মানিকগঞ্জ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মানিকগঞ্জ
জেলা
বাংলাদেশে মানিকগঞ্জ জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে মানিকগঞ্জ জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′০″ উত্তর ৯০°০′৩৬″ পূর্ব / ২৩.৮৫০০০° উত্তর ৯০.০১০০০° পূর্ব / 23.85000; 90.01000স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′০″ উত্তর ৯০°০′৩৬″ পূর্ব / ২৩.৮৫০০০° উত্তর ৯০.০১০০০° পূর্ব / 23.85000; 90.01000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
সরকার
আয়তন
 • মোট১,৩৭৮.৯৯ বর্গকিমি (৫৩২.৪৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট১৩,৯২,৮৬৭
 • জনঘনত্ব১,০০০/বর্গকিমি (২,৬০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫৬%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৫৬
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

মানিকগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পাটুরিয়া ফেরি ঘাট, মানিকগঞ্জ

বাংলার মধ্য-ভাটি অঞ্চলভূক্ত মানিকগঞ্জ জেলার ভূ-ভাগ নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত। বিশেষত: পদ্মা, গঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি, করতোয়া, বোরাসাগর তিস্তা ও ব্রক্ষ্মপুত্র প্রভৃতি নদনদী যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের ভূমি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। সবুজ শস্য-শ্যামল প্রান্তর, রাশিরাশি বৃক্ষরাজি আর দূর দিগন্তে দৃষ্টির সীমানায় আকাশের নীলিমার সখ্যতা নিয়ে গাজীখালি, ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা বন্দর মানিকগঞ্জ। এ জেলার নৈসর্গিক দৃশ্যে মন হারিয়ে যায় প্রকৃতির সাথে। ধলেশ্বরীর রূপালী বেলাভূমিতে ভোরের আকাশের উদীয়মান সূর্যের শাশ্বত রূপ হয় মোহনীয়। এমন অপরূপ রূপের জেলা মানিকগঞ্জ।

মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৫ সালের মে মাসে। মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রথমে ফরিদপুর জেলার (১৮১১ সালে সৃষ্ট) অধীন ছিল। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনকল্পে ১৮৫৬ সালে মানিকগঞ্জ মহকুমাকে ফরিদপুর জেলা থেকে ঢাকা জেলায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলার উত্তর সীমান্তে টাঙ্গাইল জেলা। পশ্চিম এবং দক্ষিণ সীমান্তে যমুনা ও পদ্মা নদী পাবনা ও ফরিদপুর জেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে। পূর্ব, উত্তরপূর্ব এবং দক্ষিণে রয়েছে যথাক্রমে ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা।

নামের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

মূলতঃ সংস্কৃত ’মানিক্য’ শব্দ থেকে মানিক শব্দটি এসেছে। মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ। গঞ্জ শব্দটি ফরাসী। মানিকগঞ্জ নামে কোন গ্রাম বা মৌজার অস্তিত্ব নেই। ১৮৪৫ সাল মহুকুমা সৃষ্টির আগে কোন ঐতিহাসিক বিবরণে বা সরকারী নথিপত্রে মানিকগঞ্জ এর নাম পাওয়া যায়নি। কিংবদন্তী রয়েছে যে, অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে মানিক শাহ নামক এক সুফি দরবেশ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর গ্রামে আগমন করেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন । পরবর্তীকালে তিনি এ খানকা ছেড়ে হরিরামপুর উপজেলায় দরবেশ হায়দার সেখের মাজারে গমন করেন এবং ইছামতি তীরবর্তী জনশূন্য চরাভূমি বর্তমান মানিকনগরে এসে খানকা প্রতিষ্ঠা করেন । এ খানকাকে কেন্দ্র করে এখানে জনবসতি গড়ে উঠে ।

