ঝিনাইদহ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ঝিনাইদহ
জেলা
বাংলাদেশে ঝিনাইদহ জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ঝিনাইদহ জেলার অবস্থান
ঝিনাইদহ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ
বাংলাদেশে ঝিনাইদহ জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩২′২৪″ উত্তর ৮৯°০′০″ পূর্ব / ২৩.৫৪০০০° উত্তর ৮৯.০০০০০° পূর্ব / 23.54000; 89.00000স্থানাঙ্ক: ২৩°৩২′২৪″ উত্তর ৮৯°০′০″ পূর্ব / ২৩.৫৪০০০° উত্তর ৮৯.০০০০০° পূর্ব / 23.54000; 89.00000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১৯৬৪.৭৭ কিমি (৭৫৮.৬০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১ আদমসুমারি)
 • মোট ১৭,৭১,৩০৪
 • ঘনত্ব ৯০০/কিমি (২৩০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট 62.00%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ঝিনাইদহ জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

ঝিনাইদাহ যশোর জেলার একটি মহাকুমা। ঝিনাইদাহ জেলাটি ১৮৬২ সালে মহাকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি একটি পৃথক জেলা হয়। এই জেলার নামকরণ সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। কথিত আছে যে, ক্যালসিয়াম উৎপাদনের জন্য ‘নবগঙ্গা’ নদী এবং ‘দহা’ নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহের জন্য এই এলাকা বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। এই জেলার নাম ঝিনাইদাহ “ঝিনুক” এবং “দাহ” শব্দদয় থেকে নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়। [১]

প্রতিষ্ঠিত[সম্পাদনা]

এই জেলা ৬টি উপজেলা, ৬৭ টি ইউনিয়ন, ৯৪৫ টি মউজা, ১১৪৪ টি গ্রাম, ৬টি পৌরসভা, ৫৪ টি ওয়ার্ড এবং ১৩৬ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। এর উপজেলা গুলো হলোঃ- ঝিনাইদাহ সদর, শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, হরিণাকুণ্ডু, কোঁটচাদপুর, এবং মহেশপুর। ঝিনাইদাহ জেলাটি ১৮৬২ সালে মহাকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি একটি পৃথক জেলা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝিনাইদাহ জেলা ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। [২]

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

ভৌগোলিক বিস্তৃতি ২৩°.১৩' উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩°.৪৬' উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং ৮৮°.৪২' পূর্ব দ্রাঘিমা হতে ৮৯°.২৩' পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত। জেলার আয়তন ১৯৬৪.৭৭ বর্গ কিলোমিটার(৭৫৮.৬০ বর্গ মাইল)। ঝিনাইদহ জেলার পূর্ব পার্শ্বে মাগুরা জেলা, উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা, দক্ষিণে যশোর জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা, এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা ও বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা অবস্থিত। ৭টি নদ-নদী প্রবাহিত এ জেলার মধ্য দিয়ে: বেগবতী, ইছামতী, কোদলা, কপোতাক্ষ নদ, নবগঙ্গা নদী, চিত্রা নদীকুমার নদী। এ অঞ্চলের জলবায়ু উষ্ণ প্রকৃতির ও সমভাবাপন্ন। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২২.২৪° সেলসিয়াস। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৫২.১৯০ সেন্টিমিটার।[৩] [৪]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ঝিনাইদহ জেলার উপজেলা গুলো হল:

নদ-নদী[সম্পাদনা]

ঝিনাইদহ জেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে কপোতাক্ষ নদী, নবগঙ্গা নদী, গড়াই নদী, কুমার নদ, ডাকুয়া নদী, বেতনা নদী, চিত্রা নদী, ভৈরব নদীবেগবতী নদী[৫][৬]

প্রধান ফসল ও ফলমুলঃ[সম্পাদনা]

ধান, পাট, গম, আখ, সরিষা, রসুন, পেয়াজ, বিভিন্ন ধরনের ডাল শাকসবজি হলো এই এলাকার প্রধান ফসল। 

তাছাড়াও প্রধান ফলমুলের মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, নারকেল, খেজুর, তাল ইত্যাদি। পাট, ধান, রসুন পেয়াজ, খেজুর গুড়, পান পাতা প্রয়োজন মিটিয়ে রপ্তানি করা হয়।[৪]

অর্থনৈতিক অবস্থাঃ[সম্পাদনা]

ঝিনাইদহের অর্থনীতি স্বাধারণত কৃষির উপর নির্ভর্শীল।৬৬.৫০% বাড়িতে নানা ধরণের ফসল ফলিয়ে থাকেন। তার দধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো HYV ধান, পাট, আখ, গম, শাকসবজি,মসলা, ডাল। এছাড়াও ফলমুলের মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, নারকেল, খেজুর, তাল ইত্যাদি।নদী থেকে অনেক ধরনের মাছ ধরে। এছাড়াও অন্যান্য খাত যেমন প্রবাসী, সরকারী চাকুরীজীবী, গার্মেন্টস কর্মীরাও এখানকার অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখছে।[৪]

