বিষয়বস্তুতে চলুন

ঢাকা সেনানিবাস

স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৯′৪২″ উত্তর ৯০°২৩′২০″ পশ্চিম / ২৩.৮২৮২৪০° উত্তর ৯০.৩৮৮৯৬২° পশ্চিম / 23.828240; -90.388962
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঢাকা সেনানিবাস
ঢাকা , বাংলাদেশ
ধরনসেনানিবাস
সংকেত১২০৬
ভবন/স্থাপনা/ক্ষেত্রের তথ্য
নিয়ন্ত্রকবাংলাদেশ সেনাবাহিনী
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ জাহাঙ্গীর গেট

ঢাকা সেনানিবাস বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সেনানিবাস।[] এখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর এই সেনানিবাসে অবস্থিত। সেনানিবাসটি ঢাকা মহানগরীর উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

মুঘল যুগ (১৭শ-১৮শ শতক):

মুঘল সাম্রাজ্যের সময় বর্তমানে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, বিশেষ করে তেজগাঁও, ছিল মূলত গ্রামীণ এবং অনুন্নত জমি—খোলা মাঠ, খেত-খামার এবং ছোট ছোট জঙ্গলে ভরা। মুঘলরা এখানে কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বা বড় সেনা স্থাপন করেননি। তাদের সামরিক বাহিনী প্রধানত পুরানো ঢাকার প্রাচীরের ভেতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দুর্গে অবস্থান করত।

ব্রিটিশ শাসনকালে (১৮৫০ এর দশক থেকে):

দ্বিতীয় অ্যাংলো-বর্মিজ যুদ্ধ (১৮৫২-৫৩) চলাকালে পুরানো ঢাকায় ছোটখাটো সামরিক ও পুলিশ পোস্ট ছিল, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার হত। তবে বর্তমানে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট বড় কোনো নতুন সেনা ঘাঁটি বা দুর্গ নির্মাণ হয়নি।

বর্তমানের ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৪১ সালে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা তেজগাঁও এলাকায় একটি সামরিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ করে। তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বড় বা পূর্ণাঙ্গ কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না, বরং সীমিত পরিসরের সামরিক স্থাপনা নিয়ে গঠিত ছিল। ঢাকায় তখন কোনো বড় আকারের পদাতিক বাহিনী বা পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী স্থাপন করা হয়নি।

তেজগাঁওয়ের সামরিক স্থাপনা মূলত বিমান বাহিনী এবং তার সংশ্লিষ্ট ছোটখাটো ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যারা প্রধানত বিমান সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করত।[]

ব্রিটিশরা ঢাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যা জাপানের আগ্রাসন রোধে একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করত।

সেই সময়ে তেজগাঁওয়ের সামরিক স্থাপনাগুলো ছিল সীমিত; প্রধানত বিমানঘাঁটি, অফিস, বারাক এবং লজিস্টিক সুবিধাসমূহ নিয়ে গঠিত। বড় ধরনের কোনো পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী এখানে উপস্থিত ছিল না।[]

পাকিস্তান সময় (১৯৪৭-১৯৭১):

ভারত বিভাগের পর, প্রথমবারের মতো ঢাকার তেজগাঁও বিমানঘাঁটি এবং এর আশপাশের এলাকা আধুনিক সামরিক উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়।[]

তেজগাঁওয়ের বিমানঘাঁটি এবং এর পার্শ্ববর্তী জমিগুলো গ্রহণ করে ধীরে ধীরে সেখানে বিভিন্ন সামরিক ব্যারাক, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অফিস, এবং আবাসিক সুবিধা নির্মাণ করা হয়। ফলে, ছোট ও সীমিত সামরিক স্থাপনা থেকে এটি পরিণত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ক্যান্টনমেন্টে, যা ভবিষ্যতে ঢাকার সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।[]

এই উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায় এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সামরিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[]

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর (১৯৭১ থেকে বর্তমান):

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সদর দফতর হিসেবে বিবর্তিত হয়।[]

আজকের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট দেশের অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন সামরিক ইউনিট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অফিস অবস্থিত।[]

স্থাপনা

[সম্পাদনা]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  2. 1 2 3 4 5 "ক্যান্টনমেন্ট থানা"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৬
  3. 1 2 "Dhaka Cantonment"Military Wiki (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