কুমিল্লা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কুমিল্লা
জেলা
বাংলাদেশে কুমিল্লা জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে কুমিল্লা জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°২৭′৩০″ উত্তর ৯১°১১′০″ পূর্ব / ২৩.৪৫৮৩৩° উত্তর ৯১.১৮৩৩৩° পূর্ব / 23.45833; 91.18333স্থানাঙ্ক: ২৩°২৭′৩০″ উত্তর ৯১°১১′০″ পূর্ব / ২৩.৪৫৮৩৩° উত্তর ৯১.১৮৩৩৩° পূর্ব / 23.45833; 91.18333 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট৩০৮৭.৩৩ কিমি (১১৯২.০২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট৫৬,০২,৬২৫
 • জনঘনত্ব১৮০০/কিমি (৪৭০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৬.২%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ১৯
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

কুমিল্লা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি খাদি কাপড় ও রসমালাইয়ের জন্য বিখ্যাত।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

অবস্থান: ভৌগেলিকভাবে এই জেলাটি ২৩°১” উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৪°১১” উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩৪” পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯১°২২” পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

আয়তন: ৩০৮৫.১৭ বর্গ কিমি

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে এ উপমহাদেশে সুপরিচিত। কুমিল্লার খাদি শিল্প, তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্পকারু শিল্প, কুমিল্লার রসমালাই, মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি ইত্যাদি স্ব-স্ব ঐতিহ্যে স্বকীয়তা আজও বজায় রেখেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কালের বিবর্তনের ধারায় এসেছে অনেক কিছু, অনেক কিছু গেছে হারিয়ে, হারায়নি এখানকার মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা ও সামাজিক সম্প্রীতি।

কুমিল্লার শালবন বিহার

কুমিল্লা একসময় বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ১৭৩৩ সালে বাংলার নবাব শুজাউদ্দিন ত্রিপুরা রাজ্য আক্রমণ করে এর সমতল অংশ সুবে বাংলার অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ত্রিপুরা দখল করে॥ ১৭৯০ সালে কোম্পানী শাসনামলে ত্রিপুরা নামের জেলার সৃষ্টি। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা থেকে আলাদা করে কুমিল্লাকে জেলা হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়।

বর্তমান কুমিল্লা জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনস্থ একটি জেলা। শুরুর দিকে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত হলেও পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত মত রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযাগ্য চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াঙ কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত থেকে। তার বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া নামক যে স্থানের বিবরণ রয়েছে সেটি থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শন‍াদি থেকে জানা যায় খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে ত্রিপুরা গুপ্ত সম্রাটদের অধিকারভুক্ত ছিল।

১৭৬৫ সালে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে আসার পূর্বে মধ্যবর্তী সময়ে মোঘলদের দ্বারা শাসিত হয়েছে কুমিল্লা। ১৭৬৯ সালে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে কোম্পানী একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। তখন ঢাকা প্রদেশের অন্তর্গত ছিলো কুমিল্লা। কুমিল্লাকে ১৭৭৬ সালে কালেক্টরের অধীনস্থ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ জেলা প্রশাসক করা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু'টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা ২ নং সেক্টর এর অন্তর্গত ছিল। ঢাকা, ফরিদপুরের কিছু অংশ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ২নং সেক্টর। এ সেক্টরের নেতৃত্ব দেন- মেজর খালেদ মোশাররফ (১০ এপ্রিল, ১৯৭১- ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১), মেজর এ.টি.এম. হায়দার (২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।

ভৌগোলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

কুমিল্লা জেলা ২৩°-১’’ থেকে ২৪°-১১’’ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯০°-৩৪’’ থেকে ৯১°-২২’’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিস্তৃত। কর্কটক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলা অতিক্রম করেছে। এই জেলার কিছু অংশ গঠিত হয়েছে প্লাবন ভূমি দ্বারা এবং কিছু অংশ পাহাড়ি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। বাকিটা মূলত সমতলভূমি।

প্রশাসনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

কুমিল্লা জেলায় ১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৭ টি উপজেলা রয়েছে।[১] সেগুলো হলঃ

সিটি কর্পোরেশনঃ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
উপজেলাসমূহঃ

এছাড়াও কুমিল্লা জেলা নিচে উল্লেখিত প্রশাসনে বিভক্তঃ

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

নদী[সম্পাদনা]

গোমতী নদী, কাপ্তান বাজার, কুমিল্লা।

এখানকার প্রধান নদ-নদীগুলো হলোঃ মেঘনা, গোমতী নদী, তিতাস নদী, ডাকাতিয়া নদী, কাঁকড়ী নদী,আড়চি নদী, ঘুংঘুর নদী, সালদানদী।

