ঋগ্বেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দেবনাগরীতে লিখিত ঋগ্বেদ (পদপাঠ) পাণ্ডুলিপি; ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে লিখিত।

ঋগ্বেদ (সংস্কৃত: ऋग्वेद ṛgveda, ঋক্‌ (ṛc, "স্তুতি, কাব্য"[১]) ও বেদ (veda "জ্ঞান")) হল একটি প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত স্তোত্র সংকলন।[২] এটি বেদ নামে পরিচিত হিন্দুধর্মের চারটি আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থের (শ্রুতি) অন্যতম।[note ১]

এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় রচিত প্রাচীনতম বিদ্যমান গ্রন্থগুলির একটি।[৩] ভাষাবৈজ্ঞানিকভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণিত হয় যে, ঋগ্বেদ খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-১২০০ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে রচিত হয়েছিল।[৪][৫][৬] যদিও অনেকে মনে করেন, এই গ্রন্থের রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০-১১০০ অব্দ।[৭][৮][note ২]

ঋগ্বেদের কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনি এবং বিশ্বের উৎপত্তি, দেবদেবীর স্তোত্র, জীবন, সম্পত্তি ইত্যাদি লাভের জন্য প্রাচীন প্রার্থনামূলক অনেক কাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে।[১১] এগুলির কয়েকটি আজও হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসবে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করা হয়। ঋগ্বেদ পৃথিবীর সেই প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থগুলির একটি যা আজও মান্যতা পায়।[১২]

পাঠ[সম্পাদনা]

ঋগ্বেদের যে পাঠটি আজ পাওয়া যায় সেটির মূল ভিত্তি লৌহযুগের (নিচে কালনির্ধারণ দেখুন) একটি সংকলন। এই সংকলনটি থেকে ‘গোত্রীয় গ্রন্থাবলি’ ((মন্ত্রদ্রষ্টা, দেবতা ও ছন্দ অনুসারে ২য়-৭ম মণ্ডল[১৩]) পরবর্তীকালে সম্পাদিত একটি সংস্করণ পাওয়া যায়। এই পরবর্তীকালীন সংকলনটি আবার অন্যান্য বেদসমূহের সঙ্গে মুখে মুখে সম্পাদিত একটি সংকলন। এই সংকলনে পরবর্তীকালে কিছু প্রক্ষিপ্ত বিষয় যুক্ত হয়েছিল, যা মূল ঋগ্বেদের কঠোর বিন্যাস-প্রণালীর সঙ্গে বেমানান। এর সঙ্গে বৈদিক সংস্কৃতের বিশুদ্ধ উচ্চারণ পদ্ধতির মধ্যেও কিছু পরিবর্তন (যেমন সন্ধির নিয়ামন[১৪]) এসেছিল।

অন্যান্য বেদসমূহের মতো সম্পাদিত পাঠটির একাধিক সংস্করণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে পদপাঠ সংস্করণটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি পৌস আকারে রচিত এবং মুখস্ত করার সুবিধার্থে প্রতিটি শব্দ এখানে পৃথক আকারে লিখিত। এছাড়া সংহিতাপাঠও গুরুত্বপূর্ণ। এটি সন্ধির নিয়মানুসারে লিখিত (প্রতিসখ্য বিধানে বর্ণিত নিয়মানুসারে)। এটি হল আবৃত্তি-উপযোগী মুখস্ত রাখার সংস্করণ।

