খুলনা বিভাগ
| খুলনা বিভাগ | |
|---|---|
| বিভাগ | |
| ডাকনাম: সাদা সোনার দেশ, বৃহত্তম ব-দ্বীপ, সুন্দরবনের দেশ | |
খুলনা বিভাগের মানচিত্র | |
| স্থানাঙ্ক: ২২°৫৫′ উত্তর ৮৯°১৫′ পূর্ব / ২২.৯১৭° উত্তর ৮৯.২৫০° পূর্ব | |
| দেশ | |
| প্রতিষ্ঠা | ১৯৬০ |
| বিভাগীয় সদর | খুলনা |
| সরকার | |
| • বিভাগীয় কমিশনার | মোঃ ফিরোজ সরকার |
| আয়তন | |
| • মোট | ২২,২৮৪.২২ বর্গকিমি (৮,৬০৩.৯৯ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২ জনশুমারি) | |
| • মোট | ১,৭৪,১৬,৬৪৫ |
| • জনঘনত্ব | ৭৮০/বর্গকিমি (২,০০০/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+৬) |
| আইএসও ৩১৬৬ কোড | BD-D |
খুলনা বিভাগ বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে একটি এবং এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত। ১৯৬০ সালে বর্তমানের ১৬টি (তৎকালীন ৪টি) জেলা নিয়ে খুলনা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে খুলনা বিভাগের আয়তন ২২,২৮৫ বর্গকিলোমিটার (৮,৬০৪ বর্গমাইল)। ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুয়ায়ী খুলনা বিভাগের জনসংখ্যা ১,৭৪,১৫,৯২৪।[১]
প্রতিষ্ঠাকাল এবং ইতিহাস
[সম্পাদনা]ব্রিটিশ ভারতে খুলনা বিভাগ ছিল প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি অংশ। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের আগে প্রেসিডেন্সি বিভাগে ছয়টি জেলা ছিল, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, চব্বিশ পরগনা, খুলনা, যশোর এবং নদিয়া। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় প্রেসিডেন্সি বিভাগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং খুলনা, যশোর ( বনগাঁ মহকুমার বনগাঁ ও গাইঘাটা থানা ব্যতীত), নদীয়া জেলার পূর্বাংশ( কুষ্টিয়া মহকুমা, কৃষ্ণগঞ্জ থানা ব্যতীত চুয়াডাঙ্গা মহকুমা, মেহেরপুর মহকুমার মেহেরপুর ও গাংনী থানা) পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় । ১৯৪৮ সালে অবিভক্ত নদিয়া জেলার পূর্বাংশ নতুন কুষ্টিয়া জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। । পূর্ব পাকিস্তান সরকার অবিভক্ত যশোর, অবিভক্ত খুলনা জেলা ও নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলাকে রাজশাহী বিভাগে যুক্ত করে। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার রাজশাহী বিভাগের কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা এবং ঢাকা বিভাগের বাকেরগঞ্জ জেলা নিয়ে খুলনা বিভাগ নামে নতুন বিভাগ গঠন করে । ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বাকেরগঞ্জ জেলা থেকে নতুন পটুয়াখালী জেলার সৃষ্টি করা হয় ফলে খুলনা বিভাগে জেলার সংখ্যা ৪ থেকে ৫ এ দাঁড়ায়। ১৯৯৩ সালে খুলনা বিভাগ থেকে বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ-পটুয়াখালী অঞ্চল আলাদা করে নতুন বরিশাল বিভাগ গঠন করা হয় ।
ভৌগোলিক অবস্থান
[সম্পাদনা]খুলনা বিভাগ এর পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমানা, উত্তরে রাজশাহী বিভাগ, পূর্বে বরিশাল বিভাগ এবং দক্ষিণে বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ নামে পরিচিত সুন্দরবন সহ বঙ্গোপসাগরেরগা ঘেষে রয়েছে নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপপুঞ্জ।দশটি জেলা সমৃদ্ধ এই বিভাগ পদ্মা নদী এর ব-দ্বীপ বা গ্রেটার বেঙ্গল ডেল্টার একটি অংশবিশেষ। অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে মধুমতি নদী, ভৈরব নদ, কপোতাক্ষ নদ, কুমার নদ, চিত্রা নদী, রুপসা নদী, পশুর নদী ইত্যাদি।
