বুড়িচং উপজেলা
| বুড়িচং | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে বুড়িচং উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৩′০″ উত্তর ৯১°৭′৩৬″ পূর্ব / ২৩.৫৫০০০° উত্তর ৯১.১২৬৬৭° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | চট্টগ্রাম বিভাগ |
| জেলা | কুমিল্লা জেলা |
| বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ | কুমিল্লা-৫ |
| আয়তন | |
| • মোট | ১৬৩.৭৬ বর্গকিমি (৬৩.২৩ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • মোট | ৩,০১,৮২৫ |
| • জনঘনত্ব | ১,৮০০/বর্গকিমি (৪,৮০০/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ২০ ১৯ ১৮ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
বুড়িচং বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]বুড়িচং উপজেলার আয়তন ১৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার।[১]এর উত্তরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা ও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, পশ্চিমে দেবিদ্বার উপজেলা ও চান্দিনা উপজেলা।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বুড়িচং উপজেলার পূর্বনাম ছিল উত্তর বিজয়পুর। কিংবদন্তি অনুসারে খৃষ্টীয় একাদশ শতকের গোড়ার দিকে এই উত্তর বিজয়পুর গ্রামে বহু জ্ঞানী-গুণীর আবাসস্থল ছিল। একাদশ শতকের দিকে চৈনিক পরিব্রাজক ‘ইয়েন সাং’ উত্তর বিজয়পুর পরিদর্শণ করতে আসেন এবং এলাকার জ্ঞানী-গুণীদের সাহচর্যে মুগ্ধ হন। ঐ সময় তিনি এই এলাকাকে ‘বুড্ডি চিয়াং’ নামে অভিহিত করেন। চৈনিক ভাষায় বুড্ডি চিয়াং এর বাংলা অনুবাদ করলে দেখা যায়, বুড্ডি অর্থ বুদ্ধি বা জ্ঞানী বা শিক্ষা এবং চিয়াং অর্থ আবাসস্থল বা আস্তান ইত্যাদি বুঝায় । তাই বুড্ডি চিয়াং এর আভিধানিক অর্থ দাড়ায় জ্ঞানী ও গুণীর আবাসস্থল। উক্ত বুড্ডি চিয়াং নাম হতে কালক্রমে মানুষের মুখের ভাষায় সহজ বলার তাগিদে বুড্ডিচং এবং পরে বুড়িচং নামের উৎপত্তি হয়। কুমিল্লা সদর (কোতয়ালী) এর কিছু অংশ ও বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার জেলার কিছু অংশ নিয়ে ১৯১৬ সালে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের মাধ্যমে বুড়িচং থানার গোড়াপত্তন হয়।
১৯৬৩ সালে ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে বুড়িচং থানা একটি উন্নয়ন সার্কেল-এ রূপান্তরিত হয়। ১৯৭০ সালে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র থানা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯৭৮ সালে এই থানার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া নামে অপর একটি থানার সৃষ্টি হয়। অবশিষ্ট ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৫/০৪/১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বুড়িচং থানা উপজেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
নির্বাচনের মাধ্যমে ২০১৬ সালে ভারেল্লা ইউনিয়ন দুইভাগ হয়, তখন ইউনিয়ন দুইটিকে- উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ ভারেল্লা ইউনিয়ন নামকরণ করা হয়। বর্তমানে বুড়িচং উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন আছে।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]বুড়িচং উপজেলায় বর্তমানে ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম বুড়িচং থানার আওতাধীন।
জনসংখ্যা উপাত্ত
[সম্পাদনা]এর মোট জনসংখ্যা ২,৯৯,৭০৫ জন। (অননুমোদিত)(২০১১ ইং সালের আদমশুমারী অনুযায়ী); ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৮৩০ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]এই উপজেলায় কলেজ আছে ৯ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮১ টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৬৯ টি, মাদ্রাসা ৪০ টি।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
- বুড়িচং কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮১)
- খাড়াতাইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
- খাড়াতাইয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা
- কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু সরকরি কলেজ (১৯৯৭)
- বাকশীমূল উচ্চ বিদ্যালয়
- সোনার বাংলা কলেজ
- শংকুচাইল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬)
- কুসুমপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৫)
- শংকুচাইল ডিগ্রী কলেজ
- উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- এদবারপুর ডি এস ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা
- সাদকপুর ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা
- সাদকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- মোরশেদা বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৭২)
- ফকির বাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (১৯৪১)
- আরাগ আনন্দপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যায়ল (১৯৮৮)
- বুড়িচং কালী নারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়(1982)
- বুড়িচং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- পূর্ণমতি মনসুর আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়(1964)
- বুড়িচং মডেল একাডেমী
- ফকির বাজার সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা।
- মিথিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯০৮)
- শ্রীপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (১৯৩২)
- কুসুমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- পীর যাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮)
- ভারেল্লা শাহ নুরুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়
- ভারেল্লা শাহ ইসরাঈল কামিল মাদ্রাসা
- বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজ
- পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজ
- ময়নামতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ
- ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলোজি২০০২
- আজ্ঞাপুর দক্ষিণ পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা (২০১৪)
- আবিদপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজ (১৯৬১)
- উত্তর বুড়িচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়১৯৭৩
- বাকশীমূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- বুড়িচং হাজী ফজর আলি উচ্চ বিদ্যালয়
- বুড়িচং হাজী ফজর আলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- বাড়াইর হাজী চেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয়।
- বাড়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বাড়াইর নামতলা রসুল শাহ্ হাফিজিয়া মাদ্রাসা
- নিমসার জুনাব আলী কলেজ।
- নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়।
- নিমসার গালস উচ্চ বিদ্যালয়।
- পরিহলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- মনিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- শিকারপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- শিকারপুর দারুল কোরআন জিলানীয়া মাদ্রাসা
- খাড়াতাইয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]বুড়িচং উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতির ক্ষেত্রগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। কৃষি জমি কমে যাওয়ার ফলে এবং কৃষিতে বিনিয়োগের তুলনায় উৎপাদন না বাড়ার কারণে কৃষক কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাই কৃষি কাজ ছেড়ে এখন এই অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]- গোমতী নদী
- উপজেলা পরিষদ মসজিদ
- সাদকপুর জামে মসজিদ
- ময়নামতি ওয়ার সেমিট্রি
- ময়নামতি বৌদ্ধবিহার
- আয়রন টিলা (অবস্থান লৌহাইমুড়ি, পাহাড়পুর এবং করুনা পুরে)।
- ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল কলেজ অব টেকনোলেজি,বুড়িচং কুমিল্লা কারিগর শাখা।
- দক্ষিণগ্রাম পদ্মবিল।
- দড়িয়ার পাড় ঈদগাঁ
- পয়াতের জলা
- মিথিলাপুর আইল
- সাদকপুর রোড
- রাজাপুর রেল লাইন ও রেলওয়ে স্টেশন
- বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ
- ইন্ডিয়া বর্ডার
- কোরপাই বিশ্বরোড
কৃতি ব্যক্তি
[সম্পাদনা]- আবদুল মতিন খসরু, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী
- বীর উত্তম শহীদ মঈনুল হোসেন
- অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস, সাবেক ৪ বার নির্বাচিত এমপি
- প্রফেসর মফিজুল ইসলাম, সাবেক এমপি
- সুলতান আহমদ, সাবেক এমপিএ ও উপজেলা চেয়ারম্যান
- এডভোকেট আবুল হাশেম খান জাতীয় সংসদ সদস্য কুমিল্লা - ৫
- ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
- আবু ফারাহ মোহাম্মদ নাছের, সাবেক ডেপুটি গভর্নর
জনপ্রতিনিধি
[সম্পাদনা]| সংসদীয় আসন | জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[২] | সংসদ সদস্য[৩][৪][৫][৬][৭] | রাজনৈতিক দল |
|---|---|---|---|
| ২৫৩ কুমিল্লা-৫ | ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা এবং বুড়িচং উপজেলা | শূণ্য |
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "বুড়িচং উপজেলা"। বাংলাপিডিয়া।
- ↑ "Election Commission Bangladesh - Home page"। www.ecs.org.bd।
- ↑ "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (পিডিএফ)। ecs.gov.bd। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"। বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"। প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "জয় পেলেন যারা"। দৈনিক আমাদের সময়। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"। সমকাল। ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।