বাংলাদেশে মানবাধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
National emblem of Bangladesh.svg
 এই নিবন্ধটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকার
ধারাবাহিকের অংশ

‘‘বাংলাদেশের সংবিধান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় মৌলিক নীতির বাস্তবায়ন ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিশ্চয়তা বিধান করেছে। তবে, একই সংবিধানে অগণিত গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ গ্রহণে এ সকল অধিকারকে অস্বীকার করে চলেছে।‘’ - মোঃ শরিফুল ইসলামের বক্তব্য।[১] ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতার ন্যায় অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করে। ১৭ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে দেশের চৌষট্টি জেলায় একযোগে চার শতাধিক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল।[২] ফলশ্রুতিতে এই অস্থিরতা ও এর জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টির ফলে বাংলাদেশে মানবাধিকার অবনতিতে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে অনবরত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালহিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের কাছ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তন্মধ্যে, বিচারবহির্ভূত সংক্ষিপ্ত সময়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হেফাজতকালীন নির্যাতন অন্যতম।[৩] মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদক ও মানবাধিকার কর্মীদেরকে হয়রানি ও কর্তৃপক্ষের হুমকি-ধামকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে ন্যায়বিচারে আইনগত বাঁধা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতার স্বচ্ছতার বিষয়ে সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা দূরত্ব সৃষ্টি করছে।[৪]

হিন্দুআহ্‌মদীয়া মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সমঝোতামূলক রাষ্ট্রে অবস্থান করছে ও দুর্নীতি অদ্যাবধি প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরফলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পাঁচ বছর বিশ্বের সর্বাপেক্ষা দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে তালিকাভুক্ত রেখেছিল।[৫]

নির্যাতন[সম্পাদনা]

র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে হেফাজতকালীন ও জিজ্ঞাসাবাদকালে নির্যাতন চালানোর বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের একটি অভিযোগ এসেছে ঢাকায় এক বৃদ্ধকে সাদা পোষাকধারী র‌্যাব সদস্যরা শারীরিকভাবে নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি গুরুতরভাবে নির্যাতনের শিকার হন।[৬] ২৭ জুলাই, ২০০৫ তারিখে রাজশাহীর অধিবাসী দুই ভাই আজিজুর রহমান সোহেল ও আতিকুর রহমান জুয়েলকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারপূর্বক ব্যাটন দিয়ে লাঠিপেটা ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করে।[৭] জানা যায় যে, তাদের এই বর্বরতার পিছনে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘুষের অর্থ পরিবারের কাছে দাবী করা হয়েছিল। ভাইদের উপর এতোটাই নির্যাতন করা হয়েছিল যে তাদেরকে পুলিশী হেফাজতে থেকে রাজশাহী মেডিকেল স্কুল হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।[৮] বাংলাদেশে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য নির্যাতন চলে মে, ২০০৭ সালে যা তাসনিম খলিল নামের এক সাংবাদিক ও ব্লগারের উপর শারীরিক নির্যাতন মামলার বিষয়ের সাথে জড়িত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) হেফাজতে থাকাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হন ও মুক্তির পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে লিখেন।[৯] বাংলাদেশ থেকে চলে আসার পর সুইডেন সরকার তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়।[১০]

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতাস্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য অধিকারের জন্য প্রণীত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আবদ্ধ। জানুয়ারি, ২০০৪ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের মিত্র দল ইসলামী ঐক্যজোট ও চরমপন্থী খতমে নবুয়াত আন্দোলন কর্তৃক আহ্‌মদীয়া সম্প্রদায়ভূক্ত মুসলমানেরা মুসলিম ‘নয়’ বলে ঘোষণা দিলেও তা এড়িয়ে যায়।[৭] এছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ভয়ে সরকার কর্তৃক আহ্‌মদীয়া পাবলিকেশনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে, সাংবিধানিক আদালত এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেও ইসলামপন্থী দলগুলো এ আইনী পদক্ষেপ মোকাবেলায় হুমকি দিচ্ছে। ঘরবাড়িতে আক্রমণ ও আহমদিয়াদের ধর্মীয় স্থাপনাসমূহ এখনো হুমকির মুখে রয়েছে। কিন্তু সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কিংবা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তায় পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে নিযুক্ত করেনি। অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও অপহরণ, ধর্মীয় স্থাপনায় অপবিত্রতা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণসহ আক্রমণের শিকারে পরিণত হচ্ছেন বলে ক্রমাগত প্রতিবেদনে প্রকাশ পাচ্ছে।[১১] হিন্দুদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং বালিকাদের ধর্ষণের প্রতিবেদন[১২] প্রকাশিত হলেও পুলিশ এ কারণে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় নীরব থাকছে। ধর্মীয়ভাবে আবদ্ধ পরিবেশে অবস্থানের কারণে হাজার হাজার বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন।[১৩]

