অরবিন্দ ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
শ্রী অরবিন্দ
Sri aurobindo.jpg
১৯১৬ সালে শ্রী অরবিন্দ (অরবিন্দ ঘোষ)
জন্মঅরবিন্দ অকরয়েড ঘোষ
(১৮৭২-০৮-১৫)১৫ আগস্ট ১৮৭২
কলকাতা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
মৃত্যু৫ ডিসেম্বর ১৯৫০(১৯৫০-১২-০৫) (৭৮ বছর)
পুদুচেরি, ফরাসি ভারত
(বর্তমানে পুদুচেরি)
জাতীয়তাভারতীয়
উদ্ধৃতিThe Spirit shall look out through Matter's gaze.
And Matter shall reveal the Spirit's face.[১]
স্বাক্ষর

শ্রী অরবিন্দ (ইংরেজি: Sri Aurobindo) (জন্ম অরবিন্দ ঘোষ; ১৫ই আগস্ট, ১৮৭২-৫ই ডিসেম্বর, ১৯৫০) ছিলেন বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, আধ্যাত্মসাধক এবং দার্শনিক[২][৩][৪] তাঁর পিতা কৃষ্ণধন ঘোষ এবং মাতামহ রাজনারায়ণ বসু। অরবিন্দ ঘোষ বাল্যকালে ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গমন করেন এবং কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ট্রাইপস পাস করেন। দেশে ফিরে এসে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার অণুজ বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে বিপ্লবী মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি কংগ্রেসের চরমপন্থী গ্রুপের নেতৃত্বে থাকাকালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে (১৯০৫-১৯১১) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

পিতা ড. কে.ডি. ঘোষের সাথে শ্রী অরবিন্দ ঘোষ, তাঁর মা স্বর্ণলতা দেবী এবং চার ভাইবোন: বাম ডান থেকে: বারিন ঘোষ, সরোজিনী, শ্রী অরবিন্দ এবং মনমোহন ঘোষ

অরবিন্দ ঘোষ জন্মগ্রহন করেন কোলকাতায়, বাবা কৃষ্ণ ধন ঘোষ ছিলেন তৎকালীন বাংলার রংপুর জেলার জেলা সার্জন। মা স্বর্ণলতা দেবী, ব্রাহ্ম ধর্ম অনুসারী ও সমাজ সংস্কারক রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। সংস্কৃতে "অরবিন্দ" শব্দের অর্থ "পদ্ম"। বিলেতে থাকাকালীন সময়ে অরবিন্দ নিজের নাম "Aaravind", বারোদায় থাকতে "Aravind" বা "Arvind" এবং বাংলায় আসার পর "Aurobindo" হিসেবে বানান করতেন। পারিবারিক পদবীর বানান ইংরেজিতে সাধারনত "Ghose" হলেও অরবিন্দ নিজে "Ghosh" ব্যবহার করেছেন।[৫] Dr. Ghose chose the middle name Akroyd to honour his friend Annette Akroyd.[৬]

রংপুরে তাঁর বাবা ১৮৭১ এর অক্টোবর থেকে কর্মরত ছিলেন, অরবিন্দ রংপুরে জীবনের প্রথম পাঁচ বছর পার করেন। ড ঘোষ এর আগে বিলেতের কিংস কলেজে চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়া করেন। তিনি সন্তানদের ইংরেজি পন্থায় এবং ভারতীয় প্রভাব মুক্ত শিক্ষাদানের মনোভাব পোষণ করতেন। তাই ১৮৭৭ সালে দুই অগ্রজ সহোদর মনমোহন ঘোষ এবং বিনয়ভূষণ ঘোষ সহ অরবিন্দকে দার্জিলিং-এরলোরেটো কনভেন্টে পাঠান হয়।

বিলেত (১৮৭৯–১৮৯৩)[সম্পাদনা]

নীল প্লেক ইংরেজ ঐতিহ্যের সাথে সেন্ট স্টিফেন এভিনিউতে শ্রী অরবিন্দের বাড়ি, লণ্ডন ১৮৮৪–১৮৮৭।

