বিষয়বস্তুতে চলুন

পিরোজপুর জেলা

পিরোজপুর
জেলা
উপরে: মোমিন মসজিদ
নিচে: বৈঠককাঠা গ্রামে ভাসমান মাঠ
বাংলাদেশে পিরোজপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে পিরোজপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৩৪′৪৮″ উত্তর ৮৯°৫৮′১২″ পূর্ব / ২২.৫৮০০০° উত্তর ৮৯.৯৭০০০° পূর্ব / 22.58000; 89.97000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
সরকার
  জেলা প্রশাসকআবু সাঈদ
আয়তন
  মোট১,২৭৭.৮০ বর্গকিমি (৪৯৩.৩৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২২[])
  মোট১১,৯৮,১৯৫
  জনঘনত্ব৯৪০/বর্গকিমি (২,৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
  মোট৮৮.০৭%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
১০ ৭৯
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।[]

অবস্থান ও আয়তন

[সম্পাদনা]
পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর একটি দৃশ্য।
জেলার সীমানা

পিরোজপুরের উত্তরে বরিশাল জেলাগোপালগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরগুনা জেলা, পূর্বে ঝালকাঠি জেলাবরগুনা জেলা এবং পশ্চিমে বাগেরহাট জেলাসুন্দরবন অবস্থিত। পশ্চিমে বলেশ্বর নদী পিরোজপুরকে বাগেরহাটের সাথে বিভাজিত করেছে।[] পিরোজপুরের অন্যতম আকর্ষণ এই বলেশ্বর নদী ।

অবস্থান

পিরোজপুর জেলা বিষুব রেখার ২২.৩০’ থেকে ২২.৫২' উত্তর আক্ষাংশে এবং ৮৯.৫২' থেকে ৯০.১৩' দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। পিরোজপুর জেলা মূলত সমতল ভূমি এবং মূল ভূখণ্ড সমুদ্র সমতল থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ১০ ফুট থেকে ১৯ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।[]

জলবায়ু

এখানে ডিসেম্বরের শেষে জানুয়ারির মধ্যভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৯৯০ মিলিমিটার। জলবায়ু মূলত নাতিশীতোষ্ণ।[]

নামকরণ

[সম্পাদনা]

ফিরোজ সরদার নামের এক প্রভাবশালী জমিদার এই অঞ্চলের বন জঙ্গল কেটে মানুষের বসাবসের জায়গা তৈরি করেছিলেন এবং ১৭৫৩ সালে নবাব বাড়িতে শহীদ হওয়ার পরে এলাকাটি পরবর্তীকালে 'ফিরোজপুর' নামে পরিচিতি লাভ করে। কালক্রমে 'ফিরোজপুর' উচ্চারণ পরে ধীরে ধীরে 'পিরোজপুর' নামে পরিণত হয়।পিরোজপুর নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত থাকলেও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, স্থাননাম-বিজ্ঞান (toponymy), স্থানীয় ইতিহাস এবং নৃবৈজ্ঞানিক (anthropological) উপাদানের সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে “ফিরোজ উদ্দীন সরদার”-সম্পর্কিত ব্যাখ্যাটি অধিক বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। স্থানীয় মৌখিক ঐতিহ্য, আদি জনপদ-গঠনের ইতিহাস, এবং পুরনো মৌজা–নামসমূহে ফিরোজ উদ্দীন সরদারের নেতৃত্বপূর্ণ উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর নামে চিহ্নিত বেশ কয়েকটি টোপোনিম—যেমন “ফিরোজপুর”, “সরদারপাড়া”, “সরদারের বাজার”—এখনও বিদ্যমান, যা নৃবিজ্ঞানীদের মতে “continuing toponymic marker” হিসেবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।

ভূগোল

[সম্পাদনা]

এ অঞ্চলের বেশিরভাগ জমি নিচু এবং মাটি উর্বর। ছোট ছোট জঙ্গল আছে। নেছারাবাদ উপজেলা ব্যবসা কেন্দ্র এবং সেখানে বেড়ে ওঠা সুন্দরী গাছের (এক ধরণের ম্যানগ্রোভ) জন্যও পরিচিত।

নদ-নদী

[সম্পাদনা]

