বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কালপঞ্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় মার্চ ২৬, ১৯৭১ এবং শেষ হয় ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১। প্রধান ঘটনাগুলো নিচের কালানুক্রম তালিকাবদ্ধ রয়েছে।

কালানুক্রম[সম্পাদনা]

যুদ্ধের পূর্বে[সম্পাদনা]

  • মার্চ ২: শেখ মুজিবুর রহমান সংসদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মানার ঘোষণা দিয়ে ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে গণ জমায়েতের আহ্বান জানান।ঢাকায় হরতাল পালিত হয় পূর্ব ঘোষণা অনুসারে।ঢাকা বিমানবন্দরে সামরিক বাহিনীর প্রবেশকে বাধা দেয়ার সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে দু'জন নিহত হন।৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচী অপরিবর্তিত রাখা হয়।অপরদিকে সামরিক জান্তা সংবাদপত্রের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে নতুন আদেশ জারি করে।[২]
  • মার্চ ৩: সারা দেশে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। চট্টগ্রামে বহু লোক সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা যায়।বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।অন্যদিকে সামরিক সরকার কার্ফু্ জারি করে।প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ১০ মার্চ জাতীয় পরিষদের নেতাদের বৈঠক আহ্বান করেন । শেখ মুজিব একে প্রত্যাখ্যান করেন।[৩]
  • মার্চ ৪: সেনাবাহিনীর সাথে জনসাধারণের সংঘর্ষে শতাধিক লোক হতাহত হন যার ফলশ্রুতিতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান প্রধান শহরে কার্ফু জারি করা হয়।নুরুল আমিন ইয়াহিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে না গেলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে শেখ মুজিব ঘোষণা দেন। স্টেট ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক হরতালের সময় শুধু বেতন দেয়ার জন্য দু'ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।[৩]
  • মার্চ ৫: ইয়াহিয়ার সঙ্গে ভুট্টোর আলোচনা চলে।অন্যদিকে ঢাকা ও টঙ্গীতে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গুলিবর্ষণে শতাধিক লোক নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।[৩]
  • মার্চ ৬: ইয়াহিয়া বেতার ভাষণে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।ভুট্টোর পিপলস পার্টি অধিবেশনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।অন্যদিকে সামরিক জান্তা পূর্ব পাকিস্তানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে।ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে কয়েদিরা পালানোর সময় রক্ষীদের গুলিতে ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়।এদিকে জেনারেল টিক্কা খানকে একই সাথে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ও সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।[৩]
  • মার্চ ৭: শেখ মুজিবুর রহমান - নির্বাচনে সদ্য জয়ী হওয়া আওয়ামী লীগ এর নেতা, রেস কোর্সের ময়দানে ঘোষণা করেন , "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ".[৪]

সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি নিম্নলিখিত চারটি শর্ত প্রদান করেন--

  1. সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
  2. জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
  3. সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং
  4. গণহত্যা সম্পর্কে তদন্ত করা।

শর্ত চারটি পূরণ করা হলে আওয়ামী লীগ অধিবেশনে যোগ দেবে কি দেবে না তা বিবেচনা করবে বলে তিনি জানান।অন্যদিকে ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিক্কা খানের শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।[৫]

  • মার্চ ৮: দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন নতুন উদ্যমে শুরু হয়।জায়গায় জায়গায় কালো পতাকা উত্তোলন আর সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়।সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।ঢাকা হাইকোর্টের সব বিচারপতি টিক্কা খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানান।[৫]
  • মার্চ ৯: পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়ার জন্য মওলানা ভাসানী উদাত্ত আহ্বান জানান।তিনি ১৪ দফার ভিত্তিতে আন্দোলনের ডাক দেন।সামরিক বাহিনীর পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারদের পরিবারবর্গকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো শুরু হয়।[৫]
  • মার্চ ১০: সরকারের এক ঘোষণায় জানায় যে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়।[৫]
  • মার্চ ১২: শেখ মুজিবের সাথে আলোচনা শেষ করে এয়ার ভাইস মার্শাল(অব.) আজগর খান করাচিতে বলেন যে, শেখ মুজিব হচ্ছেন পূর্ব আর পশ্চিমের ক্ষীয়মাণ সম্পর্কের শেষ সংলাপ।তিনি ঢাকায় কোনো পাকিস্তানের পতাকা দেখেননি বলে জানান।[৫]
  • মার্চ ১৩: মওলানা ভাসানী রাজবন্দীদের মুক্ত করার জন্য 'জেল ভাঙ্গা' নামে এক আন্দোলনের ডাক দেন।ইয়াহিয়া লাহোরে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করেন।কিন্তু ঢাকায় বৈঠক হলে তাতে যোগ দেবেন বলে শেখ মুজিব সম্মতি প্রদান করেন।[৬]
  • মার্চ ১৪: সামরিক আইন লঙ্ঘন করে মিছিল সভা চলতে থাকে। বেসামরিক প্রশাসন পশ্চিম পাকিস্তানি নীতি অনুযায়ী কাজ করা থেকে বিরত থাকে।[৬]
  • মার্চ ১৫: শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিতে বাংলাদেশের শাসন নিজ হাতে নেয়ার ঘোষণা দেন এবং কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য ৩৫ টি বিধি জারি করেন। মাত্র দুটি ব্যাংকে সরকারকে দেয় কর প্রদানের নির্দেশ দেন।সামরিক প্রহরায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন।জাতির উদ্দেশ্যে ২৩ মার্চ ভাষণ প্রদানের ঘোষণা দেন।[৬]
  • মার্চ ১৬: প্রথম দফায় শেখ মুজিবের সাথে ইয়াহিয়ার আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হয়।চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা চীন থেকে আমদানি করা সমরাস্ত্রবাহী জাহাজের মাল খালাসে অস্বীকৃতি জানায়।স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার দাবি করে।[৬]
  • মার্চ ১৭: মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক দ্বিতীয় দফায় চলে । বেসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে ২ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী তলব করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কমিশন নিয়োগ করা হয়।[৬]

