কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
ধরন
ধরন
এককক্ষ
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠাকাল জুলাই ১০, ২০১১ (২০১১-০৭-১০)
নেতৃত্ব
মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বিএনপি
নির্বাচন
ভোটদান ব্যবস্থা এফপিটিপি
সর্বশেষ নির্বাচন ৩০ মার্চ ২০১৭
সভাস্থল
নগর ভবন (সাবেক পৌর ভবন)

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের একটি সিটি করপোরেশন প্রশাসন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এই প্রশাসন কুমিল্লা জেলার কেন্দ্রে অবস্থিত কুমিল্লা মহানগরীর উন্নয়ন ও রক্ষনাবেক্ষণ কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে।

এই সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম প্রায় ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ২৭টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট [১] কুমিল্লা মেগাসিটির মধ্যে বিস্তৃত, যার আওতায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। এই প্রতিষ্ঠানটিতে আগে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা নামে দুটি পৌরসভা ছিল। ১০ জুলাই, ২০১১ তারিখে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসন পৌরসভা দুটিকে একটি সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা দেয়।[২]

কোর্ট রোড, কুমিল্লা শহরের একটি প্রধান সড়ক যা পূর্বে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের একটি অংশ ছিল। অধুনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মিত হওয়ার আগে এটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দর সহ দক্ষিণ পূর্ব বাংলাদেশের সাথে দেশের বাকি অংশের একমাত্র সংযোগ সড়কের অংশ।

ইতিহাস ও আত্মপ্রকাশ[সম্পাদনা]

১৭৯০ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন গঠনের মধ্য দিয়ে আজকের কুমিল্লা পৌর প্রশাসনের ইতিহাস শুরু হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময়ে মূল ত্রিপুরা জেলা ভারতের নব গঠিত ত্রিপুরা রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তৎকালীন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত কুমিল্লা অংশে নতুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অধুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়াচাঁদপুর জেলা তখন কুমিল্লা জেলার অন্তর্ভুক্ত দুটি উপ প্রশাসনের আওতাধীন ছিল।

১৮৯০ দশকে মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ছিল কুমিল্লা পৌর শহরের প্রথম প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। এটির নির্বাহী প্রধান নাগরিকদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন।

সিটি কর্পোরেশন আত্মপ্রকাশের আগে কুমিল্লা পৌর শহর প্রায় ১২৫ বছরের অধিক সময় যাবত পৌরসভার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছিল। এই সময়ে কুমিল্লার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব এবং জনসংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে একটি আবেদন পাঠানো হয়।[২]

এই আবেদনের ভিত্তিতে ৪ মার্চ, ২০১১ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিদ্যমান পৌরসভা প্রশাসনগুলোর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ চারটিকে সিটি কর্পোরেশনে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[৩]

২৩ জুন, ২০১১ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভার অস্তিত্ব বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি ছিল কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গঠনের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত সরকারি পদক্ষেপ।[৪]

পরে ১০ জুলাই, ২০১১ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গঠন ও এর কার্যক্রম আরম্ভের ঘোষণা দেয়া হয়।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সীমানা জটিলতায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনিশ্চিত। দৈনিক মানবজমিন। ২৪ অক্টোবর ২০১৬, সোমবার। সংগৃহীত ২০১১-০৭-১১ 
  2. Comilla Now A City Corporation। বাংলাদেশ ফার্স্ট ডট কম। ১১ জুলাই, ২০১১। সংগৃহীত ২০১১-০৭-১১ 
  3. Four new city corporation to be set up। দ্য ডেইলি স্টার। ৪ মার্চ, ২০১১। সংগৃহীত ২০১১-০৭-১১ 
  4. কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ঘোষণা: শহরে আনন্দ-উল্লাস। শীর্ষ নিউজ। ১১ জুলাই, ২০১১। সংগৃহীত ২০১১-০৭-১১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]