বগুড়া জেলা
এই নিবন্ধটি ইংরেজি উইকিপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ অনুবাদ করে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। (আগস্ট ২০২৪) অনুবাদ করার আগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি পড়ার জন্য [দেখান] ক্লিক করুন।
|
| বগুড়া জেলা | |
|---|---|
| জেলা | |
উপরে-বাম থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে: খেরুয়া মসজিদ, মাঠ শেরপুর উপজেলা, রাস্তা বগুড়া, সন্নাসির ভিটা ভাসু বিহার, গোকুল মেধ মহাস্থানগড়ে | |
বাংলাদেশে বগুড়া জেলার অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৬′৪৮″ উত্তর ৮৯°২১′০″ পূর্ব / ২৪.৭৮০০০° উত্তর ৮৯.৩৫০০০° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রাজশাহী বিভাগ |
| ইউনিয়ন | ১১১ টি |
| সদরদপ্তর | ১ টি |
| আসন | ৭ টি |
| সরকার | |
| • জেলা প্রশাসক | মো. তৌফিকুর রহমান |
| আয়তন | |
| • জেলা | ২,৯২০ বর্গকিমি (১,১৩০ বর্গমাইল) |
| • মহানগর | ৭১.৫৬ বর্গকিমি (২৭.৬৩ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • জেলা | ৩৫,৩৯,২৯৪ |
| • ক্রম | ০৬ |
| • জনঘনত্ব | ১,২০০/বর্গকিমি (৩,১০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৮৪.৯৯% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৫৮০০ |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫০ ১০ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি শিল্প শহর। সংখ্যানুসারে বগুড়া বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।[১] বাংলার একজন স্বাধীন সুলতান (১২৮৭–১২৯১) নাসিরউদ্দিন বগরা খানের নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয় বগড়া। যা কালের বিবর্তনে বগুড়াতে রুপান্তরিত হয়।[২] বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ গড়ে উঠেছিল এই বগুড়ায়। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনের বর্তমান নাম মহাস্থানগড়, যা বগুড়া জেলায় অবস্থিত এবং এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিত।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]৮৮.৫০ ডিগ্রী পূর্ব থেকে ৮৮.৯৫ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ২৪.৩২ ডিগ্রী উত্তর থেকে ২৫.০৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশে বগুড়া সদর উপজেলা অবস্থিত। উত্তরে জয়পুরহাট জেলা ও গাইবান্ধা জেলা, দক্ষিণে নাটোর জেলা ও সিরাজগঞ্জ জেলা, পূর্বে যমুনা নদী ও জামালপুর জেলা, পশ্চিমে নওগাঁ জেলা ও নাটোর জেলা।
বগুড়া ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পের বিপজ্জনক বলয়ে অবস্থিত। তাছাড়া বগুড়া জেলা বরেন্দ্রভূমির অংশবিশেষ, যা ধূসর ও লাল বর্ণের মাটির পরিচিতির জন্য উল্লেখ্য।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
[সম্পাদনা]বগুড়া জেলা ১৮২১ সালে জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলায় উপজেলার সংখ্যা মোট ১২ টি। বগুড়ায় একটি সিটি কর্পোরেশন(বগুড়া সিটি কর্পোরেশন),পৌরসভার সংখ্যা ১২ টি, ইউনিয়ন রয়েছে মোট ১১১ টি।
সংসদীয় আসন
[সম্পাদনা]ইতিহাস
[সম্পাদনা]খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে বগুড়া মৌর্য শাসনাধীনে ছিল। মৌর্য এর পরে এ অঞ্চলে চলে আসে গুপ্তযুগ। এরপর শশাঙ্ক, হর্ষবর্ধন, যশোবর্ধন পাল, মদন ও সেনরাজ
সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগড়া ১,২৭৯ থেকে ১,২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছিল বগড়া। কালের বিবতর্নে নামটি পরিবর্তিত হয়ে 'বগুড়া' শব্দে পরিচিতি পেয়েছে।
জনসংখ্যা উপাত্ত
