শেরপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শেরপুর
জেলা
বাংলাদেশে শেরপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে শেরপুর জেলার অবস্থান
শেরপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
শেরপুর
শেরপুর
বাংলাদেশে শেরপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫° উত্তর ৯০° পূর্ব / ২৫° উত্তর ৯০° পূর্ব / 25; 90স্থানাঙ্ক: ২৫° উত্তর ৯০° পূর্ব / ২৫° উত্তর ৯০° পূর্ব / 25; 90 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১৩৬৪.৬৭ কিমি (৫২৬.৯০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১৩,৫৮,৩২৫
 • ঘনত্ব ১০০০/কিমি (২৬০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৮.০৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে ১৮২৯-২০১৫ পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৪.৬৭ বর্গকিলোমিটার। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফ্রেব্রুয়াী এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। শেরপুর শহর, দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার (১২৩.০৩ মাইল) উত্তরে অবস্থিত।[২][৩][৪]

নামকরণ ও ইতিহাস[সম্পাদনা]

শেরপুর অঞ্চল প্রাচীনকালে কামরূপা রাজ্যের অংশ ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে এই এলাকা "দশকাহনিয়া বাজু" নামে পরিচিত ছিল। পুর্বে শেরপুরে যেতে ব্রহ্মপুত্র নদ খেয়া পাড়ি দিতে হত। খেয়া পারাপারের জন্য দশকাহন কড়ি নির্ধারিত ছিল বলে এ এলাকা দশকাহনিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভাওয়ালের গাজী, ঈসা খানের বংশধর থেকে দশকাহনিয়া এলাকা দখল করে নেয়। দশকাহনিয়া পরগনা পরবর্তীতে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজীর নামানুসারে শেরপুর নামে নামকরণ করা হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস থেকে কর্ণওয়ালিস-এর সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়; ফকির আন্দোলনের নেতা টিপু শাহ এই এলাকায় সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে এবং গজরিপাতে তার রাজধানী স্থাপন করেন। খোশ মুহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শেরপুরের কামারের চরে ১৯০৬, ১৯১৪ ও ১৯১৭ সালে কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৩৮-৪৮ সালে নানকার, টঙ্ক, বাওয়ালী, মহাজনী, ইজারাদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শেরপুরে কমিউনিস্টরা বিদ্রোহ করে। ১৮৯৭ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পশ্চিম দিকে পরিবর্তন করে এবং যমুনার সঙ্গে একত্রীকরণ করতে বাধ্য করে; এটি অনেক প্রাচীন ভবনেও মারাত্মক ক্ষতি করে।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা

বার্ষিক গড় তাপমাত্রা[সম্পাদনা]

এই জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১২° সে. থেকে সর্বোচ্চ ৩৩.৩° সে.। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২১৭৪ মি.মি.।

নদী ও নদ[সম্পাদনা]

জেলার একমাত্র নদ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। প্রধান নদী মালিঝিকান্দা, মৃগী, ভোগাই, কংশ, চেল্লাখালি, মহারাশি, দশানি, কর্ণজোড়া ও সোমেশ্বরী। খলং এবং কালাগাঙ এখন মৃত নদী।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

শেরপুর জেলা ৫ টি উপজেলা, ১২ টি ইউনিয়ন, ৪৫৮ টি মৌজা, ৬৯৫ টি গ্রাম, ৪ টি পৌরসভা, ৩৬ টি ওয়ার্ড এবং ৯৯ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। উপজেলা গুলো হলোঃ

দর্শনীয় স্থানসমুহ[সম্পাদনা]

  • গজনী অবকাশ কেন্দ্র
  • মধুটিলা ইকোপার্ক (নালিতাবাড়ী)
  • শের আলী গাজীর মাজার
  • জরিপ শাহ এর মাজার
  • শাহ কামাল এর মাজার (১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ)
  • বার দুয়ারী মসজিদ
  • ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ
  • মাইসাহেবা জামে মসজিদ।
  • পানি হাটা দিঘী
  • নয়াআনী বাজার নাট মন্দির
  • রঘুনাথ জিউর মন্দির
  • গড়জরিপা কালিদহ গাং এর ডিঙি
  • নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম
  • মঠ লস্কর বারী মসজিদ (১৮০৮ খ্রিস্টাব্দ)
  • গড়জরিপা ফোর্ট (১৪৮৬-৯১ খ্রিস্টাব্দ)
  • কসবা মুঘল মসজিদ
  • নয় আনি, আড়াই আনি এবং পৌণে তিন আনি জমিদার
  • অলৌকিক গাজির দরগাহ - রুনিগাও, নকলা।
  • মুন্সি দাদার মাজার - নয়াবাড়ি, বিবিরচর, নকলা।

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

শেরপুর ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। শেরপুর স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর।এদিন অধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের দারোগা আলী পার্কে অবতরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন [সম্পাদনা]

বধ্যভূমি: আহমেদনগর (ঝিনাইগাতী), ঝাওগড়া (শেরপুর), বিধবা পাড়া (নালিতাবাড়ী), কয়ারি রোড (ঝিনাইগাতী) এই জেলার মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষ্য।

জনবসতি[সম্পাদনা]

