ফরিদপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফরিদপুর
জেলা
বাংলাদেশে ফরিদপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ফরিদপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩০′০″ উত্তর ৮৯°৪৯′৪৮″ পূর্ব / ২৩.৫০০০০° উত্তর ৮৯.৮৩০০০° পূর্ব / 23.50000; 89.83000স্থানাঙ্ক: ২৩°৩০′০″ উত্তর ৮৯°৪৯′৪৮″ পূর্ব / ২৩.৫০০০০° উত্তর ৮৯.৮৩০০০° পূর্ব / 23.50000; 89.83000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
আসন৪টি
আয়তন
 • মোট২,০৭৩ বর্গকিমি (৮০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট১৯,৮৮,৬৯৭
 • জনঘনত্ব৯৬০/বর্গকিমি (২,৫০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭৮০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ২৯
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে পদ্মা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

আয়তন ২০৭২.৭২ বর্গ কিলোমিটার, ফরিদপুর জেলা ৮৯.২৯° পূর্ব হতে ৯০.১১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২৩.১৭° উত্তর হতে ২৩.৪০° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত, উত্তরে রাজবাড়ী জেলামানিকগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে মাগুরা জেলানড়াইল জেলা এবং পূর্বে ঢাকা জেলা, মাদারিপুর জেলামুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলার প্রতিষ্ঠা ১৭৮৬ সালে। মতান্তরে এ-জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১৫ সালে। ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে। এ জেলার পূর্বনাম ছিল ‘‘ফতেহাবাদ’’। ফরিদপুর জেলার প্রতিষ্ঠা সন ১৭৮৬ হলেও তখন এটির নাম ছিল জালালপুর এবং প্রধান কার্যালয় ছিল ঢাকা। ১৮০৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জালালপুর হতে বিভক্ত হয়ে এটি ফরিদপুর জেলা নামে অভিহিত হয় এবং হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয় ফরিদপুর শহরে। গোয়ালন্দ, ফরিদপুর সদর, মাদারিপুর ও গোপালগঞ্জ এই চারটি মহকুমা সমন্বয়ে ফরিদপুর জেলা পূর্ণাঙ্গতা পায়। বর্তমানে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এই পাঁচটি জেলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

এই এলাকার প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে গেরদা মসজিদ (১০১৩ হিজরি), পাথরাইল মসজিদ ও দিঘী (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.), সাতৈর মসজিদ (১৫১৯ খ্রি.)। এলাকার অন্য উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো ফতেহাবাদ টাঁকশাল (১৫১৯-৩২ খ্রি.), মথুরাপুরের দেয়াল, জেলা জজ কোর্ট ভবন (১৮৯৯ খ্রি.), এবং ভাঙ্গা মুন্সেফ কোর্ট ভবন (১৮৮৯ খ্রি.), বসুদেব মন্দির ও জগবন্ধু আঙিনা।[২]

তৎকালিন ফরিদপুর এর মাদারিপুর থেকে হাজি শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন। শরীয়তুল্লাহের পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এখানে নীলকর-বিরোধী আন্দোলন হয়। জেলার প্রধান নীল কুঠিটি ছিলো আলফাডাঙা উপজেলার মীরগঞ্জে, যার ম্যানেজার ছিলেন এসি ডানলপ। এ জেলার ৫২টি নীল কুঠি এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গড়াই, মধুমতি ও চন্দনা বারাশিয়া নদীর তীরে নীল চাষ হতো।

জেলা শহর বর্তমানে কুমার নদীর তীরে অবস্থিত। ফরিদপুর পৌরসভা সৃষ্টি হয় ১৮৬৯ সালে। ৯টি ওয়ার্ড ৩৫টি মহল্লা নিয়ে জেলা শহর গঠিত। এর আয়াতন ২০.২৩ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলায় মোট পৌরসভা ৫টি, ওয়ার্ড ৩৬টি, মহল্লা ৯২টি, ইউনিয়ন ৮১টি, গ্রাম ১৮৮৭টি। মোট উপজেলা ৯টি। সেগুলো হচ্ছেঃ

