চাঁদপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চাঁদপুর জেলা
জেলা
বাংলাদেশে চাঁদপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে চাঁদপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১২′৫০″ উত্তর ৯০°৩৮′১০″ পূর্ব / ২৩.২১৩৮৯° উত্তর ৯০.৬৩৬১১° পূর্ব / 23.21389; 90.63611স্থানাঙ্ক: ২৩°১২′৫০″ উত্তর ৯০°৩৮′১০″ পূর্ব / ২৩.২১৩৮৯° উত্তর ৯০.৬৩৬১১° পূর্ব / 23.21389; 90.63611 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট১৭৪০৬ কিমি (৬৭২০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১৪)[১]
 • মোট২৬,০০,২৬৩
 • জনঘনত্ব১৫০/কিমি (৩৯০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৬৯.২৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ১৩
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্হলে এ জেলা অবস্থিত। চাঁদপুরের মানুষ আতিথেয়তার জন্য বিখ্যাত। ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল হিসেবে চাঁদপুরকে "ইলিশের বাড়ি" নামে ডাকা হয়। ১৯৮৪ সালের আগ পর্যন্ত এটি বৃহত্তর কুমিল্লার একটি অংশ ছিল।[২]

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

চাঁদপুর জেলা ১৭০৪.০৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত। এটি উত্তরে মুন্সিগঞ্জ এবং কুমিল্লা, দক্ষিণে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল জেলা, পূর্বে কুমিল্লা জেলা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদীশরিয়তপুর এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা দ্বারা বেষ্টিত। চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য দুটি নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত। পদ্মা ও মেঘনা নদী দুটি চাঁদপুর শহরের কাছে এসে মিলেছে। মেঘনা নদী ডাকাতিয়া নদী, ধোনাগোদা নদী ও মতলব নদীর সাথে যুক্ত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। এ অঞ্চলে তিনি একটি শাসনকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। ঐতিহাসিক জে. এম. সেনগুপ্তের মতে, চাঁদরায়ের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে চাঁদপুর।

অন্যমতে, চাঁদপুর শহরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদীবন্দর স্থাপন করেছিলেন। তার নামানুসারে নাম হয়েছে চাঁদপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর ২ নং সেক্টরের অধিনে ছিলো

ব্র্যান্ডিং জেলা[সম্পাদনা]

দেশ-বিদেশে চাঁদপুরকে বিশেষভাবে উপস্থাপনের জন্য ২০১৫ সালের আগস্ট মাস হতে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেন জেলা প্রশাসক মো: আব্দুস সবুর মন্ডল। ইলিশের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে এর ব্র্যান্ডিং নাম দেন ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। ২০১৭ সালে দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুরকে স্বীকৃতি দেয়। এ নামানুসারে একটি লোগো রয়েছে। যা অঙ্কন করেছেনে এ জেলার সন্তান বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান। একইসাথে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ এর রূপকার হিসেবে স্বীকৃতি পান তৎকালিন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল (২০১৫-২০১৮)। [৩]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে জেলাটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২,৪১৬,০১৮[৪]। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার ৮ উপজেলা মিলে ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৫শ’ ৯০ জন ভোটার। এর মধ্যে শাহরাস্তিতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯শ’ ৪৯ জন,চাঁদপুর সদরে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৭ জন, ফরিদগঞ্জে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৪শ’ ৮৫ জন, হাজীগঞ্জে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭শ’ ৯১ জন, মতলব দক্ষিণে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫শ’৩৭ জন, মতলব উত্তরে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১শ’ ৬১ জন, হাইমচরে ৮২ হাজার ১শ’ ১০ জন এবং কচুয়ায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭শ’ ২৩ জন।

নদী[সম্পাদনা]

চাঁদপুর জেলা নদীর জেলা হিসেবে পরিচিত।এখানে জালের মতো বিস্তৃত আছে অনেক নদী।এখানে ৮ টি নদী আছে যা অন্য যে কোনো জেলা থেকে অনেক বেশি। নদীগুলো হচ্ছে:

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

চাঁদপুরে ৮টি উপজেলা, ০৭টি পৌরসভা, ৬০টি ওয়ার্ড, ২৭৫টি মহল্লা, ৮টি পুলিশ থানা, ২টি নৌ থানা, ১টি কোস্ট গার্ড স্টেশন, ১টি রেল থানা, ৮৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১২২৬টি গ্রাম রয়েছে।

এই জেলা ৮টি উপজেলা নিয়ে গঠিত; এগুলো হচ্ছে:-

জেলার ৭টি পৌরসভা হলো:-

  1. শাহরাস্তি পৌরসভা
  2. চাঁদপুর পৌরসভা
  3. হাজীগঞ্জ পৌরসভা
  4. ফরিদগঞ্জ পৌরসভা
  5. কচুয়া পৌরসভা
  6. ছেঙ্গারচর পৌরসভা
  7. মতলব পৌরসভা

