পার্বতী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পার্বতী
শক্তি, সৃষ্টিশক্তি ও অসুরবিজয়
Debi Durga Sculpture by Sandalwood Murshidabad WB 30 01 2018.jpg
চন্দনকাঠের দূর্গা মূর্তি, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রাপ্ত, বর্তমানে ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতায় রক্ষিত আছে
দেবনাগরীपार्वती
অন্তর্ভুক্তিত্রিদেবী, আদি পরাশক্তি, দেবী, আদিশক্তি, মহাশক্তি, ভুবনেশ্বরী,
আবাসকৈলাস পর্বত
মন্ত্রওঁ ভগবতে পার্বতে নমঃ
অস্ত্রত্রিশূল, খড়্গ, গদা, শঙ্খ, চক্র, ধনুক, তীর, ঢাল, পদ্ম, নাগপাশ, তৃতীয় নয়ন
বাহনসিংহ

পার্বতী (সংস্কৃত: पार्वती) হলেন হিন্দু দেবী দুর্গার একটি রূপ। তিনি শিবের স্ত্রী এবং আদি পরাশক্তির এক পূর্ণ অবতার। অন্যান্য দেবীরা তাঁর অংশ থেকে জাত, বা তাঁর অবতার। পার্বতী মহাশক্তির অংশ। তিনি গৌরী নামেও পরিচিত। পার্বতী শিবের দ্বিতীয়া স্ত্রী। তবে তিনি শিবের প্রথমা স্ত্রী দাক্ষায়ণীরই অবতার। তিনি গণেশকার্তিকের মা। কোনো কোনো সম্প্রদায়ে তাঁকে বিষ্ণুর ভগিনী মনে করা হয়। পার্বতী হিমালয়ের কন্যা। শিবের পাশে তাঁর যে মূর্তি দেখা যায়, সেগুলি দ্বিভূজা। তবে তাঁর একক মূর্তি চতুর্ভূজা, অষ্টভূজা বা দশভূজা হয়; এবং এই মূর্তিতে তাঁকে সিংহবাহিনী রূপে দেখানো হয়। সাধারণত তাঁকে দয়াময়ী দেবীর রূপেই দেখা হয়। তবে তাঁর কয়েকটি ভয়ংকরী মূর্তিও আছে। তাঁর দয়াময়ী মূর্তিগুলি হল কাত্যায়নী, মহাগৌরী, কমলাত্মিকা, ভুবনেশ্বরী ও ললিতা। অন্যদিকে তাঁর ভয়ংকরী রূপগুলি হল দুর্গা, কালী, তারা, চণ্ডী, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।

ব্যুৎপত্তি[উৎস সম্পাদনা]

চতুর্ভূজা ললিতা দেবীর রূপে পার্বতী, সঙ্গে তাঁর দুই পুত্র গণেশ ও স্কন্দ (কার্তিক), ওড়িশা, ভারত, একাদশ শতাব্দীর ভাস্কর্য, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত।টেমপ্লেট:British-Museum-db.

"পার্বতী" শব্দের অর্থ "পর্বতের কন্যা"। পার্বতী পর্বতের রাজা হিমালয়ের কন্যা বলে তাঁকে পার্বতী বলা হয়। হিমালয়ের কন্যা বলে তাঁর অন্য নাম "শৈলজা", "অদ্রিজা", "নগজা", "শৈলপুত্রী", "হৈমবতী", "গিরিজা" বা "গিরিজাপুত্রী"।[১] কখনও কখনও পার্বতীকে "পবিত্রা"ও বলা হয়; কারণ, তাঁকে অপাপবিদ্ধা ও পবিত্র মনে করা হয়। শিব ও তাঁকে একত্রে শাক্ত সর্বোচ্চ ঈশ্বর আদি পরাশক্তির "সগুণ স্বরূপ" মনে করা হয়।

শ্রীশ্রীচণ্ডী-তে তাঁর অনেকগুলি নামের উল্লেখ আছে। এগুলির মধ্যে দুর্গা, মহাশক্তি, অম্বিকা, গৌরী, ভৈরবী, কালী, উমা, ললিতা, মাতৃ, মাহেশ্বরী, ভবানী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।[২] ললিতা সহস্রনাম স্তবে পার্বতীর ১০০০টি নামের উল্লেখ আছে।

পার্বতীর সবচেয়ে বেশি পরিচিত দুটি নাম হল উমা ও অপর্ণা। কয়েকটি প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে দাক্ষায়ণীকে উমা বলা হলেও, রামায়ণে পার্বতীকেই উমা বলা হয়েছে। হরিবংশ-এ পার্বতীকে প্রথমে "অপর্ণা" বলে, পরে "উমা" বলা হয়েছে। অপর্ণা শব্দের অর্থ, যিনি ঘোর তপস্যা করেছেন। পার্বতীর মা মেনকা তাঁর তপস্যা দেখে বলেছিলেন, "উ মা" (আর না)। সেই থেকে পার্বতীর অপর নাম উমা।[৩]

