জামালপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জামালপুর জেলা
Jamalpur
জেলা
বাংলাদেশে জামালপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে জামালপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৫′উত্তর ৮৯°৫৮′পূর্ব / ২৪.৯২° উত্তর ৮৯.৯৬° পূর্ব / 24.92; 89.96স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৫′উত্তর ৮৯°৫৮′পূর্ব / ২৪.৯২° উত্তর ৮৯.৯৬° পূর্ব / 24.92; 89.96
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২০৩১.৯৮ কিমি (৭৮৪.৫৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)
 • মোট ২৩,৮৪,৮১০[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৮.৫%(
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা তথ্য বাতায়ন


পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত জামালপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যাংশের একটি জেলা এবং ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বিশেষ করে কৃষি পণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। এটি রেল পথে ময়মনসিংহ, জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, এবং বাহাদুরাবাদ ঘাট ও ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, এবং মেঘালয় (ভারত) এর সঙ্গে রাস্তা দ্বারা সংযুক্ত। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে মূলত প্রধান ফসলের মধ্যে ধান, পাট, আখ, সরিষা বীজ, চিনাবাদাম, এবং গম হয়।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

জামালপুর জেলার উত্তরে শেরপুর জেলা, দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলা, পূর্বে শেরপুর জেলাময়মনসিংহ জেলা এবং পশ্চিমে বগুড়া জেলাযমুনা নদী অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

জামালপুর জেলায় ৭টি উপজেলা রয়েছে। এগুলো হল:

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক সূত্রে জানাযায়, দিল্লির সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে (১৫৫৬- ১৬০৫) হযরত শাহ জামাল (রহ.) নামে একজন ধর্মপ্রচারক ইয়েমেন থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ২০০ অনুসারী নিয়ে এ অঞ্চলে এসেছিলেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় নেতা হিসাবে দ্রূত তার প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে। ধারনা করা হয়, হযরত শাহ জামাল (রহ.) এর নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয় জামালপুর। সাধক দরবেশ হযরত শাহ্ জামাল (র:) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গারো পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত বাংলাদেশের অন্যতম একটি জেলা জামালপুর। ১৯৭১ সালে ১০ ডিসেম্বর জামালপুর হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। ১৯৭৮ সালে ২৬ ডিসেম্বর জামালপুরকে বাংলাদেশের ২০তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিবরণ[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা ২৩,৮৪,৮১০ জন; পুরুষ ৫০.৫৮%, মহিলা ৪৯.৪২%; মুসলিম ৯৭.৭৪%, হিন্দু ১.৯৮%, খ্রিষ্টান ০.০১%, বৌদ্ধ ০.০৪% এবং অন্যান্য ০.১৪%; উপজাতিগোষ্ঠী: গারো, হদি, কুর্মী এবং মাল অন্যতম।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মসজিদ ৪২০২ টি, মন্দির ৪৪ টি, গীর্জা ৩৯, সমাধি ১৩, সবচেয়ে সুপরিচিত শৈলেরকান্ধা জামে মসজিদ, গৌরীপুর কাচারী জামে মসজিদ, শাহ জামাল (রা:) সমাধি, শাহ কামাল (রা:) এবং দয়াময়ী মন্দির।

শিক্ষার হার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

শিক্ষার গড় হার ৩৯.৫৫%, পুরুষ ৪১.১% , মহিলা ৩৫.৯%. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১ টি, মেডিকেল কলেজ ১ টি, সরকারী কলেজ ৫ টি, বেসরকারী কলেজ ২০ টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭ টি, বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২২৪ টি, মাদ্রাসা ১১৩ টি, জুনিয়র হাইস্কুল ৩৮ টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৮৮ টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৯০, kindergarten স্কুল ১৩, আইন কলেজ ১ টি, হোমিওপ্যাথি কলেজ ১ টি, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ১ টি।

