রমনা কালী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৯৬৭ সালে রমনা কালীমন্দিরের সুউচ্চ চূড়া, ১৯৭১ সালে এটি পাকিস্তানিরা ধ্বংস করে

রমনা কালী মন্দির ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল। [১]এটি রমনা কালীবাড়ি নামেও পরিচিত। এটি প্রায় এক হাজার বছরেরও পুরাতন বলে বিশ্বাস করা হয় কিন্তু ইংরেজ আমলে এই মন্দিরটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছিল ।বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কের (যার বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বহির্ভাগে অবস্থিত।বর্তমানে বাংলার সংস্কৃতিতে এ মন্দিরের উল্লেখ্য ভূমিকা আছে।

নতুনভাবে নির্মাণ করা রমনা কালী মন্দির
ভদ্র কালী প্রতিমা, রমনা কালী মন্দির।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি, প্রায় ৫০০ বছর আগে বদরীনাথের যোশীমঠ থেকে গোপালগিরি নামে এক উচ্চমার্গের সন্ন্যাসী প্রথমে ঢাকায় এসে সাধন-ভজনের জন্য উপযুক্ত একটি আখড়া গড়ে তোলেন। সেখানেই আরও ২০০ বছর পরে মূল রমনা কালীমন্দিরটি নির্মাণ করেন আর এক বড় সাধু হরিচরণ গিরি। তবে পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরের প্রধান সংস্কারকার্য ভাওয়ালের ভক্তিমতী ও দানশীলা রানি বিলাসমণি দেবীর আমলেই হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ। এই দুটো দিন রমনা কালীমন্দিরের পবিত্র ভূমি ঘিরে পাকিস্তানি সেনারা যে বিভীষিকার রাজত্ব তৈরি করেছিল তার করুণ কাহিনি ইতিহাসের পাতায় চিরদিন লেখা থাকবে। এক তীর্থভূমি রাতারাতি পরিণত হয়েছিল বধ্যভূমিতে। রমনা কালীমন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী পরমানন্দ গিরি সহ সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০০ জন নারী ও পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাক সেনারা। শিশুরাও রেহাই পায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের সময় রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম দাউ দাউ করে জ্বলেছিল। রমনা কালীমন্দিরের চূড়া ছিল ১২০ ফুট, যা বহুদূর থেকে দেখা যেত। সেটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ওই বর্বর সেনারা। [২][৩]২০০৬ সালে রমনা কালীমন্দির আবার নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। পুজোর্চ্চনাও শুরু হয়।[৪][৫]

মূর্তি[সম্পাদনা]

রমনা কালী মন্দিরের কালীমূর্তি

তন্ত্রশাস্ত্রে মা কালীর নানাপ্রকারের মূর্তিভেদ বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে রমনাকালী অন্যতম।পাথরের বেদির ওপর শ্রীশ্রীভদ্রকালীর সুউচ্চ প্রতিমা। চতুর্ভুজা মাতৃমূর্তি। মহাদেবের শয়ান মূর্তির ওপর দণ্ডায়মান। দু’পাশে ডাকিনী-যোগিনী। ভদ্রকালিকা দেবীর কণ্ঠে মুণ্ডমালা। লালজবার মালা। দেবী মা লাল বস্ত্র পরিহিতা। ভদ্রকালিকার একপাশে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদামণির ছবি।

স্থাপনা সূমহ[সম্পাদনা]

রমনা কালী মন্দির এ বর্তমানে কালী মূর্তি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, দুর্গা মন্দির, লোকনাথ মন্দির, রাধা গোবিন্দ মন্দির, মা আনন্দময়ীর মন্দির।

অনুষ্ঠানমালা[সম্পাদনা]

রমনা কালী মন্দির এর মূল পূজা হলো কালী পূজা।।কালীপুজোয় সুন্দর করে সাজানো হয় গোটা মন্দিরকে। নানা অলংকারে সেজে ওঠেন শ্রীশ্রীভদ্রকালী মাতা।এখানে দুর্গাপুজোও খুব বড় করে হয়। তাছাড়া এখানে সরস্বতী পূজা, বাৎসরিক অনুষ্ঠান সহ নানা ধরনের ধর্মীয় উৎসব এখানে হয়ে থাকে ।বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন মন্দিরে। ভারত থেকেও ভক্তরা আসেন। সে এক দেখার মতো ব্যাপার। উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এই মন্দির।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "৭১-এ কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তান! সেই ভয়াল স্মৃতি এখনও তাড়া করে"EI Samay। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৮ 
  2. "৭১-এ কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তান! সেই ভয়াল স্মৃতি এখনও তাড়া করে"EI Samay। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৮ 
  3. "ঐতিহাসিক 'রমনা কালী মন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের অজানা ইতিহাস" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৮ 
  4. "গণহত্যার সাক্ষী ঢাকার ইতিহাস বহনকারী রমনা কালী মন্দির"Drishtibhongi দৃষ্টিভঙ্গি (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১১-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৮ 
  5. "১৯৭১ সালে রমনা কালী মন্দিরের গণহত্যার ভুলে যাওয়া ইতিহাস - অগ্নিবীর"www.agniveerbangla.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]