ফেনী জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ফেনী
জেলা
বাংলাদেশে ফেনী জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ফেনী জেলার অবস্থান
ফেনী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ফেনী
ফেনী
বাংলাদেশে ফেনী জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১′০″ উত্তর ৯১°২৩′৩০″ পূর্ব / ২৩.০১৬৬৭° উত্তর ৯১.৩৯১৬৭° পূর্ব / 23.01667; 91.39167স্থানাঙ্ক: ২৩°১′০″ উত্তর ৯১°২৩′৩০″ পূর্ব / ২৩.০১৬৬৭° উত্তর ৯১.৩৯১৬৭° পূর্ব / 23.01667; 91.39167 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৯২৮.৩৪ কিমি (৩৫৮.৪৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2017)
 • মোট ১৪,৯৬,১৩৮
 • ঘনত্ব ১৬০০/কিমি (৪২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৯.৬%[১]
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ফেনী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনস্থ ফেনী জেলার মোট আয়তন ৯২৮.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা,দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা, পশ্চিম-দক্ষিণে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, পূর্ব-উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা এবং পূর্ব-দক্ষিণে চট্রগ্রামের মীরসরাই উপজেলা অবস্থিত।[২]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ফেনী জেলায় ৬টি উপজেলা, ৬টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৪৩টি ইউনিয়ন, ৫৬৪টি গ্রাম এবং ৫৪০টি মৌজা রয়েছে।[৩]

উপজেলার নাম আয়তন (বর্গ কি:মি:) পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কি:মি:) শিক্ষার হার (%)
ফেনী সদর উপজেলা ১৯৭.৩৩ ১২ ১৩৪ ১২৫
দাগনভূঁইয়া উপজেলা ১৬৫.৮৪ ১০১ ১১৫
ছাগলনাইয়া উপজেলা ১৩৩.৪৯ ৫৪ ৬৬
সোনাগাজী উপজেলা ২০৫.০৭ ৯৪ ৯৫
পরশুরাম উপজেলা ৯৭.৫৭ ৮১ ৭৯
ফুলগাজী উপজেলা ৯৯.০৩ - ৭৬ ৯০

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নামকরণ

ফেনী নদীর নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে ফেনী।[৪] মধ্যযুগে কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় একটি বিশেষ নদীর স্রোতধা ও ফেরী পারাপারের ঘাট হিসেবে আমরা ফনী শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ষোড়শ শতাব্দীর সময়ে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুরের বর্ণনায় উল্লেখ করেন: "ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার, পূর্বে মহাগিরি পার নাই তার।" এরপর সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত বাহরিস্তান-ই-গায়েবীতে ফনী শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ফেনী-তে পরিণত হয়।[৫]

আঠার শতকের শেষার্ধে কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তার পীরের বসতি হাজীগাওর অবস্থান সম্পর্কে লিখছেন, "ফেনীর দক্ষিণে এক ষর উপাম, হাজীগাও করিছিল সেই দেশের নাম। "কবি মোহাম্মদ মুকিম" তার পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে বলেছেন, "ফেনীর পশ্চিমভাগে জুগিদিয়া দেশে।" তারাও নদী অর্থে ফেনী ব্যবহার করেছেন। ধারণা করা হয় আদি শব্দ ‘ফনী’ মুসলমান কবি ও সাহিত্যিকদের ভাষায় ফেনীতে পরিণত হয়েছে।

সাধারণ ইতিহাস[সম্পাদনা]

দূর অতীতে এ অঞ্চল ছিল সাগরের অংশ; তবে উত্তর পূর্ব দিক ছিল পাহাড়িয়া অঞ্চলের পাদদেশ। ফেনীর পূর্বদিকের রঘুনন্দন পাহাড় থেকে কাজির বাগের পোড়ামাটি অঞ্চলে হয়তঃ আদিকালে শিকারী মানুষের প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল। এখানকার ছাগলনাইয়া গ্রামে ১৯৬৩ সালে একটা পুকুর খননকালে নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের ব্যবহৃত একটা হাতিয়ার বা হাতকুড়াল পাওয়া গেছে। পন্ডিতদের মতে ঐ হাতকুড়াল প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরাতন।[৬]

বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে পূর্বদিকের ফেনী অঞ্চলকে ভূ-খন্ড হিসেবে অধিকতর প্রাচীন বলে পন্ডিতগণ মত প্রকাশ করেছেন। ফেনীর পূর্বভাগের ছাগলনাইয়া উপজেলার শিলুয়া গ্রামে রয়েছে এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ। প্রকাশ শিলামূর্তির অবস্থানের কারণে স্থানটি শিলুয়া বা শিল্লা নামে পরিচিত হয়েছে। প্রাচীন কালে হয়ত এখানে বৌদ্ধ ধর্ম ও কৃষ্টির বিকাশ ঘটেছিল।[৭]

ডঃ আহমদ শরীফ চট্টগ্রামের ইতিকথায় বলেছেনঃ প্রাচীনকালে আধুনিক ফেনী অঞ্চল ছাড়া নোয়াখালীর বেশির ভাগ ছিল নিম্ন জলা ভূমি। তখন ভুলুয়া (নোয়াখালীর আদি নাম) ও জুগিদিয়া (ফেনী নদীর সাগর সঙ্গমে অবস্থিত) ছিল দ্বীপের মতো।[৮] ছাগলনাইয়া নামকরণ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন যে ইংরেজ আমলের শুরুতে সাগর (Sagor) শব্দটি ভুল ক্রমে সাগল (Sagol) নামে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। তাই ছাগল নাইয়া শব্দটি প্রচলিত হয়ে ওঠে।উল্লেখ্য ইংরেজ আমলের পূর্বে কোন পুথি পত্রে ছাগল নাইয়া নামের কোন স্থানের নাম পাওয়া যায় না।[৭]

ফেনী নদীর তীরে রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বীর বাঙ্গালী শমসের গাজীর রাজধানী ছিল। তিনি এখান থেকে যুদ্ধাভিযানে গিয়ে রৌশনাবাদ ও ত্রিপুরা রাজ্য জয় করেন। তিনি চম্পক নগরের একাংশের নামকরণ করেছিলেন জগন্নাথ সোনাপুর।[৭]

জেলা পরিষদ ভবন, ফেনী

১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে যে সকল মহকুমাকে মানোন্নীত করে জেলায় রূপান্তর করা হয়েছিল ফেনী জেলা তার একটি। জেলাটির আয়তন ৯২৮.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৮৪ সালের পূর্বে এটি নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা ছিল। এ মহকুমার গোড়াপত্তন হয় ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে মিরসরাই, ছাগলনাইয়া ও আমীরগাঁও এর সমন্বয়ে। প্রথম মহকুমা প্রশাসক ছিলেন কবি নবীন চন্দ্র সেন। ১৮৭৬ সালে মিরসরাইকে কর্তন করে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভক্ত করা হয়। প্রথম মহকুমা সদর দপ্তর ছিল আমীরগাঁওয়ে। ১৮৭২ থেকে ১৮৭৪ সালের মধ্যে মোগল আমলের আমীরগাও থানা নদী ভাঙ্গনের ফলে ফেনী নদীর ঘাটের কাছাকাছি খাইয়ারাতে স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে এটি ফেনী থানা নামে পরিচিত হয়। অতঃপর ১৮৭৬ সালে নতুন মহকুমার পত্তন হলে খাইয়ারা থেকে থানা দপ্তরটি মহকুমা সদরে স্থানান্তরিত হয় ও নতুন মহকুমাটি ফেনী নামে পরিচিত হয়।[৬] পরবর্তীতে ১৮৮১ সালে তা ফেনী শহরে স্থানান্তরিত হয়।[৯]

মুক্তিযুদ্ধে ফেনী জেলা[সম্পাদনা]

ফেনীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে তিন দিক থেকে ফেনীর রয়েছে সীমান্ত। ফলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ফেনীতে ব্যাপক অত্যাচার নিপীড়ন চালায়। ফেনী সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে শুভপুর ও বিলোনিয়া যুদ্ধ অন্যতম। তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা ফেনী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আব্দুল মালেক (যুদ্ধকালীন সময়ে বি এল এফ এর প্রেসিডেন্ট) ও মরহুম খাজা আহমদের নেতৃত্বে ফেনীর মুক্তিযোদ্ধারা দেরাদুন ও চোত্তাখোলায় প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সাব-সেক্টর কমান্ডার জাফর ইমামের নেতৃত্বে বিলোনিয়া যুদ্ধ একটি অনন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

৬ ডিসেম্বর ফেনী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনীকে মুক্ত করেন। প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর দিনটিকে ফেনী জেলাবাসী "ফেনী মুক্ত দিবস" হিসেবে পালন করে।[১০] মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য ফেনীর ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে দেওয়া হয়। খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৪ জন বীর উত্তম, ৭ জন বীর বিক্রম এবং ২০ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।[১১]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ফেনী জেলার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। জেলার মধ্যদিয়ে কয়েকটি নদী প্রবাহিত হওয়ার ফলে এর কৃষি জমি সমূহ বেশ উর্বর। এছাড়া এ অঞ্চলের অনেক লোক বিদেশ থাকার ফলে প্রচুর পরিমাণ বৈদিশিক আয় এ জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে অনেক কলকারখানা এখানকার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যাবস্থাকে সমৃদ্ধ ও সমুন্নত করছে।। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত আর্থিক অন্তর্ভূক্ত সূচীতে ফেনী ২য়।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

সংবাদপত্র ও সাময়িকী

ফেনী জেলা থেকে প্রায় ৩৪টির মতো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।[১৫]

উন্নয়ন ও সামাজিক সংগঠন
খেলাধুলাঃ

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ফেনী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৩ জুন, ২০১৪ 
  2. "ভৌগলিক পরিচিতি"। feni.gov.bd। সংগৃহীত ১৮ অক্টোবর ২০১৫ 
  3. "প্রশাসনিক কাঠামো"। feni.gov.bd। সংগৃহীত জুলাই ১৪, ২০১৪ 
  4. "ফেনী জেলার ইতিহাস"। goldenbangladesh.com। সংগৃহীত মার্চ ০৮, ২০১৫ 
  5. জমির আহমেদ। ফেনীর ইতিহাসচট্টগ্রাম: সমতট প্রকাশনী। পৃ: ১১। 
  6. জমির আহমেদ। ফেনীর ইতিহাসচট্টগ্রাম: সমতট প্রকাশনী। পৃ: ১২। 
  7. জমির আহমেদ। ফেনীর ইতিহাসচট্টগ্রাম: সমতট প্রকাশনী। পৃ: ১৩। 
  8. ফেনীর ইতিহাস-জমির আহমেদ(সমতট প্রকাশনী, ৩২, কাতাল গঞ্জ ,চট্টগ্রাম) পৃষ্ঠা-১৩, লাইন-১৬
  9. জেলার পটভূমি
  10. "ফেনী মুক্ত দিবস আজ"দৈনিক প্রথম আলো। ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৪। সংগৃহীত মার্চ ১৬, ২০১৫ 
  11. "ফেনীর খেতাবপ্রাপ্ত ৩১ বীর মুক্তিযোদ্ধা"দৈনিক ইত্তেফাক। ২৪ অক্টোবর ২০১৩। সংগৃহীত মার্চ ১৬, ২০১৫ 
  12. "ফেনী জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ"। goldenbangladesh.com। সংগৃহীত মার্চ ০৮, ২০১৫ 
  13. "দর্শনীয় স্থান"। zpfeni.gov.bd। সংগৃহীত মার্চ ০৮, ২০১৫ 
  14. "ফেনীর রাজনীতিতে আবার ফিরছেন জয়নাল হাজারী"ঢাকা নিউজ২৪.কম। এপ্রিল ৬, ২০১২। সংগৃহীত মার্চ ১৪, ২০১৫ 
  15. পত্রপত্রিকা

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]