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

  • শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়
  • জামালপুর মেডিকেল কলেজ
  • আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • জাহেদা সফির মহিলা কলেজ
  • জামালপুর আইন কলেজ
  • শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফিসারিজ কলেজ
  • শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ
  • সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ
  • এ এইচ জেড সরকারি কলেজ
  • যমুনা সারকারখানা স্কুল & কলেজ
  • জামালপুর জিলা স্কুল
  • সিংহজানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • নান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
  • পিংনা মাদ্রাসা (সম্রাট শাহজাহান এর সময়ের)

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ[সম্পাদনা]

মুক্তিযোদ্ধা[সম্পাদনা]

  • মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম (১৯৩৭-১৯৭৫)- মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং 'কে-ফোর্স'-এর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
  • ভাষা সৈনিক এডভোকেট আনোয়ারুজ্জামান
  • মোঃ নুরুল ইসলাম (বীর বিক্রম)
  • মোঃ মতিউর রহমান (বীর প্রতীক)
  • বশির আহমেদ (বীর প্রতীক)

রাজনীতিবিদ[সম্পাদনা]

  • মরহুম স্পীকার আব্দুল করিম - ঢাকার জগন্নাথ হলে ১৯৪৮ সালের ২৯ মার্চ ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির স্পিকার নির্বাচিত হন ।
  • আব্দুস সালাম তালুকদার (১৯৩৬-১৯৯৯)-বিএনপির মহাসচীব ও এলজিআরডি মন্ত্রী ও চারদলীয় লিঁয়াজো কমিটির চেয়ারম্যান ।
  • রাশেদ মোশারফ - সাবেক ভুমি প্রাতিমন্ত্রী ।
  • এম এ সাত্তার - জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ।
  • আবুল কালাম আজাদ - সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ।
  • সিরাজুল হক - সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ।
  • রেজাউল করিম হীরা - সাবেক ভূমি মন্ত্রী ।
  • মির্জা আজম (১৯৬২-) - হুইপ, প্রতিমন্ত্রী,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদ্‌ক, একাধারে পাঁচবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন ।
  • আব্দুল কাইয়ুম (১৯৪৮-)- সচিব,আই জি পি বাংলাদেশ পুলিশবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা ।

শিক্ষাবিদ ও গবেষক[সম্পাদনা]

  • আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন জয়- আধ্যাত্বিক জ্ঞানী ,ধর্ম যাজক ও শুফীসাধক,আলোচক,সমালোচক,বিশ্লেষনকারি,দার্শনিক,যুক্তিবাদি,সমাজসেবক,রাজনীতিবিদ ,চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ ৷
  • আতিউর রহমান অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ।
  • রাশিদা ফেরদৌস - জামালপুর জেলা থেকে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ।

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক[সম্পাদনা]

  • হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধের দলিল সম্পাদনার জন্য বিখ্যাত।
  • জগলুল হায়দার, আধুনিক বাংলা অণুকাব্য ও বিজ্ঞান ছড়ার জনক ।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ক্রীড়া ব্যাক্তিত[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

১| হযরত শাহ জামাল(রাঃ) এর মাজার শরীফ, জামালপুর জেলা সদর

২| হযরত শাহ কামাল(রাঃ) এর মাজার শরীফ, দুরমুট, উপজেলা-মেলান্দহ, জেলা- জামালপুর

৩| দয়াময়ী মন্দির, জামালপুর শহর(৩০০ বৎসরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির)

৪| লাউচাপড়া পিকনিক স্পট, উপজেলা- বকশীগঞ্জ, পর্যটক/অবকাশ যাপনকারীদের জন্য পাহাড়ের পাদ দেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান এবং পাহাড়ের উপর পর্যবেক্ষণ টাওয়ার

৫| যমুনা ফার্টিলাইজার, তারাকান্দি, উপজেলা-সরিষাবাড়ী, জেলা- জামালপুর

৬| জিল বাংলা চিনিকল, উপজেলা- দেওয়ানগঞ্জ, জেলা-জামালপুর

৭| যমুনা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উপজেলা- দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর, জেলা-জামালপুর

৮। যমুনা গার্ডেন সিটি, রুদ্রবয়ড়া, উপজেলা -সরিষাবাড়ি, জেলা - জামালপুর

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৬ জুন, ২০১৪