[সম্পাদনা]২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৫,৩৯,২৯৪ জন। এর মধ্যে ১৭,৭৮,৫২৯ জন পুরুষ এবং ১৭,৬০,৭৬৫ জন নারী। জেলার সাক্ষরতার হার ৪৯.৪৬%। উত্তরবঙ্গের ১৬ টি জেলার মধ্য জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা হচ্ছে বগুড়া। এবং সারা বাংলাদেশে ষষ্ঠ বৃহত্তম জেলা।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]বগুড়া জেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিক দিয়ে অনেক উন্নত। এই জেলার শিক্ষার্থীরা মূলত উন্নত মানের লেখাপড়া করার জন্য দেশের ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় এবং দেশের বাহিরে গিয়েও লেখাপড়া করে আসে। বগুড়ায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যা বগুড়ার নামানুসারে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করা হয়েছে। এ জেলায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের ১ম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (রংপুর রোড,গোকুল,বগুড়া)। এছাড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অত্র জেলায় ১ টি সরকারি মেডিকেল কলেজ (শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ), ১টি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ, ১টি বেসরকারী প্রকৌশল কলেজ ৮ টি সরকারি কলেজ,১ টি 'ল' (আইন) কলেজ,১টি সরকারি মাদরাসা, ৭৬ টি বেসরকারি কলেজ, ১,৫৬৮ টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪০২ টি বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১,৫৬৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩ টি বেসরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়, ১ টি সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, ১ টি ভিটিটিআই, ২ টি পিটিআই, ১ টি টিটিসি ও ১ টি আর্টকলেজ, ১ টি আইএইচটি রয়েছে।[৩]
চিকিৎসা
[সম্পাদনা]
জেলায় মান সম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল যা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । জেলায় সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৭ টি এবং এতে চিকিৎসার জন্য বেড রয়েছে ১,২৮০ টি। অনুমোদিত ডাক্তারের জন্য ৩০৬ টি পদ রয়েছে যার মধ্যে ১২১ জন কর্মরত রয়েছে। মোট বেসরকারী হাসপাতাল রয়েছে ১৫৫ টি যেখানে বেড সংখ্য ১,৫০০টি (প্রায়)। [৩]
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]জেলার অর্থনীতি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি নির্ভরশীল।
কৃষি
[সম্পাদনা]জেলার প্রধান কৃষি পণ্য গুলো হলো ধান, পাট, আলু, মরিচ, গম, সরিষা, ভুট্টা, কলা সবজি, আখ ইত্যাদি। মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ২,২৩,৪১০ হেক্টর। পতিত জমি ৫,৩৪৩ হেক্টর। মাথাপিছু জমির পরিমাণ ০.২১ হেক্টর। জেলায় খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য ২৯ টি হিমাগার রয়েছে।[৩]
শিল্প
[সম্পাদনা]বগুড়া জেলায় ১২০ টি বড় শিল্প কারখানা, ১৯ টি মাঝারি শিল্প কারখানা, ২৩৫১ টি ক্ষুদ্র শিল্প এবং ৭৪৫ টি কৃষি ভিত্তিক শিল্প রয়েছে।[৩] বগুড়ায় তৈরি হয় প্রায় ২ হাজার রকমের হালকা প্রকৌশল ও কৃষি যন্ত্রপাতি।দেশের কৃষি যন্ত্রপাতির বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করে এখানকার কারখানাগুলো, যার আর্থিক মূল্য এক হাজার কোটি টাকা।[৪]
রপ্তানী পণ্য
[সম্পাদনা]কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে আলু, মরিচ, ভুট্টা, ও শাক সবজি। এসব পণ্য নেপাল, ভারতসহ অনেক দেশে রপ্তানি হয়। পাটজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাটের সুতা, সুতলি ও পাটের ব্যাগ। শেরপুর ও কাহালু উপজেলার গ্রামীণ নারীদের তৈরি নানা ধরনের হস্তশিল্প পণ্য রপ্তনি হয় জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, ইতালি, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের ১৮টি দেশে। বগুড়ায় তৈরি বিশেষ ধরনের পোশাক সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়। শেরপুর, ধুনট উপজেলার শতাধিক গ্রামে নারীদের তৈরি জালি সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, দুবাই, ভারত ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশে রপ্তানি হয়।
সেচপাম্প রপ্তানির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় উৎপাদিত যান্ত্রিক পণ্যে বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়। রপ্তানিকৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সেচপাম্প ও এর যন্ত্রাংশ, লাইনার, ধানমাড়াইয়ের যন্ত্র, ডিজিটাল স্কেল, ট্রান্সফরমার এবং টিউবওয়েল। বর্তমানে বগুড়ার পণ্য ভারত, নেপাল ছাড়াও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপানসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারে যাচ্ছে।
