কুড়িগ্রাম জেলা
| কুড়িগ্রাম | |
|---|---|
| জেলা | |
উপর থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে: চান্দামারী মসজিদ, ব্রহ্মপুত্র নদ, উলিপুর মুন্সিবাড়ি, মেকুরটারী শাহী মসজিদ, ধরলা সেতু | |
বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৫′০″ উত্তর ৮৯°৩৯′৩৬″ পূর্ব / ২৫.৭৫০০০° উত্তর ৮৯.৬৬০০০° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রংপুর বিভাগ |
| সদরদপ্তর | কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা |
| প্রতিষ্ঠা | ২২ এপ্রিল ১৮৭৫ খ্রিঃ |
| জাতীয় সংসদ আসন | |
| সরকার | |
| • জেলা প্রশাসক | নুসরাত সুলতানা[১] |
| আয়তন | |
| • মোট | ২,২৪৫.০৪ বর্গকিমি (৮৬৬.৮১ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২ আদমশুমারি)[২] | |
| • মোট | ২৩,২৯,১৬০ |
| • জনঘনত্ব | ১,০০০/বর্গকিমি (২,৭০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৬৫.১৩% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৫৬০০ |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫৫ ৪৯ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।[৩] উপজেলার সংখ্যানুসারে কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।[৪]
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]
কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা ও জামালপুর জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম, পশ্চিমে লালমনিরহাট জেলা ও রংপুর জেলা।
নামকরণ
[সম্পাদনা]এ বিষয়ে প্রশ্নাতীত বা সন্দেহমুক্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সবই কিংবদন্তি ও প্রচলিত লোকশ্রুতি। তার কিছু কিছু বিষয় সমর্থনযোগ্য মনে হতে পারে। জানা যায়, কোন এক সময় মহারাজা বিশ্ব সিংহ কুড়িটি জেলে পরিবারকে উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরূপে স্বীকৃতি দিয়ে এ অঞ্চলে প্রেরণ করেন। এ কুড়িটি পরিবারের আগমনের কাহিনী থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিলু কবীরের লেখা 'বাংলাদেশের জেলা নামকরণের ইতিহাস' বই থেকে জানা যায়, এখানে কুড়িটি মেচ্ তৈলজীবী পরিবারের বসতি ছিল বলে এ রকম নামকরণ হয়েছে। অন্য আরেকটি লোকশ্রুতি হলো : রঙ্গপুর অর্থাৎ এই অঞ্চল একদা ছিল কুচবিহার রাজ্যের অন্তর্গত। কুচবিহারের বাসিন্দাদের বলা হয় কোচ। এরা তিওড় গোষ্ঠীবিশেষও। মাছ ধরে বিক্রি করা তাদের পেশা। সুবিধাবঞ্চিত নিচু শ্রেণীর এই হিন্দু কোচদের কুড়িটি পরিবারকে সেখান থেকে এখানে প্রেরণ করা হয়েছিল বা আনয়ন করা হয়েছিল বসতি স্থাপনে জন্য। ওই কুড়িটি কোচ পরিবারের কারণে 'কুড়িগ্রাম' নামকরণ হয়েছে। আবার এমনও জানা যায়, এই গ্রামে কুরি বা কুরী নামক একটি হিন্দু আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী বসবাস করত বলেই অঞ্চলটির নাম হয় 'কুড়িগ্রাম'। অদ্যাবধি এখানে 'কুরি' নামক আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস লক্ষ্য করা যায়। এখনও এ অঞ্চলে কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশিষ্ট পণ্ডিত জা পলিলুস্কি প্রমাণ করেছেন, গণনার এ পদ্ধতি বাংলায় এসেছে কোল ভাষা থেকে। কোল অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। আরব অস্ট্রিক ভাষায় কুর বা কোর ধাতুর অর্থ হলো মানুষ। