বাংলাদেশের অর্থনীতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ-এর অর্থনীতি
Bdeconomy.jpg
অবস্থান ১৬৬
মুদ্রা বাংলাদেশী টাকা (BDT)
অর্থবছর ১লা জুলাই - ৩০শে জুন
বাণিজ্যিক সংস্থা WTO, SAFTA, D8, WCO
পরিসংখ্যান
জিডিপি $২০৮.৬ বিলিয়ন (২০০৭ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫% (২০০৭ সালের প্রাক্কলন)
মাথাপিছু জিডিপি $ ১৩১৪ (২০১৫ সালের প্রাক্কলন)
ক্ষেত্র অনুযায়ী জিডিপি কৃষি (১৯%), শিল্প (২৮.৭%), সেবা (৫৩.৭%) (২০০৭ সালের প্রাক্কলন)
মুদ্রাস্ফীতি ৮.৮০% (২০১০-১১ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
দারিদ্র সীমার নিচে অবস্থিত জনসংখ্যা ৪১.৩% (২০০৭ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
শ্রমশক্তি ৬ কোটি ৯০ লক্ষ (২০০৬ সালের প্রাক্কলন)
পেশা অনুযায়ী শ্রম কৃষি (৬৫%), শিল্প (২৫%), সেবা (১০%) (২০০৫ সালের প্রাক্কলন)
বেকারত্বের হার ২.৪% (২০০৮)
প্রধান শিল্প পাট উৎপাদন, সুতির টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, চা প্রক্রিয়াকরণ, নিউজপ্রিন্ট কাগজ, চিনি, হালকা প্রকৌশল, রাসায়নিক দ্রব্য, সিমেন্ট, সার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, লোহা, ইস্পাত
বৈদেশিক বাণিজ্য
রপ্তানি $১৪.১১ বিলিয়ন (২০০৭ সালের প্রাক্কলন)
রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া, হিমায়িত মাছ এবং সামুদ্রিক খাদ্য
প্রধান রপ্তানি অংশীদার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩১.৮%, জার্মানি ১০.৯%, যুক্তরাজ্য ৭.৯%, ফ্রান্স ৫.২%, নেদারল্যান্ডস ৫.২%,

ইতালি ৪.৪২% (২০০০)
আমদানি $২১.৬ বিলিয়ন (২০০৭)
আমদানি পণ্য ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্য, লোহা ও ইস্পাত, তুলা, খাদ্য, অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম দ্রব্য
প্রধান আমদানি অংশীদার ভারত ১০.৫%, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৯.৫%, জাপান ৯.৫%, সিঙ্গাপুর ৮.৫%,গণচীন ৭.৪% (২০০৪)
মোট বৈদেশিক ঋণ $২১.২৩ বিলিয়ন (৩১শে ডিসেম্বর, ২০০৭)
সরকারি অর্থসংস্থান
সরকারি ঋণ $১.২ বিলিয়ন (২০০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
আয় $৮ বিলিয়ন (২০০৭ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
ব্যয় $৯ বিলিয়ন (২০০৭ সালের প্রাক্কলন)
অর্থনৈতিক সাহায্য $১.৫৭৫ বিলিয়ন (২০০০ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কলন)
মূল উপাত্ত সূত্র: সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক
মুদ্রা অনুল্লেখিত থাকলে তা মার্কিন ডলার এককে রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
অধিকাংশ বাংলাদেশী কৃষিকাজ থেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি। এই অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যমহারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পরিব্যাপ্ত দারিদ্র্য, আয় বণ্টনে অসমতা, শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য বেকারত্ব, জ্বালানী, খাদ্যশস্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানী নির্ভরতা, জাতীয় সঞ্চয়ের নিম্নহার, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর ক্রমহ্রাসমান নির্ভরতা এবং কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্প বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এসময় পাট রপ্তানি করে দেশটি অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। কিন্তু পলিপ্রোপিলিন পণ্যের আগমনের ফলে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকেই পাটজাত দ্রব্যের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্য কমতে থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বাংলাদেশের মাথাপিছু স্থূল দেশজ উত্‌পাদন [১] স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭০-এর দশকে সর্বোচ্চ ৫৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তবে এ প্রবৃদ্ধি বেশীদিন টেকেনি। ১৯৮০-এর দশকে এ হার ছিলো ২৯% এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিলো ২৪%।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বাংলাদেশ বর্ধিত জনসংখ্যার অভিশাপ সত্ত্বেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে আভ্যন্তরীণ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ধান উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশের চাষাবাদের জমি সাধারণত ধানপাট চাষের জন্য ব্যবহৃত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে গমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের দিক দিয়ে মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। তা সত্ত্বেও মোট জনসংখ্যার ১০% থেকে ১৫% অপুষ্টির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশের কৃষি মূলত অনিশ্চিত মৌসুমী চক্র এবং নিয়মিত বন্যাখরার উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। দেশের যোগাযোগ, পরিবহনবিদ্যুৎ খাত সঠিকভাবে গড়ে না ওঠায় দেশটির উন্নতি ব্যহত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল খনি রয়েছে এবং কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতির ছোটোখাটো খনি রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্প-অবকাঠামো দুর্বল হলেও এখানে অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা অঢেল এবং মজুরিও সস্তা।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন দাতা দেশ থেকে ৩ হাজার কোটি বা ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ পেয়েছে যার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়ে গেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশের প্রধান দাতার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সৌদি আরব ও পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ। তাসত্ত্বেও বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার এখনও অনেক বেশি। মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং ভারতচীনের পর বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ সংখ্যক দরিদ্র মানুষ বসবাস করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] একই আয়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সামাজিক সেবার মান অনেক কম। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এবং এর অর্থনীতি বর্তমানে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকের স্বদেশে পাঠানো অর্থের (ইংরেজিতে Remittance রেমিটেন্স) ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১৯৯৫১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সবচেয়ে কম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে এই মজুদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে এই মজুদের মূল্যমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি বা ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের ৪০তম বৃহত্তম মজুদ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধারা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক মন্দার অভিঘাত মোকাবিলায় যথেষ্ট দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে এর প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এটি বাংলাদেশের বাজার দর অনুযায়ী মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের একটি তালিকা।গণনা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশের মিলিয়ন টাকা মুদ্রামানে।