তেঁওতা জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ

উক্ত জনবসতি মানিক শাহ’র পূণ্য স্মৃতি ধারন করে হয়েছে মানিকনগর । মানিক শাহ শেষ জীবনে ধামরাইতে অবস্থিত আধ্যাত্নিক গুরুর দরবার শরীফে ফিরে যাবার মানসে পূনরায় দ্বিতীয় খানকা ছেড়ে ধলেশ্বরীর তীরে পৌঁছেন । জায়গাটির নৈসর্গিক দৃশ্য তার পছন্দ হয় । তিনি এখানে খানকা স্থাপন করেন । প্রথম ও দ্বিতীয় খানকার ভক্তবৃন্দও এখানে এসে দীক্ষা নিতো । মানিকশাহর অলৌকিক গুনাবলীর জন্য জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই তাকে শ্রদ্ধা করতেন । এমনকি দস্যূ তস্করগণও কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে খানকার ধারে কাছে আসতো না । তাই ভক্তবৃন্দ ছাড়া বণিকগণও এখানে বিশ্রাম নিতো এবং রাত্রি যাপন করত । এভাবেই ধলেশ্বরীর তীরে মানিক শাহ’র খানকাকে কেন্দ্র করে জনবসতি ও মোকাম প্রতিষ্ঠিত হয় । কেউ বলেন দুর্ধর্ষ পাঠান সরদার মানিক ঢালীর নামানুসারে মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি হয়। আবার কেউ কেউ বলেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশ্বাস ঘাতক মানিক চাঁদের প্রতি ইংরেজদের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নামানুসারে।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি জেলা। এই জেলার উত্তর সীমান্তে টাঙ্গাইল জেলা, পশ্চিম, পশ্চিম দক্ষিণ, এবং দক্ষিণ সীমান্তে যথাক্রমে যমুনা এবং পদ্মা নদী পাবনা জেলাফরিদপুর জেলা থেকে এ জেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে। পূর্ব, উত্তর পূর্ব এবং পূর্ব দক্ষিণে রয়েছে ঢাকা জেলার যথাক্রমে ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জ, দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা । ইহা ২৩°৫২'৪৫" উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০˚৪'১৫" পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত । মানিকগঞ্জ জেলার আয়তন- ১৩৭৮.৯৯ বর্গ কিঃ মিঃ ।