যুদ্ধের ঘটনাবলি[সম্পাদনা]

মার্চ[সম্পাদনা]

  • মার্চ ২৫: পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা সহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে, রাজনৈতিক কর্মী,ছাত্র, এবং সেনাবাহিনী ,পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর বাংলাদেশী সদস্যদের হামলা করার মধ্য দিয়ে ।
  • মার্চ ২৬: দিনের প্রথম প্রহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। সন্ধ্যা ৯টায় [৭][৮] পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে নিজনামে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালিত হয়। ঘোষণাটি নিম্নরুপ:

    প্রিয় দেশবাসী,আমি মেজর জিয়া বলছি।...আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আপনারা দুশমনদের প্রতিহত করুন। দলে দলে এসে যোগ দিন স্বাধীনতা যুদ্ধে। গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েট ইউনিয়ন, চীনসহ বিশ্বের সব স্বাধীনতাপ্রিয় দেশের উদ্দেশে আমাদের আহ্বান, আমাদের ন্যায়যুদ্ধের সমর্থন দিন এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিন।...ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের অবধারিত।[৯]

  • মার্চ ২৭: মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায়[৮] স্বাধীনতার আরেকটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রটির ভাষ্য নিম্নরুপ:

    আমি,মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।

  • মার্চ ২৮:
  • মার্চ ২৯:
  • মার্চ ৩০: পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যা রোধে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ এ বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়াউর রহমান আহ্বান জানান।
  • মার্চ ৩১: কুষ্টিয়া প্রতিরোধ শুরু।

এপ্রিল[সম্পাদনা]

মে[সম্পাদনা]

জুলাই[সম্পাদনা]

  • জুলাই ১১-১৭: সেক্টর কমান্ডার সম্মেলন, ১৯৭১.

অগাস্ট[সম্পাদনা]

সেপ্টেম্বর[সম্পাদনা]

অক্টোবর[সম্পাদনা]

  • অক্টোবর ১৩: ঢাকার গেরিলা যোদ্ধারা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনেম খানকে হত্যা করেন.
  • অক্টোবর ২৮: ধলাই সীমান্তফাঁড়ির যুদ্ধ, শ্রীমঙ্গল।
  • অক্টোবর ৩১ to নভেম্বর ৩: ধলাইয়ের যুদ্ধ: পাকিস্তানের সীমান্ত হতে শেলিং বন্ধ করতে ত্রিপুরা হতে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের আক্রমণ।

নভেম্বর[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর[সম্পাদনা]

Chandpur and Daudkandi liberated.
  • ডিসেম্বর ১০: Liberation of Laksham. Two Bangladeshi ships sunk mistakenly by Indian air attack.
  • ডিসেম্বর ১১: Liberation of Hilli, Mymenshingh, Kushtia and Noakhali. USS Enterprise is deployed by the USA in the Bay of Bengal to intimidate Indian Navy.
  • ডিসেম্বর ১৩: Soviet Navy deploys a group of ship to counter USS Enterprise.
  • ডিসেম্বর ১৪: Selective genocide of nationalist intellectuals. Liberation of Bogra.
  • ডিসেম্বর ১৬: Pakistan Army surrenders to Mitro Bahini represented by Jagjit Singh Aurora of the Indian Army faction of the military coalition.
Freedom of Bangladeshi people.
  • ডিসেম্বর ২২: প্রবাসী অস্থায়ী সরকারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

জানুয়ারি[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারি[সম্পাদনা]

