জ্ঞানযোগ

| হিন্দুধর্ম |
|---|
| ধারাবাহিকের অংশ |
| অদ্বৈত বেদান্ত |
|---|
জ্ঞানযোগ (সংস্কৃত: ज्ञानयोगः) বা জ্ঞানমার্গ হলো মোক্ষ বা মুক্তির জন্য তিনটি ধ্রুপদী পথের মধ্যে একটি (মার্গ)।[১][২] হিন্দুধর্মে, এটি "জ্ঞানের পথ" এর উপর জোর দেয়,[৩][৪] "আত্ম-উপলব্ধির পথ" নামেও পরিচিত।[৫] অন্য দুটি হল কর্মযোগ (কর্মমার্গ) ও ভক্তিযোগ (ভক্তিমার্গ)।[১][৬][৭] হিন্দু গ্রন্থের আধুনিক ব্যাখ্যায় রাজযোগ এবং ক্রিয়াযোগের মতো পদ্ধতি, কৌশল ও সূত্র পাওয়া গেছে।[৮][৯] সংস্কৃত ভাষায় "জ্ঞান" শব্দের অর্থ "জানা"।[১০]
জ্ঞানযোগ হল নাম ও রূপের বাইরে গিয়ে পরম সত্যকে উপলব্ধি। জ্ঞানযোগ অনুসারে, এই উপলব্ধির মাধ্যমে মোক্ষ লাভ সম্ভব। যোগ দর্শনের অন্যান্য শাখায় একটি বিশেষ নাম বা রূপকে ধ্যান করার মাধ্যমে পরম সত্যকে উপলব্ধি করার কথা বলা হয়। কিন্তু জ্ঞানযোগে তা বলা হয় না। জ্ঞানযোগের মতে, শুধুমাত্র জ্ঞানই যথেষ্ট। এই যোগের কোনো কোনো অভিমত সাংখ্য দর্শনের অনুরূপ।
ভগবদ্গীতা অনুসারে, অদ্বৈতবাদী দার্শনিক আদি শঙ্কর “ব্রহ্মজ্ঞান”-এর উপর প্রাথমিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। অন্যদিকে। বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী দার্শনিক রামানুজের মতে, জ্ঞান ভক্তির একটি শর্ত মাত্র।[১১] ভগবদ্গীতায় (১৩।৩) কৃষ্ণ বলছেন, প্রকৃত জ্ঞান “ক্ষেত্র” (কর্মের ক্ষেত্র—অর্থাৎ, দেহ) এবং “ক্ষেত্রজ্ঞ”-এর (দেহকে যিনি জানেন—অর্থাৎ, আত্মা) সঠিক ধারণার মাধ্যমে পাওয়া যায়। কৃষ্ণের মতে, জ্ঞানীর এই দুইয়ের পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া কর্তব্য।[১২]
সাধন চতুষ্টয়
[সম্পাদনা]অদ্বৈত বেদান্তে মোক্ষ লাভের জন্য “সাধন-চতুষ্টয়” [১৩] বা চার প্রকার সাধনার কথা বলা হয়েছে। এই পথে চারটি ধাপ রয়েছে: [১৪][১৫]
- সমন্যাস, অর্থাৎ ব্যক্তির মধ্যে চারটি গুণের বিকাশ: [১৪][১৬]
- বিবেক – কোন বস্তু নিত্য ও কোন বস্তু অনিত্য বা অস্থায়ী সেই বিচার।
- বৈরাগ্য – ত্যাগের ভাব ও জাগতিক সুখ ও দুঃখ সম্পর্কে বিতৃষ্ণা।
- ষট্-সম্পত্তি – ছয়টি গুণ:
- মুমুক্ষুত্ব – মুক্তিলাভের ইচ্ছা।
- শ্রবণ – বেদ ও আচার্যের উপদেশ শোনা।
- মনন – বেদ ও আচার্যের উপদেশ স্মরণ করা;
- ধ্যান, “তুমিই সেই” এই মহাবাক্য উপলব্ধি করা।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 P. T. Raju (১৯৮৫)। Structural Depths of Indian Thought। State University of New York Press। পৃ. ৭–৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-১৩৯-৪।
- ↑ Jeaneane D. Fowler (২০১২)। The Bhagavad Gita: A Text and Commentary for Students। Sussex Academic Press। পৃ. ৮৯–৯৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৫১৯-৩৪৬-১।
- ↑ Flood 2022, পৃ. 127।
- ↑ For translation of jñāna yoga as "union due to pure knowledge" see: Flood (1996), p. 127.
- ↑ James G. Lochtefeld (২০০২)। The Illustrated Encyclopedia of Hinduism: A-M। The Rosen Publishing Group। পৃ. ৩২১, ৯৩–৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৩৯-৩১৭৯-৮।
- ↑ Matilal 2005, পৃ. 4928।
- ↑ Klaus K. Klostermaier (২০০৭)। A Survey of Hinduism: Third Edition। State University of New York Press। পৃ. ১১৯–১২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-৭০৮২-৪।
- ↑ Roderick Hindery (১৯৭৮)। Comparative Ethics in Hindu and Buddhist Traditions। Motilal Banarsidass। পৃ. ২৬–২৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৮৬৬-৯।
- ↑ George D. Chryssides (২০১২)। Historical Dictionary of New Religious Movements। Rowman & Littlefield। পৃ. ২৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১০৮-৬১৯৪-৭।
- ↑ For definition of jñāna as "knowledge" see: Apte, p. 457.
- ↑ For the varying views of Shankara and Ramanuja, see: Flood (1996), p. 127.
- ↑ B-Gita 13.35 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে "Those who see with eyes of knowledge the difference between the body and the knower of the body, and can also understand the process of liberation from bondage in material nature, attain to the supreme goal."
- ↑ puligandla 1997, পৃ. 253।
- 1 2 puligandla 1997, পৃ. 251-254।
- ↑ Shankara, Adi। "The Crest Jewel of Wisdom"। পৃ. Ch. ১। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০০৮।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|coauthors=উপেক্ষা করা হয়েছে (|author=প্রস্তাবিত) (সাহায্য) - ↑ "Advaita Yoga Ashrama, Jnana Yoga. Introduction"। ১৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৪।
উৎস
[সম্পাদনা]- Apte, Vaman Shivram (১৯৬৫)। The Practical Sanskrit Dictionary। Delhi: Motilal Banarsidass Publishers। আইএসবিএন ৮১-২০৮-০৫৬৭-৪।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য) (Fourth revised and enlarged edition). - Basu, Asoke (জুন ২০০৪)। "Advaita Vedanta and Ethics"। Religion East and West (4): ৯১–১০৫।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: তারিখ এবং বছর (লিঙ্ক) - Feuerstein, Georg (২০০১)। The Yoga Tradition: Its History, Literature, Philosophy and Practice। Prescott, Arizona: Hohm Press। আইএসবিএন ১-৮৯০৭৭২-১৮-৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য) (Unabridged, New Format Edition). - Flood, Gavin (১৯৯৬)। An Introduction to Hinduism। Cambridge: Cambridge University Press। আইএসবিএন ০-৫২১-৪৩৮৭৮-০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য) - Puligandla, Ramakrishna (১৯৮৫)। Jñâna-Yoga--The Way of Knowledge (An Analytical Interpretation)। New York: University Press of America। আইএসবিএন ০-৮১৯১-৪৫৩১-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য) - Varenne, Jean (১৯৭৬)। Yoga and the Hindu Tradition। Chicago: The University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৮৫১১৪-১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|coauthors=উপেক্ষা করা হয়েছে (|author=প্রস্তাবিত) (সাহায্য)