গাবখান নদী, বলেশ্বর নদী, দামোদর নদ, কচা নদী, পোনা নদী, কোচাখালী নদী, কালীগঙ্গা নদী, সন্ধ্যা নদী, দোরাটানা নদী সহ প্রভৃতি বড় নদী ও পরিচিত নদী রয়েছে এ উপজেলায়।

সুন্দর বনের পূর্বদিকে অবস্থিত বলেশ্বর নদী দুই ভাগে বিভক্ত হলেও দিন দিন ছোট থেকে ছোট হয়ে আসছে। একটি ডোরাটানা নামে পরিচিত যা বাগেরহাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং অন্যটি কাচা নামে পরিচিত যা ভান্ডারিয়া দিয়ে প্রবাহিত হয়। তারপরে এর একটি শাখা বালেশ্বর রয়েছে যা পরে দোরতানার সাথে মিলিত হয় এবং নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গার কাছে কালীগঙ্গায় পতিত হয়। আর কচা কালীগঙ্গা ও সন্ধ্যা নদী দুটি নদীতে বিভক্ত হয়েছে। কালীগঙ্গা উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে বলেশ্বরের সাথে মিলিত হয় এবং আরও উত্তরে প্রবাহিত হয়। এবং সন্ধ্যা নদী পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। পরে সন্ধ্যা নদী আড়িয়াল খাঁ নদের সাথে মিলিত হয়ে মেঘনায় পতিত হয়।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

[সম্পাদনা]
পিরোজপুর জেলার উপজেলা জিওকোড ম্যাপ

পিরোজপুর জেলা ৭টি উপজেলা, ৭টি থানা, ৪টি পৌরসভা, ৫৪টি ইউনিয়ন ও ৩টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

পিরোজপুর জেলায় মোট ৭টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হলো:

ক্রম নং উপজেলা আয়তন
(বর্গ কিলোমিটারে)
প্রশাসনিক থানা আওতাধীন এলাকাসমূহ
০১ ইন্দুরকানী ৯৪.৬০ ইন্দুরকানী ইউনিয়ন (৫টি): পাড়েরহাট, পত্তাশি , বালিপাড়া, ইন্দুরকানী সদর এবং চণ্ডিপুর[][]
০২ কাউখালী ৭৯.৫৬ কাউখালী ইউনিয়ন (৫টি): সয়না রঘুনাথপুর, আমড়াজুড়ি, কাউখালী সদর, চিরাপাড়া এবং শিয়ালকাঠী
০৩ নাজিরপুর ২২৮.৬৯ নাজিরপুর ইউনিয়ন (৯টি): মাটিভাঙ্গা, মালিখালী, দেউলবাড়ী দোবড়া, দীর্ঘা, শাখারীকাঠী, নাজিরপুর সদর, সেখমাটিয়া, শ্রীরামকাঠী এবং কলারদোয়ানিয়া
০৪ নেছারাবাদ ২০০.৩৩ নেছারাবাদ পৌরসভা (১টি): স্বরূপকাঠী
ইউনিয়ন (১০টি): বলদিয়া, সোহাগদল, স্বরূপকাঠী, আটঘর কুড়িয়ানা, জলাবাড়ী, দৈহারী, গুয়ারেখা, সমুদয়কাঠী, সুটিয়াকাঠী এবং সারেংকাঠী
০৫ পিরোজপুর সদর ১৬৬.৮২ পিরোজপুর সদর পৌরসভা (১টি): পিরোজপুর
ইউনিয়ন (৭টি): শিকদার মল্লিক, কদমতলা, দুর্গাপুর, কলাখালী, টোনা, শরিকতলা এবং শংকরপাশা
০৬ ভাণ্ডারিয়া ১৬৩.৫৭ ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা (১টি): ভাণ্ডারিয়া
ইউনিয়ন (৭টি): ভিটাবাড়িয়া, নদমূলা শিয়ালকাঠী, তেলিখালী, ইকড়ী, ধাওয়া, ভাণ্ডারিয়া সদর এবং গৌরীপুর
০৭ মঠবাড়িয়া ৩৪৪.২৪ মঠবাড়িয়া পৌরসভা (১টি): মঠবাড়িয়া
ইউনিয়ন (১১টি): তুষখালী, ধানীসাফা, মিরুখালী, দাউদখালী, মঠবাড়িয়া, টিকিকাটা, বেতমোর রাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, শাপলেজা, হলতা গুলিশাখালী এবং বড় মাছুয়া