২০১৯ সালে ভারত ও নেপালের বাজারে রপ্তানি হয়েছে প্রায় সোয়া সাত কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। এর বড় একটি অংশ এসেছে রাইস ব্র্যান অয়েল থেকে।[৫]
চিত্তাকর্ষক স্থান
[সম্পাদনা]- মহাস্থানগড়
- গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)
- ভাসু বিহার
- শীলাদেবীর ঘাট
- গোবিন্দভিটা
- রাজা পরশুরামের বাড়ি
- জীয়ত কুণ্ড
- শাহ সুলতান বলখি (রহ.) এর মাজার
- মহাস্থানগড় যাদুঘর

- যোগীর ভবণ
- বিহার
- ভীমের জাঙ্গাল
- খেরুয়া মসজিদ
- নবাব বাড়ি (সাবেক নীল কুঠির)
- বিজয়াঙ্গন যাদুঘর, বগুড়া সেনানিবাস, শাজাহানপুর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়াম

- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, শেরপুর,
- বাংলাদেশ মশলা গবেষণা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ
- মম-ইন (Momo Inn), ঠেঙ্গামারা, বগুড়া সদর
- হোটেল নাজ গার্ডেন, ছিলিমপুর, বগুড়া সদর
- পর্যটন মোটেল, বনানী, বগুড়া সদর
- ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, বগুড়া সদর
- মম-ইন ইকো পার্ক, ঠেঙ্গামারা, বগুড়া সদর
- রানার প্লাজা (শপিংমল),বগুড়া সদর।
- মধুবন সিনেপ্লেক্স, চেলোপাড়া, বগুড়া সদর (সিনেমা হল)
- জেলা শিল্পকলা একাডেমী, ফুলবাড়ী, বগুড়া সদর
- পুলিশ প্লাজা (শপিংমল), বগুড়া সদর
যোগাযোগ ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। মূলত ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় যেতে বগুড়াকে অতিক্রম করতে হয় বলেই এরকম বলা হয়ে থাকে। বগুড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত মানের। ট্রেন এবং বাস উভয় ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে আসা যায়। জেলায় মোট রাস্তার পরিমাণ ৬,০৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা রয়েছে ২,৩১০ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৩,৭৩১ কিলোমিটার। এছাড়াও জেলার উপর দিয়ে ৯০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে
সড়ক পথ
[সম্পাদনা]ঢাকা - বাংলাবান্ধা মহাসড়কটি (এন৫) বগুড়া জেলার একেবারে মধ্যভাগ দিয়ে শেরপুর, শাহজাহানপুর, বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে চলে গেছে। ভারী এবং দূর পাল্লার যানবাহন চলাচলের জন্য মূল সড়কের পাশাপাশি রয়েছে প্রশস্ত দুটি বাইপাস সড়ক। প্রথমটি ১ম বাইপাস নামে পরিচিত শহরের পশ্চিম দিকে মাটিডালি থেকে শুরু হয়ে বারপুর, চারমাথা, তিনমাথা রেলগেট, ফুলতলা হয়ে বনানীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়টি ২য় বাইপাস নামে পরিচিত যা ২০০০ সালের পরবর্তীকালে নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বাইপাসটি মাটিডালি থেকে শুরু হয়ে শহরের পূর্ব পাশদিয়ে জয়বাংলা বাজার, সাবগ্রাম হয়ে বনানীতে গিয়ে মুল সড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। এছাড়া নাটোর, পাবনা, রাজশাহী সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলা গুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য একটি আলাদা মহাসড়ক রয়েছে যা নন্দীগ্রাম উপজেলার মধ্যদিয়ে নাটোরের সাথে সংযুক্ত। নওগাঁ জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য চারমাথা থেকে আরেকটি সংযোগ সড়ক কাহালু, দুপচাঁচিয়া, সান্তাহারের মধ্য দিয়ে নওগাঁয় গিয়ে শেষ হয়েছে। এছাড়া বগুড়া জয়পুরহাট জেলাকে সংযুক্ত করার জন্য রয়েছে মোকামতলা হতে আলাদা সড়ক ব্যবস্থা।
রেল
[সম্পাদনা]বগুড়া জেলার সর্ব পশ্চিমে রয়েছে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্রডগেজ লাইন নাটোর থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত সান্তাহারের উপর দিয়ে চলে গেছে। এছাড়া সান্তাহার থেকে একটি মিটারগেজ লাইন আদমদিঘী, তালোড়া, কাহালু, বগুড়া শহর, গাবতলী, সুখানপুকুর, সোনাতলা হয়ে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটকে সংযুক্ত করেছে।
