মনোহরগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্রাকৃতিক সম্পদ[সম্পাদনা]

কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার জলাঞ্চল হিসেবে খ্যাত দক্ষিণ অঞ্চলের ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি ২০০৫ সালে গঠিত। ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত এ উপজেলা এক সময় ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে জাহাজে করে, নৌকায় করে পাটসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য ডাকাতিয়া নদী পথে চাঁদপুর হয়ে নারায়নগঞ্জ ও ঢাকায় প্রেরণ করা হত। কালের বিবর্তণে সেসব আজ বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার সাধারন জনগণ কৃষি-কাজ, মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। এ উপজেলায় প্রাকৃতিক সম্পদের কোন ক্ষেত্র যেমন- তেল, গ্যাস বা কয়লা খনি পাওয়া যায়নি। এলাকার জনসাধারন কৃষিজাত পণ্য, শস্য উৎপাদন এবং মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই অঞ্চলের মানুষ খুবুই অতিথি পরায়ণ, ধর্ম ভীরু,হিন্দু মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে সেই অনেক কাল আগে থেকেই,

নদ-নদী[সম্পাদনা]

মনোহরগঞ্জ উপজেলার উল্লেখযোগ্য নদী হচ্ছে ডাকাতিয়া নদী। উপজেলাটি ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবস্থিত। উপজেলার কাছে নদীর একপ্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাঁধ নির্মাণ করা আছে।  এক সময় এ নদীই ছিল মনোহরগঞ্জ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানেও সীমিত আকারে এ নদীর মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মালামাল পার করা হয়। বর্তমানে এই নদীর পানি দ্বারা কৃষিকাজ করা হয়। অধিকন্তু এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।

অবস্থান[সম্পাদনা]

আয়তন: ১৬৬.৫০ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°০৪´ থেকে ২৩°১২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৯´ থেকে ৯১°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে লাকসাম উপজেলা, দক্ষিণে চাটখিল উপজেলা, সেনবাগ উপজেলাসোনাইমুড়ি উপজেলা, পূর্বে নাঙ্গলকোট উপজেলা, পশ্চিমে শাহরাস্তি উপজেলা (চাঁদপুর)।

প্রশাসনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মনোহরগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে ডাকাতিয়া নদীর কিনারা ঘেষে খোদাই ভিটাতে অবস্তিত। মনোহরগঞ্জ উপজেলাতে কোন পৌরসভা নেই কিন্তু ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। এগুলো হলো - বাইশগাঁও, সরসপুর, হাসনাবাদ, ঝলম (উঃ), ঝলম (দঃ), মৈশাতুয়া, লক্ষণপুর, খিলা, উত্তর হাওলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তৎকালীন মেল্লা শহর বর্তমান লাকসামস্থ ঘাগরিয়া খালের পাড়ে অবস্থিত মেল্লারের দিকে খরস্রোতা নদী পথে যেতে ডাকাতিয়া নদী ও ঘাগরিয়া নদীর মোহনায় ব্যবসায়ীদের মনোহরণকারী স্থান হিসেবে মনোহরগঞ্জের নামকরণ হয় মর্মে কথিত আছে। পাট ব্যবসায়ীক কেন্দ্রস্থল মনোহরগঞ্জ পরবর্তীকালে গঞ্জে রূপান্তরিত হয় মর্মে অনেকে মনে করেন। কারো-কারো মতে মনোহর নামে একজন মৃৎশিল্প/কুম্বকার এনে গড়ে তোলে ছিলেন হাড়ি-পাতিলের কারখানা। ব্যবসায়ীরা তার নামকে ঐতিহ্য হিসেবে স্থানের নামকরণ করেন মনোহরগঞ্জ। ঐতিহাসিক সত্যতা যাই হোক না কেন, মনোহরগঞ্জ একটি মনমুগ্ধকর প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীক স্থান যাহা ০৩ (তিন)টি ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। এই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম-জলিপুর,পোমগাঁও,মান্দার গাঁও পিয়ারাতলি,ডাবুরিয়া, হাট বাজারের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বাজার হলো লক্ষণপুর বাজার,পোমগাঁও বাজার,নরহরি পুর বাজার ও খিলা বাজার । ঐতিহ্যবাহী খিলা রেল স্টেশন যা ১৯৫০সালে তৎকালীন ছাত্রদের উদ্দোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিগত ২৬ আগষ্ট ২০০৪ তারিখ নিকার এর ৯০তম বৈঠকে ১১টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নামে একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতঃপর ০৫/০২/২০০৫ তারিখ হতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা মোট :২৪২৪৩২জন; পুরুষ ১১৮৯১৮ জন, মহিলা ১২৩৫১৪ জন। জনসংখার ঘনত্ব: ১৪৬০ জন/বর্গ কি.মি.