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • নলডাঙ্গা রাজবাড়ি
  • সাতগাছিয়া মসজিদ
  • বারবাজারের প্রাচীন মসজিদ
  • গাজীকালু চম্পাবতীর মাজার
  • শৈলকূপা জমিদার বাড়ি
  • খালিশপুর নীলকুঠি
  • গলাকাটা মসজিদ
  • জোড় বাংলা মসজিদ
  • পায়রা দূয়াহ্
  • শাহী মসজিদ
  • শিব মন্দির
  • ঢোল সমুদ্রের দীঘি
  • মিয়া বাড়ির দালান
  • পাঞ্জু শাহ'র মাজার
  • কে,পি, বসুর বাড়ী
  • সুইতলা মল্লিকপুর
  • বলুদেওয়ানের মাজার

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আরো যা আছে[সম্পাদনা]

১। ঝিনাইদহে আছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় তম বিখ্যাত খামার। যেটি ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার দত্তনগরে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রায় এক তৃতীংশ চাল এখান থেকে আসে। . ২। ঝিনাইদহে আছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং বয়স্ক বটগাছ। যেটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় অবস্থিত। . ৩। ঝিনাইদহে আছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় পুকুর। যা ধলসমুদ্র নামে পরিচিত। আপনি এটি দেখতে চাইলে ঝিনাইদহ শহর থেকে পাগলা কানাইয়ের ভিতর দিয়ে ২ কিঃ মিঃ গেলেই পেয়ে যাবেন। অপুরুপ সুন্দর একটি পুকুর। . ৪। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানায় আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কালীমন্দির। যা হিন্দুদের একটি তীর্থ স্থান। . ৫। বাংলাদেশ সহ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মাছের হ্যাচারি ঝিনাইদহের কোটচাদপুরে অবস্থিত। . ৬। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারক গঞ্জ চিনির মিল বাংলাদেশের অন্যতম একটি স্বনামধন্য চিনির মিল। . ৭। সাত জন বীরশ্রেষ্ঠর অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বাড়িও এই ঝিনাদহের মহেশপুর থানায়। . ৮।বাংলাদেশের প্রখ্যাত বিদ্রোহী ইসলামীক সংগীত শিল্পী, কলরব শিল্পীগোষ্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আইনুদ্দীন আল আযাদ (রহঃ) এর বাড়ীও ঝিনাইদহ জেলায়। . ৯। বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী মনির খানের বাড়িও এই ঝিনাইদহ জেলায়। . ১০। বিখ্যাত কবি ফররুখ আহমেদের বাড়িও এই ঝিনাইদহে। . ১১। বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার বাড়িও ঝিনাইদহ জেলায়। . ১২। বিখ্যাত মরমি কবি লালন ফকিরের জন্ম ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ড থানায়। . ১৩। বিখ্যাত কবি পাগলা কানাইয়ের জন্ম ঝিনাদহে। তার নামানুসারে ঝিনাইদহের একটি স্থান "পাগলা কানাই" নামে পরিচিত। . ১৪। তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপার বাঘুটিয়া গ্রামে। . ১৫। বাঘা যতীন,কেপি বসু,জিল্লুর রহমান সিদ্দিক, কমরেড আবদুল মতিন মুনীর সহ অসংখ্য মনীষির জন্ম ঝিনাইদহে। . ১৬। চিত্রশিল্পী মনোয়ার মোস্তফার বাড়ী ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। . ১৭। বাংলাদেশের একমাত্র ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝেও এই ঝিনাইদহ জেলা রয়েছে। . ১৮। ক্যাডেট কলেজের ভিতর অন্যতম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ এখানেই অবস্থিত। . ১৯। বর্তমান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্লেয়ার আল আমিনের বাড়িও ঝিনাইদহে। . এছাড়া ঝিনাইদহ জেলার অনেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন স্থানে গুরুত্বপুর্ন পদে কর্মরত থেকে ঝিনাইদহের মুখ উজ্জ্বল করেছে। . ২০। ১৯৭১ সালে ঝিনাইদাহের বিষয়খালিতে সর্বপ্রথম পাকিস্থানী বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ_সমরে যুদ্ধ হয়েছিল। . ২১। ঝিনাইদহের মহেশপুরে রয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন পৌরসভা যা ১৮৬৯ সালে স্থাপিত হয়। . ২২। বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম শহীদ মিনার ঝিনাইদহ এ অবস্থিত। . ২৩। এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলাসহ অনেক জায়গায় ব্রিটিশ স্থাপত্য অনেকগুলো নীলকুঠি রয়েছে। . ২৪। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ এ আছে বার আউলিয়ার মসজিদ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা ও তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. District Statistics 2011,Jhenaidah District
  2. Statistics 2011 Jhenaidah District
  3. ঝিনাইদহ জেলা তথ্য বাতায়ন
  4. District Statistics 2011 Jhenaidah District
  5. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  6. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]