জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জগন্নাথদীঘি
ইউনিয়ন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সীল.svg ১৩নং জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন পরিষদ
জগন্নাথদীঘি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
জগন্নাথদীঘি
জগন্নাথদীঘি
বাংলাদেশে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′ উত্তর ৯১°১৯.৫′ পূর্ব / ২৩.১১৭° উত্তর ৯১.৩২৫০° পূর্ব / 23.117; 91.3250স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′ উত্তর ৯১°১৯.৫′ পূর্ব / ২৩.১১৭° উত্তর ৯১.৩২৫০° পূর্ব / 23.117; 91.3250
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাকুমিল্লা জেলা
উপজেলাচৌদ্দগ্রাম উপজেলা উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৮.০৩%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৩৫৮৩ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানচিত্র

জগন্নাথদীঘি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি ইউনিয়ন

আয়তন[সম্পাদনা]

২৭.৬৩ বর্গ কিলোমিটার।[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ইতিহাস ও নামকরণ[সম্পাদনা]

জগন্নাথদীঘি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক দীঘি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই এর অবস্থান। প্রায় ২৫০ বছর পূর্বে এ অঞ্চলের তৎকালিন তালুকদার জগন্নাথ শাহ'র নামানুসারে এ দীঘির নামকরণ হয় বলে লোকমুখে শোনা যায়। তাছাড়া অনেকে এটিকে পরীর দীঘি হিসেবে দাবি করেছেন। বিশিষ্ট লেখক জহির রায়হান তার হাজার বছর ধরে উপন্যাসে জগন্নাথদীঘির কথা বর্ণনা করেছেন এবং এর নাম পরীর দীঘি বলে দাবি করেন। তার উপন্যাসে এটিকে পরীরা খনন করেছে বলে এর নাম পরীর দীঘি হিসেবে জহির রায়হান উল্লেখ করেন। আর জগন্নাথদীঘির নামানুসারে ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস[সম্পাদনা]

সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে এটিই বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল। ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর শেষ রাতে জগন্নাথদীঘির পাড়ে অবস্থিত পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন জংয়ের ঘাঁটির পতন ঘটে। এ ঘাঁটির পতনের মাধ্যমে এ ইউনিয়নের উত্তর-দক্ষিণে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শত্রুমুক্ত হয়।তাছাড়া ১৯৭১ সালে ভারতের তৎকালীন ত্রিপুরা মুক্তিযুদ্বা ক্যাম্প জগন্নাথদীঘির পূর্বপাড়ে তৈরী হয়।

বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত অঞ্চল জগন্নাথদীঘি। লাল সবুজের প্রথম পতাকা পাকবাহিনীকে পরাজিত করে সর্বপ্রথম জগন্নাথদীঘির পাড়েই উত্তোলন হয়। তাছাড়া যুদ্ধচলাকালীর সময়ে ১২ নভেম্বর তারিখে বেতিয়ারা অঞ্চলে ৭জন যোদ্ধা নির্মমভাবে শহীদ হোন।

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দক্ষিণাংশে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের অবস্থান। এ ইউনিয়নের উত্তরে চিওড়া ইউনিয়ন, পশ্চিমে নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন, দক্ষিণে গুণবতী ইউনিয়নআলকরা ইউনিয়ন এবং পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ অবস্থিত।

প্রশাসনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওতাধীন ১৩নং ইউনিয়ন পরিষদ। এ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম চৌদ্দগ্রাম থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ২৫৯নং নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-১১ এর অংশ। এ ইউনিয়নে সর্বমোট ২৭ গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  • বিজয়করা
  • নোয়াগ্রাম
  • পায়েরখোলা
  • নারানকরা
  • হাটবাইর
  • সোনাপুর

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এই অঞ্চলে একটি কলেজ বিদ্যমান অাছে।তাছাড়া অসংখ্য মক্তব,মাদ্রাসা,মহিলা বিদ্যালয়, বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন সহ বহু নামকরা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া ইসলামিক প্রাথমিক জ্ঞান অাহরনে সব মজসিদে মক্তব ব্যবস্থা চালু অাছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • বিজয়করা কলেজ
  • নারানকরা মাদ্রাসা
  • আঞ্জুমান আরা গালর্স স্কুল
  • পায়েরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়
  • বেতিয়ারা নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা
  • গাংরা মাদ্রাসা
  • জিনিদকরা মাদ্রাসা
  • ইসমাঈল চৌধুরী কিন্ডারগার্ডেন

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

এই অঞ্চলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত।

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

ডাকাতিয়া নদীর অববাহিকার একাংশ এই অঞ্চলে বয়ে গেছে। তাছাড়া বারোমাসি খাল সহ অন্যান্য খাল রয়েছে এ ইউনিয়নে।

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান হাট-বাজারগুলো হল গাংরা বাজার, চৌধুরী বাজার, মটেরতল বাজার এবং ফকিরবাজার।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • জগন্নাথদীঘি
  • বিজয়করা শহীদ মিনার
  • বেতিয়ারা শহীদস্মৃতি স্তম্ভ
  • ভারত বর্ডার লালমাঠ
  • নোয়াগ্রাম তিতুমীর সড়ক
  • বারোমাসি খাল
  • মরকটা সড়ক
  • জগন্নাথদীঘি ডাক বাংলো

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন বর্তমানে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ধনী ইউনিয়ন নামে পরিচিত। এছাড়া শান্তি, শৃংখলা, মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

  • বর্তমান চেয়ারম্যান: জানে আলম ভূঁইয়া।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]