লোরেট কনভেন্টে দুই বছর লেখাপড়ার পর ১৮৭৯ সালে দুই সহোদর সহ অরবিন্দকে বিলেতের ম্যাঞ্চেস্টার শহরে পাঠান হয় ইউরোপীয় শিক্ষালাভের জন্য। জনৈক রেভারেন্ড এবং শ্রীমতি ড্রিয়ুইটের তত্ত্বাবধানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। রেভারেন্ড ড্রিয়ুইট ছিলেন অ্যাংলিকান যাজক, রংপুরের ব্রিটিশ বন্ধুদের মাধ্যমে যার সাথে ড ঘোষের পরিচয় ছিল। ড্রিয়ুইট পরিবার তিন ভাইকে ব্যক্তিগত ভাবে শিক্ষাদান করেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভারত ও তার সংস্কৃতির কোনরকম উল্লেখ না করার অণুরোধ ছিল।

১৮৮৪ সালে অরবিন্দ লন্ডনের সেইন্ট পলস স্কুলে ভর্তি হন। এখান থেকে গ্রিক, লাতিন এবং শেষ তিন বছরে সাহিত্য বিশেষতঃ ইংরেজী কবিতা অধ্যয়ন করেন। ড কে,ডি, ঘোষ ভেবেছিলেন তার তিন পুত্রই সম্মানসূচক ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করবেন, কিন্তু ১৮৮৯ সালে দেখা গেল একমাত্র সবার ছোট অরবিন্দই বাবার আশা পূরণ করতে পারবেন, বাকি ভাইয়েরা ইতোমধ্যেই ভিন্ন দিকে নিজ নিজ ভবিষ্যতের পথ বেছে নিয়েছেন। আইসিএস কর্মকর্তা হওয়ার জন্য ছাত্রদেরকে প্রতিযোগীতা মূলক পরীক্ষায় পাশ করতে হত এবং ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর অধ্যয়নের অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন ছিল। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারনে বৃত্তি অর্জন ছাড়া ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করা অরবিন্দের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। তিনি কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কিংস কলেজের বৃত্তি পরীক্ষায় পাশ করায় তা সম্ভবপর হয়ে ওঠে।[৭] তিনি কয়েক মাস পর আইসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন ২৫০ প্রতিযোগীর মাঝে ১১তম স্থান অধিকার করে।[৮] তিনি পরবর্তী দুই বছর কিংস কলেজে কাটান। [৯]

দুই বছর প্রবেশনের শেষ দিকে অরবিন্দ নিশ্চিত হন যে বৃটিশদের সেবা করার ইচ্ছা তার নেই, অতএব, আইসিএস পরীক্ষার অংশ অশ্বারোহণ পরীক্ষায় হাজির না হয়ে অকৃতকার্য হন। একই সময়ে বারোদার মহারাজ ৩য় সায়াজিরাও গায়কোয়াড় বিলেত ভ্রমণ করছিলেন। স্যার হেনরি কটনের ভাই জেমস কটন, যিনি কিছুদিন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং সাউথ কেন্সিংটন লিবারেল ক্লাবের সচিব ছিলেন, অরবিন্দ ও তার বাবার পূর্ব পরিচিতির সুবাদে বারোদা স্টেস সার্ভিসে অরবিন্দের চাকুরির ব্যবস্থা করেন এবং যুবরাজের সাথে অরবিন্দের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন। অরবিন্দ বিলেত ছেড়ে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন ১৮৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে।[১০] ভারতে অপেক্ষারত অরবিন্দর বাবা বোম্বের এজেন্টের কাছ থেকে ভুল সংবাদ পান, পর্তুগালের ঊপকূলে অরবিন্দর জাহাজডুবি ঘটেছে। ড ঘোষ আগেই অসুস্থ ছিলেন, এই দুঃসংবাদের ধাক্কা সামলাতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেন।[১১]