বছর মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মার্কিন ডলার বিনিময় মূল্যস্ফিতি সূচক (২০০০=১০০)
১৯৮০ ২৫০,৩০০ ১৬.১০ টাকা ২০
১৯৮৫ ৫৯৭,৩১৮ ৩১.০০ টাকা ৩৬
১৯৯০ ১,০৫৪,২৩৪ ৩৫.৭৯ টাকা ৫৮
১৯৯৫ ১,৫৯৪,২১০ ৪০.২৭ টাকা ৭৮
২০০০ ২,৪৫৩,১৬০ ৫২.১৪ টাকা ১০০
২০০৫ ৩,৯১৩,৩৩৪ ৬৩.৯২ টাকা ১২৬

কৃষি[সম্পাদনা]

মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের আয়ের আরেকটি প্রধান উৎস

অধিকাংশ বাংলাদেশী কৃষিকাজের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আগে থেকেই ধানপাট বাংলাদেশের প্রধান ফসল হিসেবে সুপরিচিত থাকলেও ইদানীং গম চাষের ওপর গুরুত্ব বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে চা উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশের উর্বর ভূমি এবং সহজলভ্য পানির উৎসের কারণে এদেশের অনেক স্থানে বছরে তিনবার ধানের ফলন হয়। অনেক নিয়ামকের কারণে বাংলাদেশের কায়িক-শ্রমনির্ভর কৃষি ধীরগতিতে উন্নতি লাভ করছে। বিরূপ আবহাওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সাম্প্রতিককালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, সারের পরিমিত ব্যবহার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সঠিক মূলধন ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। ফলে আরও উন্নতি আশা করা হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রধান শস্য ধান উৎপাদিত হয়েছে ২০০০০০০.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ২০০৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ধান চাষের জন্য বিভিন্ন কীটনাশক যেমনঃ দানাদার কার্বোফুরান, সিন্থেটিক পাইরিথ্রয়েড এবং ম্যালাথিয়ন বিক্রয় হয়েছে ১৩,০০০ টনেরও বেশি।[১][২] এই কীটনাশক ব্যবহার বৃদ্ধি কেবল পরিবেশ দূষণই ঘটাচ্ছে না, বরং দরিদ্র ধানচাষীদের চাষাবাদের খরচও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কীটনাশক ব্যবহার কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।[৩] ধানের বিপরীতে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে গম উৎপাদিত হয়েছে ১.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চাষযোগ্য ভূমির ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। একারণে জমির উর্বরাশক্তি প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। একারণে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় বৈদেশিক সাহায্য ও বাণিজ্যিকভাবে খাদ্য আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। বেকারত্ব এখনও একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা এবং কৃষিকাজ এই সকল বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মের যোগান দিতে পারে কি না, তা চিন্তার বিষয়। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ভবিষ্যত সরকারগুলোর একটি প্রধান দায়িত্ব। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মানুষের উপার্জনের আরেকটি আন্যতম উৎস হল পশুসম্পদ। এই সেক্টরটি অতি দ্রুত উন্নতি করছে।

