জেলা প্রশাসক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

টেমপ্লেট:সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

জেলা প্রশাসক বাংলাদেশের জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও রাজস্ব কর্মকর্তা।[১] তিনি একাধারে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(District Magistrate), জেলা কালেক্টর (District Collector)ও ডেপুটি কমিশনার(Deputy Commissioner)। ফলে তিনি একইসাথে আইনশৃঙ্খলা, ভূমিপ্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। জেলা প্রশাসক জেলাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানমতে বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার হওয়ায় জেলা প্রশাসকগণ জেলাতে জাতীয় সরকারের প্রতিনিধি।তিনি ঐ জেলার সবকিছুর জন্য জাতীয় সরকারের নিকট জবাব্দিহি করেন। তিনি সরাসরি সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে যোগাযোগকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলার একমাত্র কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারের জেষ্ঠ পর্যায়ের সদস্য ও সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ আমলা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডার হতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সরকারের উপসচিবগণের মধ্য হতে জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। Warrant of Precedence, 1986 অনুসারে উপসচিব এর পদমর্যাদার ক্রম ২৫ হলেও জেলা প্রশাসকের পদমর্যাদার ক্রম ২৪। তবে জেলা প্রশাসক শব্দটি ডেপুটি কমিশনার শব্দের বঙ্গানুবাদ নয়, বরং দুটো আলাদা পরিচিতিকে নির্দেশ করে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসক শব্দটির সর্বব্যাপী প্রয়োগ সুপ্রতিষ্ঠিতভাবে লক্ষ করা যায়। বিশেষত সরকারী দপ্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে গৃহীত হওয়ার কারণে কেবলমাত্র ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাজের ক্ষেত্রেই নয়, কালেক্টর বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা ডেপুটি কমিশনারের সামগ্রিক কাজের ক্ষেত্রে একক বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে জেলা প্রশাসক এর ব্যবহার প্রায়োগিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। জেলা প্রশাসক জেলার চিফ অব প্রটোকল।

ইতিহাস ও উৎপত্তি[সম্পাদনা]

বৃটিশ শাসিত ভারতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক প্রথম জেলা কালেক্টরের পদ সৃষ্টি করা হয়। ব্রিটিশ আমলে প্রথম সৃষ্ট পদটির নাম ছিলো ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর। এজন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে আজও ঐতিহ্যগতভাবে কালেক্টরেট হিসেবে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট নামে আরেকটি পদ দেয়া হয়। এটি জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে District Magistrate বা Collector এর জন্য আরেকটি পদ সৃষ্টি করা হয় জেলার উন্নয়ন কর্মসমূহের সমন্বয় সাধনের জন্য, যার নাম ডেপুটি কমিশনার। ডেপুটি কমিশনার পদ সৃজনের দ্বারা আগের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর এবং ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদ বিলুপ্ত করা হয় নি বা উক্ত পদের জন্য অন্য কাউকে নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ হলে ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এ পরিবর্তন সাধন করা হয়। বিচারিক কাজের জন্য জেলা পর্যায়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পূর্বের ন্যায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের হাতেই অর্পিত রয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি। জেলা পুলিশ সুপারগণ উপর্যুক্ত কমিটির সদস্য। Magistrate শব্দটি ল্যাটিন Magistratus শব্দ থেকে এসেছে যার মানে Administrator বা শাসক। ভারতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাংলায় বলা হয় 'জেলা শাসক'। 'শাসক' শব্দটি সহনীয় করে বাংলাদেশে 'প্রশাসক' শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছে। 'জেলা প্রশাসক' বহুল ব্যবহৃত District Magistrate শব্দের পরিবর্তিত বাংলারূপ যা এখনো ভারতে জেলা শাসক নামে অভিহিত করা হয়।

জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব ও কার্যাবলী[সম্পাদনা]

কালেক্টর হিসেবে[সম্পাদনা]

(১) জেলার রাজস্ব অফিস সমূহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ ; (২) ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ, আদায়, মওকুফ ও পুনঃনির্ধারণ; (৩) ভূমি রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ এবং হালনাগাদকরণ; (৪) কৃষি ও অকৃষি খাস জমি এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির বন্দোবস্ত প্রদান; (৫) অধিগ্রহণকৃত কিন্তু অব্যবহৃত জমি পুনর্খাসকরণ; (৬) সরকারি কর বহির্ভুত রাজস্ব আদায় এবং এ সংক্রান্ত হিসাব বিবরণী সরকারের কাছে প্রেরণ; (৭) রাজস্ব মামলায় আপিল শুনানী; (৮) রাজস্ব সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত; (৯) হাটবাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন; (১০) হাট বাজারের পেরিফেরি নির্ধারণ; (১১) নতুন হাট বাজার স্থাপন প্রক্রিয়াকরণ; (১২) সায়রাত মহালসহ সরকারের অন্যান্য মহাল ব্যবস্থাপনা; (১৩) রেকর্ড রুম ব্যবস্থাপনা;

(১৪) সরকারি দলিল পত্রাদির নকল সরবরাহ; (১৫) অর্পিত, খাস, পরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং বিনিময় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা; (১৬) সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলা পরিচালনা তত্ত্বাবধান; (১৭) আন্তঃজেলা সীমান্ত বিরোধ মীমাংসা; (১৮) সিকস্তি জমির ক্ষেত্রে এডি লাইন হালনাগাদকরণ এবং পয়স্তি ভূমির ক্ষেত্রে চর্চা ম্যাপ প্রস্তুত; (১৯) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাধারণ ভূমি জরিপ কর্মসূচিকে সহায়তা প্রদান: (২০) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল ভূমি জরিপ কর্মসূচিকে সহায়তা প্রদান; (২১) ইউনিয়ন ভূমি অফিস সৃজন; (২৪) রাজস্ব বিষয়ক রিপোর্ট ও রিটার্ন সরকার বরাবর প্রেরণ; (২৫) সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খাসজমি পুনরুদ্ধার; (২৬) বন আইন অনুযায়ী বনভূমি ব্যবস্থাপনা; (২৭) জেলায় রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন; (২৮) কৃষি ও অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়ন; (২৯) দরিদ্র এবং ভূমিহীনদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচি যেমন আশ্রয়ণ, আবাসন, আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম এবং জলবায়ু দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকি; (৩০) সরকারের ভূমি সংস্কার নীতিমালা বাস্তবায়ন; (৩১) বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রসেস জারি এবং জরিমানা আদায়; (৩২) বিজ্ঞ আদালতের রায়/ডিক্রী/ আদেশ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ; (৩৩) অকৃষি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ থেকে মূল্যবান কৃষি জমি রক্ষায় বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ভূমি বিভক্তি পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ; (৩৪) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সম্পত্তির বিক্রি/ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ প্রদান; (৩৫) জেলার রাজস্ব আদালত ও অফিস পরিদর্শন; (৩৬) জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসারের কোর্ট পরিদর্শন; (৩৭) ভূমি রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান অনুসরণে অবমূল্যায়িত (ইম্পাউন্ড) মামলার নিষ্পত্তি; (৩৮) পৌরসভা এলাকার বাইরে সায়রাত মহাল/হাটবাজারের টোল নির্ধারণ; (৩৯) পার্বত্য জেলাত্রয়ের ভূমি নিবন্ধন; (৪০) ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান প্রণয়ন ও বাসত্মবায়নে সহযোগিতা প্রদান; (৪১) প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা; (৪২) কোর্ট অব ওয়ার্ডস সম্পর্কিত কার্যাবলি; এবং (৪৩) রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সংস্থাপন বিষয়াদি।

ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে[সম্পাদনা]

(১) ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি ও ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি সম্পর্কিত যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন; (২) ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন ও ১৯৪৩ সালের পুলিশ রেগুলেশনস্ অনযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি সম্পর্কিত যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন; (৩) জেলা কোড অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি সম্পর্কিত যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগএবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন; (৪) মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; (৫) বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী সান্ধ্য আইন জারির ক্ষমতা; (৬) সকল মাইনর এ্যাক্ট অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন; (৭) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল কার্যাবলি তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ; (৮) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি সম্পর্কিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে প্রেরণ; (৯) রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কার্যক্রম; (১০) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালত পরিদর্শন/দর্শন; (১১) জেলখানা পরিদর্শন/দর্শন; (১২) থানা পরিদর্শন/দর্শন; (১৩) জিপি, স্পেশাল জিপি, ভিপি-জিপি, এজিপি, পিপি, স্পেশাল পিপি, এপিপি নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রেরণ; এবং (১৪) জিপি, স্পেশাল জিপি, ভিপি-জিপি, এজিপি, পিপি, স্পেশাল পিপি, এপিপি সম্পর্কিত প্রশাসনিক ও সংস্থাপন বিষয়াদি। ৩.জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তাঃ (১) দাঙ্গা, হরতাল, রাজনৈতিক উত্তেজনা, শ্রমিক অসন্তোষ ইত্যাদি জরুরি পরিস্থিতির সময় জনশৃঙ্খলাবিধান; (২) বিবাদমান পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে ব্যবস্থা গ্রহণ; (৩) গুন্ডা, টাউট, সন্ত্রাস দমন এবং চোরাকারবার, মাদকব্যবসা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ; (৪) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন মোতাবেক আটকাদেশ প্রদান; (৫) সরকারি সম্পত্তির (জমাজমি, দালান কোঠা ইত্যাদি) দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত কার্যক্রম; (৬) এসিডের অপব্যবহার রোধ; (৭) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ; (৮) নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ; (৯) বাল্যবিবাহ রোধ; (১০) যৌতুক নিরোধ; (১১) জঙ্গীবাদ দমন; (১২) নারী ও শিশু পাচার রোধ; (১৩) চোরাচালান প্রতিরোধ; (১৪) হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ; (১৫) জালনোট প্রচলন রোধ; এবং (১৬) যৌন হয়রানী (ঈভ-টিজিং) প্রতিরোধ। ৪. আইন শৃঙ্খলাঃ (১) ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন ও ১৯৪৩ সালের পুলিশ রেগুলেশনস অনুযায়ী অপরাধ দমন কার্যক্রমে পুলিশ বিভাগের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ; (২) জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৩) অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; (৪) গুরুতর অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৫) জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাপূর্বক জনজীবনে স্বস্তি আনয়ন; (৬) বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরি উদ্ভবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সম্প্রসারিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠান এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৭) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নতুন থানা, তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব প্রেরণ; এবং (৮) আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ পরিস্থিতি, প্রাণহানি, দুর্ঘটনা, দুর্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন প্রেরণ। ৫. জেলখানাঃ (১) জেলা কোড অনুযায়ী জেলাখানার কর্মকান্ডের তত্ত্বাবধান; (২) জেলখানা নিয়মিত পরিদর্শন ও দর্শন; (৩) বেসরকারি জেল ভিজিটর নিয়োগের প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ; (৪) সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং বিচারাধীন আসামীদের জেলাখানায় ডিভিশন মঞ্জুর; (৫) কারা বন্দীদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী খাবার প্রদান নিশ্চিতকরণ; (৬) বন্দী কল্যাণ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং (৭) ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান। ৬. পর্যটনঃ (১) বিদ্যমান পর্যটন স্পটগুলোর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; (২) বিদ্যমান পর্যটন স্পটগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য বজায় রাখাসহ পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ; (৩) বিদ্যমান পর্যটন স্পটগুলোতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে উদ্যোগ গ্রহণ; (৪) প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জেলায় স্থানীয়ভাবে পর্যটনের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি; (৫) পর্যটন খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধকরণ; এবং (৬) পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির জন্য সরকারের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ। ৭. আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণঃ (১) ১৮৭৮ সালের আগ্নেয়াস্ত্র আইন অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ; (২) সকল ধরণের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, বাতিল ও পুনর্বহাল সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ; (৩) বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ডিলার এবং দোকান মালিকদের কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ প্রস্তুত ও হালনাগাদকরণ; এবং (৪) সকল ধরণের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের/স্বত্বাধিকারীদের কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ প্রস্তুত ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ। ৮. রাষ্ট্রীয় গোপনীয় বিষয়াদিঃ (১) মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্ত সংক্রান্ত কার্যাদি; (২) সমর পুস্তিকা সংক্রান্ত কার্যাদি; (৩) সাইফার ও ডি-সাইফার সম্পর্কিত পুস্তকাদির সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত সাইফার বার্তা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ; (৪) গোননীয় পুস্তকাদির নিরাপদ হেফাজত সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রেরণ; (৫) ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেক্টস এ্যাক্ট অনুযায়ী অতীব গোপনীয় বিষয়াদি প্রক্রিয়াকরণ; এবং (৬) KPI সমূহের নিরাপত্তা তদারকি। ৯. গোপনীয় প্রতিবেদনঃ (১) জেলার সার্বিক অবস্থার উপর পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সরকারের কাছে প্রেরণ; (২) বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর গোপনীয় প্রতিবেদন সরকারের কাছে প্রেরণ; (৩) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার গোপনীয় প্রতিবেদন প্রেরণ; এবং (৪) বিশেষ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উপর গোপনীয় প্রতিবেদন প্রেরণ। ১০. ট্রেজারী ও স্ট্যাম্পঃ (১) ১৯৫৭ সালে প্রণীত ট্রেজারি রুলস এবং সাবসিডিয়ারি রুলস অনুযায়ী ট্রেজারির কার্যক্রম পরিচালনা; (২) নিয়মিত ট্রেজারি ভেরিফিকেশন করা; (৩) পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, গোপনীয় কাগজপত্র, অতি মূল্যবান ও স্পর্শকাতর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইত্যাদি সামগ্রির সাময়িক হেফাজত; (৪) ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প এ্যাক্ট অনুযায়ী স্ট্যাম্প ব্যবস্থাপনা; (৫) স্ট্যাম্প, ভেন্ডার লাইসেন্স মঞ্জুর, নবায়ন ও বাতিল সম্পর্কিত কার্যক্রম; (৬) সরকার থেকে প্রাপ্ত স্ট্যাম্প মওজুদ ও বিক্রির ব্যবস্থাকরণ; (৭) সরকার থেকে প্রাপ্ত ডাক টিকেট ও অন্যান্য টিকেট/স্ট্যাম্প মওজুদ এবং বিক্রির ব্যবস্থাকরণ; (৮) স্ট্যাম্প ও ডাক টিকেটের মওজুদ ও বিক্রি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রেরণ; এবং (৯) অপ্রচলিত ও বাতিল স্ট্যাম্প এবং ডাক টিকেট বিনষ্টকরণের উদ্যোগ গ্রহণ। ১১. দুর্নীতি দমনঃ (১) দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান; (২) জনগণ কর্তৃক দুর্নীতির বিষয়ে দাখিলকৃত অভিযোগের প্রক্রিয়াকরণ; এবং (৩) দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ। ১২. জন উদ্বুদ্ধকরণঃ (১) বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- যৌন হয়রাণী, নারী নির্যাতন, মাদক সেবন, যৌতুক, বাল্যবিবাহইত্যাদি নিরসনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনসাধারণের সাথে মত বিনিময় এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ; (২) জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; এবং (৩) সরকারি নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ। ১৩. লাইসেন্স : (১) ভোগ্যপণ্য এবং সিআই শীট, সিমেন্ট, সিগারেট, স্বর্ণ, আয়রন, স্টীল ইত্যাদির ডিলিং লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও বাতিলকরণ; (২) বিষাক্ত দ্রব্য, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদক দ্রব্য এবং মদ, মানি লেন্ডিং, ইটভাটা, মোটর ড্রাইভিং,সিনেমা হল, হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট ইত্যাদির লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও বাতিলকরণ; (৩) বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয়‘অনাপত্তি সনদ’ প্রদান; (৪) সরাই এ্যাক্ট, এসিড (স্থানান্তর, সংরক্ষণ এবং বিপণন) এ্যাক্টের আওতায় লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও বাতিলকরণ; (৫) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন চিনি, লবণ ইত্যাদির লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন এবং বাতিলকরণ; এবং (৬) প্রয়োজনে টিসিবিসহ অন্যান্য ডিলার নিয়োগ। ১৪. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক : (১) মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিকরণে সহযোগিতা প্রদান; (২) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ; (৩) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদ্যদের কল্যাণ; (৪) মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন/শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান; (৫) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম তদারকি; (৬) মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহ চিহ্নিতকরণ ও সংরক্ষণে কার্যক্রম গ্রহণ; এবং (৭) মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচনে সহযোগিতাকরণ। ১৫. সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং হুকুম দখল : (১) জনস্বার্থে ভূমি, ভবন, যানবাহন ইত্যাদি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল সম্পর্কিত কার্যাদি; (২) জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির কার্যাদি; (৩) জেলা সাইট সিলেকশন কমিটির কার্যাদি; (৪) অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত কার্যাদি; (৫) অধিগ্রহণকৃত অথচ অব্যবহৃত ভূমি পুনঃগ্রহণ সংক্রান্ত কার্যাদি; এবং (৬) জনস্বার্থে হুকুম দখলকৃত সম্পত্তি অবমুক্তকরণ। ১৬. সংবাদ এবং প্রকাশনা : (১) সংবাদপত্র, সাময়িকী ইত্যাদি প্রকাশের অনুমতি প্রদান; (২) প্রিন্টিং প্রেস স্থাপনের যথার্থতা যাচাই পূর্বক অনুমতি প্রদান; (৩) সংবাদপত্র, সাময়িকী ইত্যাদি প্রকাশের জন্য অনুমতি/ঘোষণা বাতিল; (৪) প্রকাশনা নিষিদ্ধকরণ/সাময়িক স্থগিতকরণ; (৫) সংবাদপত্র, সাময়িকী ইত্যাদির এবং প্রিন্টিং প্রেস এর মালিকানা অনুমোদন; এবং (৬) ১৯৭৩ সালের প্রিন্টিং প্রেস এ্যান্ড পাবলিকেশন এ্যাক্ট অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ। ১৭. নির্বাচনঃ (১) নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানে অর্পিত দায়িত্ব পালন; (২) ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ তত্ত্বাবধান; (৩) জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ তত্ত্বাবধান; (৪) সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন এলাকা নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণ; (৫) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন সুষ্ঠূভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্তে নির্বাচন অপরাধ দমনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান; এবং (৬) নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময় সময় অর্পিত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন। ১৮. সীমান্ত বিষয়াদি : (১) বিওপি ও চেক পোস্ট পরিদর্শন এবং সীমান্ত এলাকার কর্মকান্ড তত্ত্বাবধান; (২) আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার সংরক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; (৩) সরকার কর্তৃক সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে কতিপয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ; (৪) সীমান্ত এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৫) সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিরোধ অভিযান পরিচালনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৬) জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং চোরাচালান রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৭) জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং চোরাচালান অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৮) সীমান্তবর্তী দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের সাথে প্রয়োজনে যোগাযোগ করা; (৯) যৌথ সীমান্ত সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং দলনেতা হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ;এবং (১০) নির্ধারিত সীমান্ত হাট পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা। ১৯. পরিসংখ্যানঃ (১) আদমশুমারী সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান; এবং (২) বিশেষশুমারী যেমন-কৃষিশুমারী, স্বাস্থ্যশুমারী,শিক্ষাশুমারী, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীশুমারী ইত্যাদি সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান। ২০. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা : (১) দুর্ভিক্ষ কোড, দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশাবলি (Standing Orders on Disaster) ও নীতিমালা এবং বিভিন্ন সময়ে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র, আদেশ, স্মারক ইত্যাদির মাধ্যমে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগোত্তর সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ; (২) ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেলা কমিটিগুলোতে সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৩) দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দুর্যোগোত্তর তাৎক্ষণিক দর্শন/পরিদর্শন; (৪) সাধারণ (খাদ্য ও নগদ) ত্রাণ পরিচালনা ও টেস্ট রিলিফ প্রদান; (৫) কাবিখা/কাবিটা/গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন; (৬) ভিজিএফ/ভিজিডি কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন; (৭) অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ; এবং (৮) সময় সময় সরকার কর্তৃক গৃহীত অন্য যে কোন ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ। ২১. খাদ্য  : (১) খাদ্যশস্য সংগ্রহে সহযোগিতা প্রদান; (২) খাদ্যশস্য গুদামজাতকরণে সহায়তা; (৩) খাদ্যশস্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; (৪) খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলতে সহোযোগিত প্রদান; (৫) খাদ্য গুদামের বার্ষিক ভেরিফিকেশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ; (৬) অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সামগ্রীর লাইসেন্স প্রদান; (৭) খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; এবং (৮) খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রয় কর্মসূচি (ওএমএস) এবং ফেয়ার প্রাইস কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিক্রয়ের ডিলার নিয়োগ ও খাদ্যশস্য বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি ও পরিবীক্ষণ। ২২. আনসার ও ভিডিপি : (১) আনসার ও ভিডিপি’র কার্যাদি সমন্বয় সাধন ও তত্ত্বাবধান; (২) আনসার দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা; (৩) সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনানুযায়ী আনসার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ; (৪) গ্রাম আনসার (পুরুষ ও মহিলা) দলকে গ্রামের আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক কল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত করার উদ্যোগ গ্রহণ; এবং (৫) দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীণ ও দুর্যোগোত্তর সময়ে জননিরাপত্তা বিধানে আনসার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ। ২৩. সিভিল ডিফেন্স : (১) রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোলরুম স্থাপন; (২) স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ওর্য়াডেন পোস্টস তত্ত্বাবধান; (৩) নিয়মিত সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং (৪) প্রতি বছর সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদ্‌যাপন। ২৪. শ্রম বিষয়ক : (১) শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবস্থা গ্রহণ; (২) কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী/আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ভূমিকা রাখা; (৩) শ্রমিক অসন্তোষ প্রশমন ও নিয়ন্ত্রণ; (৪) শিল্পাঞ্চল ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক/বহিরাগত কর্তৃক শান্তিভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; (৫) শিশুশ্রম ও অন্যান্য অবৈধ শ্রম বন্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং (৬) মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা। ২৫. সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী : (১) মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা/স্বামী পরিত্যাক্তা, বয়স্ক ইত্যাদি ভাতা বিতরণ কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়; (২) সরকারি ও বেসরকারি এতিমখানা, শিশু সদন, শিশুনিবাস ইত্যাদির এবং হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সম্পর্কিত বিভিন্ন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন, কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়; (৩) প্রবীণ দিবস পালন এবং প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ; (৪) প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা প্রদান; (৫) অটিস্টিক শিশুদের জন্য