বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
একটি তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যাত্রা শুরু করে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশক শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পখাত।

তৈরি পোশাক শিল্প[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: তৈরি পোশাক শিল্প

তৈরি পোশাক শিল্প বলতে পোশাক কারখানায় বৃহদায়তনে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বুঝায়। এখানে দর্জিদের মত নির্দিষ্ট মাপ নিয়ে পোশাক তৈরি করা হয় না, বরং সাধারন কিছু মাপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালের দিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটে। ১৯৭৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হতে উন্নত দেশগুলিতে আরএমজি পন্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রন করতে মাল্টি ফাইবার এগ্রিমেন্ট (এমএফএ) নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে উন্নয়নশীল দেশ হতে উন্নত দেশে রফতানি ৬% হারে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাবে তা বলা হয়। আশির দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশ আরএমজি খাতে বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া শুরু করে। এই সময়টাতে কিছু বাংলাদেশি একটি কোরিয়ান কোম্পানি হতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ লাভ করে। প্রশিক্ষণ শেষে এই কর্মীগণ দেশে ফিরে অন্যের কারখানাতে বা নিজের উদ্যোগেই কাজ শুরু করে। ১৯৮০’র দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়মিতভাবে ইয়োরোপ ও আমেরিকাতে রপ্তানী হতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা নুরুল কাদের খান তথা দেশ গার্মেন্টস-এর উদ্যোগ ছিল আভিযাত্রিক।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরী পোশাক খাতের ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৮০’র দশকের শেষভাগ থেকে তৈরী পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেতৈরী পোশাক খাতের ভূমিকা প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদেশী বিনিয়োগের ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৮০’র দশকের শেষভাগে চট্টগ্রামে রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল স্থাপিত হলে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগ শুরু হয়।

কারখানার সংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১৬ নাগাদ বাংলাদেশে রপ্তানীমুখী পোশাক শিল্পের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। প্রতি বছর যেমন শত শত নতুন কারখানা ষআপিত হয় তেমনি শত শত কারখানা প্রতিযোগতিায টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববাজারে অবস্থান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ প্রধানত কম মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানী করে থাকে যাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার খুবই কম। বিংশ শতাব্দীর শেষ অবধি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রধানত উত্তর আমেরিকা ও ইয়োরোপে রপ্ত্নী হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই, বিশেষ করে ২০০৫-এ কোটা পদ্ধতি উঠে যাওয়ায় বাংলাদেশী উদ্যোক্তরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও তৈরি পোশাক রপ্তানীর চেষ্টা চালাতে থাকে এবং সফলতা আসতে থাকে।

২০০৫ পর্যন্ত কোটা প্রথার কারণে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছে। লিস্ট ডিভালপড কান্টি হিসেবে ‘রুলস অব অরিজিনের’ আওতায় বাংলাদেশী তৈরী পোশাক ইয়োরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, পাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশেও শুল্কমুক্ত বা হ্রাসকৃত শুল্কে প্রবেশাধিকার লাভ করেছে।

কমপ্লায়েন্স সমস্যা[সম্পাদনা]

বিভিন্ন উন্নত দেশ কমপ্লায়েন্স শর্ত আরোপের মাধ্যমে অশুল্ক বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি করায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

রপ্তানী পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

প্রতি বছর বাংলাদেশের। তৈরী পোশাকেরর রপ্তানীর পরিমাণ নিম্নের সারণীতে উল্লেখ করা হলো।

শ্রমিকদের অবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প-এর কৌশল হলো কম মূল্যে বিশ্ববাজারে উন্নত মানের পোশাক সরবরাহ করা। শস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায় বলেই এটি সম্ভব হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প-এ নারী ম্রমিকের নিয়োগ প্রায় ৭০ শতাংশ।

বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ[সম্পাদনা]

বিজিএমইএ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের প্রধান প্রতিষ্ঠান। নিট পোশাকের জন্য যে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে সেটির নাম বিকেএমইএ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Ready-made garments"www.tis-gdv.de। সংগৃহীত ২০১৬-০৫-০৫