খাদ্যশস্য উৎপাদন[সম্পাদনা]

নিচে বাংলাদেশে ১৯৯০-৯১ থেকে ২০১০-১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে খাদ্যশস্য উৎপাদন (লক্ষ মেট্রিক টন) পরিমান দেখানো হল ৷ লক্ষনীয় যে এই উৎপাদন ক্রমবর্ধমান ৷[২]

খাদ্যশস্য উৎপাদন
বছর মোট উৎপাদন
১৯৯০-৯১ ১৮৮.৬
১৯৯৫-৯৬ ১৯০.০
২০০০-০১ ২৬৯.০৬
২০০৫-০৬ ২৭৭.৮৭
২০০৯-১০ ৩৪১.১৩
২০১০-১১ ৩৭০.১৩ (লক্ষমাত্রা)

শিল্প[সম্পাদনা]

কতিপয় স্থানীয় কোম্পানি যথা বেক্সিমকো, স্কয়ার, আকিজ গ্রুপ, ইস্পাহানি, নাভানা গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, কে.ডি.এস. গ্রুপ এবং বহুমূখী কোম্পানি ইউনোকাল কর্পোরেশন এবং শেভরন

বিনিয়োগ[সম্পাদনা]

দেশ ভিত্তিক বৈদেশিক বিনিয়োগ ২০০৯-১০

দেশের নাম প্রজেক্টের পরিমাণ প্রস্তাবিত বিনিয়োগ (ইউ এস মিলিয়ন ডলারে)
সউদী আরব ৪৭৮,৬৫২
অষ্ট্রেলিয়া ২,০৩৬
ইউ এস এ ২৯৯০
ফিনল্যান্ড ৩০২৩
ভারত ৮৪৫১
দক্ষিণ কোরিয়া ১২ ৩৩,৭৬৮
মালয়েশিয়া ৩,০৫৬
নেদারল্যান্ডস ৮,৫৪৪
চীন ১২ ২১,০০০
ইউকে ৩,৫০৭
সোর্স:বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট'

তৈরি পোষাক শিল্প[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব চাইতে বেশি অবদান রাখে তৈরী পোষাক শিল্প, এই শিল্প দেশিয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট প্রবৃদ্ধির ৬-৮% আসে পোষাক খাত থেকে। বাংলাদেশের এই শিল্পকে বর্তমানে উন্নতবিশ্ব সহ উন্নয়নশিল দেশগুলো অনুকরণ করছে। পোষাক শিল্প: স্বাধীনতার পরে যে শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছে তার মাঝে অন্যতম এবং একমাত্র মাধ্যম কিন্তু এই পোশাক শিল্পই।বিশ্বের বুকে নিজেদের কঠোর শ্রম দিতে পারার প্রমাণ মিলে এই শিল্পের মা্ধ্যমে।

পোষাক শিল্পের ইতিহাস[সম্পাদনা]

আদিকাল থেকে মানুষ কোন না কোন বস্ত্র ব্যবহার করে আসলেও আসলে সেলাই মেশিনের সাহায্যে তৈরি বস্ত্র ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথম ১৭৫৫ সালে। সেখান থেকে বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয় অনেক পরেই বলা যাই। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালে। বাংলাদেশে প্রথম গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয় ১৯৬০ সালে ঢাকার উর্দুরোডে যার নাম রিয়াজ গার্মেন্টস। প্রাথমিকভাবে রিয়াজ গার্মেন্টস এর উৎপাদিত পোশাক স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করা হতো। ইংরেজি ১৯৬৭ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস এর উৎপাদিত ১০,০০০ পিস শার্ট বাংলাদেশ হতে সর্বপ্রথম বিদেশে (ইংল্যান্ডে) রপ্তানি করা হয়।