সংসদীয় আসন

[সম্পাদনা]
সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[] সংসদ সদস্য[][][][১০][১১] রাজনৈতিক দল
১২৭ পিরোজপুর-১ নাজিরপুর উপজেলা, ইন্দুরকানি উপজেলা এবং পিরোজপুর সদর উপজেলা শূণ্য
১২৮ পিরোজপুর-২ কাউখালী উপজেলা, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা এবং নেছারাবাদ স্বরূপকাঠী উপজেলা শূণ্য
১২৯ পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া উপজেলা শূণ্য

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

এখানকার গ্রামীণ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। এছাড়াও আয়ের অন্যান্য উৎস রয়েছে যা মূলত শহর ভিত্তিক। সেগুলি নীচে দেওয়া হলো:

  • কৃষি ৫০.৮২%
  • বাণিজ্য ১৮.৭১%
  • সেবা ৭.৬৯%
  • অকৃষি চাষ ৫.৭৫%
  • পরিবহন ও যোগাযোগ ২.১৬%,
  • ধর্মীয় সেবা ১.৬১%
  • নির্মাণ ১.৩৬%
  • ভাড়া ও রেমিটেন্স ০.৯৫%
  • শিল্প ০.৭৮%
  • অন্যান্য ১০.১৭%

কৃষি পণ্য

[সম্পাদনা]

ধান, পাট, আখ, গম, পেয়ারা, কলা, নারিকেল, বরই, পান, সুপারি এখানকার প্রধান কৃষি পণ্য।[১২]

জনসংখ্যার উপাত্ত

[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.±% বা.প্র.
১৯৭৪ ৮,২৩,৭৮৭    
১৯৮১ ৯,৪৭,৪২০+2.02%
১৯৯১ ১০,৬৩,১৮৫+1.16%
২০০১ ১১,১১,০৬৮+0.44%
২০১১ ১১,১৩,২৫৭+0.02%
২০২২ ১১,৯৮,১৯৫+0.67%
Sources:[][১৩]

বাংলাদেশের ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পিরোজপুর জেলার মোট পরিবার ২৯৮,৪৯০টি এবং জনসংখ্যা ১,১৯৮,১৯৫ জন। এবং তারমধ্যে ২১৮,৬৬০ জন (১৮.২৫%) ১০ বছরের কম বয়সী। জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রতি কিলোমিটারে ৯৩৮ জন ছিলো। পিরোজপুর জেলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তার বেশি বয়সী) ৮৫.৫৩%, যেখানে জাতীয় গড় ৭৪.৮০% এবং লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষে ১০৫৬ জন মহিলা। জনসংখ্যার ১৯.৯৮% শহুরে এলাকায় বসবাস করত।[]

পিরোজপুর জেলার ধর্ম (২০২২)[]
ধর্ম শতাংশ
ইসলাম
 
৮৪.৮৮%
হিন্দুধর্ম
 
১৫.১০%
অন্যান্য
 
০.০২%
বর্তমান পিরোজপুর জেলার ধর্মবিশ্বাস
ধর্ম জনসংখ্যা (১৯৪১)[১৪]:১০০–১০১ শতকরা (১৯৪১) জনসংখ্যা (২০২২)[] শতকরা (২০২২)
ইসলাম ৩৮৮,০০০ ৬০.২৩% ১,০১৬,৯৮৫ ৮৪.৮৮%
হিন্দুধর্ম ২৫৫,৭৪৮ ৩৯.৭০% ১৮০,৯৮০ ১৫.১০%
অন্যান্য ৪৭৭ ০.০৭% ২৩০ ০.০২%
মোট জনসংখ্যা ৬৪৪,২২৫ ১০০% ১,১৯৮,১৯৫ ১০০%

একটি বৃহৎ হিন্দু সংখ্যালঘু সহ এই জেলায় ইসলাম প্রধান ধর্ম। তবে বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো ২০০১-২০১১ সময়কালে সংখ্যালঘু হিন্দু জনসংখ্যা কেবল তাদের অংশই নয়, তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। নাজিরপুর উপজেলায় হিন্দুদের হার বৃহত্তম এবং ইন্দুরকানী উপজেলায় সর্বনিম্ন।

এ জেলায় ৩,০৮৭টি মসজিদ এবং ১,০৫১টি মন্দির রয়েছে।[১৫]

পরিবহন

[সম্পাদনা]

