ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা
জেলা
নাম: বি.বাড়িয়া / বিবাড়িয়া
বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৭′১০″উত্তর ৯১°০৭′০০″পূর্ব / ২৩.৯৫২৮° উত্তর ৯১.১১৬৭° পূর্ব / 23.9528; 91.1167স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৭′১০″উত্তর ৯১°০৭′০০″পূর্ব / ২৩.৯৫২৮° উত্তর ৯১.১১৬৭° পূর্ব / 23.9528; 91.1167
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১৯২৭.১১ কিমি (৭৪৪.০৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)
 • মোট ১৫,২১,৩৩৬[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪২.২৬%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট brahmanbaria.gov.bd


ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আয়তন ১৯২৭.১১ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে হবিগঞ্জকিশোরগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে কুমিল্লা জেলা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলার অবস্থান।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ৯টি উপজেলায় বিভক্ত; এগুলো হলোঃ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা স্তরে উন্নীত হয়। তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা ছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার অবদান অনেক। আবদুল কুদ্দুস মাখনের মত ব্যক্তিরা এখানে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেন।

বাংলাদেশের পূর্ব-মধ্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সেই সাথে চট্টগ্রামের সর্ব উত্তরের জেলা। এক সময় এই জেলা বাংলাদেশের সমতট জনপদের একটি অংশ ছিল। ঈসা খাঁ বাংলায় প্রথম এবং অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন সরাইলে। কুমিল্লার তিনটি সাব-ডিভিশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সৃষ্টি হয় ১৮৬০ সালের বৃটিশ আইনে। ১৮৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া পৌর শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মুঘল আমলে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মসলিন কাপড় তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল।

১৯২১ সালে সমগ্র মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সৈয়দ শামসুল হুদা (১৮৬২-১৯২২) এবং ব্যারিষ্টার আবদুর রসুল (১৮৭৪-১৯১৭) ছিলেন কংগ্রেস তথা ভারতবর্ষের প্রথম সারির একজন নেতা। উল্লাসকর দত্ত (১৮৮৫-১৯৬৫), সুনীতি চৌধুরী, শান্তি ঘোষ, গোপাল দেবের মত অনেক ত্যাগী ও মহান নেতাদের জন্ম দিয়েছে এই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আখাউড়ায় শহীদ হন।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। লোকমুখে শোনা যায় যে সেন বংশের রাজত্ব্যকালে এই অঞ্চলে অভিজাত ব্রাহ্মণকুলের বড়ই অভাব ছিল। যার ফলে এ অঞ্চলে পূজা অর্চনার জন্য বিঘ্নতর সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা নিরসনের জন্য সেন বংশের শেষ রাজা রাজা লক্ষণ সেন আদিসুর কন্যকুঞ্জ থেকে কয়েকটি ব্রাহ্মণ পরিবারকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে কিছু ব্রাহ্মণ পরিবার শহরের মৌলভী পাড়ায় বাড়ী তৈরী করে। সেই ব্রাহ্মণদের বাড়ীর অবস্থানের কারণে এ জেলার নামকরণ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। অন্য একটি মতানুসারে দিল্লী থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ সুফী হযরত কাজী মাহমুদ শাহ এ শহর থেকে উল্লেখিত ব্রাহ্মণ পরিবার সমূহকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন , যা থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেঃ

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ হলঃ * সরাইল জামে মসজিদ (১৬৬২), * কালভৈরব মূর্তি (১৯০০ শতাব্দী, উচ্চতা ২৮ ফুট), * ভৈরব রেলওয়ে সেতু, * বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু, * কাইতলা জমিদার বাড়ী (নবীনগর), * আরাফাইল মসজিদ (সরাইল), * কেল্লা শহীদের মাজার (১৮০০ শতাব্দী, খরমপুর), * উলচাপাড়া জামে মসজিদ (১৬০০ শতাব্দী), * ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ (১৬৬৩ খ্রীষ্টাব্দ), * সৈয়দ কাজী মাহমুদ শাহ মাজার (১৬০০ শতাব্দী, কাজীপাড়া), * আখাউড়া স্থলবন্দর, *তিতাস গ্যাসক্ষেত্র, * হাতিরপুল ও অবদা রেস্ট হাউস (শাহবাজপুর, সরাইল), * অদ্বৈত মল্লবর্মনের বাড়ি (গোকর্ণ ঘাট), * জিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (আশুগঞ্জ), * আর্কাইভ জাদুঘর (কসবা), * অবকাশ (সদর), বাসুদেব মূর্তি (সরাইল), * হরিপুরের জমিদার বাড়ি, * কৈলাঘর দূর্গ (কসবা), কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ (কসবা), * বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের কবর (আখাউড়া), * সৌধ হিরন্ময়, * শহীদ মিনার, * তোফায়েল আজম মনুমেন্ট, * শহীদ স্মৃতিসৌধ, * মঈনপুর মসজিদ (কসবা), * বাঁশী হাতে শিবমূর্তি (নবীনগর), আনন্দময়ী কালীমূর্তি (সরাইল), * লোকনাথ দীঘি ইত্যাদি।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মিষ্টান্নের মধ্যে ছানামুখী অন্যতম; যা দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে তেমন প্রচলন নেই। এছাড়া ও তালের রস দিয়ে তৈরি আরেকটি মিষ্টান্ন তালের বড়া বেশ প্রসিদ্ধ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২১ জুন, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]