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতিটিও এসেছে মানুষ থেকেই। পন্ডিতদের মতে, প্রত্নপ্রস্তর যুগে এ অঞ্চলে বাস করত নিগ্রো জাতি। এরপর আসে নব্যপ্রস্তর যুগ। আসামের উপত্যকা অতিক্রম করে আসে অস্ট্রিক জাতীয় জনগোষ্ঠী। তারপরে আসে দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয়রা। এদের মিলিত স্রোতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মানবসভ্যতার সূচনা হয়। এরাই লাঙ্গল দিয়ে চাষের প্রবর্তন করেছে। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি করেছে চালু। নদনদীতে ডিঙি বেয়েছে, খেয়েছে শুঁটকি, খেয়েছে বাইগন বা বেগুন, লাউ বা কদু, কদলী বা কলা, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা। করেছে পশু পালন। এঁকেছে কপালে সিঁন্দুর। করেছে রেশম চাষ। করেছে তামা, ব্রোঞ্জ ও সোনার ব্যবহার।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৮৫৮ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করত 'ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'। ১৮৫৮ সালের পর শাসনকার্যের ক্ষমতা চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। এই ব্রিটিশ সরকারের আমলে কুরিগঞ্জ চারটি থানায় বিভক্ত ছিল। পরে ১৮৭৫ সালে ২২ এপ্রিল তারিখে একটি নতুন মহকুমার গোড়াপত্তন হয়। এ মহকুমার নাম 'কুড়িগ্রাম'। কুড়িগ্রামঘেষা ব্রহ্মপুত্রের কারণে এখানে আসে বিভিন্ন আদিম জনগোষ্ঠী। এসব কারণে এখানে গড়ে উঠেছিল একটি সভ্যতাও। বিজিত আর্যদের কোন স্মৃতি এখানে নেই। তবে অন্যদের কিছু কিছু ক্ষীয়মাণ রাজচিহ্ন রয়েছে। বারো বা দ্বাদশ শতকের প্রথমপর্বে এ অঞ্চলে সেন রাজবংশের শাসনকাল আরম্ভ হয়। রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চত্রা নামক গ্রামে এদের রাজধানী ছিল। এ বংশের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন রাজার নাম নীলধ্বজ সেন, চক্রধ্বজ সেন, নীলাম্বর সেন। সেনবংশের পতনের পর শুরু হয় মুঘল যুগ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
[সম্পাদনা]শংকর মাধবপুর এর গণহত্যা
[সম্পাদনা]শংকর মাধবপুর গ্রামটি ছিল তৎকালীন বৃহত্তর রংপুর জেলার (বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা) রৌমারী থানার (বর্তমানে রাজিবপুর উপজেলা) কোদালকাটি ইউনিয়নের একটি গ্রাম। দেশের অন্যান্য স্থানের মত স্বাধীনতা সংগ্রামকালীন সময়ে বর্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা এখানে চালিয়েছিল এক গণহত্যা। তেররশী, খারুভাঞ্জ, সাজাই, ভেলামারী, উত্তর ভেলামারী, কোদালকাটি, শংকর মাধবপুর এবং দেউয়ার চর নিয়ে গঠিত হয়েছিল কোদালকাটি ইউনিয়নটি। শংকর মাধবপুর ছিল এই ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ গ্রাম।
১৯৭১ সালের ৪ আগস্ট, পাকবাহিনী কোদালকাটির বিভিন্ন গ্রামগুলোকে দখলে নিয়ে নেয়। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ যাদুরচর ও রাজিবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামে আশ্রয় নেয়। শংকর মাধবপুরের ধনাঢ্য ব্যক্তি বাদশা দেওয়ানী পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সাথে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার অনেকগুলো ঘোড়া ছিলো ও আবাদী জমি ছিলো কয়েকশত বিঘা। তার জমিগুলোতে বর্গাচাষি হিসাবে ১৫০ টি পরিবার নিয়োজিত ছিলো। তার আশ্বাসে ৭০/৮০ টি পরিবার চাষাবাদের কাজের জন্য গ্রামে ফিরে আসে। এদের অধিকাংশ নদীর অপর তীরে মুক্তিবাহিনীকে পাকিস্তানি বাহিনীর মুভমেন্ট এর খবর দিতো।
৬ আগস্ট মুক্তিবাহিনী কোদালকাটি সিজ অপারেশন শুরু করে। ৮ আগস্ট তারা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। ১৩ আগস্ট তারাবরে ব্যাপক যুদ্ধ হয় এর পর পাকবাহিনী পিছু হটে। এর পর আগস্ট-সেপ্টেম্বর জুড়ে আক্রমণ ও পালটা আক্রমণ চলতে থাকে।[৫][৬]