হিন্দুদের উপর আক্রমণ[সম্পাদনা]

দেখুন: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন

জামাত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত চরমপন্থীদের মাধ্যমে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। বিচারক কর্তৃক দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র মৃত্যুদণ্ডাদেশের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ পেলে সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতে ও বিএনপি দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেয়। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও স্থানীয় পুলিশের দিকে আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর হয়। এ আক্রমণগুলোয় অগণিত হিন্দুদের বাড়ীঘর ও মন্দির ধ্বংস করা হয়। এ আক্রমণের বিপক্ষে মার্কিন সরকারসহ ভারত এবং অন্যান্য শান্তিপ্রিয় দেশ ও সংগঠন তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করে।[১৪]

নাস্তিকদের উপর আক্রমণ[সম্পাদনা]

সাঁওতালদের উপর আক্রমণ[সম্পাদনা]

৬ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কয়েকশত সাঁওতাল বসবাস করছিলেন। জোরপূর্বক দখল অভিযানে দুই সাঁওতাল নিহত হন, ২০জন আহত হন ও সাঁওতালদের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংবাদ চ্যানেল আল-জাজিরায় প্রচারিত এক ভিডিও চিত্রে দুই পুলিশ ও এক লোকে সাধারণ পোশাকে এক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে দেখা যায়। ঐ সময় বুলেটপ্রুফ পোষাক পরিহিত অবস্থায় একদল পুলিশ টহল দিচ্ছিলেন।[১৫]

নারী অধিকার[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম বাংলাদেশে দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হিসেবে ‘ক্ষণস্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্ককে’ চিহ্নিত করে এবং নারীপূর্ণ গৃহে অবস্থানের বিষয়কে ‘অতি ও চরম’ দারিদ্র্যতারূপে উল্লেখ করে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন বলে যে, পরিবারের সদস্যরূপে উপার্জনক্ষম পুরুষ কর্তৃক পরিত্যাগ বা বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটলে মহিলারা আরও হতদরিদ্র হয়ে পড়েন।[১৬] বাংলাদেশের নারীরা সাধারণভাবে এসিড নিক্ষেপের ন্যায় মুখমণ্ডল বিকৃতি বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভ্যন্তরীণ সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। বাংলাদেশে বৈষম্যমূলকভাবে নারীরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৯৯৯-২০০৯ সময়কালে ৬৮% এসিড আক্রমণের শিকার হয়েছেন নারী/বালিকারা।[১৭]

২০১০ সালে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা মোকাবেলার লক্ষ্যে একটি আইন প্রবর্তিত হয়। যারফলে ঘরোয়া সহিংসতা প্রতিরোধের কারণে ‘অর্থনৈতিক ক্ষতির’ সম্মুখীন হওয়াসহ কেবলমাত্র বিবাহিতদেরই বাড়ীতে বসবাসের অধিকার জন্মায়। ঐ আইনে আদালতকে ঘরোয়া সহিংসতার শিকারদেরকে সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হয়। ২০১২ সালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ আইন কমিশন মুসলিম, হিন্দুখ্রিস্টানদের জন্য নিজস্ব আইন পুণর্গঠনের বিষয়ে দেশব্যাপী গবেষণা চালায়। মে, ২০১২ সালে হিন্দু বিবাহের ঐচ্ছিক নিবন্ধনের বিষয়ে মন্ত্রীসভা অনুমোদন দেয়। এছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পারিবারিক আদালতের কার্যক্রমকে আরও উন্নতি করতে সাধারণ বিচার ব্যবস্থা - বিশেষতঃ সমনজারির বিষয়ে বিবেচনা করছে।[১৮]