পিরোজপুরে দুটি বাস টার্মিনাল রয়েছে, পিরোজপুর বাস টার্মিনাল এবং পিরোজপুর পুরাতন বাস টার্মিনাল। অনেক বাস কোম্পানি পিরোজপুরকে ঢাকার মতো অন্যান্য জেলার সাথে সংযুক্ত করে।

নদীপথ

[সম্পাদনা]

নদীতে যাতায়াতের জন্য লঞ্চ, স্টিমার ও নৌকা ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় বন্দরটি হুলারহাট লঞ্চ স্টেশন (ঘাট) নামে পরিচিত যা পিরোজপুরের প্রাথমিক বন্দর হিসাবে কাজ করে। এটি পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং নদী বন্দরটি কালীগঙ্গার উপর অবস্থিত। পাশেই স্টিমার ঘাট। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করে এখান থেকে।

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

পিরোজপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৮৮.০৭%।[১৬] এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত জেলা।

ভাষা ও সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

পিরোজপুরের ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। বরিশাল ও খুলনার মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় এই দুই অঞ্চলের ভাষার দ্যোতনা পরিলক্ষিত হয় পিরোজপুরের ভাষায়। তবে পিরোজপুরের কোনো আঞ্চলিক ভাষা নেই, তবে সিংহ ভাগ মানুষ বরিশাইল্লা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে,বরিশালের আঞ্চলিকতা লক্ষ করা যায় । প্রবাদ প্রবচন ও বিয়ের গানের জন্য পিরোজপুর বিখ্যাত। বর্তমানে উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী, দিশারী শিল্পী গোষ্ঠী, সংগীতা, ধ্বনি শিল্পী গোষ্ঠী, রুপান্তর নাট্য গোষ্ঠী, পিরোজপুর থিয়েটার, কৃষ্ণচুড়া থিয়েটার প্রভৃতি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আঞ্চলিক ঐতিহ্য লালন পালন ও প্রচারে একাগ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।[১৭]

মুক্তিযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

১৮৫৩ থেকে ১৮৫৫ পর্যন্ত এই জেলায় সিংখালীর বিদ্রোহ চলেছিল। এটাই ছিল দক্ষিণ বাংলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধগুলির অন্যতম একটি স্বাধীনতা সংগ্রাম।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ রের্সকোর্স ময়দানে 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' এবং 'ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো' ঘোষণার পর দেশের অন্যান্য স্থানের মতো তৎকালীন পিরোজপুরের মহকুমার প্রতিটি গ্রামে গড়ে ওঠে প্রতিরোধের দূর্গ। শত্রুর বিরুদ্ধে ৩ মার্চ বিকালে ঢাকা থেকে আগত সামসুল হক (এম.এন.এ-মঠবাড়ীয়া), ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ও আওয়ামীলীগ নেতা বদিউল আলমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিরোজপুরে পাকিস্তানি পতাকায় অগ্নিসংযোগ করতে করতে মিছিল সহকারে শহর প্রদক্ষিণ করে। এর আগে ২ মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) শহরে বাঁশের লাঠি ও ডামি রাইফেল নিয়ে সদর রাস্তায় সকল দিকে সুশৃঙ্খল মহড়া প্রদর্শন করলে পথচারী জনসাধারণ করতালি দিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানায়। ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ২৩ মার্চ শত শত জনতার উপস্থিতিতে স্থানীয় টাউন হল মাঠের শহীদ মিনারে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়িয়ে দেন। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে বরিশাল থেকে নূরুল ইসলাম মঞ্জুর টেলিফোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা পিরোজপুরে পাঠান। এসময় পিরোজপুরে আওয়ামীলীগের নির্বাচিত এম.এন.এ (মেম্বর অব ন্যাশনাল এসেম্বলি) ছিলেন এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খান। ২৬ মার্চ বিকেলে পিরোজপুর টাউনহল ময়দানের জনসভায় অস্ত্র সংগ্রহের আবেগময় ও নির্দেশনামূলক আহবান জানালে এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খান, ডাঃ আব্দুল হাই, ডাঃ ক্ষিতীষ চন্দ্র মন্ডল, এ্যাডভোকেট আলী হায়দার খান, ফজলুল হক খোকন, জামালুল হক মনু প্রমূখ স্বাধীনাতা প্রেমী জনতা টাউন হলের অদূরে পিরোজপুর মহকুমা প্রশাসকের অফিস সংলগ্ন অস্ত্রাগারটি আক্রমণ করে সমস্ত রাইফেল, বুলেট সংগ্রহ করেন নেয়। ১৯ মে ১৯৭১ অস্ত্রাগারের আর.এস.আই. গোলাম মাওলা বাদী হয়ে পিরোজপুর থানায় ৫৫ জনকে আসামী করে এই ৫নং মামলা দায়ের করেন।[১৮]