পদপাঠসংহিতাপাঠ বিশ্বাসযোগ্যতা ও অর্থগতদিক থেকে ঋগ্বেদের মূল পাঠের সবচেয়ে নিকটবর্তী।[১৫] প্রায় এক হাজার বছর ধরে ঋগ্বেদের মূল পাঠ সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে মুখে মুখে সংরক্ষিত হয়েছিল।[১৬] এটি করার জন্য মুখে মুখে প্রচলিত রাখার প্রথাটিকে একটি বিশেষ উচ্চারণভঙ্গি দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য সংস্কৃত সমাসবদ্ধ শব্দগুলির ব্যাসবাক্য এবং বৈচিত্র্য দান করা হয়েছিল। কোথাও কোথাও ব্যাকরণগত পরিবর্তনও আনা হয়েছিল। শব্দের এই পরিমার্জনার সঙ্গে সঙ্গেই অঙ্গসংস্থানবিদ্যাধ্বনিবিজ্ঞানের একটি সমৃদ্ধ প্রথা গড়ে উঠেছিল। সম্ভবত গুপ্তযুগের (খ্রিস্টীয় ৪র্থ-৬ষ্ঠ শতাব্দী) আগে ঋগ্বেদ লিখিত হয়নি। গুপ্তযুগে ব্রাহ্মী লিপি সুপ্রচলিত হয়েছিল (ঋগ্বেদের প্রাচীনতম বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলি পরবর্তী মধ্যযুগের)।[১৭] যদিও মুখে মুখে প্রচলিত রাখার প্রথাটি আজও আছে।

ঋগ্বেদের আদি পাঠ (যেটি ঋষিগণ অনুমোদন করেছেন) বিদ্যমান সংহিতাপাঠের পাঠের সঙ্গে কাছাকাছি গেলেও সম্পূর্ণ এক নয়। তবে ছন্দ ও অন্যান্য দিক থেকে এর কিছু অংশ অন্তত একই ধাঁচে লেখা।[১৮]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. derived from the root ṛc "to praise", cf. Dhātupātha 28.19. Monier-Williams translates "a Veda of Praise or Hymn-Veda"
  2. "Rig Veda" 
  3. p. 126, History of British Folklore, Richard Mercer Dorson, 1999, ISBN 9780415204774
  4. ৪.০ ৪.১ Flood 1996, পৃ. 37.
  5. ৫.০ ৫.১ Witzel 1995, পৃ. 4.
  6. ৬.০ ৬.১ Anthony 2007, পৃ. 454.
  7. ৭.০ ৭.১ Oberlies 1998 p. 158
  8. Lucas F. Johnston, Whitney Bauman (২০১৪)। Science and Religion: One Planet, Many Possibilities। Routledge। পৃ: ১৭৯। 
  9. ('Veda and Vedanta'), 7th lecture in India: What Can It Teach Us: A Course of Lectures Delivered Before the University of Cambridge, World Treasures of the Library of Congress Beginnings by Irene U. Chambers, Michael S. Roth.
  10. Oberlies 1998 p. 155
  11. Werner, Karel (1994). A Popular Dictionary of Hinduism. Curzon Press. ISBN 0-7007-1049-3.
  12. Klaus Klostermaier (১৯৮৪)। Mythologies and Philosophies of Salvation in the Theistic Traditions of IndiaWilfrid Laurier University Press। পৃ: ৬। আইএসবিএন 978-0-88920-158-3 
  13. H. Oldenberg, Prolegomena,1888, Engl. transl. New Delhi: Motilal 2004
  14. termed orthoepische Diaskeuase by Oldenberg, 1888
  15. K. Meenakshi (২০০২)। "Making of Pāṇini"। in George Cardona, Madhav Deshpande, Peter Edwin Hook। Indian Linguistic Studies: Festschrift in Honor of George Cardona। Motilal Banarsidass। পৃ: ২৩৫। আইএসবিএন 81-208-1885-7 
  16. Witzel, Michael (২০০৩)। "Vedas and Upanisads"। in Flood, Gavin। The Blackwell Companion to Hinduism। Blackwell Publishing Ltd। পৃ: 68–69। আইএসবিএন 0631215352। "The Vedic texts were orally composed and transmitted, without the use of script, in an unbroken line of transmission from teacher to student that was formalized early on. This ensured an impeccable textual transmission superior to the classical texts of other cultures; it is, in fact, something like a tape-recording of ca. 1500–500 bce. Not just the actual words, but even the long-lost musical (tonal) accent (as in old Greek or in Japanese) has been preserved up to the present. On the other hand, the Vedas have been written down only during the early second millennium ce,..." 
  17. The oldest manuscript in the Pune collection dates to the 15th century. The Benares Sanskrit University has a Rigveda manuscript of the 14th century. Earlier manuscripts are extremely rare; the oldest known manuscript preserving a Vedic text was written in the 11th century in Nepal (catalogued by the Nepal-German Manuscript Preservation Project, Hamburg.
  18. B. van Nooten and G. Holland, Rig Veda. A metrically restored text. Cambridge: Harvard Oriental Series 1994