অন্যদিকে পার্বতী একসঙ্গে "গৌরী" (গৌরবর্ণা দেবী) এবং "কালী" বা "শ্যামা" (কৃষ্ণবর্ণা দেবী) নামে অভিহিত হন। কারণ, তিনি শান্ত স্ত্রী উমা। কিন্তু বিপদের সময় ভয়ংকরী কালী দেবীতে রূপান্তরিত হন। এই দুই পরস্পর বিপরীত রূপ পার্বতীর দুই রকম প্রকৃতির কথা নির্দেশ করে। আবার "কামাক্ষ্মী" রূপে তিনি ভক্তির দেবী।

পূজা ও উৎসব[উৎস সম্পাদনা]

উৎসব[উৎস সম্পাদনা]

গৌরীরূপে পূজিত পার্বতী

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিথিতে গৌরীপূজা হয়। তাঁকে শস্য ও নারীর রক্ষাকারী দেবী মনে করা হয়। গৌরীপূজাও সাধারণত মেয়েরাই করে। এই উৎসবটি পার্বতীর পূত্র গণেশের পূজার (গণেশ চতুর্থী) সঙ্গে যুক্ত। মহারাষ্ট্রকর্ণাটকে গৌরীপূজা খুব জনপ্রিয়।[৪] রাজস্থানে গঙ্গৌর উৎসবের সময় গৌরীপূজা হয়। চৈত্র মাসের প্রথম দিন পূজা শুরু হয় এবং ১৮দিন চলে। এই সময় মাটি দিয়ে ঈশ্বর আর গৌরীমূর্তি বানানো হয়। পার্বতী পূজার একটি বিশেষ উৎসব হল নবরাত্রিদুর্গাপূজা। এই সময় পার্বতীর সব কটি রূপকে পূজা করা হয়। উত্তর ভারতে নবরাত্রি উৎসবের সময় শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়ানী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী - এই নবদুর্গার পূজা হয়।

চৈত্র ও বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়ার দিন হয় "গৌরী তৃতীয়া"। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, এই সময় একমাস পার্বতী বাপের বাড়িতে থাকেন। মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে এই উৎসব খুব জনপ্রিয়। উত্তর ভারতে এই উৎসব ততটা জনপ্রিয় নয়। পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসব পালিতই হয় না। এই সময় সধবা মেয়েরা পিরামিড আকৃতির ধাপযুক্ত বেদী তৈরি করে তার উপরে পার্বতীর মূর্তি ও নিচে গয়নাগাটি, অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি ও ছবি ইত্যাদি রাখেন। রাতে প্রার্থনা করা হয়। তামিলনাড়ুঅন্ধ্রপ্রদেশে দীপাবলির দিন কেতরা গৌরী বৃতাম উৎসব হয়। এইদিন সধবা মেয়েরা সারাদিন উপোষ করেন এবং মিষ্টি বানিয়ে বাড়ির সকলের মঙ্গল্যের জন্য দেবীকে মিষ্টি দিয়ে পূজা করেন। [৫]

মন্দির[উৎস সম্পাদনা]

পার্বতী

কর্ণাটকের কল্লুর শহরে মুকাম্বিকা দেবী মন্দির হল পার্বতীর একটি বিখ্যাত মন্দির।

পাদটীকা[উৎস সম্পাদনা]

  1. Kinsley p.41
  2. [১] ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে. Ganesha.info.
  3. Wilkins pp.240-1
  4. The Hindu Religious Year By Muriel Marion Underhill p.50 Published 1991 Asian Educational Services আইএসবিএন ৮১-২০৬-০৫২৩-৩
  5. The Hindu Religious Year By Muriel Marion Underhill p.100

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

  • Hindu Goddesses: Vision of the Divine Feminine in the Hindu Religious Traditions (আইএসবিএন ৮১-২০৮-০৩৭৯-৫) by David Kinsley
  • Researches Into the Nature and Affinity of Ancient and Hindu Mythology by Vans Kennedy; Published 1831; Printed for Longman, Rees, Orme, Brown, and Green; 494 pages; Original from Harvard University; Digitized Jul 11, 2005 [২]
  • Hindu Mythology, Vedic and Puranic by William J. Wilkins; Published 2001 (first published 1882); Adamant Media Corporation; 463 pages; আইএসবিএন ১-৪০২১-৯৩০৮-৪
  • Śiva, the Erotic Ascetic by Wendy Doniger O'Flaherty
  • Mythology of the Hindus by Charles Coleman
  • Sacred Places of Goddess: 108 Destinations by Karen Tate

বহিঃসংযোগ[উৎস সম্পাদনা]