শিক্ষা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ; (৬) সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সফলতায়/সহায়তায় প্রদান অনুদান প্রাপ্তদের বাছাই ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়; (৭) এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারী ও পুরুষদের মধ্যে অনুদান/সহায়তা প্রদান; (৮) শহরাঞ্চলের জন্য গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন; (৯) জেলার এতিমখানায় ভর্তি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; এবং (১০) সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র বিমোচনে উন্নয়ন/অনুন্নয়ন খাত হতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (বর্তমানে ২১ টি) কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বিস্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান। ২৬. পরিবার পরিকল্পনা : (১) জেলা পরিবার পরিকল্পনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য-কেন্দ্রের কার্যাবলি তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন; (৩) পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা; (৪) পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা এবং মানসম্মত পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ নিশ্চতকরণে নির্মাণাধীন কেন্দ্র পরিদর্শন; এবং (৫) পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সহায়তা। ২৭. পেনশন ও পারিতোষিক : (১) অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারিদের পেনশন ও পারিতোষিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ; (২) মৃত কর্মচারিদের যৌথবীমা ও কল্যাণ তহবিলের আবেদন দ্রুত প্রত্রিয়াকরণ; (৩) কর্মরত কর্মচারিদের চিকিৎসাজনিত ব্যয়ের বিপরীতে আর্থিক সহায়তার প্রাপ্তির আবেদন প্রক্রিয়াকরণ; এবং (৪) বর্ষপঞ্জির প্রথমে[ Post Retirement Leave (PRL) ] পিআরএল গমনকারী কর্মচারিদের ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ, এপ্রিল-জুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর) তালিকা প্রস্তুতকরণ এবং সেমতে নির্ধারিত সময়ে পিআরএল অনুমোদন। ২৮. রাষ্ট্রাচার : (১) ভিভিআইপিও ভিআইপিগণের সফর সমন্বয়; (২) ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের জেলা সফরের সময় অভ্যর্থনা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থাকরণ; (৩) ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের জেলা সফরের সময়ে নিরাপত্তা, হাউজ গার্ড ও পুলিশ এস্কর্ট ব্যবস্থার সমন্বয়; (৪) ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের সভার আয়োজন করা; (৫) ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের রাত্রিৎকালীন অবস্থানের জন্য সার্কিট হাইজ, ডাকবাংলো, রেষ্ট হাউজ ইত্যাদি সংরক্ষণ ও সার্কিট হাউজ ব্যবস্থাপনা; এবং (৬) ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের ভ্রমণের জন্য বিমান, রেল, স্টিমার, লঞ্চ, বাস ইত্যাদির টিকেট সংরক্ষণ সমন্বয়। ২৯. পরিবহন ও যোগাযোগ : (১) জনস্বার্থে সরকারি ও বেসরকারি যানবাহন অধিযাচন; (২) প্রয়োজনে প্রেট্রোলিয়াম, ওয়েল এবং লুব্রিকেন্ট বিক্রয় রেশনিং/নিয়ন্ত্রণ; (৩) প্রয়োজনে গ্যাস (সিএনজি) স্টেশন হতে গ্যাস বিক্রয় রেশনিং/নিয়ন্ত্রণ; (৪) আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং এর কার্যাদি সম্পাদন; (৫) আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষের আওতায় জেলার মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য রুট পারমিট ইস্যু অনুমোদন; (৬) আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষের আওতায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু অনুমোদন; (৭) ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; এবং (৮) নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ। ৩০. জেলা পরিবহন পুল : (১) জেলা পুলের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ; (২) জেলা পুলে কর্মরত কর্মচারিদের সংস্থাপন; (৩) লিখিত অনুরোধ এবং জ্বালানী ও অন্যান্য আনুষংগিক খরচ নির্বাহ সাপেক্ষে অন্যান্য সরকারি/ আধাসরকারি/ স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থাকে অধিযাচন করে জনস্বার্থে যানবাহন সরবরাহ; এবং (৪) অতীব জরুরি প্রয়োজন যেমন- দুর্যোগ, মহামারী, বড় ধরণের দুর্ঘটনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অধিযাচন করে যানবাহন সরবরাহ। ৩১. শিক্ষাঃ ক. প্রাথমিক ও গণশিক্ষাঃ (১) বিদ্যালয়ে গমন উপযোগী সকল শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান; (২) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের সুষ্ঠু ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৩) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরেপড়া রোধ কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৪) প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৫) ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৬) প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও সরকার বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ; (৭) Note-Book (Prohibition) Act, 1980 অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের পাঠ্য বইয়ের নোট বই/ গাইড বই মুদ্রণ, প্রকাল ও বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; (৮) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সুষ্ঠু বিতরণ তত্ত্বাবধান; (৯) জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি ক্যাটাগরীতে নির্বাচন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (১০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কিত সরকার প্রদত্ত দায়িত্ব পালন; (১১) সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাব দল গঠন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন; (১২) গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূরীকরণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধান; (১৩) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার ইত্যাদি কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান; (১৪) অনগ্রসর এলাকায় নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ ও উদ্যোগ গ্রহণ; এবং (১৫) প্রয়োজনে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ। খ.মাধ্যমিক : (১) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (২) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরেপড়া রোধের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান; (৩) মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৪) জেএসসি ও জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৫) মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও সরকার বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ; (৬) Note-Book (Prohibition) Act, 1980 অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্য বইয়ের নোট বই/ গাইড বই মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; (৭) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তির সুষ্ঠু বিতরণ তত্ত্বাবধান; (৮) সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কাউট ও গার্লস গাইড দল গঠন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৯) মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের নির্মাণ, মেরামত, সংস্থার ইত্যাদি কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান; (১০) শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; (১১) বিদ্যালয়গুলোতে সহপাঠ্য কার্যক্রম গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ; (১২) পরীক্ষা কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা; (১৩) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর প্রবিধানমালা অনুযায়ী বেসরকারি দাখিল মাদ্রাসাসমূহের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা; (১৪) বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা/রেগ্রলেশন্স অনুযায়ী বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা; (১৫) সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি দাখিল মাদ্রাসাসমূহের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (১৬) প্রত্যেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপনে উৎসাহ প্রদান এবং বিদ্যমান পাঠাগারসমূহ ব্যবহারে কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করা; (১৭) সকল মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়/মাদ্রাসায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে ছাত্র/ ছাত্রীদের অবহিত রাখা; (১৮) অনগ্রসর এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ ও উদ্যোগ গ্রহণ; এবং (১৯) প্রয়োজনে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ। গ. উচ্চ শিক্ষাঃ (১) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মহাবিদ্যালয়ে সুষ্ঠূ ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (২) নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি ও সমমান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েল অধীন স্নাতক, স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকত্তোর পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠান, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (৩) পরীক্ষা কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা; (৪) Note-Book (Prohibition) Act, 1980 অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্য বইয়ের নোট বই/ গাইড বই মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; (৫) উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির সুষ্ঠু বিতরণ তত্ত্বাবধান; (৬) শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; (৭) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর প্রবিধানমালা অনুযায়ী বেসরকারি আলিম ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের মাদ্রাসাসমূহের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা; (৮) বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা/রেগুলেশন্স অনুযায়ী বেসরকারি মহাবিদ্যালয় সমূহের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা; (৯) সরকারি মহাবিদ্যালয় ও সরকারি আলিম ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের মাদ্রাসাসমূহের কার্যক্রম সমন্বয়; (১০) মহাবিদ্যালয়গুলোতে সহপাঠ্য কার্যক্রম গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ; (১১) সকল মহাবিদ্যালয়ে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটস গঠন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; (১২) প্রত্যেক মহাবিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপনে উৎসাহ প্রদান এবং বিদ্যমান পাঠাগার ব্যবহারে কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করা; (১৩) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সরকারি আইন/বিধিমালা/নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত না হলে সে বিষয়ে সরকার বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ; (১৪) সকল বিশ্ববিদ্যালয়/মহাবিদ্যালয়/মাদ্রাসায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে ছাত্র/ছাত্রীদের অবহিত রাখা; (১৫) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্র বিরোধী কোন কার্যক্রম যেন দানা বাঁধতে না পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; (১৬) অনগ্রসর এলাকায় নতুন মহাবিদ্যালয় স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ ও উদ্যোগ গ্রহণ; এবং (১৭) প্রয়োজনে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ। ৩২. নাগরিক বিনোদনঃ (১) ১৯১৮ সালের সিনেমাটোগ্রাফ এ্যাক্ট অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কার্যাদি; (২) ১৯১৮ সালের সিনেমাটোগ্রাফ এ্যাক্ট অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; (৩) বিনোদন করা পরিহার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ; (৪) বিদ্যমান বিনোদন স্থানসমূহ পরিদর্শন এবং নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বিনোদন নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ; (৫) জনসাধারণের জন্য নতুনভাবে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি; (৬) বিদ্যমান আইন/অধ্যাদেশ/বিধি/নীতিমালা/প্রজ্ঞাপন/পরিপত্র অনুযায়ী শুধু দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যাত্রা, সার্কাস, প্রদর্শনী, নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান; (৭) বিদ্যমান আইন/বিধি/নীতিমালা/প্রজ্ঞাপন/পরিপত্র অনুযায়ী কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প ইত্যাদি মেলার অনুমতি প্রদান; (৮) অপসংস্কৃতি ও অশ্লীল বিনোদন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ; (৯) দেশীয় সংস্কৃতি ও সুস্থ বিনোদনের প্রসারে সহায়তা প্রদান; এবং (১০) ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৮ অনুযায়ী ক্যাবল টিভি পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ। ৩৩. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীঃ_ (১) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন; (২) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সরকারি উদ্যোগে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন তদারকি ও সমন্বয়; (৩) পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধান ১৯০০ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কল্যাণ; এবং (৪) পার্বত্য জেলাত্রয়সহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ প্রদান। ৩৪. আন্তঃ বিভাগীয় সমন্বয়ঃ (১) জেলার প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন; (২) জেলার আন্তঃবিভাগীয় কর্মকান্ডের সমন্বয়; এবং (৩) সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন আন্তঃবিভাগীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন। ৩৫. জেলা প্রশাসকের সংস্থাপনঃ (১) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সংস্থাপন ও আর্থিক বিষয়াদি প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অগ্রায়ন; (২) ফ্রন্ট ডেস্ক স্থাপন; (৩) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গহণ; (৪) কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন লিখন; (৫) কর্মকর্তাগণের মধ্যে কর্মবন্টন; (৬) সার্কিট হাউজ ও সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন; (৭) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ; (৮) অডিট আপত্তিসমূহ নিষ্পত্তি; এবং (৯) অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত বিভিন্ন কর্মকান্ড যেমন- পাসপোর্ট, প্রবাসী কল্যাণ, নির্বাচন, বিসিএস পরীক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কিত কার্যাদি। ৩৬. মানব সম্পদ উন্নয়নঃ (১) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের শিক্ষানবিস কর্মকর্তাদের ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ এবং কেস এ্যানোটেশন এর ব্যবস্থাকরণ; (২) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রযুক্তিসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ; (৩) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জ্ঞানের পরিধি ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ; (৪) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মচারিদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রযুক্তিসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং (৫) জেলায় কর্মরত অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ প্রদান ও গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ। ৩৭. অভিযোগ শ্রবণ এবং তদন্তঃ (১) সপ্তাহের একটি পূর্ব নির্ধারিত দিনে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ শ্রবণ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ; (২) আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগ অনুসন্ধান এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং (৩) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রদত্ত অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা এবং প্রতিবেদন প্রেরণ। ৩৮. স্থানীয় সরকারঃ (১) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণের শপথ পরিচালনা; (২) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী প্রদান; (৩) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রক্রিয়াকরণ; (৪) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ; (৫) ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নিয়োগ; (৬) ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের সংস্থাপন সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যাদি; (৭) ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারিদের বেতনের সরকারি অংশ প্রদান; (৮) ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার ও চৌকিদারদের পোশাক প্রদান; (৯) ইউনিয়ন পরিষদ বাজেট অনুমোদন; (১০) ইউনিয়ন পরিষদ আয়কর প্রস্তাব অনুমোদন; (১১) ইউনিয়ন পরিষদ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি; তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ; (১২) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মচারিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ; (১৩) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যাদির সামগ্রিক তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ; (১৪) ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণের সাইট সিলেকশন প্রক্রিয়াকরণ; (১৫) আন্তঃ ইউনিয়ন সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি; (১৬) ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান; (১৭) ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা পরিদর্শন ও দর্শন; (১৮) পৌরসভার শ্রেণী উন্নয়নের প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ; (১৯) পৌর মেয়র ও কমিশনারগণের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রক্রিয়াকরণ; (২০) ইউনিয়ন, উপজেলা এবং পৌরসভার সীমানা ঘোষণা ও সংশোধন; (২১) জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সীমানা ও অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তি; (২২) জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠন সমূহের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন; (২৩) নতুন স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ যেমন-ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ; (২৪) উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন; (২৫) উপজেলা পরিষদ সভায় চেয়ারম্যান প্যানেল প্রস্ত্তত করা সম্ভাবপর না হলে অথবা প্যানেলভুক্ত চেয়ারম্যানগণ দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হলে/অসম্মতি জ্ঞাপন করলে চেয়ারম্যান প্যানেল তৈরীর প্রক্রিয়াকরণ; এবং (২৬) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানমূহের সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং অন্য যে কোন ইস্যু স্থানীয় সরকার বিভাগের গোচরীভূত করা।