  • ০৫: লাহোরে ভারতীয় বিমান অপহরণ এবং ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিব বিবৃতি দেন যে অচিরেই এর সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
  • ০৯: জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিলম্ব হওয়ায় শেখ মুজিব বলেন যে, এটি নিজেদের সরকার থেকে তার জনগণকে বঞ্চিত করার আরেকটি ষড়যন্ত্র।
  • ১৪: রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।
  • ১৫: ভুট্টো বলেন যে, তার দল পাকিস্তান পিপ্‌লস পার্টি জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করবেনা। তবে তিনি একটি শর্তারোপ করেন। শেখ মুজিব এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দেন।
  • ১৬: পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি নুরুল আমিন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সকলকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
  • ২১: বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলা ছাত্রলীগ ভাষা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বিশেষ বিবৃতি দেয়। বাংলা ছাত্রলীগ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন তার ১৪-দফা দাবী পেশ করে।
  • ২৫: তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনা করে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি একটি বিশেষ প্রস্তাব করে।
  • ২৮: শেখ মুজিব ভুট্টোকে অধিবেশনে যোগদানের আহ্বান জানান এবং বলেন যে ৬-দফা কারো উপর চাপিয়ে দেয়া হবেনা।

মার্চ[সম্পাদনা]

  • ০১: রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। সমগ্র বাংলাদেশে এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রচারিত হয়।
  • ০২: পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র ধর্মঘট পালিত হয় এবং শেখ মুজিবের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
  • ০৬: লেঃ জেঃ টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর নিয়োগ করা হয়।
  • ০৭:
    • ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন যা ৭ই মার্চের ভাষণ নামে খ্যাত।
    • কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান করে।
  • ০৮:
  • ০৯:
  • ১৪: ভুট্টো দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
  • ১৭: মুজিব-ইয়াহিয়া দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে শেখ মুজিব বলেন যে, আন্দোলন চলবে।
  • ১৯: জয়দেবপুরের রাজবাড়িতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটালিয়নকে নীরস্ত্র করার পশ্চিম পাকিস্তানী প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয় বাঙালি সৈন্যরা।
  • ২০: উপদেষ্টাসহ মুজিব-ইয়াহিয়া চতুর্থ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
  • ২১: ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে ভুট্টো ঢাকায় আসেন।
  • ২২: ইয়াহিয় ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
  • ২৩: পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
  • ২৫: পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে সমগ্র ঘুমন্ত ও নীরস্ত্র বাঙালিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ব্যাপক গণহত্যা চালায় যা অপারেশন সার্চলাইট হিসেবে পরিচিত।
  • ২৬: কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সন্ধ্যা ৭টায় মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন[৮][১৪][১৫][১৬]
  • ২৭: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান পূণরায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন[৮][১৬][১৭]
  • ৩০: পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যা রোধে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ এ বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়াউর রহমান আহ্বান জানান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • একাত্তরের দশমাস - রবীন্দ্রনাথ ত্রীবেদী
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলীলপত্র - তথ্য মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫)। বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সংস্করণ)। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ: পৃষ্ঠা নম্বর–৬০৭। আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  2. লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫)। বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সংস্করণ)। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ: পৃষ্ঠা নম্বর–৬০৭ & ৬০৮। আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  3. লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫)। বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সংস্করণ)। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ: পৃষ্ঠা নম্বর–৬০৮। আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  4. [১]
  5. লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫)। বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সংস্করণ)। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ: পৃষ্ঠা নম্বর–৬০৯। আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  6. লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫)। বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সংস্করণ)। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ: পৃষ্ঠা নম্বর–৬১০। আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  7. JYOTI SEN GUPTA, NAYA PROKASH, 206, BIDHAN SARANI, CALCUTTA-6, FIRST EDITION, 1974, CHAPTER-15, PAGE-325 and 326। HISTORY OF FREEDOM MOVEMENT IN BANGLADESH, 1943-1973: SOME INVOLVEMENT 
  8. মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম : কিছু স্মৃতি কিছু বিস্মৃতি
  9. জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫ অলি আহাদ-বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ বুক সোসাইটি লি: (ফেব্রুয়ারী ২০০৪)-; পৃষ্ঠা: ৪০৯
  10. http://www.liberationwarmuseum.org/liberationwar.html#০৬
  11. Locals still have nightmare about supreme sacrifices of Lt. Azim, ২০০ others The New Nation, Internet Edition, মে ৮, ২০০৯
  12. A Tale of Millions, Islam, Major Rafiqul Bir Uttam, p ২১১
  13. Jahanara Imam, Ekatturer Dinguli
  14. HISTORY OF FREEDOM MOVEMENT IN BANGLADESH, 1943-1973: SOME INVOLVEMENT WRITTEN BY,JYOTI SEN GUPTA, NAYA PROKASH,206,BIDHAN SARANI,CALCUTTA-6,FIRST EDITION,1974, CHAPTER-15,PAGE-325
  15. Maj. Gen. Fazal Muqeem Khan - Pakistan's Crisis in Leadership; National Book Foundation, Islamabad, 1973; page 79
  16. Lt. Gen. Kamal Matinuddin - Tragedy of Errors: East Pakistan Crisis, 1968-1971; Wajidalis, Lahore, 1994; page 255
  17. Maj. Gen. K.M.Safiullah - Bangladesh at War; Academic Publishers, Dhaka, 1989; page 45