নদী[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ জেলায় বেশ কয়েকটি নদী রয়েছে। এই জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয় এবং এ যুদ্ধে নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী, আবদুল মতিন চৌধুরী, অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ খান ও জেলার অন্যান্য বীরাঙ্গনা। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা গ্রামের উত্তর-পশ্চিম কোণে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী সৈন্যদের বহনকারী নৌকাগুলি আক্রমণ করে এবং নুরুনি গাঙ্গায় (কালীগঙ্গা নদীর খাল) একটি ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। পঁচিশ জন পাক ২৯ শে অক্টোবর সিংগাইর উপজেলার গোলাইডাঙ্গা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এক ভয়াবহ যুদ্ধে সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার তোবারক হোসেন লুডু এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি মুক্তিবাহিনী লুডু গ্রুপের কমান্ডার ছিলেন। এই যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউই নিহত হয়নি যা মানিকগঞ্জের পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের যুদ্ধের পরে, মুক্তিবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের মাঠ ছেড়ে চলে যায় এবং পাক সৈন্যরা আরও সৈন্য নিয়ে আসে এবং যুদ্ধে গোলাইডাঙ্গা গ্রামের আশেপাশের ১৬০০ টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং ৯৯ স্থানীয় লোককে হত্যা করেছিল যারা বেশিরভাগ বয়স্ক ছিল। কয়েকজন স্থানীয় যুবক ছেলেরা সেই আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিল তারা হলেন আবদুল আলী, মহিউদ্দিন আলমগীর জাকির এবং আরও অনেকে। গোলাইডাঙ্গায় লড়াইয়ের পরে সিঙ্গাইর উপজেলা ১৩ই নভেম্বর, ১৯৭১ সালে পাক অধিকৃত সেনাবাহিনী থেকে মুক্ত হয়। একাত্তরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন দলগুলি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং কয়েকটি যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের পরাজিত করে। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকার দিকে অগ্রসর হওয়া পাক বাহিনীর একটি দল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বরুন্ডি গ্রামে প্রবেশ করে, শাহাদাত হোসেন বিশ্বাস বাদলের নেতৃত্বে একদল মুক্তি বাহিনী (মুজিব বাহিনী) একটি উপযুক্ত জায়গায় তাদের আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এটি বুঝতে পেরে পাক সৈন্যদের দল থেকে দু'জন সৈন্য গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এর মধ্যে একজনকে মুক্তিযোদ্ধারা (মুজিব বাহিনী) ১৯৭১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং অপর একজনকে পরদিন একই গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেপ্তার করেছিলেন। <জয়মন্টপ> অবশেষে তারা ১৪ই ডিসেম্বর তত্কালীন মহকুমা (বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা) মুক্ত ঘোষণা করে।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের জনসংখ্যা হল ১৬,৭১,৯৮৫ যার মধ্যে ৫২.০২% পুরুষ এবং ৫৬.৩৪% মহিলা। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩৬৭৪।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এখানে মোট ১৬৬ টি হাট এবং বাজার রয়েছে। মানিকগঞ্জে ৫৪ টি মেলা (মেলা) অনুষ্ঠিত হয়। "মানিকগঞ্জ বিজয় মেলা" - (মানিকগঞ্জ), "বাহাদিয়া বৈশাখী মেলা, (বাহাদিয়া)" জয়মন্টপ মোধোর মেলা, (জয়মন্টপ) বাহাদিয়া বাজার "মাঝি বারির মেলা" - (দিয়াবাড়ি), "জিন্দা শাহ মেলা" - (ঝিটকা), "বেলাল / বিল্লাল পাগলার মেলা "- (হারগঞ্জ)," রাউথ যাত্রা মেলা "- (কাটিগ্রাম)," পৌষ মেলা "- (আতিগ্রাম)," বাথাইমুরি মেলা "- (বাথাইমুড়ি)," বাহের পাগল মেলা "- (বাঙ্গালা)," বাহের পাগলার মেলা "- (মহাদেবপুর)," সাধুর মেলা "- (দক্ষিণ জামশা)," সাধনোটা মেলা "- (মালুচি)," আজিজ পাগলার মেলা "- (কচিধারা)," বরুনি মেলা "- (বাটনি) বিখ্যাত এবং প্রিয় মানিকগঞ্জ জুড়ে মহাদেবপুর বাজার, বড়ঙ্গাইল বাজার, বৈরা বাজার, ঝিটকা বাজার, জামশা বাজার, দিয়াবাড়ি বাজার, ঘিওর বাজার, সিংগাইর বাজার, বাঙলা বাজার, মালুচি বাজার (বল্লা বাজার), ইন্তাজগঞ্জ বাজার, বাটনি বাজার মানিকগঞ্জের বিখ্যাত বাজার।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ জেলা ৭টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলোঃ

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ
  • ঘিওর দুর্গা নারায়ন উচ্চ বিদ্যালয়
  • শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজ
  • তেরশ্রী কালীনারায়ণ ইনষ্টিটিউশন
  • রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়
  • বেজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়
  • ইতকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
  • দক্ষিণ জামশা উচ্চ বিদ্যালয়

উল্লেখযোগ্য স্থান[সম্পাদনা]

বালিয়াতি প্রাসাদ
  1. মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা ঘাট এই এলাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। যমুনা সেতুর আগে এই ঘাট দিয়েই যানবাহন পারাপার করা হতো।
  2. বালিয়াতি প্রাসাদ, মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তির ইতিহাসে বালিয়াটির জমিদারদের অবদান উল্লেখ যোগ্য। বালিয়াটির জমিদারেরা উনিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে আরম্ভ করে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বছর বহুকীর্তি রেখে গেছেন যা জেলার পুরাকীর্তিকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
  3. তেওতা জমিদার বাড়ি , শিবালয়ঃ মানিকগঞ্জ উপজেলাধীন শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়িটি বাবু হেমশংকর রায় চৌধুরী, বাবু জয় শংকর রায় চৌধুরী পিং দুই সহোদর ভ্রাতার নিজ বসতবাড়ী ছিল। তেওতা অবস্থান করে তারা জমিদারি পরিচালনা করতেন।
  4. ধানকোড়া জমিদার বাড়ি

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে মানিকগঞ্জ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]