ধনাগোদা নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ধনাগোদা
নদী
Dhanagoda River.jpg
দেশ বাংলাদেশ
জেলা চাঁদপুর
উৎস মেঘনা নদী
মোহনা মেঘনা নদী
দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার (২৫ মাইল)

ধনাগোদা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চাঁদপুর জেলার সদরমতলব উপজেলার একটি নদী । নদীটির দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৯ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক ধনাগোদা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১১।[১]

প্রবাহ[সম্পাদনা]

ধনাগোদা নামের নদীটি চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নে প্রবাহমান মেঘনা আপার নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতপর নদীটি একই উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন অবধি প্রবাহিত হয়ে পুনরায় মেঘনা আপার নদীতে পতিত হয়েছে।।[১] বিপুল জলরাশি, মৎস্য ও প্রাণিকূলের বিশাল সম্ভারে সমৃদ্ধ এ নদী। সড়ক পথে বা নৌ পথে এখানে আসা যায়। মতলব উ: ও মতলব দ: এর মাঝে বিভক্তকারী এ নদী। মতলব ফেরী ঘাট একটি দর্শনীয় স্থান। ধনাগোদা নদীর উত্তর তীরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃক বেড়ী বাধ নির্মাণ করা আছে। এই বেড়ী বাধ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধটি মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয়।[২]

খাল সমূহ[সম্পাদনা]

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও আশেপাশের অঞ্চলের বিভিন্ন খাল ধনাগোদা নদীর সাথে সংযুক্ত। ধনাগোদা নদীতে সংযুক্ত সাচার খালটি মতলব দক্ষিণের নায়েরগাঁও হয়ে কচুয়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবেশ করে বড়দৈল, সাচার, বিতারা, জলা তেতৈয়া, কোমরকাশা হয়ে কচুয়া পৌরবাজারের (মূল বাজার) পশ্চিম পাশ ঘেঁষে উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের কড়ইয়া, ডুমুরিয়া ও কালোচোঁ গ্রাম হয়ে হাজীগঞ্জের নিকট ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।[৩] বোয়ালজুড়ি খালটি ধনাগোদা নদীর মাছুয়াখাল প্রান্ত থেকে নারায়ণপুর বাজার হয়ে মেহারুন, চারটভাংগা, বাংলাবাজার, চৌমুহনী বাজার, ডড্ডা হয়ে হাজীগঞ্জের নিকট ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।[৪]

নৌ যোগাযোগ ও পারাপার[সম্পাদনা]

মেঘনা নদীর পাশাপাশি এক সময় ধনাগোদা নদীই ছিল মতলব উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ধনাগোদা নদীর লঞ্চ যোগাযোগ ব্যবস্থা মতলব দক্ষিণ উপজেলাকে ঢাকানারায়ণঞ্জ শহরের সাথে যুক্ত করে। বর্তমানেও সীমিত আকারে এ নদীর মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মালামাল ও লঞ্চ যোগে যাত্রী পারাপার করা হয়।[৫]

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ তথা চাঁদপুরের সাথে ঢাকার সড়ক পথে যোগাযোগ সহজ করার জন্য ধনাগোদা নদীর উপর দুইটি সেতু নির্মান করা হয়। একটি শ্রীরায়েরচর সেতু অপরটি মতলব সেতু । শ্রীরায়েরচর সেতুটি মতলব উত্তর উপজেলার বাংলাবাজার এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার শ্রীরায়েরচরকে যুক্ত করে।[৬]

মতলব বাজার সংলগ্ন পূর্ব দিকে মতলব সেতুর দৈর্ঘ্য ৩০৪ দশমিক ৫১ মিটার। মতলব সেতুর নির্মান কাজ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় এবং ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।[৭]

পরিবেশ বিপর্যয় ও মৎস্য শিকার[সম্পাদনা]

ধনাগোদা নদী থেকে স্থানীয়ভাবে ১৯৫০ সালের মৎস্য সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন স্থানে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা হয়।[৮] ধনাগোদা নদী নাব্যতা হারিয়ে দিন দিন সরু হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে দখল-দূষণে সংকটের মুখে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। ধনাগোদা নদী থেকে গেলো এক দশকে হারিয়ে গেছে ২০ প্রজাতির মাছ।[৯] ধনাগোদা নদীর তীরে বালু মহল গড়ে উঠায় পরিবেশ দূষিত হয়ে স্ব্যাস্থ ঝুঁকিতে পরেছে এলাকাবাসী।[১০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ৩০৩। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 
  2. "মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পরিচিতি" (PDF)www.bwdb.gov.bd। ১ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ জুন ২, ২০২০ 
  3. "পরিবেশ দূষণসহ ব্যাহত ফসল উৎপাদন"আলোকিত বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  4. "কচুয়ায় ব্যবসায়ীদের নষ্ট হওয়া বর্জ্য আবর্জনা দিয়ে খাল ভরাট"Focus Mohona (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৬-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  5. "মতলব দক্ষিণ উপজেলার নদ-নদী"matlabsouth.chandpur.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ জুন ২, ২০২০ 
  6. "একনেকের বৈঠকে মতলব সেতুর অনুমোদন লাভ"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  7. "মতলব সেতুতে যান চলাচল শুরু"। ৬ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  8. "ধনাগোদা নদী, ৫০ স্থানে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার"। www.prothomalo.com। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ৩১, ২০১৬ 
  9. "চাঁদপুরে দখল-দূষণে নদী বেহাল"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০১৯-০৫-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২ 
  10. "মতলবে নদী দখল করে চলছে বালুর ব্যাবসা ॥ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা"মানব খবর। ২০২০-০১-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০২