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার বিস্তারে এই উপজেলায় 2 টি সরকারী কলেজ সহ মোট ৪ টি কলেজ, 1 টি সরকারী হাইস্কুল সহ মোট ২৬ টি হাইস্কুল, ১৪ টি মাদ্রাসা এবং ১০০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মনোহরগন্জ এর অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর, তবে এখানকার বহু বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীগণ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সফলতার সাথে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন,অনেক শিল্পপতি আছে এই অঞ্চলে।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • জনাব এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম, সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
  • জনাব এহতেশাম হায়দার চৌধুরী

কবি,সাহিত্যিক,গীতিকার,সুরকার,কুমিল্লার গুনীজন দের মধ্যে অন্যতম,

  • সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী দৈনিক ইত্তেফাক,কচি কঁচার মেলার প্রধান উদ্যোক্তা,

ও তৎকালীন মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার,প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক,

  • আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, (বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব)।
  • মাওলানা ছালেহ আহমদ, (দেশবরেন্য মুহাদ্দিস)।
  • জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম (হেলাল), চেয়ারম্যান, এক্সিম ব্যাংক লিঃ।
  • জনাব এ কে এম আবুল কালাম আজাদ

বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক (ডিরেক্টর সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড)

  • জনাব ডঃ মোঃ শাহজালাল ভূইয়া, সাবেক সিনেট সদস্য, ঢা.বি।
  • জনাব কর্নেল আকবর মএী
  • জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম (এম পি)
  • জনাব কর্ণেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম(সাবেক সংসদ সদস্য)
  • গোলাম সরওয়ার চৌধুরী,

(এম বি বি এস,এফ আর সি এস লন্ডন) সারা বিশ্বে নামকরা ৬জন ডাক্তারের ওনি একজন

  • জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরী (হেলাল)

চট্রগ্রাম জোন র‍্যব এর সাজেন্ট,১০ ট্রাক অস্র মামলায় যার অবদান ছিলো অপরিশীম,

  • জনাব মোঃ খোরশেদ আলম, অতিঃ পুলিশ সুপার,(নারায়নগঞ্জ জোন) বাংলাদেশ পুলিশ।
  • জনাব এ টি এম আলমগীর,(সাবেক সংসদ সদস্য) চেয়ারম্যান, কমার্স ব্যাংক লিঃ।
  • জনাব মোঃ আবুল খায়ের, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, মনোহরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়।
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ খান।
  • জনাব এ কে এম ওয়াহিদুল ইসলাম।
  • জনাব মোঃ রফিকুল্লাহ আফসারী(ইসলামিক বক্তা)
  • জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী
  • জনাব হোসাইন হায়দার চৌধুরী লাতু(বীর মুক্তিযোদ্ধা)
  • জনাব হারুনুর রশিদ চৌধুরী সেলিম,

আরো নাম না জানা অনেকে আছেন...

উল্লেখযোগ্য স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • দিশাবন্দের ধিকচান্দা মঠ বাড়ীর মঠ,
  • তাহেরপুর মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ
  • মিয়া সাহেবের দরগাহ সংলগ্ন নরহরিপুর দিঘি,
  • শরীফপুর মাজার সংলগ্ন নাগেশ্বর দিঘি,
  • জলিপুর দিঘী,
  • নবীশুরের জামে মসজিদ,
  • জাহাজী আবুল খায়েরের বাড়ি (লক্ষণপুর),
  • মড়হ চৌধুরী বাড়ী
  • মড়হ দক্ষিন পাড়া ঈদগাঁহ ময়দান(কথিত আছে এই স্থানটি গায়েবি)
  • দিশাবন্ধের নবীসুর মসজিদ
  • ভাউপুর পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ ইত্যাদি।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী কর্তৃক ঘোষিত জমিদার বাড়ি[সম্পাদনা]

  • মড়হ (চৌধুরী বাড়ী)
  • তাহেরপুর (মিয়া বাড়ি)
  • লৎসর (মিয়া বাড়ি)

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর এ উপজেলায় হাসনাবাদ বাজারের উত্তরে চৌমুহনী নামক স্থানে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ লড়াইয়ে প্রায় ৭০ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং ১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

বিবিধ[সম্পাদনা]

নির্বাচনী এলাকা: ২৫৭, কুমিল্লা -৯। খানা: ৪১৮২৪ টি, মৌজা: ১৪৫ টি, সরকারি হাসপাতাল: ১ টি, স্বাস্থ্য কেন্দ্র: ৩ টি, ক্লিনিক : ৩ টি, পোষ্ট অফিস : ৩১ টি, হাট-বাজার: ২৪ টি, ব্যাংক :৪ টি, নদী :১ টি (ডাকাতিয়া), পাকা রাস্তা: ১০৮ কি.মি. কাঁচা রাস্তা: ৪২০ কি.মি.

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সড়ক পথ : পাকা রাস্তা-১০৮ কিঃমিঃ, কাঁচা রাস্তা - ৪২০ কিঃমিঃ মোটঃ ৫৪৪ কিঃমিঃ

ইউনিয়ন সমূহ[সম্পাদনা]

১নং বাইশগাঁও, ২নং সরসপুর, ৩নং হাসনাবাদ, ৪নং ঝলম (উত্তর), ৫নং ঝলম (দক্ষিণ),

৬নং মৈশাতুয়া, ৭নং লক্ষণপুর, ৮নং খিলা, ৯নং উত্তর হাওলা, ১০নং নাথেরপেটুয়া, ১১নং বিপুলাসার

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • লক্ষনপুর বাজারে একটি বিখ্যাত মিষ্টান্ন ভান্ডার আছে, যা সাধু মিষ্টান্ন ভান্ডার নামে পরিচিত, সাধু মিষ্টান্ন ভান্ডার এর সেই সাধু বেঁচে নেই তবে সুনাম এর সহিত এখন আছে ওনার সেই মিষ্টান্ন ভান্ডার।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

১.জাতীয় তথ্য বাতায়ন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ২.মো: গোলাম কবিরুল ইসলাম। বি এস সি (অনার্স) রসায়ন, এম এস সি।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]