২১ মার্চ ১৯৭১

[সম্পাদনা]

২১ মার্চ লাহোর থেকে পিরোজপুরে আসেন পিরোজপুরের সন্তান লেঃ জিয়াউদ্দিন। ২৭ মার্চ বিকাল ৪টা থেকে পিরোজপুর সরকারী হাইস্কুল মাঠে তাঁর প্রচেষ্টায় মুক্তিফৌজ গঠন পূর্বক অস্থায়ীভাবে গঠিত বিপ্লবী সরকারের স্থানীয় প্রধান এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খান এম.এন.এ-কে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জনাব এনায়েত হোসেন খান (এ্যাডভোকেট), ডাঃ আঃ হাই, আলী হায়দার খান (এ্যাডভোকেট), ডাঃ ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডল, এই চারজন উচু পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা হিসাবে পিরোজপুর মহকুমার মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন এবং দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[১৮]

৪ মে ১৯৭১

[সম্পাদনা]

৪ মে পিরোজপুরে প্রথমে হানাদার পাকবাহিনী প্রবেশ করে। হুলারহাট থেকে শহরে প্রবেশের পথে তারা মাছিমপুর আর কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় হিন্দু আর স্বাধীনতার পক্ষের মুসলমানদের বাড়িঘরে দেয়া হয় আগুন, হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষ।[১৮]

৬ মে ১৯৭১

[সম্পাদনা]

৬ মে রাজাকারদের সহায়তায় পিরোজপুরের তৎকালীন এস.ডি.ও (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক (কুমিল্লা), ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমান (নড়াইল), এস.ডি.পি.ও ফয়জুর আহমেদ (ময়মনসিংহ) কে গুলি করে হত্যা করা হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুরের অদূরে চালিতাখালী গ্রাম থেকে এক দড়িতে বেধে আনা হয় মোসলেম আলী শেখ, আব্দুর রহমান সরদার, খাউলবুনিয়ার আব্দুল গফফার মাস্টার, জলিল হাওলাদার, জুজখোলার সতীশ মাঝি এবং শামছু ফরাজীসহ ১২ জন স্বাধীনতাকামীকে। তাঁদেরকে বলেশ্বরের বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।[১৮]

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১

[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমা শহর শত্রুমুক্ত হয় এবং সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের। পিরোজপুরের ঘরে ঘরে উত্তোলিত হয় বিজয়ের পতাকা।[১৮]

সেক্টর ৯ নম্বর
সেক্টর কমান্ডারমেজর এম.এ জলিল
সাব-সেক্টর কমান্ডারমেজর (অব:) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ
স্মৃতিস্তম্ভের সংখ্যা৯ টি
মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা২৬৬০ জন (প্রায়)
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা৬১ জন (জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার)
উল্লেখযোগ্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধাআঃ রাজ্জাক (এস.ডি.ও), ফয়জুর রহমান আহমেদ (এস.ডি.পি.ও), হীরেন্দ্র মহাজন, ফজলুল হক খোকন, সাইফ মিজানুর রহমান (ম্যাজিস্ট্রেট), ওমর ফারুক (সভাপতি মহকুমা ছাত্রলীগ), ভাগিরথী সাহা, সামছুল হক, ড. আবুল খায়ের, গণপতি হালদার, শ্রী ললীত কুমার বল, ড. জোতির্ময় গুহঠাকুরতা, জহিরুদ্দিন বাহাদুর প্রমুখ।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা (জীবিত)এ.কে.এম.এ আউয়াল, মেজর (অব:) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ (মৃত), এ্যাড: এম.এ মান্নান, গৌতম রায় চৌধুরী, এম.এ রব্বানী ফিরোজ, এমডি লিয়াকত আলী শেখ বাদশা (মৃত) প্রমুখ।
মুক্তিফৌজ গঠন২৭ মার্চ ১৯৭১ বিকাল ৪ টা, পিরোজপুর সরকারি হাইস্কুল মাঠ
পিরোজপুর অস্ত্রাগার লুণ্ঠন১৯ মে ১৯৭১
পিরোজপুর শত্রুমুক্ত দিবস৮ ডিসেম্বর ১৯৭১

