বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মানচিত্রে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের মধ্যকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, এবং বর্তমানে ভূমি, জল ও আকাশ পথে বহুবিধ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে, এখনও সমস্ত প্রকৃতির পরিবহন ব্যবস্থার প্রচলন নিশ্চিত করতে দেশটিতে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়নি।

বিবরণ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা পরিবর্তনশীল । বর্তমানে যে অবস্থা দেখতে পারছি তা দীর্ঘ সময়ে পরিবর্তিত রূপ । বাংলাদেশের ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমানের মধ্যে অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে ।

অতীত

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার অতীতকালে খুব দুর্বল ছিল । অতীতে প্রধান পরিবহনের মাধ্যম ছিল নদী পথ ও সড়ক পথ । অতীত কালের প্রধান যানবাহন ছিল গরুর গাড়ী , ঘোড়া গাড়ী । পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে চলাচল করতে হত । নদী পথে চলাচল করা ছিল সহজ ও দ্রুত । অতীতে বেশিভাগ সময় নদী পথ ব্যবহার করা হত ।

বর্তমান

বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নতি লাভ করেছে । দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে । পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যে কোন জিনিস সহজে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে স্থানান্তর করা যায় । যন্ত্র চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে । বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছে ।

ভবিষ্যৎ

অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য বিবেচনা করলে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় । যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে ।

স্থল পথ[সম্পাদনা]

সড়ক পথ[সম্পাদনা]

অর্থনীতির উন্নয়নের সাথে সাথে ঢাকায় যানবাহনের পরিমাণ অতি-মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে । অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে সড়ক পথে কোলাহল ও গণ্ডগোল লেগেই থাকে । ' ঢাকা সিটি কর্পোরেশন , রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ' সড়ক পথে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে । বাংলাদেশের সরকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ।

রেলপথ[সম্পাদনা]

স্থল পথে পরিবহণের দ্বিতীয় প্রধান মাধ্যম হল রেল পথ । প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও মাল পত্র রেলের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় । রেল পথে ঝুঁকি কম থাকায় এটি মানুষের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়টা লাভ করে । আকার আয়তনে বেশি এবং ভারী জিনিস পরিবহণে রেল পথের প্রাধান্য বেশি । বাংলাদেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থা মূলত এসেছে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ পরিচালিত 'আসাম - বাংলা ' রেল পরিবহন থেকে । ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে রেল পরিবহন ক্রমশ বাড়তে থাকে । ২০০৫ সালের মধ্যে ২,৭০৬ কিলো মিটার রেল পথের বিস্তৃতি লাভ করে এবং এখনো এর বৃদ্ধির কাজ চলছে ।

জল পথ[সম্পাদনা]

নদী-মাতৃক দেশ হওয়ার কারণে প্রাচীন বাংলায় পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল জল পথ । এ দেশে ৫,১৫০ থেকে ৮,০৪৬ কিলোমিটার জল পথ রয়েছে , এর মধ্যে ২,৫৭৫ থেকে ৩,০৫৮ কিলোমিটার সাধারণ পরিবহণে উপযোগী এবং ১,৬০০ থেকে ১৯০০ মাইল জল পথ বড় জাহাজ চলাচলে উপযোগী । বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম ।

আকাশ পথ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ পরিবহন ব্যবস্থায় আকাশ পথে তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি , তবে উন্নয়নের কাজ চলছে । দেশের কিছু স্থানে বিমান বন্দর স্থাপন করা হয়েছে । আকাশ পথে খরচ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ এতে চলাচল করতে পারে না ।

সমস্যা ও সম্ভাবনা[সম্পাদনা]

নৌ-পরিবহন

প্রত্যেক দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে , বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয় । কয়েকটি কারণে বাংলাদেশ পরিবহন ব্যবস্থায় পিছিয়ে আছে ।

সমস্যা
  • রাস্তা ঘাটের অবনতি
  • শিক্ষার অভাব
  • নিয়ন্ত্রক প্রশাসকের ভুল ত্রুটি
  • ঘুষ দুর্নীতি
  • স্বজন প্রীতি
  • আইনের প্রতি উদাসীনতা

উপরের সমস্যা গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত রূপ লাভ করবে ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

 এই নিবন্ধটিতে সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক থেকে পাবলিক ডোমেইন কাজসমূহ অন্তর্ভুক্ত যা পাওয়া যাবে এখানে

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]