১৯৭১ সালের ২ অক্টোবর, এদিন মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে কোদালকাটি অবস্থান ছেড়ে পাকিস্তানিরা চিলমারীর উদ্দেশ্যে চলে যায়। যাবার আগ মুহূর্তে পাকিস্তানিরা শংকর মাধবপুর, সাজাই, ভেলামারী ও কোদালাকাটি গ্রামের ৬৫ জন বেসামরিক মানুষকে ১০/১২ জনের দলে দলে রশি দিয়ে বেঁধে খারুভাঞ্জ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গ্রামবাসীদের দিয়ে তারা তাদের নিহত সৈন্যদের লাশ এবং মাল-সামানা স্টীমার ও লঞ্চে লোড করার কাজে নিয়োজিত করে। নৌকা ঘাট ত্যাগ করার আগে সবাইকে নিয়ে শংকর মাধবপুরের সাজাইয়ে এলএমজি, এমজি এবং এসএমজির ব্রাস্ট ফায়ারে হত্যা করে। বাদশা দেওয়ানীকেও মেরে ফেলে। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জনই ছিলো শংকর মাধবপুরের।
লাশগুলো যতোতত্র ফেলে রাখার কারনে কুকুরগুলো লাশের মাংস ভক্ষনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে এতে অনেকের চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। ৪ অক্টোবর গ্রামবাসী ৫৩ জনকে শনাক্ত করতে পারেন, বাদশা দেওয়ানীর চশমা দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ৫ অক্টোবর, ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী গনকবরের মাধ্যমে দাফন কাফনের ব্যাবস্থা করা হয়। [৭][৮]
রৌমারী ট্রেনিং ক্যাম্প
[সম্পাদনা]রৌমারী উপজেলা ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সমগ্র বাংলাদেশে যখন যুদ্ধের বিভীষিকা চলছে তখন দেশের একমাত্র মুক্তাঞ্চল ছিল রৌমারী উপজেলা। এখান থেকেই পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং। সারাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং এবং আসামে আশ্রয় নেয়ার গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতো রৌমারী উপজেলা। এখানে কোনো পাকবাহিনী এবং তার দোসররা আসতে সাহস পায়নি। এজন্যই মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান তিন মাসেরও অধিক সময় ছিলেন রৌমারী ডাক বাংলোতে। এখানে থাকাকালীন সময়ে তিনি রৌমারী ট্রেনিং ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিতেন এবং তাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন যুদ্ধ করার জন্য। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে রৌমারী উপজেলা।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ
[সম্পাদনা]
এপ্রিল ২০০১ সালে, রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ১৮ই এপ্রিল প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বড়াইবাড়ি গ্রামের নিকটে প্রবেশ করে। এটি ছিল ভারতের তরফ থেকে পূর্ববর্তী পদুয়া বা পিরদিওয়াহ ঘটনার প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে পরিচালিত অনুপ্রবেশ।
বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী (তৎকালীন বিডিআর) অনুপ্রবেশকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অতর্কিত আক্রমণ চালায় এবং বড়াইবাড়ি বিডিআর ফাঁড়িতে পরিচালিত হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।[৯] সংঘর্ষ চলাকালীন শত শত স্থানীয় গ্রামবাসী বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষীদের সহায়তা করে। এই ঘটনায় ১৬ জন ভারতীয় সৈন্য ও ২ জন বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী নিহত হন;[১০] তবে এলাকাবাসীর মতে, নিহত ভারতীয় সৈন্যের সংখ্যা ১৭০ জন পর্যন্ত হতে পারে।[১১] সংঘর্ষের পর ২০শে এপ্রিল নিহত ভারতীয় সৈন্যদের মরদেহ ফেরত দেওয়া হয় এবং পরদিন, ২১শে এপ্রিল উভয় পক্ষ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