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

সংস্করণ
  • editio princeps: Friedrich Max Müller, The Hymns of the Rigveda, with Sayana's commentary, London, 1849-75, 6 vols., 2nd ed. 4 vols., Oxford, 1890-92.
  • Theodor Aufrecht, 2nd ed., Bonn, 1877.
  • Sontakke, N. S., সম্পাদক (১৯৩৩-৪৬,Reprint ১৯৭২-১৯৮৩.), Rgveda-Samhitā: Śrimat-Sāyanāchārya virachita-bhāṣya-sametā (First সংস্করণ), Pune: Vaidika Samśodhana Maṇḍala  |editor-last-2= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |editor-first-2= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য). The Editorial Board for the First Edition included N. S. Sontakke (Managing Editor), V. K. Rājvade, M. M. Vāsudevaśāstri, and T. S. Varadarājaśarmā.
  • B. van Nooten und G. Holland, Rig Veda, a metrically restored text, Department of Sanskrit and Indian Studies, Harvard University, Harvard University Press, Cambridge, Massachusetts and London, England, 1994.
  • Rgveda-Samhita, Text in Devanagari, English translation Notes and indices by H. H. Wilson, Ed. W.F. Webster, originally in 1888, Published Nag Publishers 1990, 11A/U.A. Jawaharnagar,Delhi-7.
ভাষ্য
  • Sayana (14th century)
    • ed. Müller 1849-75 (German translation);
    • ed. Müller (original commentary of Sāyana in Sanskrit based on 24 manuscripts).
    • ed. Sontakke et al., published by Vaidika Samsodhana Mandala, Pune (2nd ed. 1972) in 5 volumes.
  • Rgveda-Samhitā Srimat-sāyanāchārya virachita-bhāṣya-sametā, ed. by Sontakke et al., published by Vaidika Samśodhana Mandala,Pune-9,1972 ,in 5 volumes (It is original commentary of Sāyana in Sanskrit based on over 60 manuscripts).
  • Sri Aurobindo: Hymns of the Mystic Fire (Commentary on the Rig Veda), Lotus Press, Twin Lakes, Wisconsin ISBN 0-914955-22-5 [১]
দর্শন
  • Vashishtha Narayan Jha, A Linguistic Analysis of the Rgveda-Padapatha Sri Satguru Publications, Delhi (1992).
  • Bjorn Merker, Rig Veda Riddles In Nomad Perspective, Mongolian Studies, Journal of the Mongolian Society XI, 1988.
  • Thomas Oberlies, Die Religion des Rgveda, Wien 1998.
  • Oldenberg, Hermann: Hymnen des Rigveda. 1. Teil: Metrische und textgeschichtliche Prolegomena. Berlin 1888; Wiesbaden 1982.
  • Die Religion des Veda. Berlin 1894; Stuttgart 1917; Stuttgart 1927; Darmstadt 1977
  • Vedic Hymns, The Sacred Books of the East vo, l. 46 ed. Friedrich Max Müller, Oxford 1897
  • Adolf Kaegi, The Rigveda: The Oldest Literature of the Indians (trans. R. Arrowsmith), Boston,, Ginn and Co. (1886), 2004 reprint: ISBN 978-1-4179-8205-9.
ইতিহাস
পুরাজ্যোতির্বিজ্ঞান

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পাঠ
অনুবাদ
ব্যাখ্যা
  • Rig Veda (Sri Aurobindo Kapali Sastry Institute)


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "note" নামের গ্রুপের <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য <references group="note"/> ট্যাগ দেয়া হয়নি