মূলত ১৯৭০ সালের পরই বাংলাদেশে তৈরি পোষাক শিল্পের বিকাশ ঘটে বলে বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়। স্বাধীনতা কালীন সময় বাংলাদেশ দরিদ্র দেশগুলোর মাঝে ছিল উপরের সারির। তখন উৎপাদনের একমাত্র জায়গা ছিল পাট। ৭০ থেকে ৮০ দশকে এসে পোষাক শিল্প তৈরি হয়। তৈরি করেন নূরুল কাদের খান নামের এক ব্যক্তি। তার মিশন ছিল পোশাক শিল্প। তিনি ১৭জন কর্মীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রেনিং করার জন্য পাঠান। তারা ফিরে আসার পর তিনি দেশ গামেন্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাড় করান।

গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ১৯৮১-৮২ সালে ০.১ বিলিয়ন টাকার রেডিমেইড গার্মেন্টস রপ্তানি করে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পদচারনা আরম্ভ হয়। উক্ত সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্পের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না। অথচ মাত্র ১০ বৎসরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১৯৯২-৯৩ সালে ১৪৪৫ মিলিয়ন ইউ.এস ডলারে উন্নীত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। দিনকে দিন পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। যেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বমোট পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯,০৮৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে তা ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৫১৫.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ৯,৬৫৩.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রপ্তানি আয় বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সংখ্যাও দিনকে দিন বাড়ছে । বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০০ এর উপর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। যেগুলো থেকে প্রচুর পরিমানে পোশাক উৎপন্ন করা হচ্ছে। ৯০ দশকের পর নারীদের অর্ন্তভুক্তি এই শিল্পকে আরো গতিশীল করে তোলে।

== দারিদ্র ==দারিদ্র্যতা হল আমাদের একটা বহুমাত্রিক সমস্যা।

বৈদেশিক খাত[সম্পাদনা]

দেশজ খাত[সম্পাদনা]

রপ্তানী খাত[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৩ সালে রপ্তানী আয় ছিল মাত্র ৩৪৮.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ; যার সিংহভাগ (৯০%) আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানী করে৷ তৎকালীন অন্যান্য প্রধান রপ্তানী পণ্যের মধ্যে অন্যতম চা শিল্প ও চামড়া শিল্প৷ পরবর্তী চার দশকে বাংলদেশের রপ্তানী আয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌছানোর পেছনে প্রধান খাত হল তৈরি পোশাক শিল্প৷ অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানী খাত হল ঔষধ শিল্প ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প৷

সরকারী ব্যয়ের ধারা[সম্পাদনা]

বাৎসরিক উন্নয়ন পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

একনজরে[সম্পাদনা]

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯৯০ দশকে প্রভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধিত হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের এখনও বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা সত্ত্বেও এখানে দ্রুত শ্রমিক শ্রেণী বৃদ্ধি পেয়েছে যাদেরকে কেবল কৃষি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়। একারণে সরকার বিভিন্ন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানিকে অনুমোদন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের বিরোধিতা সত্ত্বেও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদন উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির অর্থনীতি আবার বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে শুরু করে। অবশ্য এখন পর্যন্ত পূর্ব এশীয় অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার কোন প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েনি। বিশ্ব ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী বর্তমান বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা প্রায় ৬.৫%। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ১০% কমে গেছে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ এটিকে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি শুভলক্ষন হিসেবে দেখে থাকেন। রপ্তানিতে ৯ মাসে দেশটিতে ১৮% প্রগতি সাধন হয়েছে এবং রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫% হারে। ২০০৫ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার যা অনুমিত পরিমানের চেয়ে ০.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। ২০০৬ সালের জন্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১১.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৭%।