জনসংখ্যা উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুয়ায়ী মোট জনসংখ্যা ৫৬ লক্ষ ২ হাজার ৬২৫ জন। পুরুষ ২৩,১০,৯৪০ জন, মহিলা ২২,৮০,৪০০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১ হাজার ৪৮৭ জন (প্রায়)। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারঃ ১.৮% (প্রায়)।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

কুমিল্লায় সাক্ষরতার হার ৪৬.২%। কুমিল্লায় রয়েছে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় - ১টি, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় - ২টি, আর্মি নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয় ১ টি, সরকারী মেডিক্যাল কলেজ - ১টি, বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ - ৩টি, আর্মি নিয়ন্ত্রিত মেডিকেল কলেজ ১ টি, ক্যাডেট কলেজ - ১টি, সরকারি পলিটেকনিক ১টি।

যাতায়াত ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মহাসড়কঃ ১৩২.০০ কি:মি:, রেলপথঃ ২১২.০০ কি:মি:, ফেরীঘাট ৩৪ টি, নদীবন্দর ০১ টি। কুমিল্লা রেলস্টেশনলাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এই জেলার দুটি প্রধান যাত্রাবিরতি রেলওয়ে স্টেশন; তা ছাড়াও আরো অনেক স্টেশন রয়েছে।যেমন নাংঙ্গলকোট রেল স্টেশন, গুনবতী রেল স্টেশন, হাসানপুর রেল স্টেশন,নাওটি রেল স্টেশন,রাজাপুর রেলস্টেশন, শশীদল রেল স্টেশন,সালদানদী রেল স্টেশন

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কুমিল্লা'র অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক।এই অঞ্চলের দারিদ্রতার হার ৫৬.৬%। এই জেলার অর্থনীতি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে কৃষির মাধ্যমে । কুমিল্লার প্রায় ১১.৬% মানুষ ব্যবসার সাথে জড়িত। এখানে ২টি শিল্প নগরী রয়েছে। কুমিল্লায় রয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিঃ এর মূল স্থাপনা এবং গ্যাস ফিল্ড।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

চন্ডীমুড়া
  • রাজ রাজেশ্বরী কালী বাড়ী,
  • বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন,
  • শাহ সুজা মসজিদ,
  • মহেশ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট,
  • রাজশেপুর ইকোপার্ক,
  • রাণীর কুঠি।
  • নজরুল ইন্সটিটিউট
  • দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারী কলেজ।
  • কোবা জামে মসজীদ চরবাকর।
  • গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

রসমালাই নামক বিখ্যাত মিষ্টি কুমিল্লায় তৈরি করা হয়। কুমিল্লার রসমলাই সারাদেশে এক নামে পরিচিত। দুধ, ছানা ও চিনি সমন্বয়ে তৈরি এ মিস্টান্ন। যার প্রচলন কুমিল্লাতেই শুরু হয়। অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি প্রস্তুতের জন্যও কুমিল্লা বিখ্যাত। এছাড়াও কুমিল্লার বিখ্যাত খদ্দর (খাদি) শিল্পের জন্য। ১৯২১ সাল থেকে খদ্দর এ অঞ্চলে প্রচলিত। কুমিল্লার খদ্দর শিল্পগত উৎকর্ষে প্রচুর খ্যাতি লাভ করেছিল। এখান থেকে খদ্দর কাপড় কলকাতা ও বোম্বে পাঠানো হত।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[২] সংসদ সদস্য[৩][৪][৫][৬][৭] রাজনৈতিক দল
২৪৯ কুমিল্লা-১ মেঘনা উপজেলা এবং দাউদকান্দি উপজেলা মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫০ কুমিল্লা-২ তিতাস উপজেলা এবং হোমনা উপজেলা সেলিমা আহমাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫১ কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর উপজেলা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫২ কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার উপজেলা রাজী মোহাম্মদ ফখরুল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৩ কুমিল্লা-৫ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা এবং বুড়িচং উপজেলা আব্দুল মতিন খসরু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৪ কুমিল্লা-৬ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং কুমিল্লা সেনানিবাস আ ক ম বাহাউদ্দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৫ কুমিল্লা-৭ চান্দিনা উপজেলা আলী আশরাফ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৬ কুমিল্লা-৮ বরুড়া উপজেলা নাছিমুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৭ কুমিল্লা-৯ লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়ন, লাকসাম উপজেলা এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা তাজুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৮ কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট উপজেলা, লালমাই উপজেলা (বাকই উত্তর ইউনিয়ন ব্যতীত) এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আ হ ম মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৫৯ কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মুজিবুল হক মুজিব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে কুমিল্লা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৪ 
  2. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  3. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  4. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  5. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  6. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  7. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]