বরিশাল জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বরিশাল
জেলা
বরিশাল টাউন হল
বরিশাল টাউন হল
বাংলাদেশে বরিশাল জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে বরিশাল জেলার অবস্থান
বরিশাল বরিশাল বিভাগ-এ অবস্থিত
বরিশাল
বরিশাল
বরিশাল বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বরিশাল
বরিশাল
বাংলাদেশে বরিশাল জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৪৮′০″ উত্তর ৯০°২২′১২″ পূর্ব / ২২.৮০০০০° উত্তর ৯০.৩৭০০০° পূর্ব / 22.80000; 90.37000স্থানাঙ্ক: ২২°৪৮′০″ উত্তর ৯০°২২′১২″ পূর্ব / ২২.৮০০০০° উত্তর ৯০.৩৭০০০° পূর্ব / 22.80000; 90.37000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ বরিশাল বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২৭৯১ কিমি (১০৭৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২৩,০০,৭৭১
 • ঘনত্ব ৮২০/কিমি (২১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৭৫.৩%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৮২০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

বরিশাল জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি ১৭৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরের পূর্বতন নাম চন্দ্রদ্বীপ। দেশের খাদ্যশষ্য উৎপাদনের একটি মূল উৎস এই বৃহত্তর বরিশাল। একে বাংলার 'ভেনিস' বলা হয়। বরিশাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীবন্দর।

আয়তন ও অবস্থান[সম্পাদনা]

উত্তরে চাঁদপুর, মাদারিপুরশরিয়তপুর জেলা; দক্ষিণে ঝালকাঠি, বরগুনাপটুয়াখালী জেলা; পূর্বে লক্ষ্মীপুর, ভোলা জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে পিরোজপুর, ঝালকাঠিগোপালগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

নদ-নদী

মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, বিষখালী, কীর্তনখোলা, তেতুলিয়া, কালাবদর, সন্ধ্যা ইত্যাদি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

বরিশালের নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। কিংবদন্তি থেকে জানা যায়, পূর্বে এখানে খুব বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো; আর শাল গাছ থেকেই 'বরিশাল' নামের উৎপত্তি। 'আইতে শাল, যাইতে শাল / তার নাম বরিশাল' প্রবাদটি উল্লেখ্য। আবার, কেউ কেউ দাবি করেন যে, পর্তুগীজ বেরি ও শেলির প্রেমকাহিনীর জন্য বরিশাল নামকরণ করা হয়েছে। অন্য এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায়, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকার নবাবদের বড় বড় লবণের গোলা ও চৌকি ছিল। ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা বড় বড় লবণের চৌকিকে 'বরিসল্ট' বলতো। আবার, অনেকের ধারণা, এখানকার লবণের দানাগুলোর আকার বড় বড় ছিল বলে 'বরিসল্ট' বলা হতো। পরবর্তিতে এ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নামের উৎপত্তি হয়েছে।

সাধারন ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাকেরগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেসি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭৯৭ সালে রেগুলেশন-৭ অনুযায়ী বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নিয়ে বাকেরগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ের প্রভাবশালী জমিদার আগা বাকের খানের নামানুসারে এ জেলার নামকরণ হয়। ১৮০১ সালের ১লা মে স্যার জন শ্যোর এ জেলার সদর দপ্তর বর্তমানে বরিশাল শহরে স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তীতে বরিশাল নামেই এ জেলা পরিচিতি পায়। ১৮১৭ সালে এজেলা একটি কালেক্টরেটে পরিণত হয়। ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে এই জেলা ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয়। যে চারটি কালেক্টরেট নিয়ে ঢাকা বিভাগ বা কমিশনারশিপ গঠিত এটি তারই একটি। এটি কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ মাইল পূর্বে অবস্থিত ছিল। সেসময় জেলার আয়তন ছিল ৪,০৬৬ বর্গমাইল (১৮৭২ সাল অনুসারে) যা বর্তমান মাদারীপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। ১৮৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত 'Calcutta Gadget' থেকে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সীমানার উল্লেখ পাওয়া যায়, তাতে বলা হয়, "বিশদভাবে এই জেলার উত্তরে ফরিদপুর, পশ্চিমে ফরিদপুর ও বলেশ্বর নদী যা যশোর থেকে পৃথক করেছে, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মেঘনা নদী ও এর মোহনা।"

যে গঙ্গা বা পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার সম্মিলিত জলরাশি বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত ব-দ্বীপের নিম্নভাগে এ জেলার অবস্থান, আর এটি ২১ ডিগ্রি থেকে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ ডিগ্রি থেকে ৯১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত। সংক্ষেপে এর সীমারেখা হচ্ছে: উত্তরে ফরিদপুর, পশ্চিমে ফরিদপুর ও বালেশ্বর নদী ( এ নদী জেলাটিকে যশোর থেকে পৃথক করেছে), দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মেঘনা ও তার মোহনা। উত্তর থেকে দক্ষিণে এ জেলার দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ৮৫ মাইল আর দক্ষিণ শাহবাজপুর দ্বীপসহ এর প্রশস্ততা হচ্ছে প্রায় ৬০ মাইল। এর আয়তন হচ্ছে প্রায় ৪,৩০০ বর্গমাইল।

এ জেলায় গ্রাম ও শহরের সংখ্যা ৩৩১২ টি হবে বলে মনে হয়। ভূমি রাজস্ব হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (১৩৭,০০০ পাউন্ড) এবং সব উৎস থেকে প্রাপ্ত মোট রাজস্বের পরিমাণ হচ্ছে ১৬ লাখ রুপি। স্থানীয় প্রশাসনের ব্যয় তিন লাখেরও কম।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

বরিশাল জেলার উপজেলাগুলি হল-

  1. আগৈলঝারা উপজেলা
  2. বাকেরগঞ্জ উপজেলা
  3. বাবুগঞ্জ উপজেলা
  4. বানারিপাড়া উপজেলা
  5. গৌরনদী উপজেলা
  6. হিজলা উপজেলা
  7. বরিশাল সদর উপজেলা
  8. মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা
  9. মুলাদি উপজেলা
  10. উজিরপুর উপজেলা

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

এবাদুল্লাহ মসজিদ, অশ্বনীকুমার টাউনহল, দুর্গাসাগর দিঘী, মুকুন্দ দাসের কালিবাড়ী, বিবির পুকুর পাড়, গুটিয়া মসজিদ, মাহিলারা মঠ, সংগ্রাম কেল্লা, শরিফলের দুর্গ, শের-ই-বাংলা জাদুঘর, শংকর মঠ, জমিদার বাড়ি (মাধবপাশা), লন্টা বাবুর দিঘী (লাকুটিয়া)। কবি বিজয়গুপ্তর মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখিত মনসা মন্দির। আদম আলী হাজীর গলি।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, সাইয়েদ মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা ফজলুল করীম, আরজ আলী মাতুব্বর , আবদুর রহমান বিশ্বাস, অশ্বিনী কুমার দত্ত, ডঃ সুরেন্দ্র নাথ, ডঃ কামাল হোসেন, বেগম সুফিয়া কামাল , জীবনানন্দ দাশ, রাশেদ খান মেনন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবদুল গাফফার চৌধুরী , গোলাম মুস্তাফা, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, সরদার ফজলুল করিম, মুকুন্দ দাস, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ, ফণিভুষণ দাশগুপ্ত, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে বরিশাল"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৫ জুন, ২০১৪ 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]