রেল থানাটি হচ্ছে:-

  • চাঁদপুর কোর্ট

নৌ থানার স্টেশন দুটি হচ্ছে:-

  • চাঁদপুর
  • হাইমচর

কোস্ট গার্ড স্টেশন:-

  • চাঁদপুর সদর

স্টেডিয়াম:-

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

চাঁদপুর জেলায় ৫ টি সংসদীয় আসন আছে। এগুলো হচ্ছে-

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  1. ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ১টি
  2. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৮টি
  3. আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (ICDDR,B) ১টি (বিশ্বের একমাত্র)(মতলব দক্ষিণ)
  4. মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র ৩টি
  5. চক্ষু হাসপাতাল ৪টি
  6. বক্ষব্যাধী হাসপাতাল ১টি
  7. ডায়বেটিক হাসপাতাল ১টি
  8. রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল ১টি
  9. রেলওয়ে হাসপাতাল ১টি
  10. বেসরকারি হাসপাতাল ৭৩টি
  11. বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিক ৭টি
  12. ডায়গনস্টিক সেন্টার ১০৭টি।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মোট: ২৬০০২৬৩ জন, তন্মধ্যে পুরুষ:৪৮.৬৭% = ১৩৫৪৭৩২, এবং মহিলা: ৫১.৩৩% = ১২৪৫৫৩১ জন।

ধর্মের বিচারে এর মধ্যে মুসলমান: ৯২.৫৫%, হিন্দু: ৭.১৮%, বৌদ্ধ: ০.০৬%, খ্রিস্টান: ০.০৭% এবং অন্যান্য: ০.১৪% রয়েছেন।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

[৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৬৯.৮%। সরকারি ও বেসরকারি অনার্স কলেজে ২টি, ডিগ্রি কলেজ: ৭৫ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৫০ টি, মাদ্রাসা: ১,২৫৭ টি, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট: ১ টি, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ: ১ টি, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট: ১ টি, মেরিন একাডেমি : ১ টি

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চাঁদপুর জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। নদী তীরবর্তী এলাকা বলে প্রায় ৩০% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত। এছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক ব্যবসায়ী বিদ্যমান। জেলা সদরে অনেক মাছের আড়ত রয়েছে, যা জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। চাঁদপুর শহরের বাবুরহাটে বড়বড় বহু শিল্পকারখানা রয়েছে। এই জায়গাটিকে সরকার বিসিক শিল্প নগরী ঘোষণা করে। এই এলাকাটি শুধু চাঁদপুরের নয় পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি আশীর্বাদস্বরূপ শিল্প নগরী। মেঘনার ভাঙ্গনে প্রতি বছর চাঁদপুরের আয়তন কমে গেলেও মেঘনা, চাঁদপুরের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়, ফলে বর্ষাকালে চাঁদপুর মাছের মাতৃভূমি হয়ে যায়। জেলার প্রধান শস্য ধান, পাট, গম, আখ। রপ্তানী পণ্যের মধ্যে রয়েছে নারিকেল, চিংড়ি, আলু, ইলিশ মাছ, সবুজ শাক-সবজি, বিসিক নগরীর তৈরি পোশাক শিল্প।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

পত্র-পত্রিকা
  • দৈনিক পত্রিকা: ১৩টি; চাঁদপুর প্রবাহ, চাঁদপুর কণ্ঠ, চাঁদপুর দর্পণ, চাঁদপুর বার্তা, ইলশেপাড়, চাঁদপুর সংবাদ, চাঁদপুর দিগন্ত, আলোকিত চাঁদপুর, চাঁদপুর খবর, মেঘনাবার্তা, ইলশেপাড়, চাঁদপুর সময়, সুদীপ্ত চাঁদপুর
  • অনলাইন পত্রিকা: ৪টি; চাঁদপুর টাইমস, চাঁদপুর নিউজ, চাঁদপুর ওয়েব, চাঁদপুর রিপোর্ট, শাহ্‌রাস্তি নিউজ২৪.কম
  • মাসিক পত্রিকা: ৪টি।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "চাঁদপুর জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৪ 
  2. মুসা, মুহাম্মদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিবৃত্ত। সেতু প্রকাশনী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৯৯৮।
  3. http://www.chandpur.gov.bd/site/view/district_branding_home
  4. "Chandpur (District (Zila), Bangladesh) - Population, Map & Location"citypopulation.de 
  5. https://chandpurtimes.com/রত্মগর্ভা-চাঁদপুর/ দেশবরেণ্য কৃতিসন্তানদের লালনে ধন্য রত্মগর্ভা চাঁদপুর।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]