প্রশাসনিক জেলা
[সম্পাদনা]খুলনা বিভাগ ৫৯টি উপজেলা (উপবিভাজন) ও নিম্নলিখিত ১০টি জেলা (জিলা) নিয়ে গঠিত হয়েছে:[২]
| ক্রম | জেলা | প্রশাসনিক কেন্দ্র | এলাকা কিমিবর্গ. | জনসংখ্যা ১৯৯১ আদমশুমারী | জনসংখ্যা ২০০১ আদমশুমারী | জনসংখ্যা ২০১১ আদমশুমারী | জনসংখ্যা ২০২২ জনশুমারি |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | কুষ্টিয়া জেলা | কুষ্টিয়া | ১,৬০৮.৮০ | ১,২০২,১২৬ | ১,৭৪০,১৫৫ | ১,৯৪৬,৮৩৮ | ২,১৪৯,৬৯২ |
| ২ | খুলনা জেলা | খুলনা | ৪,৩৯৪.৪৫ | ২,৩১০,৬৪৩ | ২,৫৭৮,৯৭১ | ৩,৯১৮,৫২৭ | ২,৬১৩,৩৮৫ |
| ৩ | চুয়াডাঙ্গা জেলা | চুয়াডাঙ্গা | ১,১৭৪.১০ | ৮০৭,১৬৪ | ১,০০৭,১৩০ | ১,১২৯,০১৫ | ১,২৩৪,০৬৬ |
| ৪ | ঝিনাইদহ জেলা | ঝিনাইদহ | ১,৯৬৪.৭৭ | ১,৩৬১,২৮০ | ১,৫৭৯,৪৯০ | ১,৭৭১,৩০৪ | ২,০০৫,৮৪৯ |
| ৫ | নড়াইল জেলা | নড়াইল | ৯৬৭.৯৯ | ৬৫৫,৭২০ | ৬৯৮,৪৪৭ | ৭২১,৬৬৮ | ৭৮৮,৬৭৩ |
| ৬ | বাগেরহাট জেলা | বাগেরহাট | ৩,৯৫৯.১১ | ১,৪৩১,৩২২ | ১,৫৪৯,০৩১ | ১,৪৭৬,০৯০ | ১,৬১৩,০৭৯ |
| ৭ | মাগুরা জেলা | মাগুরা | ১,০৩৯.১০ | ৭২৪,০২৭ | ৮২৪,৩১১ | ৯১৮,৪১৯ | ১,০৩৩,১১৫ |
| ৮ | মেহেরপুর জেলা | মেহেরপুর | ৭৫১.৬২ | ৪৯১,৯১৭ | ৫৯১,৪৩০ | ৬৫৫,৩৯২ | ৭০৫,৩৫৫ |
| ৯ | যশোর জেলা | যশোর | ২,৬০৬.৯৪ | ২,১০৬,৯৯৬ | ২,৪৭১,৫৫৪ | ২,৭৬৪,৫৪৭ | ৩,০৭৬,৮৪৯ |
| ১০ | সাতক্ষীরা জেলা | সাতক্ষীরা | ৩,৮১৭.২৯ | ১,৫৯৭,১৭৮ | ১,৮৬৪,৭০৪ | ১,৯৮৫,৯৫৯ | ২,১৯৬,৫৮১ |
| মোট | ১০ | ১০ | ২২,২৮৪.২২ | ১২,৬৮৮,৩৮৩২ | ১৪,৭০৫,২২৩ | ১৫,৬৮৭,৭৫৯ | ১৭,৪১৬৬৪৪ |
শিক্ষাব্যবস্থা
[সম্পাদনা]শিল্প
[সম্পাদনা]খুলনা বিভাগ শিল্পে সমৃদ্ধ একটি বিভাগ।
খুলনা বিভাগের প্রধান সমৃদ্ধ জেলা হল:
খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলাতে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও বাগেরহাট সহ বাকি জেলা গুলোতে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]- ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটি। মসজিদটি বাগেরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত। ধারনা করা হয় মসজিদটি ১৫শ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছে।
- শিলাইদহ কুঠিবাড়ি

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে থাকার সময় অনেক সাহিত্য রচনা করেছিলেন। ১৯১২ সালে এখানে থাকার সময় তিনি গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ এখানে থেকে একটি গান লিখেছিলেন যা বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- লালন শাহের মাজার

লালন শাহের মাজার কুষ্টিয়া নগরের পূর্ব দিকে ছেউড়িয়াতে অবস্থিত লালনের সমাধিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি মাজার। ১৮৯০ সালে লালন মারা যান। ১৯৬৩ সালে মাজারটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর লালনের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে লালন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও স্মৃতি কমপ্লেক্স

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। মুজিবনগর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী (অস্থায়ী)। ১৯৮৭ সালে স্মৃতিস্তম্ভ ও ১৯৯৬ সালে স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ রা হয়।
- মধুপল্লী