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]
কুড়িয়ানা, পিরোজপুরে ভাসমান বাজার
  • ভান্ডারিয়া শিশু পার্ক
  • কুড়িয়ানা ভাসমান বাজার
  • কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান
  • হরিণপালা রিভার ভিউ ইকোপার্ক
  • রায়েরকাঠি রাজবাড়ি
  • শাপ্লেজা কুঠিবাড়ি
  • সি আই পাড়া সরদার বাড়ি
  • সি আই পাড়া সর্দার বাড়ি পিরোজপুর মৌজার অন্তর্গত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা মৌজাটির প্রাথমিক বসতি ও নির্মাণ ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। পিরোজপুর মৌজার প্রণীত প্রাথমিক Sa নকশা অনুসারে, উক্ত সময়ে এই ভবনটিই এলাকাটিতে একমাত্র বিদ্যমান নির্মিত স্থাপনা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে সি আই পাড়া সর্দার বাড়িকে পিরোজপুর মৌজায় নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। Sa নকশা মৌজাভিত্তিক ভূমি ও অবকাঠামো সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক সরকারি নথি, যেখানে মৌজার ভৌগোলিক সীমানা, দাগ নম্বর, যোগাযোগপথ, জলাশয় এবং তৎকালীন নির্মিত স্থাপনাসমূহের অবস্থান পদ্ধতিগতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। উক্ত নকশায় সি আই পাড়া এলাকায় একমাত্র স্থাপনা হিসেবে সি আই পাড়া সর্দার বাড়ির উপস্থিতি নথিভুক্ত রয়েছে, যা ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নথিগতভাবে প্রতিপন্ন করে। এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে সি আই পাড়া ও পিরোজপুর মৌজার বিভিন্ন অংশে পর্যায়ক্রমে জনবসতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর বিকাশ ঘটে। প্রাচীনত্ব, নথিভুক্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বের কারণে সি আই পাড়া সর্দার বাড়ি পিরোজপুর মৌজার একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

