ফরিদপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফরিদপুর জেলা
Faridpur
জেলা
বাংলাদেশে ফরিদপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ফরিদপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩০′উত্তর ৮৯°৫০′পূর্ব / ২৩.৫০° উত্তর ৮৯.৮৩° পূর্ব / 23.50; 89.83স্থানাঙ্ক: ২৩°৩০′উত্তর ৮৯°৫০′পূর্ব / ২৩.৫০° উত্তর ৮৯.৮৩° পূর্ব / 23.50; 89.83
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২০৭২.৭২ কিমি (৮০০.২৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2001)
 • মোট ১৭,৪২,৭২০[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৩.৯৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা তথ্য বাতায়ন

ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

আয়তন ২০৭২.৭২ বর্গ কিলোমিটার, ফরিদপুর জেলা ৮৯.২৯০পূর্ব হতে ৯০.১১০পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২৩.১৭০উত্তর হতে২৩.৪০০উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত, উত্তরে রাজবাড়ি ও মানিকগঞ্জ জেলা, দক্ষিণেগোপালগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে মাগুরা ও নড়াইল জেলা এবং পূর্বে মাদারিপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলার প্রতিষ্ঠা ১৭৮৬ সালে। মতান্তরে এ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১৫ সালে। ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে। এ জেলার পূর্বনাম ছিল ‘‘ফতেহাবাদ’’। ফরিদপুর জেলার প্রতিষ্ঠা সন ১৭৮৬ হলেও তখন এটির নাম ছিল জালালপুর এবং প্রধান কার্যালয় ছিল ঢাকা। ১৮০৭ খ্রিঃ ঢাকা জালালপুর হতে বিভক্ত হয়ে এটি ফরিদপুর জেলা নামে অভিহিত হয় এবং হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয় ফরিদপুর শহরে। গোয়ালন্দ, ফরিদপুর সদর, মাদারিপুর ও গোপালগঞ্জ এই চারটি মহকুমা সমন্বয়ে ফরিদপুর জেলা পূর্ণাঙ্গতা পায়। বর্তমানে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ফরিদপুর, রাজবাড়ি, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ও শরিয়তপুর এই পাঁচটি জেলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

এই এলাকার প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে গারোদা মসজিদ (১০১৩ হিজরি), পাথরাইল মসজিদ ও দিঘী (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ), সাতৈর মসজিদ (১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ)। এলাকার অন্য উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো ফতেহাবাদ টাঁকশাল (১৫১৯-৩২ খ্রিস্টাব্দ), মথুরাপুরের দেয়াল, জেলা জজ কোর্ট ভবন (১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ), এবং ভাঙ্গা মুন্সেফ কোর্ট ভবন (১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ), বসুদেব মন্দির ও জগবন্ধু আঙিনা।[২]

ততৎকালিন ফরিদপুর এর মাদারিপুর থেকে হাজি শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। শরীয়তুল্লাহের পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এখানে নীল কর বিরোধী আন্দোলন হয়। জেলার প্রধান নীল কুঠিটি ছিলো আলফাডাঙা উপজেলার মীরগঞ্জে, যার ম্যানেজার ছিলেন এসি ডানলপ। এ জেলার ৫২টি নীল কুঠি এর অন্তর্ভূক্ত ছিল। গড়াই, মধুমতি ও বরশিয়া নদীর তীরে নীল চাষ হতো।

জেলা শহর বর্তমানে কুমার নদীর তীরে অবস্থিত। ফরিদপুর পৌরসভা সৃষ্টি হয় ১৮৬৯ সালে। ৯টি ওয়ার্ড ৩৫টি মহল্লা নিয়ে জেলা শহর গঠিত। এর আয়াতন ২০.২৩ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলায় মোট পৌরসভা ৪টি, ওয়ার্ড ৩৬টি, মহল্লা ৯২টি, ইউনিয়ন ৭৯টি, গ্রাম ১৮৫৯টি। মোট উপজেলা ৯টি। সেগুলো হচ্ছেঃ

প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এই এলাকার অর্থনীতি মুলত পাট কেন্দ্রিক । ফরিদপুর পাট এর জন্য বিখ্যাত । ফরিদপুর বাংলাদেশ এর অন্যতম বড় নদী বন্দর। এখান থেকে পাট নদী পথে সারা দেশে চলে যেত।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলার চিত্তাকর্ষক স্থানগুলার মদ্ধে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে,

পদ্বার চরে সূযা‌স্ত

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

১৭,৪২,৭২০ জন (২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী)[১]

  • পুরুষ- ৮,৯৩,২৮০ জন
  • মহিলা- ৮,৪৯,৪৪০ জন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: ৪২৪, এই জেলায় শিক্ষার হার ৩৭.৪৪ %

  • বিশ্ববিদ্যালয়: ১
  • কলেজ: ৪৮
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৩৪
  • মেডিকাল কলেজ : ১
  • মাদ্রাসা: ১৪১
  • তারার মেলা ঈশাণ মেমরিয়াল আধুনিক শিশু বিদ্যালয়
তারার মেলা ঈশাণ মেমরিয়াল আধুনিক শিশু বিদ্যালয়(১৯৭৬)
  • ফরিদপুর জিলা স্কুল
ফরিদপুর জিলা স্কুল(১৮৪০)

প্রধান শস্য[সম্পাদনা]

ফরিদপুর জেলায় প্রধান শস্যর তালিকায় রয়েছে, ধান, পাট, গমডাল। এর মধ্যে রপ্তানী যোগ্য পণ্য পাট, পিয়াজ, ডাল, খেজুরের গুড় ইত্যাদি।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্রাবলী[সম্পাদনা]

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ফরিদপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৬ জুন, ২০১৪ 
  2. ফরিদপুর জেলা, বাংলাপিডিয়া