ধর্মীয় স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

যদিও শুরুতে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় সংবিধান প্রণয়নে সচেষ্ট হয়েছিল, তবুও ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিবোধ থেকে দূরে সরে এসে ইসলামিক পদ্ধতিতে জীবনধারায় চলনের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনে ও এর স্থলাভিষিক্ত হতে থাকে। সংবিধান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করলেও প্রত্যেকেরই আইন, শৃঙ্খলা ও নীতিবোধ রক্ষাকল্পে নিজ নিজ ধর্মপালনের অধিকারবোধ রয়েছে।[১৯] সরকার সাধারণভাবে এটি অনুশীলনে প্রাথমিকভাবে সম্মান জানিয়ে আসছে।

মানবাধিকার রক্ষাকর্মী, সাংবাদিক ও বিরোধীদেরকে ভীতিপ্রদর্শন[সম্পাদনা]

বিরোধীদের কণ্ঠস্বররোধে বাংলাদেশ ভয়ানক ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। দলগতভাবে সরকারের কার্যক্রমের বিপক্ষে নথিবদ্ধ বা বলার চেষ্টা করার পর তাদেরকে উত্তরোত্তর ভীতিপ্রদর্শন ও আক্রমণ করা হচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সদস্য শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়।[২০] এরপর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি রক্ষা পেলেও তাঁর দলের তেইশ সদস্য নিহত হন।[২১] আওয়ামী লীগের অন্যান্য কনিষ্ঠ-জ্যেষ্ঠ সদস্যদেরকে হয়রানিভীতিপ্রদর্শনের কথাও জানা যায়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও কর্তৃপক্ষ ও সরকারদলীয় সমর্থকদের কাছ থেকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।[২২] ৮ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যরা এক আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যের উপর নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তে আসা দুই মানবাধিকার কর্মী আক্রমণের শিকার হন।[৭] সাংবাদিকগণও তিন বছর ধরে একই ভাগ্য নিয়ে অবস্থান করছেন। রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স নামীয় সংগঠন বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে যেখানে বেশ বৃহৎসংখ্যক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করাসহ মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়। সরকার সাংবাদিকদের রক্ষার্থে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ইসলামপন্থী দলগুলো স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদেরকে ভীতিপ্রদর্শন জোরদার করে চলেছে।[২৩]

বাংলাদেশী সাংবাদিক ও বাংলাদেশী ট্যাবলয়েড উইকলি ব্লিটজের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে[২৪][২৫] ইসলামী চরমপন্থীদের উত্থান বিষয়ে নিবন্ধ লেখা ও ইসরায়েলকে স্বীকৃতিদানের বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করলে তাঁকে সতর্ক করার পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। তেল আভিভে হিব্রু রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে উপস্থিতির চেষ্টা চালালে তাঁকে জানুয়ারি, ২০০৪ সাল থেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, ব্লাসফেমি ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। নভেম্বর, ২০০৩ সালে ইসরায়েল ভ্রমণের চেষ্টা চালানোয় তিনি পাসপোর্ট অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করেছেন। এ অধ্যাদেশে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশে ভ্রমণে নাগরিকদেরকে নিরস্ত রাখা হয়। ইসরায়েলের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির বিষয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ে তাঁকে পেটানোসহ ১০দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তী ১৭ মাস তিনি নির্জন কারাবাসে ছিলেন ও তার চোখের ছানির জন্য চিকিৎসা সেবা নিতে অস্বীকৃতি জানান। মার্কিন কংগ্রেস মুখপত্র মার্ক কির্কের হস্তক্ষেপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতের কাছে মতবিনিময়ের পর চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি দেয়া হলেও তাঁর উপর আনীত অভিযোগ বহাল থাকে।[২৬] ২০০৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রবিষয়ক হাউজ কমিটি কর্তৃক হাউজের ৬৪ অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ সরকারকে চৌধুরীর উপর আনীত সকল অভিযোগ থেকে মুক্তিদানের বিষয়ে জানানো হয়।[২৭]

গুম[সম্পাদনা]