[সম্পাদনা]কুড়িগ্রামের মোট আয়তন ২,২৩৬.৯৪ বর্গকিলোমিটার (৮৬৩.৬৯ বর্গমাইল)। কুড়িগ্রামে আছে – উপজেলা ৯টি,থানা ১১টি, পৌরসভা ৩টি, ইউনিয়ন পরিষদ ৭৩টি এবং গ্রাম ২,৪৪৬টি। মোট পাকা রাস্তা আছে ৪১৪.৯২ কিলোমিটার (২৫৭.৮২ মাইল) এবং কাঁচা রাস্তা আছে ৪,২৬৭.৫৬ কিলোমিটার (২,৬৫১.৭৪ মাইল)।
উপজেলাসমূহ
[সম্পাদনা]- উলিপুর উপজেলা
- কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
- চর রাজিবপুর উপজেলা
- চিলমারী উপজেলা
- নাগেশ্বরী উপজেলা
- ফুলবাড়ী উপজেলা
- ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- রাজারহাট উপজেলা
- রৌমারী উপজেলা
এছাড়াও নাগেশ্বরী উপজেলায় কচাকাটা থানা, চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ঢুষমারা থানা রয়েছে।
সংসদীয় এলাকা
[সম্পাদনা]কুড়িগ্রাম জেলায় সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ৪টি।
- কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী)
- কুড়িগ্রাম-২ ( রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী)
- কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর)
- কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর)
জনসংখ্যা ও ভোটার
[সম্পাদনা]| বছর | জন. | ব.প্র. ±% |
|---|---|---|
| ১৯৭৪ | ১১,১৭,৪৩৪ | — |
| ১৯৮১ | ১৩,০৭,৮২৪ | +২.২৭% |
| ১৯৯১ | ১৬,০৩,০৩৪ | +২.০৬% |
| ২০০১ | ১৭,৯২,০৭৩ | +১.১২% |
| ২০১১ | ২০,৬৯,০৭৩ | +১.৪৫% |
| ২০২২ | ২৩,২৯,১৬০ | +১.০৮% |
| সূত্র:[১২][১৩][১৪] | ||
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২,৩২৯,১৬১ জন, পুরুষ ১,১৪৫,২২২ জন, মহিলা ১,১৮২,৬৮৮ জন এবং হিজরা ৯১ জন। মোট ভোটার ১০৮১১৫৭ জন, পুরুষ ৫৪১৮৯৫ জন, মহিলা ৫৮১০৬২ জন।
ধর্ম
[সম্পাদনা]| ধর্ম | ১৯৪১[১৫]:৯২–৯৩[ক] | ১৯৮১[১৩] | ১৯৯১[১৩] | ২০০১[১৩] | ২০১১[১৩] | ২০২২[১৪] | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| জন. | % | জন. | % | জন. | % | জন. | % | জন. | % | জন. | % | |
| ইসলাম |
৪,৩৩,৫১৪ | ৭৭.২৪% | ১১,৯৮,৫০০ | ৯১.৬৪% | ১৪,৬৯,১৬১ | ৯১.৬৫% | ১৬,৬৬,৮৮০ | ৯৩.০১% | ১৯,৩২,৭৭৯ | ৯৩.৪১% | ২১,৮৫,২৪৮ | ৯৩.৮২% |
| হিন্দুধর্ম |
১,২৭,০৩৫ | ২২.৬৩% | ১,০৭,৯৭৬ | ৮.২৬% | ১,২৩,৪৪৬ | ৭.৭০% | ১,২৩,৬২৭ | ৬.৯০% | ১,৩৫,৪৮৪ | ৬.৫৫% | ১,৪৩,৩৮১ | ৬.১৬% |
| অন্যান্য[খ] | ৬৯৭ | ০.১২% | ৩৪৮ | ০.১০% | ১০,৪২৭ | ০.৬৫% | ১,৫৬৬ | ০.০৯% | ৮১০ | ০.০৪% | ৫৩১ | ০.০২% |
| মোট জনসংখ্যা | ৫,৬১,২৪৬ | ১০০% | ১৩,০৭,৮২৪ | ১০০% | ১৬,০৩,০৩৪ | ১০০% | ১৭,৯২,০৭৩ | ১০০% | ২০,৬৯,০৭৩ | ১০০% | ২৩,২৯,১৬০ | ১০০% |
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]এই এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার অর্থকরী ফসলের মধ্যে ধান, গম, আলু, পাট, তামাক, সরিষা, সুপারী, বাঁশ, আখ, ভুট্টা, বাদাম, পিয়াজ, কাউন উল্লেখযোগ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮৯৩টি, ৪টি বড়, ২৭টি মধ্যম এবং ৮৬২টি কুটির শিল্প। মোট আবাদী জমির পরিমাণ ২,৫৯,৬০৮.২১ একর (১,০৫০.৫৯৭২ বর্গকিলোমিটার)।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]শিক্ষার হার শতকরা ৪৪.৯৯%। জেলার সর্বসাধারণের জন্য এখানে একটি সরকারি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। যা শহরের প্রাণকেন্দ্র তথা কলেজ মোড়, কুড়িগ্রাম সদর, কুড়িগ্রাম-এ অবস্থিত।
বিশ্ববিদ্যালয়
[সম্পাদনা]ইনস্টিটিউট