ডেপুটি কমিশনার হিসেবে[সম্পাদনা]

৩৯. যুব ও ক্রীড়াঃ (১) একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম যুব সম্প্রদায় গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা; (২) প্রশিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বকর্ম সংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণ; (৩) যুব সমবায় সমিতির মাধ্যমে সংঘটিত যুবকদের মাঝে খাস পুকুর ইত্যাদি ইজারা প্রদান; (৪) বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে এমন প্রশিক্ষণ গ্রহণে যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণ; (৫) যুব সমাজে মাদকাসক্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; (৬) জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৭) স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন; (৮) জেলায় মহিলাদের ক্রীড়া উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান; (৯) জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (১০) জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন; (১১) ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির জেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; এবং (১২) ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ। ৪০. নারী ও শিশুঃ (১) জেলা শিশু একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) শিশু একাডেমীর মাধ্যমে দেশীয় সুষ্ঠু সংস্কৃতি বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ; (৩) শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে উৎসাহ প্রদান; (৪) যৌন হয়রানি (ইভ-টিজিং) বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; (৫) বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; (৬) কিশোর/ কিশোরী উন্নয়ন/ সংশোধন কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিচালনায় ভূমিকা রাখা; (৭) যৌতুক প্রদানের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহণ; (৮) নারী নির্যাতন ও নিপীড়ন রোধে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা; (৯) নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং (১০) জাতীয় মহিলা সংস্থাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান। ৪১. কৃষিঃ (১) জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে যথাসময়ে সার ডিলার নিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ; (৩) কৃষকদের মাঝে যথাসময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সার পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে অবহিত রাখা; (৪) জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৫) জেলা কৃষি পুনর্বাসন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৬) দুর্যোগোত্তর কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সাধন; (৭) বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণের চাহিদা এবং সরবরাহ পরিবীক্ষণ; (৮) কৃষক পর্যায়ে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে কৃষি পণ্য বিপণনে ভূমিকা রাখা; (৯) কৃষিমেলা আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান; (১০) পতিত কৃষিজমি চাষের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ; (১১) শতকরা ২ টাকা সুদে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তেল, ডাল ও মসলা জাতীয় শস্য উৎপাদনের জন্য কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণ; (১২) ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরস্থ পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ গ্রহণ; এবং (১৩) কৃষি উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত অন্য যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা পালন। ৪২. বাজার মূল্য পরিবীক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণঃ (১) ভোগ্যপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্য পরিবীক্ষণ; (২) ভোগ্যপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে ভোক্তা ও বিক্রেতাকে সচেতন করা; (৩) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুতদারি প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহন; (৪) ভোগ্যপণ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যের নির্বিঘ্নে বাজারে সরবরাহ সুনিশ্চিতকরণ; (৫) জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৬) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং (৭) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট অংশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ। ৪৩. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদঃ (১) মৎস্য ও জলজসম্পদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে পদক্ষেপ গ্রহণ; (২) জলাধার, হাওড়-বাওড়, খাল-বিল ও নদী সংরক্ষণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; (৩) জলাধারসমূহ সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ইজারা প্রদান; (৪) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হস্তান্তরিত জলমহালের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ; (৫) সরকারি নির্দেশানুযায়ী অপরিণত মৎস্য শিকার ও বিপণন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ; (৬) প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান; (৭) মৌসুমী অতিথি পাখি নিধনরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টি; এবং (৮) প্রাণিসম্পদের সংক্রামণ প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ। ৪৪. ওয়াকফ, দেবোত্তর এবং ট্রাস্ট সম্পত্তিঃ (১) ওয়াকফ এবং দেবোত্তর সম্পত্তি পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ; (২) মোতোয়াল্লী এবং সেবায়েত নিয়োগের সুপারিশ প্রদান; (৩) ওয়াকফ ও দেবোত্তর সম্পত্তির অর্থায়নে পরিচালিত শিশু নিবাস/ এতিমখানার ব্যবস্থাপনা তদারকি; এবং (৪) ট্রাস্ট দলিল অনুযায়ী ট্রাস্ট পরিচালনা। ৪৫. ধর্ম বিষয়কঃ (১) সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ; (২) ঈদ, পূজা, বড়দিন, বৌদ্ধ পূর্ণিমা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি ধর্মীয় উৎসব যথাযথ মর্যাদায় পালনের নিশ্চয়তা বিধান; (৩) হজ্ব পালনে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের হজ্বের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে প্রশিক্ষণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (৪) সরকারি যাকাত ফান্ডের জন্য যাকাত সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ; (৫) যাকাত ফান্ড হতে অনুদান পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন; (৬) জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (৭) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য মঞ্জুরিকৃত অনুদান বিতরণে সহযোগিতা; (৮) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে দুঃস্থদের প্রদত্ত অনুদান প্রাপককে হস্তান্তরে সহযোগিতা; (৯) ইমামদের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের উপর প্রশিক্ষণ প্রদানে সহযোগিতা প্রদান; (১০) ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি; (১১) জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে সুষ্ঠু ঈদ জামাতের আয়োজন; এবং (১২) ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর কর্মকান্ড পরিচালনা এবং দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান।৪৬. পাসপোর্টঃ (১) সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু, বাতিল ও নবায়ন; (২) সাধারণ পাসপোর্টে অন্যান্য বিষয়াদি সংযোজন ও বিয়োজন; (৩) মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও পাসপোর্ট ইস্যু করা; এবং (৪) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যাবলি তদারকি।৪৭. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিঃ (১) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির তালিকা সংরক্ষণ; (২) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণ; এবং (৩) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সরকারকে অবহিতকরণ। ৪৮. স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নঃ (১) স্থানীয়ভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের উদ্ধুদ্ধকরণ ও সহযোগিতা প্রদান; (২) বিসিক শিল্প নগরী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; এবং (৩) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান। ৪৯. এনজিও বিষয়কঃ (১) জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) এনজিওদের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়; (৩) এনজিও কার্যক্রমের ওভারল্যাপিং প্রতিরোধে কর্মক্ষেত্র নির্ধারণে মতামত প্রদান; (৪) এনজিওদের অনুকূলে ছাড়কৃত অর্থের যথাযথ ব্যয় পরিবীক্ষণ; (৫) এনজিওসমূহের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন/দর্শন; এবং (৬) এনজিওদের কর্মদক্ষতা সনদ ও অনাপত্তি সনদ প্রদান। ৫০. শিল্পকলাঃ (১) জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) জেলা শিল্পকলা একাডেমীর প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও অন্যান্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করা; (৩) সুষ্ঠু ধারার দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে উদ্বুদ্ধকরণ; (৪) জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান; (৫) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং (৬) যাদুঘর, সংগ্রহশালা, আর্টগ্যালারী ইত্যাদি প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ প্রদান। ৫১. উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়ঃ (১) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডের সফল বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাধন; এবং (৩) জেলার সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন। ৫২. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনস্বাস্থ্যঃ (১) জেলা পানি এবং স্যানিটেশন কমিটি (ওয়াটসান) এর সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) নিরাপদ পানি পানে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ; (৩) জেলায় পানি সরবরাহে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থার কার্যাদির সমন্বয়; (৪) জেলার আর্সেনিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ; (৫) সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে জেলার সকল (শতভাগ) জনসাধারণকে স্যানিটেশনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; (৬) পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত ওয়াটসন কমিটিতে পর্যালোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান; (৭) স্যানিটেশন কার্যক্রমে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় সাধন; (৮) এইডস, এইচআইভি, কুষ্ঠ, যক্ষা ইত্যাদি প্রতিরোধে গৃহীত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান; (৯) এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদি যেন মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা প্রদান; (১০) ইপিআই কর্মসূচি পালনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (১১) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান; এবং (১২) দুর্যোগকালীন এবং মহামারীর সময় মেডিকেল টিমের সাথে সমন্বয় সাধন। ৫৩. জেলার সরকারি আবাসনঃ (১) জেলা বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; (২) সরকারি কর্মচারিদের আবাসন বরাদ্দকরণ; এবং (৩) সরকারি অফিস বরাদ্দ সংক্রান্ত কার্যাদি। ৫৪. জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসঃ (১) বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস এবং সপ্তাহসমূহ উদযাপন; এবং (২) বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবস ও সপ্তাহসমূহের কর্মসূচি গ্রহণে সহযোগিতা প্রদান। ৫৫. উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনঃ (১) সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; (২) জাতীয় দাবিদ্র নিরসন কৌশল পত্রের লক্ষ্য অর্জনে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য্যমাত্রা অর্জনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (৩) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (৪) জেলায় বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রদান; (৫) সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান; (৬) সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, তদারকি ও সমন্বয় সাধনসহ প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ৫৬. সিটিজেন চার্টারঃ (১) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন, প্রদর্শন, হালনাগাদকরণ এবং ঘোষিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ; (২) অধীনস্থ অফিসসমূহের সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন/সংশোধন, প্রদর্শন এবং ঘোষিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ; এবং (৩) ঘোষিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী জেলার অন্যান্য অফিসসমূহের সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিবীক্ষণ। ৫৭. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ (১) অফিসের কর্মকান্ডে ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) ও ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) এর সর্বোত্তম ব্যবহার; (২) সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারির কম্পিউটার দক্ষতা নিশ্চিতকরণ; (৩) ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন; (৪) জেলা তথ্য বাতায়ন সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ; (৫) ই-গভর্নেন্স এবং ই-রিপোর্টিং বাস্তবায়ন; (৬) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ; (৭) জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত/স্থাপিতব্য ই-সেবা কেন্দ্রসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিশ্চিতকরণ; (৮) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম সমন্বয়, তদারকি ও পরিবীক্ষণ; এবং (৯) জেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন। ৫৮. তথ্য অধিকারঃ (১) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ‘দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা’ নিয়োগ এবং আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে তথ্য সরবরাহ করা; (২) নিয়মিত সরকারি ই-মেইল পরীক্ষাকরণ এবং জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত ই-মেইলের প্রাপ্তি স্বীকারসহ প্রতিউত্তর প্রদান; (৩) জনগণকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সুবিধাসহ ফ্রন্ট ডেস্ক স্থাপন; এবং ফ্রন্ট ডেস্কের তথ্য হালনাগাদকরণ; এবং (৪) জেলা তথ্য বাতায়নে জেলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি প্রকাশ। ৫৯. জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণঃ (১) পরিবেশ দূষণের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ এবংএক্ষেত্রে অন্যান্যদের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও সমন্বয় সাধন; (২) পরিবেশ দূষণরোধে উদ্ভাবিত দেশীয় লাগসই প্রযুক্তির প্রচার ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ; (৩) বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পতিকারের উপায় সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি; (৪) ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; (৫) জেলা পরিবেশ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন; এবং (৬) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প / কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ। ৬০. বনায়নঃ (১) বৃক্ষরোপণে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ; (২) বৃক্ষ নিধনের অপকারিতা ও পরিবেশের উপর এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা; (৩) সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ; (৪) রাস্তাঘাট, বাঁধ, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে বনায়নে উদ্বুদ্ধকরণ ও সহযোগিতা প্রদান; এবং (৫) বন আইন অনুযায়ী বন সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা। ৬১. প্রবাসী কল্যাণঃ (১) জেলার প্রবাসীদের ডাটাবেজ ও তালিকা প্রস্ত্তত; (২) মানব পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; (৩) বিদেশগামী ব্যক্তিদের প্রতারণা ও হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা করা; (৪) প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম; এবং (৫) বিদেশে চাকুরি গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ গমনে উদ্বুদ্ধকরণ। ৬২. অন্যান্য কার্যক্রমঃ (১) উপরে কোথাও উল্লেখ নেই কিন্তু সরকারি আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র,আদেশ, স্মারক, দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদিতে উল্লেখ আছে এমন নির্বাহী কার্যক্রম; (২) উপরে কোথাও উল্লেখ নেই কিন্তু সরকারি আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র,আদেশ, স্মারক, দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদিতে উল্লেখ আছে এমন উন্নয়ন কার্যক্রম; (৩) উপরে কোথাও উল্লেখ নেই কিন্তু সরকারি আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদিতে উল্লেখ আছে এমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম; (৪) উপরে কোথাও উল্লেখ নেই কিন্তু আইন/অধ্যাদেশ ইত্যাদিতে উল্লেখ আছে এমন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর কার্যক্রম; এবং (৫) সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে অর্পিত যে কোন কার্যক্রম।