২০১০ সাল থেকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কমপক্ষে ২৯৮ ব্যক্তি যার অধিকাংশই বিরোধী দলীয় নেতা ও কর্মী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গুম হয়।[২৮][২৯][৩০] একটি অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংগঠনের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৮২ ব্যক্তি নিখোঁজ হন।[৩১] নিখোঁজের পর কমপক্ষে ৩৯ জনকে মৃত অবস্থায় দেখা গেলেও বাদ-বাকীদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।[৩০] ২৫ জুন, ২০১০ তারিখে বিরোধীদলীয় নেতা চৌধুরী আলমকে রাষ্ট্রীয় পুলিশ গ্রেফতার হন ও তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।[৩২] তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তীতে অস্বীকার করে।[৩৩] ১৭ এপ্রিল, ২০১২ তারিখে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আরেক প্রথিতযশা নেতা ইলিয়াস আলী অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে নিখোঁজ হন। এ ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব পায়। ২০১৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কমপক্ষে ১৯জন বিরোধীদলীয় ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনী ধরে নিয়ে যায়।[৩৪] এ ধরনের গুমের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন - উভয় পক্ষ থেকেই নিন্দাজ্ঞাপন করা হয়। সরকারের কাছে দাবী জানানো স্বত্ত্বেও এজাতীয় গুম ও এজাতীয় মামলার তদন্তে উদ্যোগ গ্রহণে নিস্পৃহতা লক্ষ্য করা যায়।[৩৪][৩৫][৩৬]

বাংলাদেশে এইডস[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার ০.১ শতাংশেরও অধিক ব্যক্তির দেহে এইচআইভি-পজিটিভের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফলে বাংলাদেশ কম ঝুঁকিপূর্ণ এইচআইভি আক্রান্ত দেশের মধ্যে অন্যতম।[৩৭] তবে এইডসের বৃদ্ধি বাংলাদেশে বিশেষভাবে সীমাবদ্ধ নয়। এইডসের বিস্তার রোধে সরকার খুব সামান্যই ভূমিকা রাখছে।

