লক্ষ্মীপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
লক্ষ্মীপুর
জেলা
লক্ষ্মীপুর প্রতি ঢাকা হাইওয়ে উত্তর তেমনি
লক্ষ্মীপুর প্রতি ঢাকা হাইওয়ে উত্তর তেমনি
বাংলাদেশে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান
লক্ষ্মীপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর
বাংলাদেশে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫৭′০″ উত্তর ৯০°৪৯′৩০″ পূর্ব / ২২.৯৫০০০° উত্তর ৯০.৮২৫০০° পূর্ব / 22.95000; 90.82500স্থানাঙ্ক: ২২°৫৭′০″ উত্তর ৯০°৪৯′৩০″ পূর্ব / ২২.৯৫০০০° উত্তর ৯০.৮২৫০০° পূর্ব / 22.95000; 90.82500 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১৪৪০.৩৯ কিমি (৫৫৬.১৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১৭,২৯,১৮৮
 • ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৯.৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

লক্ষ্মীপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল,এই অঞ্চলটি বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতির দিক থেকে, বিখ্যাত একটি শহর। এর আয়তন সমূহ বাংলাদেশে লক্ষ্মীপুরের . অবস্থান, পশ্চিমে ভোলা উত্তরে চাঁদপুর পূর্বে নোয়াখালী দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এর মোট আয়তন ১৪৫৫.৯৬ বর্গ কিমি। এটির উত্তরে চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে ভোলানোয়াখালি জেলা, পূর্বে নোয়াখালি জেলা এবং পশ্চিমে বরিশালভোলা জেলা এবং মেঘনা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত।

জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশনে লক্ষ্মীপুর জেলা ২২০৩০’হতে ২৩০১০’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০৩৮’ হতে ৯০০০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

এখানকার প্রধান নদীগুলো হলো - মেঘনা নদী, ডাকাতিয়া নদী, কাটা খালি নদী, রহমত খালি নদী ও ভুলুয়া।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

লক্ষ্মীপুর শহর রহমতখালি নদীর তীরে অবস্থিত এবং মোট ১২ টি ওয়ার্ড ও ২২ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। ১৯৭৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জেলার অধীনে ৫ টি উপজেলা, ৪ টি পৌরসভা, ৫৫টি মহল্লা, ৪৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৪৫টি মৌযা এবং ৫৩৬ টি গ্রাম আছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলা হলোঃ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ত্রয়োদশ শতাব্দিতে লক্ষ্মীপুর ভুলনা রাজ্যের অধীন ছিল। মুঘল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে লক্ষ্মীপুরে একটি সামরিক স্থাপনা ছিল। ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দি পর্যন্ত এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে লবন উৎপন্ন হত এবং বাইরে রপ্তানি হত। লবনের কারনে এখানে লবন বিপ্লব ঘটে। স্বদেশী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরবাসী স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে। এ সময় মহাত্মা গান্ধি এ অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি তখন প্রায়ই কাফিলাতলি আখড়া ও রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান করতেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের জুন মাসে লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন। ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে পাক-হানাদার বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সতের বার যুদ্ধ হয়। এখানে তিনটি স্মৃতি স্তম্ভ, দুইটি গণকবর ও একটি গণহত্যা কেন্দ্র পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুর নামকরণ হয়েছে তা নিয়ে কয়েকটি মতপ্রচলিত রয়েছে। লক্ষ্মী, ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী (দূর্গা কন্যা ও বিষ্ণু পত্মী) এবং পুর হলো শহর বা নগর। এ হিসাবে লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ ‘রাজমালা’ বা ‘ত্রিপুরা’র ইতিহাস লিখতে গিয়ে তৎকালীন নোয়াখালীর পরগণা ও মহালগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঞ্চানগর ও সমসেরাবাদ মৌজার পশ্চিমে ‘লক্ষ্মীপুর’ নামে একটি মৌজা ছিল। আজকের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর মৌজাই তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজা। আবার অন্যমতে, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা আরাকান পলায়নের সময় ১৬২০ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ধাপা ও শ্রীপুর হয়ে ৯ মে ‘লক্ষ্মীদাহ পরগনা’ ত্যাগ করে ভূলুয়া দূর্গের ৮ মাইলের মধ্যে আসেন। ১২ মে ভূলুয়া দূর্গ জয় করতে না পেরে আরাকান চলে যান। সেই লক্ষ্মীদাহ পরগনা থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণ করেন। লক্ষ্মীপুর শহরের পূর্ব পাশে শাহ সুজার নামানুসারে একটি সড়কের নামকরণ করা হয় ‘সুজা বাদশা সড়ক’। বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানা উল্লাহ নূরী ‘সুজা বাদশা সড়ক’ নামে একটি ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করেছেন। ১৬১৪ খ্রিস্টাব্দে মগ ও ফিরিংগীদের মিলিত বাহিনী ভূলুয়া, ভবানীগঞ্জ ও ইসলামাবাদ আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। স্যার যদুনাথ সরকার এ সংক্রান্ত বর্ণনায় লিখেছেন, ইসলামাবাদ চাটগাঁ শহর নয়। ভূলুয়ার পশ্চিমে একটি দূর্গ সমৃদ্ধ শহর। ঐতিহাসিক ড. বোরাহ ইসলামাবাদকে লক্ষ্মীপুর বলে ধারণা করেছেন। এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজার অংশ মেঘনা পাড়ের দুর্গ সমৃদ্ধ কামানখোলাই ইসলামাবাদ নামের মগ ও ফিরিংগীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল। শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মুজমদার ‘রাজপুরুষ যোগীবংশ’ নামক গবেষনামূলক গ্রন্থে লিখেছেন দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরী ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে রাজা উপাধি পেয়েছেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা ১৬২৯-১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দালাল বাজার আসেন। তাঁর বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ন রায় (বৈষ্ণব) এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ন রায় বা লক্ষ্মী প্রিয়ার নাম অনুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ করা হয়।

