বিষয়বস্তুতে চলুন

কোটবাড়ি মুড়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কোটবাড়ি মুড়া
মানচিত্র
মানচিত্র
অবস্থানকুমিল্লা সদর, কুমিল্লা
স্থানাঙ্ক২৩°২৬′১৫″ উত্তর ৯১°০৭′১৪″ পূর্ব / ২৩.৪৩৭৫৭২৯° উত্তর ৯১.১২০৫৭৬৬° পূর্ব / 23.4375729; 91.1205766
কোটবাড়ি মুড়ার নিকটে বুদ্ধ মন্দির

কোটবাড়ি মুড়া একটি প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নস্থল, যা বাংলাদেশের বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা সদর উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।[] এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।[] এটি ময়নামতী প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার অংশ এবং শালবন বিহার, ইটাখোলা মুড়ারূপবান মুড়ার মতো অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত। এই মুড়া বা উঁচু ঢিবিতে প্রাচীন কালের একটি বৌদ্ধ স্তূপ ও আশ্রমের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

এই মুড়া কেবল একটি ধর্মীয় কেন্দ্রই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি শিক্ষাকেন্দ্রও, যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মচর্চা ও শিক্ষা গ্রহণ করতেন। পাল যুগে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও চর্চার কেন্দ্র হিসেবে ময়নামতী অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুড়ার পাশেই রয়েছে শালবন বিহারময়নামতী জাদুঘর, যেখানে খননকৃত নিদর্শন প্রদর্শিত হয়।

ইতিহাস ও খনন

[সম্পাদনা]

কোটবাড়ি মুড়ার ইতিহাস গুপ্ত-পরবর্তী ও পাল যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা। এখানে প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খনন শুরু হয় ১৯৫৫ সালের দিকে, যা পরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। খননের মাধ্যমে এখানে একটি বৌদ্ধ স্তূপের ভিত্তি, প্রার্থনাকক্ষ, ছোট ছোট মঠ ও বিভিন্ন আবাসিক কক্ষের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

স্থাপনাগুলোর নির্মাণশৈলী মূলত ইটনির্মিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বৌদ্ধ স্থাপত্যের সঙ্গে মিল রাখে। এখানে ব্যবহৃত ইটগুলো ছোট আকৃতির এবং নিপুণভাবে গাঁথা। মন্দির ও স্তূপের দেয়ালে পোড়ামাটির ফলক ও অলংকরণ ছিল, যেগুলোর কিছু অংশ এখনও শনাক্তযোগ্য। খননের সময় এখানে কিছু ধাতব মূর্তি, পোড়ামাটির খেলনা ও পাত্র, এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সামগ্রী পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. এম হারুনুর রশিদ (২০১২)। "ময়নামতী"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M
  2. "প্রত্নস্হলের তালিকা"archaeology.gov.bdপ্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৯