নীলফামারী জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নীলফামারী জেলা
জেলা
বাংলাদেশে নীলফামারী জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৭′উত্তর ৮৮°৫৭′পূর্ব / ২৫.৯৫° উত্তর ৮৮.৯৫° পূর্ব / 25.95; 88.95
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রংপুর বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১,৬৪৩.৪
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ১৯,০৭,৪৯৭[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৯.৬৯%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট


নীলফামারী জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর পশ্চিম দিকে প্রায় ৪০০ কিঃমিঃ দুরে ১৬৪৩.৪০-বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এ জেলার অবস্থান,যা কর্কটক্রান্তি রেখার সামান্য উত্তরে অবস্থিত। এ জেলার পূর্বে রংপুর ও লালমনির হাট, দক্ষিণে রংপুর ও দিনাজপুর,পশ্চিমে দিনাজপুর ও পঞ্চগড় এবং উত্তরে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা । কৃষি নির্ভর এ জেলার ৯০% সহজ সরল মানুষ কোন না কোন ভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। নীলফামারীর দীগন্ত বিস্তৃত সমতল ভূমিতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, আলু, তামাক এবং আরও বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপন্ন হয়। ভাওয়াইয়া গানের সুতিকাগার এ জেলায় আব্বাস উদ্দিন, হরলাল রায়, রথীন্দ্রনাথ রায় এর জম্ম। এ জেলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা সেচ প্রকল্প সেচ ও সম্পুরক সেচ সুবিধা দিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভুমিকা রাখছে। জেলার উত্তর পূর্বদিক দিয়ে বহমান তিস্তা নদী জেলার দু’টি উপজেলার (ডিমলা-জলঢাকা) জন্য এখনও অভিশাপ হিসেবে বিদ্যমান। বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুরের কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত এ জেলার সৈয়দপুর এর ক্ষুদ্র শিল্প গোটা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে অবস্থিত। উত্তরা ইপিজেড এলাকার কর্মসংস্থানে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নীলসাগর নামীয় বিশাল দিঘী এলাকার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সম্প্রতি চালুকৃত নীলসাগর আন্তঃনগর এক্মপ্রেস ট্রেন যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।[২] মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিহারীদের অংশগ্রহণে ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সংঘটিত একটি হত্যাযজ্ঞের অভিযানের আলোচিত নাম অপারেশন খরচাখাতা

নামকরণ[সম্পাদনা]

দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊণবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়।

সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হতো এখানকার উর্বর মাটির গুণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদঅঞ্চলে। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি।ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীল খামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

নীলফামারী জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে দিনাজপুররংপুর জেলা, পূর্বে লালমনিরহাট এবং পশ্চিমে দিনাজপুর ও রংপুর জেলা অবস্থিত।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

 নীলফামারী-০১  নীলফামারী-০২  নীলফামারী-০৩  নীলফামারী-০৪
জনাব মোঃ আফতাব উদ্দিন সরকার, মাননীয় সংসদ সদস্য, ডিমলা, নীলফামারী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান নূর, মাননীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় মন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শহীদ আলী হোসেন সড়ক, নীলফামারী জনাব গোলাম মোস্তফা, মাননীয় সংসদ সদস্য, জলঢাকা কলেজ পাড়া, জলঢাকা, নীলফামারী আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, মাননীয় সংসদ সদস্য, ২৪,যমুনা লেন, বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া, সৈয়দপুর, নীলফামারী

স্থানীয় সরকার[সম্পাদনা]

১৮৭৫ সালে মহকুমা ও পরে ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়।

পৌরসভা[সম্পাদনা]

এই জেলায় মোট ৪ টি পৌরসভা

উপজেলা পরিষদ[সম্পাদনা]

মোট ৬ টি উপজেলা নিয়ে নীলফামারী জেলা।

  1. নীলফামারী সদর উপজেলা
  2. ডোমার উপজেলা
  3. ডিমলা উপজেলা
  4. জলঢাকা উপজেলা
  5. কিশোরগঞ্জ উপজেলা
  6. সৈয়দপুর উপজেলা

ইউনিয়ন পরিষদ[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

নীলফামারী জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টামরিচ। জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর অববাহিকায় প্রচুর ভুট্টার চাষ হয়। ডোমার, ডিমলায় মরিচের চাষ হয়। এছাড়া আলু, ধান, গম, সরিষা প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

শিল্প[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান[সম্পাদনা]

নীলসাগর, ধর্মপালের গড়, চীনা মসজিদ, তিস্তা ব্যারেজ, কুন্দুপুকুর মাজার, হযরত শাহ কলন্দর মাজার, হরিশচন্দ্রের পাঠ, ময়নামতির দূর্গ, ভীমের মায়ের চুলা, চীনা মসজিদ, সৈয়দপুর চার্চ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল, উত্তরা ইপিজেড, সৈয়দপুর বিমান বন্দর, ডিমলা রাজবাড়ী, বালাপাড়া গণকবর ইত্যাদি।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. অর্থনৈতিক জোনের সম্ভাবনাময় অঞ্চল নীলফামারী

তথ্য সুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে নীলফামারী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২২ জুন, ২০১৪ 
  2. http://www.dcnilphamari.gov.bd/ নীলফামারী জেলা তথ্য বাতায়নে