[সম্পাদনা]
  • দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ - ১৪ আগস্ট ২০২৩), মোফাসসিরে কোরআন, সাবেক সংসদ সদস্য।
  • মহিউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবীদ।
  • আবদুর রহিম- ইসলামি পণ্ডিত, ইসলামি রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং লেখক তিনি একজন অনুবাদক হিসেবেও সর্বজন স্বীকৃত।
  • খান বাহাদুর হাশেম আলী খান (১৯৮৮-১৯৬২), নেছারাবাদ- বরিশাল জেলা মুসলিম লীগ এবং কৃষক প্রজা পারটির সভাপতি ছিলেন। শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হকের মন্ত্রীসভায় সমবায় ও কৃষি খাতক মন্ত্রী (১৯৪১) ছিলেন।
  • লুৎফর রহমান সরদার ১৯০৯-১৯৮৬ লুৎফর রহমান সরদার পিরোজপুরের সর্বপ্রথম মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত একটানা ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা মেম্বার একটানা ৯ বার মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত (মুসলিম লীগ নেতা) এবং ফিরোজপুর মহাকুমা টাউন কমিটির প্রধান ছিলেন। ১৯৮৬ সালের ১২ জুলাই ইন্তেকাল করেন।
  • শহীদ নূর হোসেন (১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭) মঠবাড়িয়া - রাজনৈতিক কর্মী ও শহীদ;১০ নভেম্বরকে বলা হয় শহীদ নূর হোসেন দিবস।তার খালি গায়ে লেখা ছিল "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক"। রাজধানীর জিরো পয়েন্টে তিনি গুলিতে শহীদ হন।
  • খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার (১৮৭২-১৯৮২), মঠবাড়িয়া - বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য (১৯৩৭, ১৯৪৬, ১৯৬২); কে,এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতা।
  • মেজর (অবঃ) মেহেদী আলী ইমাম (মৃত্যুঃ ১৯৯৬), মঠবাড়িয়া- স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানী, বীরবিক্রম
  • আনিস মোল্লা- মঠবাড়িয়া (দাউদখালী)- স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানী, বীরবিক্রম
  • তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, ভান্ডারিয়া (১৯১১-১৯৬৯) (সাংবাদিকতা ও রাজনীতি)- পিটি আই-এর পরিচালক, ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা।
  • চঞ্চল কর্মকার চিত্রশিল্পী।
  • আহসান হাবীব - (১৯১৭-১৯৮৫)- কবি ও সাংবাদিক।
  • আবুল খান- সিনেট সদস্য নির্বাচিত,আমেরিকা।
  • বেগম মতিয়া চৌধুরী- রাজনীতিবীদ, ও সাবেক কৃষি মন্ত্রী।
  • এনায়েত হোসেন খান, (১৯৩৩-১৯৭৯) রাজনীতিবীদ।
  • মোয়াজ্জেম হোসেন (১৯৩২-১৯৭১)- লেঃ কমান্ডার, স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা দেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে তিনি একটি গুপ্ত বিপ্লবী সেল গঠন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২ নং আসামী ছিলেন।
  • মেজর জিয়াউদ্দিন আহমদ, পিরোজপুর, নবম সেক্টরের সাব- সেক্টর কমান্ডার সাবেক পৌর চেয়ারম্যান, আফতাব উদ্দিন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
  • আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ভান্ডারিয়া- তিনি দশম জাতীয় সংসদ এর পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি বন ও পরিবেশ, যোগাযোগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি পিরোজপুর-২ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য হন।
  • শ ম রেজাউল করিম, নাজিরপুর - তিনি আইনজিবী ও বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমানে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
  • ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডল (১৮৩৯) নাজিরপুর- রাজনীতি সাবেক এমপি, সাবেক কৃষি ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী(১৯৭৩) ছিলেন।
  • মোস্তফা জামাল হায়দার, (নাজিরপুর)- রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।
  • জুয়েল আইচ, পিরোজপুর - যাদু শিল্পী অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার আন্তর্জাতিক যাদুশিল্পী।
  • হাসিবুল ইসলাম মিজান, পিরোজপুর - চলচ্চিত্র পরিচালক - জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক।
  • দিলীপ বিশ্বাস, পিরোজপুর - জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক।
  • মুহাম্মদ মিজানুর রহমান- সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক।
  • শাহরিয়ার নাফীস - জাতীয় দলের সাবেক উদ্বোধনী (ব্যাটসম্যান ) ক্রিকেটার
  • ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জাতীয় দলের ক্রিকেটার।
  • জায়েদ খান- অভিনেতা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সাবেক)।
  • জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী - বাংলাদেশের একজন মডেল এবং সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস বাংলাদেশ ২০১৮-এর মুকুটধারী।
  • মহিউদ্দীন মহারাজ - বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক জেলা প্রশাসক, আহ্বায়ক পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ।
  • মহিউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবীদ।
  • সৈয়দ আজিজুল হক - সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 Population and Housing Census 2022 National Report (পিডিএফ)। খণ্ড ১। Bangladesh Bureau of Statistics। নভেম্বর ২০২৩।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)
  2. Nupu, Ranjan Baksi (২০১২)। "Pirojpur District"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A. (সম্পাদকগণ)। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh
  3. 1 2 3 "ভৌগোলিক পরিচিতি"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৪
  4. "ইন্দুরকানী উপজেলা পেল নতুন দুই ইউনিয়ন |ইন্দুরকানী সদর"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
  5. "ইন্দুরকানী উপজেলা পেল নতুন দুই ইউনিয়ন | চন্ডিপুর ইউনিয়ন"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
  6. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd
  7. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (পিডিএফ)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯
  8. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮
  9. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮
  10. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮
  11. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮
  12. "Natural Assets in Pirojpur"। ২৮ আগস্ট ২০১৯। ১৮ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৪
  13. "Bangladesh Population & Housing Census-2011, Zila Report: Pirojpur" (পিডিএফ)Bangladesh Bureau of Statistics। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৪
  14. "Census of India, 1941 Volume VI Bengal Province" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২২
  15. "Pirojpur District at a glimpse"। ২৮ আগস্ট ২০১৯। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৪
  16. "পিরোজপুর জেলা"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৪
  17. "ভাষা ও সংস্কৃতি"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৪
  18. 1 2 3 4 5 "মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৪

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]