বলে ঢাকেশ্বরী নামকরণ করা হয়।[২]  হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ঢাকেশ্বরীকে গুরুত্বপূর্ণ দেবী হিসেবে বিবেচনা করে। তারা মনে করে ঢাকেশ্বরী মাতা দেবী দুর্গা বা আদি পরা মহাশক্তির একটি রূপ।

কুমারটুলিতে বিগ্রহ আনয়ন[সম্পাদনা]

দেবী ঢাকেশ্বরী বিগ্রহটি ৮০০ বছরেরও প্রাচীন। সেই বিগ্রহটিই কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে দুর্গাচারণ স্ট্রিট বর্তমানে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দিরে বিরাজ করছে।[১] এখন যে বিগ্রহটি ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আছে তা হলো এই মূর্তির প্রতিরূপ। দেশ ভাগের সময় কয়েক লক্ষ ভিটেমাটি হারা হয়। সেই সময় মূর্তিটিকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। দেশভাগ-পরবর্তী দাঙ্গার সময় সম্ভাব্য আক্রমণ এবং লুন্ঠনের হাত থেকে দেবীকে রক্ষা করতে ঢাকার মূল বিগ্রহটিকে গোপনে এবং দ্রুততার সঙ্গে ১৯৪৮-এ কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন রাজেন্দ্রকিশোর তিওয়ারি (মতান্তরে প্রহ্লাদকিশোর তিওয়ারি) এবং হরিহর চক্রবর্তী। বিশেষ একটি বিমানে ঢাকেশ্বরী আসল বিগ্রহটি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল।[১] কলকাতায় বিগ্রহটি আনার পর প্রথম দু'বছর হরচন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটে দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরির বাড়িতে দেবী পূজিতা হন।[১] পরে ১৯৫০ নাগাদ ব্যাবসায়ী দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরী কুমোরটুলি অঞ্চলে দেবীর মন্দির নির্মাণ করে দেন ও প্রতিষ্ঠা করে দেবীর নিত্য সেবার জন্য কিছু দেবোত্তর সম্পত্তি দান করেছিলেন এবং অদ্যাবধি এখানেই দেবী পূজিতা হয়ে চলেছেন। দেশভাগের বেদনাময় পরিণামের কারণেই বিগ্রহ আনয়ন এবং মন্দিরের প্রতিষ্ঠা। দেবীকে যেভাবে অলংকারহীন এবং প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় লুকিয়ে আনা হয়েছিল, তার ছবিও এই মন্দিরে সংরক্ষিত আছে।[১]

কিছু মতে, ক্রিকেটার পঙ্কজ রায় অর্থাৎ প্রণব রায়ের পরিবার হলেন মূল পৃষ্ঠপোষক। রায় পরিবার ঢাকার কাছে ভাগ্যকুলের জমিদার ছিলেন। দেশভাগের পর এনারা কলকাতার কুমোরটুলিতে উঠে আসেন।

বিগ্রহের বর্ণনা[সম্পাদনা]

বিগ্রহের উচ্চতা দেড় ফুট এবং দেবী দশভুজা। দেবীর সামনের হাত দু’টি বড় এবং পিছনের আটটি হাত তুলনায় ছোট। কাত্যায়নী মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা রূপেই অবস্থান করছেন। উপরে পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী ও নিচে দুপাশে কার্তিকগণেশ। বাহন রূপে পশুরাজ সিংহ দন্ডায়মান যার ওপর দাঁড়িয়ে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছেন। তবে সিংহটি পৌরাণিক সিংহ।[১]

তথ্য়সূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কলকাতার কড়চা"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-২২ 
  2. "ঢাকেশ্বরী মন্দির - বাংলাপিডিয়া"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-২২