বারোদা এবং কলকাতা (১৮৯৩–১৯১০)[সম্পাদনা]

বারোদায় অরবিন্দ স্টেস সার্ভিসে যোগদান করেন সার্ভিস এন্ড সেটলমেন্ট বিভাগে, পরে কোষাগার হয়ে অবশেষে সচিবালয়ে গায়কোয়াড়ের জন্য বক্তৃতা লেখার কাজে নিযুক্ত হন।[১২] বারোদায় অরবিন্দ ভারতীয় সংস্কৃতির উপর গভীর অধ্যয়ন শুরু করেন, নিজ উদ্যোগে সংস্কৃত, হিন্দি এবং বাংলা, বিলেতের শিক্ষায় যেসব থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। অধ্যয়নে বেশি মনোযোগী হওয়ায় অন্যান্য কাজে সময়ানুবর্তীতার অভাব দেখা দেয় এবং ফলস্বরূপ পরবর্তীকালে তাকে বারোদা কলেজে ফরাসি ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে অল্পদিনেই তিনি জনপ্রিয়তা পান অপ্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির কারনে। পরবর্তীতে কলেজের উপাধ্যক্ষ্যের পদেও আরোহণ করেন।[১২] তিনি বারোদা থেকেই তার প্রথম কাব্য সঙ্কলন "The Rishi" প্রকাশ করেন।[১৩] একই সময়ে তিনি বৃটিশ বিরোধী সক্রিয় রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বারোদা স্টেটে অধিকৃত পদের কারনে পর্দার আড়াল থেকেই কাজ করা শুরু করেন। বাংলা ও মধ্য প্রদেশে ভ্রমণ করে বিপ্লবী দলগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। লোকমান্য তিলক এবং ভগিনী নিবেদিতার সাথেও যোগাযোগ স্থাপিত হয়। বাঘা যতীন হিসেবে পরিচিত যতীন্দ্রনাথের জন্য তিনি বারোদার সেনাবিভাগে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং পরবর্তীতে তাকে বাংলার অন্যান্য বিপ্লবী দলগুলোকে সংগঠিত করার কাজে পাঠান। ১৯০৮ সালে বন্দেমাতরম পত্রিকায় রাজদ্রোহমূলক রচনা এবং আলিপুর বোমা মামলায় জড়িত থাকার জন্যে অভিযুক্ত হন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রচেষ্টায় মুক্তিলাভ করেন এবং সশস্ত্র বিপ্লববাদী পথ পরিহার করে সনাতন ধর্ম প্রচার ও জাতীয় দল পূনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছিলেন।


দর্শনশাস্ত্র ও আধ্যাত্মিক[সম্পাদনা]

The one aim of [my] yoga is an inner self-development by which each one who follows it can in time discover the One Self in all and evolve a higher consciousness than the mental, a spiritual and supramental consciousness which will transform and divinize human nature.

— Aurobindo, Sri Aurobindo’s Teaching. Written at the third person[১৪]


রচিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

অরবিন্দ ঘোষের রচিত ৩২ টি গ্রন্থের মধ্যে বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা ৬টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:

  • The Life Divine
  • Essays on Gita
  • Savitri, Mother India
  • The Hero and the Nymph Urvasie
  • Song of Myrtilla and other Poems
  • The age of Kalidasa
  • A System of National Education
  • The Renaissance in India
  • Speeches of Aurobinda

বাংলা গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • কারাকাহিনী
  • ধর্ম ও জাতীয়তা
  • অরবিন্দের পত্র