নির্বাচনি এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ফরিদপুর ১ : বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা।

ফরিদপুর ২: নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন।

ফরিদপুর ৩: ফরিদপুর সদর।

ফরিদপুর ৪: ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা (কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ব্যতিত)।

প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

দেশের প্রধান পাট ফলনশীল জেলা ফরিদপুরে সুস্বাদু ধান, ইক্ষু, গম, পেঁয়াজ, সরিষা,মরিচ, সহ নানা ফসল উৎপন্ন হয়। ফরিদপুরের পদ্মার ইলিশ জগৎখ্যাত হয়ে আছে আজও।খেজুরের গুড় এই জেলায় প্রচুর উৎপাদন হয়। আকাশ ও উজান থেকে আসা পানির উপযোগিতায় ফরিদপুরে কৃষির সম্প্রসারণ হয়েছে অভাবিত। এখনও কৃষিই এখানকার অর্থনীতির প্রাণ। প্রমত্তা পদ্মা, কোল থেকে ভূবনেশ্বরআড়িয়াল খাঁ, কুমার, মধুমতি, গড়াই, চন্দনা, বারাশিয়া নদী মানুষের হাতে সোনার ফসল ও মাছসহ অনন্য সম্পদ তুলে দিয়েছে।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

পদ্মার চরে সূর্যাস্ত
  • নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট
  • টেপাখোলা সুইচ গেট
  • ধলার মোড় (পদ্মার পাড়)
  • রাজেন্দ্র কলেজ (সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ)
  • পদ্মা বাঁধ
  • পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের বাসভবন
  • আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল
  • পদ্মা নদীর বালুচর, সি এন্ড বি ঘাট
  • শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন (হিন্দু মন্দির)
  • নন্দালয়, সিংপাড়া (হিন্দু মন্দির)
  • শেখ রাসেল শিশু পার্ক (বিনোদনকেন্দ্র)
  • কাঠিয়া কালীবাড়ি, তালমা মোড় (হিন্দু মন্দির)
  • তালমা মোড় (গোরুর খামার)
  • অম্বিকা ময়দান
  • ফরিদপুর জেলা জজ কোর্ট ভবন
  • ফলিয়া মুন্সী বাড়ি ,আলফাডাঙ্গা
  • মীরগঞ্জ নীল কুঠি,আলফাডাঙ্গা
  • কালিনগর, কালিবাড়ী(কালি মন্দির), বোয়ালমারি
  • বনমালদিয়া, মধুখালী
  • ফরিদপুর চিনিকল,মধুখালী
  • কামারখালী গড়াই সেতু, মধুখালী
  • মান্দারতলা রেলসেতু, মধুখালী
  • বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

১৭,৪২,৭২০ জন (২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)[১]

  • পুরুষ ৮,৯৩,২৮০ জন
  • মহিলা ৮,৪৯,৪৪০ জন

শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জিলা স্কুল(১৮৪০)

এই জেলায় শিক্ষার হার ৪৩.৯৫%[১]। এখানে মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ৪২৪টি; তারমধ্যে:

  • সরকারী কলেজ: ৮টি;
  • বেসরকারী কলেজ: ২৪টি;[১]
  • সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়: ৬টি;[১]
  • বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়: ১৮৯টি;[১]
  • জুনিয়র হাই স্কুল: ৫২টি;[১]
  • মেডিকাল কলেজ: ২টি;
  • মাদরাসা: ১৪১টি;
  • কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ৯টি।

এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে

প্রধান শস্য[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলায় প্রধান শস্যর তালিকায় রয়েছে, ধান, পাট, আখ, গম, পিঁয়াজ, সরিষা, ডালমরিচ। এর মধ্যে রপ্তানিযোগ্য পণ্য পাট, পিঁঁয়াজ, ডাল, খেজুরের গুড় ইত্যাদি।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে ফরিদপুর"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. ফরিদপুর জেলা, বাংলাপিডিয়া

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]