জেলা প্রশাসক যে সকল কমিটির সভাপতি[সম্পাদনা]

ডিউটিজ অব চার্টার অনুযায়ী জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন দপ্তর সম্পর্কিত ১২০ টি কমিটির সভাপতি। এসব কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। জেলা প্রশাসক জাতীয় সরকারের যাবতীয় কাজ জেলা পর্যায়ে করে থাকেন। জেলায় অবস্থিত প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অফিস জেলা প্রশাসনের অংশ এবং জেলা প্রশাসকের সাধারণ নিয়ন্ত্রণে(General Control) কাজ করে থাকে। জেলা পর্যায়ে এনজিও বিষয়ে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকেন। আইন শৃংখলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্য, চিকিতসা, বিনোদন, শিক্ষা, বিজ্ঞান, কর্মসংস্থান, নারী ও শিশু, ধর্ম, পাঠাগার, দূর্যোগ ও ত্রাণ, কৃষি, প্রাণি, সার ও বীজ ইত্যাদি বিষয়ে সমন্বিত কাজ করেন। স্থানীয় পর্যায়ের সার্বিক অবস্থা সরকারকে অবহিত করেন, সমস্যার সমাধান প্রদান করেন। এই সকল সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সাধারনভাবে সকল দপ্তরের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য। তিনি গুরিত্বপূর্ণ বিষয়াদি সরকারের নজরে আনেন, জেলার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতি পনেরদিন অন্তর পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন(Fortnight Confidential Report-FCR) সরকারের নিকট প্রেরণ করেন। তার সুপারিশে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

নিয়োগ[সম্পাদনা]

জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (প্রশাসন ক্যাডার) জেষ্ঠ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কার্যবিধিমালা ১৯৯৬ এর তফসিল ৫ অনুসারে জেলা প্রশাসক নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি করে থাকে।[২] মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি ও জনপ্রশাসন, ভূমি ও স্বরাষ্ট্র সচিবদের সদস্য করে গঠিত কমিটি নিয়োগের কাজ করে। তবে জেলা প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ডেপুটি কমিশনার"বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ 
  2. "জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বাবলি"জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংগৃহীত ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ 

3. Charter of Duties of Deputy Commissiiner. http://www.cabinet.gov.bd/site/charter_of_duties/d57e0fa6-abcb-4be0-9586-1f2f0eb41434/%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%9

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]