ময়মনসিংহ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ময়মনসিংহ জেলা
জেলা
বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২৩′উত্তর ৯০°১০′পূর্ব / ২৪.৩৮° উত্তর ৯০.১৬° পূর্ব / 24.38; 90.16স্থানাঙ্ক: ২৪°২৩′উত্তর ৯০°১০′পূর্ব / ২৪.৩৮° উত্তর ৯০.১৬° পূর্ব / 24.38; 90.16
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৪৩৬৩.৪৮ কিমি (১৬৮৪.৭৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ৫৩,৩০,২৭২[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৩.৫০
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট http://www.mymensingh.gov.bd/


ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ময়মনসিংহ জেলা মৈমনসিংহ গীতিকা, মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদীনা, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, দীনেশচন্দ্র সেনের জন্য বিখ্যাত।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোনাকিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুরটাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জেলার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র

ময়মনসিংহ জেলা ১৩টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলঃ

নামকরণ[সম্পাদনা]

মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তার নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ বাংলাদেশের একটি পুরোনো জেলা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের জন্য এই জেলা গঠন করা হয়। ১৭৮৭ সালের ১ মে তারিখে এই জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এখনকার বেগুনবাড়ির কোম্পানিকুঠিতে জেলার কাজ শুরু হয় তবে পরবর্তী সময়ে সেহড়া মৌজায় ১৭৯১ সালে তা স্থানান্তরিত হয়। আদি ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান একে একে সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলার অংশ হয়ে পড়ে। ১৮৪৫ সালে জামালপুর, ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ, ১৮৬৯ সালে টাঙ্গাইল ও ১৮৮২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা গঠন করা হয়। পরে সবকটি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়। ময়মনসিংহ শহর হয় ১৮১১ সালে। শহরের জন্য জায়গা দেন মুক্তাগাছার জমিদার রঘুনন্দন আচার্য। ১৮৮৪ সালে রাস্তায় প্রথম কেরোসিনের বাতি জ্বালানো হয়। ১৮৮৬ সালে ঢাকা‌-ময়মনসিংহ রেলপথ ও ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়।

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জেলায় অনেকগুলো নদী আছে। সেগুলো হচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী, কাঁচামাটিয়া নদী, মঘা নদী, সোয়াই নদী, বানার নদী, বাইলান নদী, দইনা নদী, পাগারিয়া নদী, সুতিয়া নদী, কাওরাইদ নদী, সুরিয়া নদী, মগড়া নদী, বাথাইল নদী, নরসুন্দা নদী, নিতাই নদী, কংস নদী, খাড়িয়া নদী], দেয়ার নদী, ভোগাই নদী, বান্দসা নদী, মালিঝি নদী, ধলাই নদী, কাকুড়িয়া নদী, দেওর নদী, বাজান নদী, নাগেশ্বরী নদী, আখিলা নদী, মিয়াবুয়া নদী, কাতামদারী নদী, সিরখালি নদী, খিরু নদী, বাজুয়া নদী, লালতি নদী, চোরখাই নদী, বাড়েরা নদী, হিংরাজানি নদী, আয়মন নদী, দেওরা নদী, থাডোকুড়া নদী, মেদুয়ারি নদী, জলগভা নদী, মাহারী নদী।[৩]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

এখানে ২টি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়), ২টি মেডিক্যাল কলেজ (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও কম্যুনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ), ১টি প্রকৌশল কলেজ (ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ), ১টি ক্যাডেট কলেজ (ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ) ছাড়াও আরো অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • আলেকজান্ডার ক্যাসেল,
  • জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা,
  • সার্কিট হাউজ,
  • সিলভার প্যালেস,
  • বিপিন পার্ক,
  • রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি,
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন,
  • ময়মনসিংহ টাউনহল,
  • দুর্গাবাড়ী,
  • ব্রহ্মপুত্র নদ,
  • গৌরীপুর রাজবাড়ী,
  • মুক্তাগাছা রাজবাড়ী,
  • কেল্লা তাজপুর।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

news portal :www.trishalnews.com

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ময়মনসিংহ সদর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৫ 
  2. এক নজরে ময়মনসিংহ জেলা,দৈনিক ময়মনসিংহ বার্তা।
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯৯-৪০০, ISBN 978-984-8945-17-9

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]