লেখা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Savitri: A Legend and a Symbol, Book XI: The Book of Everlasting Day, Canto I: The Eternal Day: The Soul's Choice and The Supreme Consummation, p 709
  2. McDermott, Robert A (১৯৯৪)। Essential Aurobindo। SteinerBooks। আইএসবিএন 0-940262-22-3 
  3. Ghose A., McDermott, R.A. - Essential Aurobindo, SteinerBooks (1994) আইএসবিএন ০-৯৪০২৬২-২২-৩.
  4. Heehs, P., The Lives of Sri Aurobindo, 2008, New York: Columbia University Press আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-১৪০৯৮-০
  5. Google Scholar
  6. The lives of Sri Aurobindo, Peter Heehs, Page 3
  7. The Lives of Sri Aurobindo, Peter Heehs. Page 19
  8. The Lives of Sri Aurobindo, Peter Heehs. Page 20
  9. Ghose, Aravinda Acroyd in Venn, J. & J. A., Alumni Cantabrigienses, Cambridge University Press, 10 vols, 1922–1958.
  10. http://www.sriaurobindoashram.org/ashram/sriauro/life_sketch.php
  11. Sri Aurobindo for all ages. Nirodbaran
  12. http://www.sriaurobindosociety.org.in/sriauro/aurolife.htm#1893
  13. http://intyoga.online.fr/rishi.htm
  14. url = http://www.auroville.org/thecity/matrimandir/no_religion.htm |accessdate = 27 March 2013

গ্রন্থপঞ্জি

  • Census Returns of England and Wales, Kew, England: The National Archives of the UK: Public Record Office, ১৮৮১, Class: RG11; Piece: 3918; Folio: 15; Page: 23; GSU roll: 1341936 
  • Thorpe, Edgar (২০১০), The Pearson General Knowledge Manual, New Delhi: Dorling kindersley Pvt ltd 
  • Anon, Aurobindo, Sri (1872–1950), English Heritage, সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১২ 
  • Aurobindo, Sri (2005), The Life Divine, Pondicherry: Lotus press, আইএসবিএন 0-941524-61-2, সংগ্রহের তারিখ 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  • "Ghose, Aravinda Acroyd (GHS890AA)"A Cambridge Alumni Databaseকেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৪ 
  • Aurobindo, Sri (২০০৬), Autobiographical Notes and Other Writings of Historical Interest, Sri Aurobindo Ashram Publication Department 
  • Das, Manoj (৩০ ডিসেম্বর ২০০৭), "The great ideological split", The Hindu, সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৪ 
  • Dua, Shyam, সম্পাদক (২০০৫), The Luminous Life of Sri Chinmoy: An Authorized Biography, Tiny Tot Publications, আইএসবিএন 978-8-13040-221-5 
  • Heehs, Peter (২০০৮), The Lives of Sri Aurobindo, Columbia University Press, আইএসবিএন 0-231-14098-3 
  • Jones, Constance; Ryan, James D., সম্পাদকগণ (২০০৭), Encyclopedia of Hinduism, New York: Facts on File Inc, আইএসবিএন 0-8160-5458-4 
  • Kripal, Jeffery John (২০০৭), Esalen: America and the Religion of No Religion, Chicago, USA: University of Chicago press, আইএসবিএন 978-0-22645-369-9 
  • Lorenzo, David J. (১৯৯৯), Tradition and the Rhetoric of Right: Popular Political Argument in the Aurobindo Movement, London: Associated University Presses, আইএসবিএন 0-8386-3815-5 
  • McDermott, Robert A. (১৯৯৪), Essential Aurobindo, SteinerBooks, আইএসবিএন 0-940262-22-3 
  • Nirodbaran (১৯৭৩), Twelve years with Sri Aurobindo, Pondicherry: Sri Aurobindo Ashram 
  • O'Mahony, John (২৯ সেপ্টেম্বর ২০০১), "The Sound of Discord", The Guardian, London 
  • Satprem (১৯৮২), The Mind of the Cells, New York, NY: Institute for Evolutionary Research, আইএসবিএন 0-938710-06-0 
  • Thakur, Bimal Narayan (২০০৪), Poetic Plays of Sri Aurobindo, Northern Book Centre, আইএসবিএন 978-8-17211-181-6 
  • Yadav, Saryug (২০০৭), "Sri Aurobindo's Life, Mind and Art", Barbuddhe, Satish, Indian Literature in English: Critical Views, Sarup and Sons 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]