মূল অর্থনৈতিক সূচক
জিডিপি-ক্রয়ক্ষমতা সমতা ২৭৫ বিলিয়ন ডলার (২০০৪ অনুমিত)
জিডিপি-প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হার ৭.০% (২০০৬ অনুমিত)
জিডিপি-মাথাপিছু: ক্রয়ক্ষমতা সমতা ২,০০০ ডলার(২০০৪ অনুমিত)
সাহায্য-মাথাপিছু $১০.১ (২০০৩)
জিডিপি-খাতওয়ারী
কৃষি ২০.৫% (২০০৪)
শিল্প ২৬.৭% (২০০৪)
সেবা ৫২.৮% (২০০৪)
আয়, মঞ্জুরি বহির্ভূত ২৩.৪% (২০০৪)
দারিদ্রসীমার নিচে জনসংখ্যা ৩৫.৬% (১৯৯৫-৯৬ অনুমিত)
পারিবারিক আয় অথবা ভোগ, শতাংশ হারে
সর্বনিম্ন ১০% ৩.৯%
সর্বোচ্চ ১০% ২৮.৬% (১৯৯৬)
মূল্যস্ফীতি হার (ভোক্তা মূল্য) ৫.৮% (২০০০)
শ্রম শক্তি ৬৪.১ মিলিয়ন (১৯৯৮)
নোট: সোদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অমান, কাতার ও মালয়েশিয়াতে উচ্চ হারে শ্রম শক্তি রপ্তানি হয়েছে; শ্রমিকদের রেমিটেন্স ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ১.৭১ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল
শ্রম শক্তি-পেশা হিসেবে
কৃষি ৬৫%
সেবা ২৫%
শিল্প ও খনি ১০% (১৯৯৬)
বেকারত্বের হার ৩.৬% (২০০২)
বাজেট
আয় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার
ব্যয় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার, মূলধন ব্যয় সহ (২০০০)
শিল্প পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন, সূতা কাপড়, তৈরি পোষাক, চা প্রক্রিয়াকরণ, কাগজ নিউজপ্রিন্ট, সিমেন্ট, রাসায়নিক, হালকা প্রকৌশল, চিনি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ইস্পাত, সার
শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হার ৬.২% (২০০১)
বিদ্যুত-উৎপাদন ১৩.৪৯৩ বিলিয়ন কিলো ওয়াট (২০০০)
বিদ্যুত-উৎপাদন, উৎস হিসেবে
জীবাশ্ম জ্বালানি ৯২.৪৫%
পানিসম্পদ ৭.৫৫%
অন্যান্য ০% (২০০০)
বিদ্যুত-ব্যবহার ১২.৫৪৮ বিলিয়ন কিলো ওয়াট (২০০০)
বিদ্যুত-রপ্তানি ০ কিলো ওয়াট (২০০০)
বিদ্যুত-আমদানি ০ কিলো ওয়াট (২০০০)
শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
কৃষি-পণ্য ধান, পাট, চা, গম, ইক্ষু, আলু, তামাক, ডাল, তৈলবীজ, মশলা, ফল-ফলাদি; মাংস, দুধ, পোলট্রি
রপ্তানি ৬.৬ বিলিয়ন ডলার (২০০১)
রপ্তানি-পণ্য তৈরি পোষাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, হিমায়িত মৎস ও সামুদ্রিক খাদ্য
রপ্তানি-সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ৩১.৮%, জার্মানি ১০.৯%, যুক্তরাজ্য ৭.৯%, ফ্রান্স ৫.২%, নেদারল্যান্ডস ৫.২%, ইতালি ৪.৪২% (২০০০)
আমদানি ৮.৭ বিলিয়ন ডলার (২০০১)
আমদানি-পণ্য মেশিনারি ও যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক দ্রব্য, লোহা ও ইস্পাত, পোষাক-সামগ্রী, সূতা, খাদ্য, অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি, সিমেন্ট ক্লিংকার
আমদানি-সহযোগী ভারত ১০.৫%, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ৯.৫%, জাপান ৯.৫%, সিঙ্গাপুর ৮.৫%, চীন ৭.৪% (২০০০)
অর্থনৈতিক সাহায্য-গ্রহীতা ১.৫৭৫ বিলিয়ন ডলার (২০০০ অনুমিত)
মুদ্রা বিনিময় হার টাকা (৳) প্রতি মার্কিন ডলারে (US$1) - ৬৯.০০০ (অক্টোবর ২০০৬), ৪৯.০৮৫ (১৯৯৯), ৪৬.৯০৬ (১৯৯৮), ৪৩.৮৯২ (১৯৯৭)
Source:Discovery Bangladesh

দেনা - বাহ্যিক: ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার (১৯৯৮)

অর্থনৈতিক সাহায্য - গ্রহীতা: ১.৪৭৫ বিলিয়ন ডলার (১৯৯৬/৯৭ অর্থবছর)

মুদ্রা: ১ টাকা (৳) = ১০০ পয়সা

মুদ্রা বিনিময় হার: টাকা (৳) প্রতি মার্কিন ডলারে (US$1) - ৬৯.০০০ (অক্টোবর ২০০৬), ৪৯.০৮৫ (১৯৯৯), ৪৬.৯০৬ (১৯৯৮), ৪৩.৮৯২ (১৯৯৭), ৪১.৭৯৪ (১৯৯৬), ৪০.২৭৮ (১৯৯৫)

অর্থ বছর: ১ জুলাই - ৩০ জুন


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://earthtrends.wri.org/text/economics-business/variable-638.html
  2. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, অর্থ মন্ত্রনালয়, ১৯৯৬, ২০০৩, ২০১১

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]