আকাশ পথ
[সম্পাদনা]বগুড়ার একমাত্র বিমানবন্দর "বগুড়া বিমানবন্দর" টি[৬] বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। তবে বিমান বন্দরটি বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহ্যবাহী উৎসব
[সম্পাদনা]পোড়াদহ মেলা
[সম্পাদনা]বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মেলার মধ্যে পোড়াদহ মেলা[৭] উল্লেখযোগ্য। বগুড়া শহর হতে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষ্যে প্রতি বছর এ মেলা হয়ে আসছে। পোড়াদহ নামক স্থানে মেলা বসে তাই নাম হয়েছে পোড়াদহ মেলা। কথিত আছে, প্রায় সাড়ে চারশত বছর পূর্বে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষ্যে এই মেলা হয়ে আসছে। প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ দিনের পরবর্তী বুধবারে এই মেলা হয়ে আসছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ বড় মাছ আর বড় মিষ্টি। এছাড়াও থাকে নারীদের প্রসাধন, ছোটদের খেলনা, কাঠ ও স্টিলের আসবাব ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। মেলা প্রধানত একদিনের হলেও উৎসব চলে তিনদিন ব্যাপী। বুধবার মূল মেলার পরদিন বৃহস্পতিবার একই স্থানে এবং একই সাথে আশেপাশের গ্রামে গ্রামে চলে বউ মেলা। যেহেতু অনেক মেয়েরা মূল মেলায় ভিড়ের কারণে যেতে পারে না তাই তাদের জন্যই এই বিশেষ আয়োজন। বউ মেলায় শুধু মেয়েরা প্রবেশ করতে পারে এবং কেনাকাটা করতে পারে।
কলসদহ ঐতিহাসিক ঘোড় দৌড় খেলা ও পৌষ মেলা
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বহু লোকজ উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী কলসদহের ঘোড় দৌড় খেলা ও পৌষ মেলা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। যা প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষে এবং জানুয়ারীর শুরুতে ৭ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
কলসদহ, বাংলাদেশের বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার অন্তর্গত দিগদাইড় ইউনিয়ন এর একটি ছোট গ্রাম। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত। এখানে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক ঘোড় দৌড় খেলার আয়োজন এবং পৌষ মেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রধানত শীতকালীন সময় অর্থাৎ পৌষ মাসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হয় যা সারা অঞ্চলের মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।
২০০৯ সাল হতে কলসদহ গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী, আব্দুল মান্নান ঠক, আব্দুল আজিজ খাজা, মোখলেছার রহমান চাপ্পি, ফারাজুল ইসলাম ফটু, হাসান মাহমুদ পিন্টু, রঞ্জু মিয়া, দেলোয়ার হোসেন বুলু, ফুলমিয়া সাকিদার, সোনা মিয়া, বাবু, বক্কর আরও অনেকে মিলে কলসদহ যুব সমবায় সমিতির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ঘোড় দৌড় খেলা ও পৌষ মেলা আয়োজন করে। যার একক অভিভাবক ছিলেন মরহুম জননেতা আব্দুল মান্নান এমপি।
এই প্রতিযোগিতাটি সাধারণভাবে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সাহস প্রদর্শনের এক অনন্য সুযোগ দেয়। প্রতিটি বছর স্থানীয় জনগণ নিজেদের পছন্দ মতো সুন্দর এবং দ্রুতগতির ঘোড়া নিয়ে আসেন নওগাঁ, নাটোর, জামাল্পুর, মাদারগঞ্জ, সারিয়াকান্দি, ময়মনসিংহ সহ নানান জায়গা থেকে। যারা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এই খেলায় অংশগ্রহণকারীরা কেবলমাত্র পুরস্কার জিততে চায় না, বরং তারা নিজেদের গর্ব ও পরিচিতি অর্জনের জন্যও এটির প্রতি আগ্রহী হন। ঘোড় দৌড়ে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত নিজস্ব ট্রেনিং নেন এবং তাদের ঘোঁটাদের প্রস্তুতি নেন যা পুরো অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। দর্শকরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে তাদের পছন্দের প্রতিযোগীদের সমর্থন করেন, যা পুরো পরিবেশকে উজ্জ্বল করে তোলে।
খারুয়া মেলা