কৃষি[সম্পাদনা]

  • প্রধান পেশাঃ কৃষি (৩৫.১৯%), মৎস্যজীবি (২.৭%), কৃষি শ্রমিক (১৯.৮৬%), শ্রমজীবি (৩.১৬%), ব্যবসা(১২.১০%), চাকুরী (১২.২১%), যোগাযোগ (২.০৪%), মিস্ত্রী (১.২৭%) এবং অন্যান্য (১১.৪৭%)।
  • প্রধান শস্যঃ ধান, গম, সরিষা, পাট, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন, আখ, কাঠবাদাম।
  • প্রধান ফলঃ আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, তাল, লেবু, নারিকেল, সুপারি, আপেল, সারিফা, আমড়া, জাম।
  • খামারঃ এ জেলায় ৫৮ টি মৎস্যখামার, ১৬টি নার্সারি, ১০২টি দুগ্ধ খামার, ২২২টি মুরগীর খামার ও ৩টি হ্যাচারি রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • শিল্প-কারখানাঃ টেক্সটাইল মিল, ধানের কল, ময়দার কল, বরফের কল, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, বিড়ি কারখানা, মোম কারখানা, সাবানের কারখানা, নারিকেলের তন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ছাপাখানা, তেলের মিল, ব্যাটারি কারখানা, বেকারি।
  • কুটির শিল্পঃবাঁশ ও বেতের কাজ, কাঠের কাজ, সেলাই, কামার, কুমার, মুচি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মেকানিক ইত্যাদি।
  • প্রধান রপ্তানি পন্যঃ নারিকেল, মাছ, মরিচ, কাঠবাদাম, সুপারি, সয়া‌বিন

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

এ জেলার ২৪৩ কিমি রাস্তা পাকা, ২৩৫ কিমি রাস্তা সেমি পাকা এবং ১৮২২ কিমি কাচা রাস্তা রয়েছে।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে লক্ষ্মীপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত : ২৩ জুন ২০১৪ 
  2. গাজী গিয়াস উদ্দিন (২৩ সেপ্টম্বর,২০১৩)। "আমাদের স্মরণীয় ও বরণীয় যারা"। দৈনিক ইত্তেফাক। সংগৃহীত : ২৩ সেপ্টম্বর ২০১৩ 
  • প্রিন্সিপাল প্রফেসর মোঃ মাইন উদ্দিন পাঠান।"লক্ষ্মীপুর জেলার উৎস ও ঐতিহ্য", লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ বার্ষিকী ঃ নোঙ্গর-২০০৩

বহিঃ সংযোগ[সম্পাদনা]