২০১১ আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যা ১৩,৫৮,৩২৫ জন। অধিকাংশই বাঙালী মুসলিম। এছাড়া বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলী এবং কিছু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলী রয়েছেন।

আদিবাসী[সম্পাদনা]

বর্তমান শেরপুর জেলার উত্তর সীমান্তের গাড়ো পাহাড় ও তার প্বার্শবর্তী সমতল এলাকায় কোচ,গাড়ো,হাজং,ডালু, বানাই এবং রাজবংশী  ইত্যাদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শতশত বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

জেলায় ১৯০৪ টি মসজিদ, ১১২ টি মন্দির, ৩৩ টি গির্জা, ১৫ টি মাজার, ১ টি তীর্থস্থান আছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

জেলার ৩ টি সরকারি কলেজ, ১৬ টি বেসরকারী কলেজ, ৩ টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ১৪৬ টি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ২৮ টি জুনিয়র হাইস্কুল, ৩৫৮ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪৬ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯২ টি মাদ্রাসা, ১ টি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ১ টি নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ১ টি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠন [সম্পাদনা]

জেলার ৯৩ টি ক্লাব, ৪ টি গণগ্রন্থাগার, ৩ টি নাট্যমঞ্চ, ১৫ টি নাট্যদল,৫ টি সাহিত্য সমিতি, ৩০ টি মহিলা সংগঠন, ১৩ টি সিনেমা হল, ১ টি শিল্পকলা একাডেমী এবং ১ টি শিশু একাডেমী আছে।

সংবাদমাধ্যম[সম্পাদনা]

সাপ্তাহিক শেরপুর, সাপ্তাহিক দশকাহনিয়া, সাপ্তাহিক চলতি খবর, সাহিত্যলোক, বারসাটি, রা, ইত্যাদি।

বিলুপ্ত: বিদ্যাউন্নতি সাধীনী (১৮৬৫), সাপ্তাহিক বিজ্ঞাপণি (১৮৬৫), সাপ্তাহিক চারিবার্তা (১৮৮১), বঙ্গাসুরিধ (১৮৮১), সংস্কৃতি সঞ্জবিণী, পাক্ষিক কিশোর (১৯৫৭-৫৮), মাসিক দক্ষিণা (১৯৬৭), প্রবাহ, অঙ্গণ, মুক্তাঙ্গন, গঙ্গাবার্তা, অন্নেষা, উচ্চারণ, সঞ্চারণ।

প্রধান ফসল[সম্পাদনা]

ধান, পাট, গম, সরিষা, আলু, বাদাম, আখ এবং তরিতরকারী এই জেলার প্রধান ফসল।

প্রধান ফল[সম্পাদনা]

আম, কাঁঠাল এবং জাম এই জেলার প্রধান ফল।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র[সম্পাদনা]

এই জেলায় ১ টি জেলা সদর হাসপাতাল, ৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৫২ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ১ টি ডায়াবেটিক সেন্টার, ১ টি মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ১ টি যক্ষ্মা সেটেলাইট কেন্দ্র, ১ টি কুষ্ঠ সেটেলাইট কেন্দ্র, ১ টি মিশন হাসপাতাল, ২ টি গণ স্বাস্থ কেন্দ্র, ১ টি নিরাপদ কমিউনিটি প্রোগ্রাম, ১৭ টি সেটেলাইট ক্লিনিক,১ টি টিবি ক্লিনিক, ২ টি বেসরকারী ক্লিনিক আছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

শেরপুরের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক, যদিও অকৃষি অর্থনৈতিক কার্যক্রম জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। জেলার মোট ৩,৩৫,৪৬০ বসতবাড়ির মধ্যে, ৬০.১২% খামার যা বিভিন্নরকম ফসল উত্পন্ন করে যেমন স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল ধান, গম, পাট, সরিষা, আলু, ডাল, বিভিন্নরকম শাকসবজি, তামাক এবং অন্যান্য। কলা, আম, জাম, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, কাঁঠাল, তাল, জাম্বুরা, বেল, পেঁপে, বড়ই, কামরাঙ্গা, আতাফল ইত্যাদি বিভিন্ন ফল চাষ করা হয়। দেশের অন্যান্য অংশের মতো এই জেলায়ও বিভিন্ন জাতের মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নদী, উপনদী চ্যানেল এবং খাঁড়ি থেকে বিভন্ন প্রকার মাছ ধরা হয়।জনপ্রিয় স্বাদুপানির মাছ হচ্ছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউস, চিতল, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস, গজাড়, শোল, পাবদা, কই, শিং, ফালি, বেলে, টেংরা ইত্যাদি। এছাড়াও সদ্য পরিচিত বিদেশী বিভিন্নরকম মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া, নাইলোটিকা, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ইত্যাদি। এছাড়াও ফসল, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। অকৃষি কর্মকান্ডেও জেলার অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্র বহুলাংশে ধানের চাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ সহ অনেক ছোট ছোট শিল্পের যোগান ও পরিবহন খাতের গ্রাহক হয়ে সাহায্য করছে এইসব চাতাল।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শেরপুর জেলা পরিসংখ্যান ২০১১
  2. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  3. শেরপুর, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা; বাংলা একাডেমী

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৬ জুন, ২০১৪ 
  2. শেরপুর জেলা পরিসংখ্যান ২০১১
  3. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  4. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা : শেরপুর, বাংলা একাডেমী