কোটবাড়ি মুড়া
| কোটবাড়ি মুড়া | |
|---|---|
![]() | |
![]() | |
| অবস্থান | কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা |
| স্থানাঙ্ক | ২৩°২৬′১৫″ উত্তর ৯১°০৭′১৪″ পূর্ব / ২৩.৪৩৭৫৭২৯° উত্তর ৯১.১২০৫৭৬৬° পূর্ব |

কোটবাড়ি মুড়া একটি প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নস্থল, যা বাংলাদেশের বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা সদর উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।[১] এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।[২] এটি ময়নামতী প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার অংশ এবং শালবন বিহার, ইটাখোলা মুড়া ও রূপবান মুড়ার মতো অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত। এই মুড়া বা উঁচু ঢিবিতে প্রাচীন কালের একটি বৌদ্ধ স্তূপ ও আশ্রমের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
এই মুড়া কেবল একটি ধর্মীয় কেন্দ্রই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি শিক্ষাকেন্দ্রও, যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মচর্চা ও শিক্ষা গ্রহণ করতেন। পাল যুগে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও চর্চার কেন্দ্র হিসেবে ময়নামতী অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুড়ার পাশেই রয়েছে শালবন বিহার ও ময়নামতী জাদুঘর, যেখানে খননকৃত নিদর্শন প্রদর্শিত হয়।
ইতিহাস ও খনন
[সম্পাদনা]কোটবাড়ি মুড়ার ইতিহাস গুপ্ত-পরবর্তী ও পাল যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা। এখানে প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খনন শুরু হয় ১৯৫৫ সালের দিকে, যা পরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। খননের মাধ্যমে এখানে একটি বৌদ্ধ স্তূপের ভিত্তি, প্রার্থনাকক্ষ, ছোট ছোট মঠ ও বিভিন্ন আবাসিক কক্ষের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]স্থাপনাগুলোর নির্মাণশৈলী মূলত ইটনির্মিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বৌদ্ধ স্থাপত্যের সঙ্গে মিল রাখে। এখানে ব্যবহৃত ইটগুলো ছোট আকৃতির এবং নিপুণভাবে গাঁথা। মন্দির ও স্তূপের দেয়ালে পোড়ামাটির ফলক ও অলংকরণ ছিল, যেগুলোর কিছু অংশ এখনও শনাক্তযোগ্য। খননের সময় এখানে কিছু ধাতব মূর্তি, পোড়ামাটির খেলনা ও পাত্র, এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সামগ্রী পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ এম হারুনুর রশিদ (২০১২)। "ময়নামতী"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ "প্রত্নস্হলের তালিকা"। archaeology.gov.bd। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৯।

