মধুসূদন সরস্বতী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মধুসূদন সরস্বতী
জন্ম ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ
বঙ্গ, ভারত
মৃত্যু ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দ
বঙ্গ, ভারত
দর্শন অদ্বৈত বেদান্ত
দার্শনিক

মধুসূদন সরস্বতী (১৫৪০ - ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন অদ্বৈতবাদী ভারতীয় দার্শনিক। তিনি ছিলেন বিশ্বেশ্বর সরস্বতী ও মাধব সরস্বতীর শিষ্য। দ্বৈত-অদ্বৈত বিতর্কে তিনি ছিলেন একটি বিশিষ্ট নাম। তাঁর অদ্বৈতসিদ্ধি একটি ধ্রুপদি রচনা। অধিকাংশ অদ্বৈতবাদী ধর্মগুরুই স্বীকার করেন যে আনন্দতীর্থের দ্বৈত বেদান্ত ধারার সব কটি তার্কিক বিষয়ের উত্তর মধুসূদন যথার্থভাবে দিয়েছেন।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

মধুসূদনের জন্ম হয়েছিল বঙ্গদেশে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল কমলনয়ন। তিনি নব্য-ন্যায় শিখেছিলেন। কিন্তু একজন অদ্বৈতবাদ শিক্ষার উদ্দেশ্যে সন্ন্যাস গ্রহণ করে বারাণসী চলে যান।

দ্বৈত বেদান্ত থেকে অদ্বৈত বেদান্তের পন্থা গ্রহণ[সম্পাদনা]

প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, মধুসূদন সরস্বতী আসলে কৃষ্ণের ভক্ত চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে দেখা করতে নবদ্বীপ গিয়েছিলেন। কিন্তু চৈতন্য মধুসূদনের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। তাই মধুসূদন নব্য-ন্যায় ধারায় ন্যায় চর্চা শুরু করেন। তিনি উদয়নের লক্ষণাবলি, গণেশ উপাধ্যায়ের তত্ত্বচিন্তামণি ও তার টীকাগুলি পড়েন। কিছুদিনের মধ্যেই মধুসূদন একজন বিশিষ্ট ন্যায়শাস্ত্রবিদে পরিণত হন। কথিত আছে, চৈতন্যের প্রভাবে বঙ্গে যে ভক্তি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার দ্বারাও তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। একটি কিংবদন্তি অনুসারে, এই সময় মধুসূদন দ্বৈত বেদান্ত স্বীকার করেছিলেন। ন্যায়ের বাস্তব দিকটি ভেদবাদের একটি আপাত-ভিত্তি স্থাপন করে। এরপর তিনি ন্যায়শাস্ত্র প্রয়োগে অদ্বৈত বেদান্ত অস্বীকার করতে শুরু করেন। কিন্তু এই সময় তাঁর মনে হয়, তিনি যেহেতু অদ্বৈতবাদ সম্পর্কে বিশেষ জানেন না, তাই এই মতবাদ ন্যায়সম্মতভাবে অস্বীকার করতে হলে তাঁকে এটি ভালভাবে জানতে হবে। অদ্বৈত বেদান্ত শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি বারাণসীতে আসেন। সেখানে তিনি রামতীর্থের অধীনে বেদান্ত শিক্ষা শুরু করেন। কিন্তু যতই অদ্বৈতবাদ শিক্ষা করতে থাকেন, ততই তিনি অদ্বৈত বেদান্তের অভ্রান্ততা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে থাকেন। পরে তিনি গুরুর কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি আসলে অদ্বৈতবাদকে অস্বীকার করার জন্য অদ্বৈতবাদ শিখতে এসেছিলেন। তিনি গুরুকে জিজ্ঞাসা করেন, এর প্রায়শ্চিত্ত কি হতে পারে। রামতীর্থ প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে সন্ন্যাস গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]