রাজনৈতিকভাবে অরক্ষিত দলগুলো এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তন্মধ্যে, [যৌনকর্মী]] ও পুরুষের সাথে পুরুষের দৈহিক সম্পর্ক অন্যতম। তারা এইডসের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষালাভ করেনি, নতুবা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রক্ষিত নয় এবং তাদেরকে পুলিশ ও শক্তিধর অপরাধীদের হাতে নিয়মিতভাবে লাঞ্ছিত, অপহৃত, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণচাঁদাবাজির সম্মুখীন হতে হয়।[৩৮] এইডসের উন্নয়নে শিক্ষাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পগুলোর সাথে জড়িত সদস্যদেরকে পুলিশের নির্দয়তায় ও নির্দেশনায় পরিচালিত হবার ফলে সফলতার মুখ দেখেনি।[৩৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Md. Shariful Islam, Human Rights and Governance: Bangladesh (Hong Kong: Asian Legal Resource Center, 2013): 17. See, for a PDF version of the book, http://www.humanrights.asia/resources/books/ALRC-PUB-002-2013/HUMAN-RIGHTS-AND-GOVERNANCE-BANGLADESH.pdf/view
  2. "Bangladesh 'militant' sentenced" (ইংরেজি ভাষায়)। BBC News। ১৬ জানুয়ারি ২০০৬। 
  3. "Report 2004 - Bangladesh"Refworld (ইংরেজি ভাষায়)। Amnesty International। ২৬ মে ২০০৪। 
  4. "Amnesty International" (ইংরেজি ভাষায়)। 
  5. Rahman, Waliur। "Bangladesh tops most corrupt list"news.bbc.co.uk (ইংরেজি ভাষায়)। British Broadcasting Corporation। সংগৃহীত ২৩ জুলাই ২০১৫ 
  6. "Torture In Bangladesh 1971-2004"REDRESS (ইংরেজি ভাষায়)। 
  7. "World Report 2006"Human Rights Watch (ইংরেজি ভাষায়)। 
  8. BANGLADESH: Brutal torture of two young men by the Boalia police in Rajsahi. Ahrchk.net.
  9. Human Rights Watch (ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। The Torture of Tasneem Khalil: How the Bangladesh Military Abuses Its Power under the State of Emergency (ইংরেজি ভাষায়) 20 (1(C)) (Volume 20, No. 1(C) সংস্করণ)। New York: Human Rights Watch। সংগৃহীত ৮ এপ্রিল ২০১৩ 
  10. Öhlén, Mats (১২ সেপ্টেম্বর ২০১০)। "Bangladesh – Sweden – The World"Stockholm News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ২৩ অক্টোবর ২০১৩ 
  11. "Bangladesh: Events of 2005"Human Rights Watch (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ৩০ নভেম্বর ২০১৫ 
  12. "Bangladesh: Attacks on members of the Hindu minority"Amnesty International (ইংরেজি ভাষায়)। 
  13. Attacks on Hindu Minorities in Bangladesh. Hrdc.net.
  14. Ethirajan, Anbarasan (9 March 2013). "Bangladesh minorities 'terrorised' after mob violence". BBC News(London). Retrieved 17 March 2013
  15. "Cops set fire to Santal houses: Al-Jazeera"New Age | The Outspoken Daily (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ২০১৬-১২-১২ 
  16. "Women's Rights in Bangladesh"Online Women in Politics (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০২। আসল থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০১১-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  17. Avon Foundation for Women. Combating Acid Violence in Bangladesh, India, and Cambodia: A Report by the Avon Global Center for Women and Justice at Cornell Law School, The Committee on International Human Rights of the New York City Bar Association, the Cornell Law School International Human Rights Clinic, and the Virtue Foundation. (2011): 1–64.
  18. "Will I Get My Dues ... Before I Die?"Human rights watch (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ২২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  19. "The Constitution of the People's Republic of Bangladesh: Article 2A: The state religion"Legislative and Parliamentary Affairs Division, Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs (ইংরেজি ভাষায়)। 
  20. "SAMS Kibria's first death anniversary today"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ জানুয়ারি ২০০৬। 
  21. Shaon, Ashif Islam; Tipu, Md Sanaul Islam (২১ আগস্ট ২০১৪)। "Hasina escaped 4 assassination attempts in 25 years"Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ৩০ নভেম্বর ২০১৫ 
  22. "Bangladesh: Human rights defenders under attack"Amnesty International (ইংরেজি ভাষায়)। 
  23. Reporters sans frontières – Bangladesh – Annual report 2005. Reports Without Borders.
  24. "About us"Weekly Blitz (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২। আসল থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২-এ আর্কাইভ করা। 
  25. "Office of controversial magazine Weekly Blitz bombed"Centre for Independent Journalism (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জুলাই ২০০৬। আসল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। 
  26. Darkness in Dhaka – A gadfly Bangladeshi journalist runs for his life by Bret Stephens, The Wall Street Journal, 15 October 2006
  27. HOUSE RESOLUTION 64. (PDF).
  28. "International Week of the Disappeared"Statement on the International Week of the Disappeared (ইংরেজি ভাষায়)। Odhikar। ২৫ মে ২০১৫। 
  29. David Bergman (২০ Oct ২০১৪)। "'Forced disappearances' surge in Bangladesh"Al Jazeera (ইংরেজি ভাষায়)। Al Jazeera Media Network। 
  30. Hussain, Maaz। "Enforced Disappearances Rise in Bangladesh"VOA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ২০১৬-১২-১২ 
  31. "ASK Documentation: Forced Disappearances"Incidents of Enforced Disappearances Between January and 30 September 2014 (ইংরেজি ভাষায়)। Ain o Salish Kendra। ১৩ অক্টোবর ২০১৪। 
  32. "DCC councillor Chowdhury Alam arrested"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ২০১০। 
  33. "How Alam was abducted: Driver's account"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ জুলাই ২০১০। 
  34. "ENFORCED DISAPPEARANCE: Families call for return of 19 youths"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ ডিসেম্বর ২০১৫। 
  35. "Bangladesh: Investigate Case of Enforced Disappearance" (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Human Rights Watch। ১৭ মার্চ ২০১৫। 
  36. "Editorial: The disappearance of Chowdhury Alam"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ জুলাই ২০১০। 
  37. "Bangladesh at a Glance" (ইংরেজি ভাষায়)। YOUANDAIDS। আসল থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ মার্চ ২০১৪ 
  38. Qadir, Nadeem (২০ আগস্ট ২০০৩)। "Bangladesh-AIDS-rights: Bangladesh could face AIDS 'epidemic' if police are not reformed: HRW"AEGiS-AFP News (ইংরেজি ভাষায়)। Agence France-Presse। আসল থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২-এ আর্কাইভ করা। 
  39. Ravaging the Vulnerable: Abuses Against Persons at High Risk of HIV Infection in Bangladesh. HRW (20 August 2003).

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]