মধুপল্লী যেখানে ১৮২৪ মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মগ্রহণ ও শৈশব অতিবাহিত করেছেন যা বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মধুপল্লী যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে অবস্থিত। এখানে ১৯৮৪ সালে মাইকেল মধুসূদন স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা ও পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত দুইটি সেতু। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রেলসেতু যার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯০৯ সালে এবং ১৯১৫ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় চার্লস হার্ডিঞ্জের নামানুসারে এই রেলসেতুর নামকরণ করা হয়। লালন শাহ সেতুর উদ্বোধন হয় ২০০৪ সালে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের জন্য এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত বাউল সাধক লালনের নামানুসারে সেতুটির নামকরন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ
[সম্পাদনা]- খান জাহান আলী - মুসলিম ধর্ম প্রচারক
- প্রফুল্ল চন্দ্র রায় - বাঙ্গালী রসায়নবিদ
- লালন শাহ - আধ্যাত্মিক ফকির সাধক
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার - কবি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত - ঊনবিংশ শতাব্দীর কবি
- আমির হামজা (কবি) - বীরমুক্তিযোদ্ধা
- ফররুখ আহমদ - কবি
- সৈয়দ আলী আহসান- কবি
- সিকান্দার আবু জাফর - কবি
- কাজী কাদের নেওয়াজ - কবি
- গোলাম মোস্তফা - কবি
- মোহাম্মদ লুৎফর রহমান - কবি
- মোহাম্মদ হামিদুর রহমান - বীরশ্রেষ্ঠ
- নূর মোহাম্মদ শেখ - বীরশ্রেষ্ঠ
- হারুনুর রশীদ - বীরপ্রতীক
- এম শমশের আলী - পরমাণু বিজ্ঞানী
- আবু সালেহ - ছড়াকার
- মৃণালিনী দেবী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর স্ত্রী
- যতীন্দ্রমোহন বাগচী - কবি
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ - কবি
- এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ - ১৭তম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান
- বনানী চৌধুরী - প্রথম মুসলিম চিত্রনায়িকা
- ববিতা - চিত্রনায়িকা
- মৌসুমী - চিত্রনায়িকা
- সুচন্দা - চিত্রনায়িকা
- চম্পা - চিত্রনায়িকা
- শাবনূর- চিত্রনায়িকা
- পপি- চিত্রনায়িকা
- সালমা আক্তার - সংগীতশিল্পী
- তানভীর মোকাম্মেল - চিত্রপরিচালক
- আসিফ ইমরোজ - চিত্রনায়ক
- হাবিবুল বাশার সুমন - সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল
- মাশরাফি বিন মুর্তজা - সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, রাজনীতিবিদ
- সাকিব আল হাসান - সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, রাজনীতিবিদ
- আব্দুর রাজ্জাক - সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল
- সালমা খাতুন - অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল
- রুমানা আহমেদ - ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল
- আব্দুল হালিম - ফুটবল জাদুকর, গিনেস বিশ্ব রেকর্ডকারী
- মনির খান সংগিত শিল্পী
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পৃ. ৬১। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ Census figures for 1991, 2001 and 2011 are from Bangladesh Bureau of Statistics, Population Census Wing. The 2011 Census figures are based on preliminary results.
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- খুলনা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], বাংলাদেশী জাতীয় তথ্য বাতায়ন
- বাংলাপিডিয়ায় খুলনা বিভাগ