[সম্পাদনা]- কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কুড়িগ্রাম
স্কুল এন্ড কলেজ
[সম্পাদনা]• কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
• কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- কুড়িগ্রাম সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ
- কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ
- খলিলগজ্ঞ স্কুল এন্ড কলেজ
- মধ্যকুমরপুর গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ
- নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ
- পাঙ্গা রানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল এন্ড কলেজ
- সিংহীমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়
কলেজ
[সম্পাদনা]- কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
- কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ
- উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল এন্ড কলেজ
- ভুরুংগামারী সরকারি কলেজ
- উলিপুর সরকারি কলেজ
- ফুলবাড়ি ডিগ্রী কলেজ
- সাইফুর রহমান সরকারি কলেজ
- নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ
- রাজিবপুর সরকারি কলেজ
- রাজিবপুর মহিলা কলেজ
- রৌমারী সরকারি কলেজ
- রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ
- যাদুর চর মডেল ডিগ্রি কলেজ
- চিলমারী সরকারি কলেজ
- কচাকাটা কলেজ
- সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ, রাজারহাট
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]- মসজিদের সংখ্যা ৩৪৯৩টি
- মন্দিরের সংখ্যা ১৮০টি
- গির্জার সংখ্যা ৩টি
যোগাযোগ মাধ্যম
[সম্পাদনা]
রেলপথ
[সম্পাদনা]১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ সালে রাজধানী থেকে সেমি ননস্টপ ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হয়। এছাড়াও রংপুর এক্সপ্রেস এর শাটল ট্রেন কুড়িগ্রাম এর যাত্রীদের কাউনিয়াতে শাটল পরিবহন সুবিধা দেয়।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]- চানমারী রৌমারী উপজেলা
- পোস্ট বাক্স (১৯৪৭ সালে দেশের প্রথম পোস্ট বাক্স) রৌমারী উপজেলা
- মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্প, রৌমারী উপজেলা
- ধরলা সেতু
- ধরলা সেতু-২,ফুলবাড়ী উপজেলা
- সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- কাচারী পুকুর পার্ক
- প্রথম আলো চর
- দাশেরহাট কালী মন্দির
- কুড়িগ্রামের ১ম শহীদ মিনার (মজিদা কলেজ)
- শাপলা চত্বর (কুড়িগ্রাম শহীদ মিনার)
- বিজয়স্তম্ভ (স্টেডিয়াম সংলগ্ন)
- ঘোষপাড়া মুক্তিযোদ্ধো স্মৃতি ফলক
- শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক
- উত্তরবঙ্গ জাদুঘর (নতুন শহর)
- ঠাটমারী ব্রিজ বধ্যভূমি (রাজারহাট)
- মেকুরটারী শাহী মসজিদ
- চান্দামারী মসজিদ
- প্রাচীন কাজির মসজিদ
- সরদারপাড়া জামে মসজিদ
- কোটেশ্বর শিব মন্দির
- পাঙ্গা জমিদার বাড়ি
- ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
- টুপামারী (জিয়া পুকুর)
- উলিপুর মুন্সিবাড়ি
- ধামশ্রেণী মন্দির
- জালার পীরের দরগাহ
- উদুনা-পুদুনার বিল
- বেহুলার চর
- ভেতরবন্দ জমিদার বাড়ি
- সোনাহাট ব্রিজ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- ফুল সাগর
- নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
- চতুর্ভূজ সেনপাড়া শিব মন্দির
- ধলডাঙ্গা বাজার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- কালজানি ঘাট ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- চিলমারী বন্দর
- জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- মাধাইখাল কালী মন্দির-নাগেশ্বরী উপজেলা
- বহলকুড়ি ভারত ও বাংলাদেশ ১০০১ নাম্বার রাষ্ট্রীয় সীমানা চুক্তি পিলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
- চাকিরপাশার বিল।
- টগরাইহাটের অচিন গাছ।
- দাশিয়ার ছড়া (সাবেক ছিটমহল)
- আমতলি সর্বজনীন দুর্গা মন্দির (রাজারহাট)
- ঠাটমারী সর্বজনীন দুর্গা মন্দির (রাজারহাট)
- তুরা স্থলবন্দর ,রৌমারী উপজেলা
- রাবার ড্রাম খেওয়ার চর রৌমারী কুড়িগ্রাম
- রৌমারী ফেরী ঘাট
- রাজিবপুর সীমান্ত হাট
- জেলার ১৬ টি নদ-নদী
- ৪২০ টির অধিক চরাঞ্চল
- ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ মুখ-ঝুনকারচর থেকে খেয়ারচর
- বড়াইবাড়ি যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ ১৯৪১ সালের পরিসংখ্যান রংপুর জেলার কুড়িগাঁও মহকুমার, তবে লালমনিরহাট থানা ব্যতীত।
- ↑ এর মধ্যে রয়েছে জৈনধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ, ইহুদিধর্ম, আদ-ধর্মী অথবা উল্লেখ নেই
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "কুড়িগ্রাম জেলার কর্মকর্তাবৃন্দ"। kurigram.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ - কুড়িগ্রাম জেলা" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পৃ. পিডিএফ। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "কুড়িগ্রাম জেলা - বাংলাপিডিয়া"। bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করেছে সরকার"। বাংলানিউজ২৪। ১৭ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ ইশতিয়াক, আহমাদ (১৫ ডিসেম্বর ২০২৪)। "মুক্তিযুদ্ধে রৌমারীর আফতাব বাহিনী"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "রাজিবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হলেন সোলায়মান সরকার"। মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ হারুন-অর-রশীদ; মিয়া, শাহজাহান, সম্পাদকগণ (২০২০)। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ - ৯ম খন্ড। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩৪-৯২৬৮-৫।
- ↑ "1971.10.25 | শংকর মাধবপুর গণহত্যা | কুড়িগ্রাম | সংগ্রামের নোটবুক" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "India-Bangladesh border battle"। BBC News। ১৮ এপ্রিল ২০০১। ২০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ "কুড়িগ্রামে কুড়ি বছর আগের যে 'যুদ্ধে' ১৬ জন বিএসএফ মারা যায়"। বিবিসি নিউজ। ১৬ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ ইমরান মাহমুদ (২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "যেভাবে মাত্র ৮ বিডিআর সদস্যের কাছে পরাজিত হয়েছিল ভারতীয় বাহিনী (ভিডিও)"। বাংলাভিশন। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;2022census-prelimনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 4 5 "বাংলাদেশ জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি ২০১১ জেলা প্রতিবেদন – কুড়িগ্রাম" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- 1 2 3 জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি ২০২২ - জেলা প্রতিবেদন: কুড়িগ্রাম (পিডিএফ)। জেলা সিরিজ। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। জুন ২০২৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৪৭৫-২৭৭-১। ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Census of India, 1941 Volume VI Bengal Province" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২২।