[সম্পাদনা]খারুয়া মেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন লোকজ মেলা। বগুড়া জেলা শহর হতে ১৩ কিলোমিটার পূর্বদিকে খারুয়া দহ নামক স্থানে প্রতি বছর যে মেলা বসে তাই খারুয়া মেলা নামে পরিচিত। একে ছোট সন্ন্যাসী মেলা বলেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে গ্রামীণ মেলাসেমূহের মধ্যে বগুড়ার খারুয়া মেলা অন্যতম। মেলাটি প্রায় ৩শত বছর পূর্বে শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার শাজাহানপুরের জালশুকা গ্রামের খারুয়া দহে অনুষ্ঠিত এ মেলা। মেলাটি এ এলাকার প্রায় ৩শ’ বছরের ঐতিহ্য।
কেল্লাপোষী মেলা
[সম্পাদনা]বগুড়ার শেরপুরে ৪৫৭ বছর পূর্ব থেকে এ মেলা হয়ে আসছে। মেলার তারিখ প্রতিবছর জৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রোববার।[৮]
শীবের মেলা
[সম্পাদনা]গাংনগরের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শীবের মেলা।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- জিয়াউর রহমান (১৯৩৬-১৯৮১) প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট
- প্রফুল্ল চাকী (১৮৮৮-১৯০৮), ব্রিটিশ বিরোধী আন্দলনের নেতা
- মোহাম্মদ আলী (মৃত্যু ১৯৬৯), পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
- মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার (১৯৩৫-১৯৭৬), বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং বিমান বাহিনী প্রধান
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭), সাহিত্যিক ও গল্পকার
- মহাদেব সাহা, সাহিত্যিক
- মমতাজুর রহমান তরফদার - ঐতিহাসিক
- রোমেনা আফাজ, সাহিত্যিক
- মনোজ দাশগুপ্ত - কবি ও লেখক
- মাহফুজুর রহমান, চেয়ারম্যান, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ
- গাজীউল হক (১৯২৯-২০০৯), ভাষা সৈনিক
- এম আর আখতার মুকুল, (১৯২৯-২০০৪), লেখক এবং সাংবাদিক
- গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, রাজনীতিবিদ
- মুশফিকুর রহিম, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়
- শফিউল ইসলাম সুহাস- জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়
- অপু বিশ্বাস, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
- তরুণ মজুমদার, চিত্রপরিচালক
- হোসনে আরা বেগম, নির্বাহী পরিচালক, ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ
- আলী আকবর, উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- আবু সাইয়ীদ, চলচ্চিত্র পরিচালক
- মাহমুদুর রহমান মান্না, রাজনীতিবিদ
- আব্দুল মান্নান, সংসদ সদস্য
- কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ
- হিরো আলম, চলচ্চিত্র অভিনেতা
- হাছানাত আলী, অধ্যাপক
- পিনাকী ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী
- সাদিয়া ইসলাম মৌ, বিখ্যাত মডেল ও নৃত্যশিল্পী
- তৌহিদ হৃদয়, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়
- তানজিদ হাসান, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করেছে সরকার"। বাংলানিউজ২৪। ১৭ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ বগুড়া জেলা পরিষদ (৬ এপ্রিল ২০২৩)। "(বগুড়া) জেলার পটভূমি"। www.bogra.gov.bd। ৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৩।
- 1 2 3 4 "একনজরে বগুড়া জেলা"।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ1=এর জন্য|প্রথমাংশ1=অনুপস্থিত (সাহায্য);|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ বগুড়ায় তৈরি হচ্ছে ২ হাজার রকমের যন্ত্রপাতি, প্রথম আলো, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
- ↑ "বগুড়া থেকে রপ্তানি ৬০৭ কোটি টাকা"। ১৩ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ "এক নজরে বগুড়া জেলা"। Time Corporation। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৫।
- ↑ "ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা কাল॥ বউ মেলা বৃহস্পতিবার - daily nayadiganta"। The Daily Nayadiganta।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "বগুড়ার শেরপুরে জামাইবরণ মেলা শুরু আজ"। amardeshonline.com। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |