পাবনা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
পাবনা
জেলা
বাংলাদেশে পাবনা জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে পাবনা জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২৪′৩৬.০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০″ পূর্ব / ২৪.৪১০০০০° উত্তর ৮৮.৯৩০০০০° পূর্ব / 24.410000; 88.930000স্থানাঙ্ক: ২৪°২৪′৩৬.০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০″ পূর্ব / ২৪.৪১০০০০° উত্তর ৮৮.৯৩০০০০° পূর্ব / 24.410000; 88.930000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রাজশাহী বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২৩৭১.৫০ কিমি (৯১৫.৬৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২৮,৬০,৫৪০
 • ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৯৮.৪৭%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫০ ৭৬
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

পাবনা জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল।[২]

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে অবস্থিত পাবনা জেলা রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে। এটি ২৩°৪৮′ হতে ২৪°৪৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০২′ হতে ৮৯°৫০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তর দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা আর দক্ষিণে পদ্মা নদী একে ফরিদপুরকুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে। এর পূর্ব প্রান্তদিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে এবং পশ্চিমে নাটোর জেলা। পাবনার কাজীরহাট নামক স্থানে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

পাবনা জেলা নিম্নলিখিত উপজেলায় বিভক্ত:

  1. আটঘরিয়া উপজেলা,
  2. ঈশ্বরদী উপজেলা,
  3. চাটমোহর উপজেলা,
  4. পাবনা সদর উপজেলা,
  5. ফরিদপুর উপজেলা,
  6. বেড়া উপজেলা,
  7. ভাঙ্গুরা উপজেলা,
  8. সাঁথিয়া উপজেলা,
  9. সুজানগর উপজেলা,
  10. আমিনপুর থানা,
  11. আতাইকুলা থানা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে পাবনা স্বীকৃতি লাভ করে। ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেলার বেশির ভাগ অংশ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখনকার দিনে এসব এলাকায় সরকারের দায়িত্বপূর্ণ কর্মচারীদের খুব অভাব ছিল। পুলিশের অযোগ্যতা এবং জমিদারদের পক্ষ থেকে ডাকাতি ঘটনার তথ্য গোপন রাখা বা এড়িয়ে যাওয়া হতো। গ্রামাঞ্চলে ডাকাতেরা দলে দলে ঘুরে বেড়াত। চলনবিল এলাকায় জলদস্যুদের উপদ্রব চলছিল দীর্ঘ দিন ধরে। এদের প্রতিরোধ করতে ও শাসনতান্ত্রিক সুবন্দোবস্তের জন্যে কোম্পানি সরকারের মন্তব্য অনুসারে পাবনায় সামগ্রিক ভাবে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে তা স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং তাকে স্বতন্ত্র ডিপুটি কালেক্টর রুপে নিয়োগ করা হয়।

রাজশাহী জেলার ৫টি থানা ও যশোর জেলার ৩টি থানা নিয়ে সর্ব প্রথম পাবনা জেলা গঠিত হয়। সময় সময় এর এলাকা ও সীমানার পরিবর্তন ঘটেছে। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ২১ নভেম্বর যশোরের খোকসা থানা পাবনা ভুক্ত করা হয়। অন্যান্য থানা গুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহীর খেতুপাড়া, মথুরা, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ ও পাবনা। ‘যশোরের চারটি থানা ধরমপুর, মধুপুর, কুস্টিয়া ও পাংশা’। তখন পশ্চিম বাংলার মালদহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ডব্লিউ মিলস জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন পাবনায়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে সেশন জজের পদ সৃষ্টি হলে এ জেলা রাজশাহীর দায়রা জজের অধীনে যায়। ১৮৪৮ খৃস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর জেলার পূর্ব সীমা নির্দিস্ট করা হয় যমুনা নদী। ১২ জানুয়ারি ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ থানাকে মোমেনশাহী জেলা থেকে কেটে নিয়ে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মহকুমায় উন্নীত করে পাবনা ভুক্ত করা হয়। নিযুক্ত করা হয় ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। এর ২০ বছর পর রায়গঞ্জ থানা এ জেলায় সামিল হয়।

নীল বিদ্রোহ চলাকালে শান্তি শৃংখলার অবনতি হলে লর্ড ক্যানিং ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে জেলায় একজন কালেক্টর নিযুক্ত করেন। এর আগে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা প্রশাসক হয়ে আসেন টি.ই. রেভেন্স। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ ও ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে পাবনায় মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত হয় জেলা বোর্ড। যখন কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে তখন স্বভাবতই এ জেলা ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী মহারাণী ডিক্টোরিয়ার শাসনাধীনে চলে যায়। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে পাংশা, খোকসা ও বালিয়াকান্দি এই তিনটি থানা নিয়ে পাবনার অধীনে কুমারখালী মহকুমা গঠন করা হয়। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়া থানা এ জেলা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে পাংশা থানা ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমায় এবং কুমারখালী থানা কুষ্টিয়া মহকুমার সাথে সংযুক্ত করা হয়। এ ভাবে এ জেলার দক্ষিণ সীমানা হয় পদ্মা নদী। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে কুমারখালী থানা সৃষ্টি হলে তা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে পাবনার একটি মহকুমা হয়। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা অবলুপ্ত করে কুষ্টিয়া মহকুমার অংশ করা হয়। ১৮৭৯ তে জজ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে কয়েকটি থানা বদলে যায়।

পাবনা নামের উদ্ভব সম্পর্কে বিশেষ ভাবে কিছু জানা যায় না। তবে বিভিন্ন মতবাদ আছে। প্রত্নতাত্মিক কানিংহাম অনুমান করেন যে, প্রাচীন রাজ্য পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের নাম থেকে পাবনা নামের উদ্ভব হয়ে থাকতে পারে। তবে সাধারণ বিশ্বাস পাবনী নামের একটি নদীর মিলিত স্রোত ধারার নামানুসারে এলাকার নাম হয় পাবনা।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ২৮,৬০,৫৪০ জন ।

  • পুরুষ ১৪,৫৬,৮০৯,
  • মহিলা ১৪,০৩,৭৩১,
  • মুসলিম ৯৫.১২%,
  • হিন্দু ৪.৫০%,
  • খ্রীষ্টান ০.২২%,
  • অন্যান্য ০.১৬%।

সাধারণ তথ্যাবলী[সম্পাদনা]

  • উপজেলার সংখ্যা ৯টি
  • থানার সংখ্যা ১১টি
  • পৌরসভার সংখ্যা ১০টি (কাশীনাথপুর পৌরসভা)
  • গ্রামের সংখ্যা ১,৫৪৯টি
  • ইউনিয়নের সংখ্যা ৭৪টি[৩]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

এই জেলার সড়ক, স্থল, জলপথ ও বিমানপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কাছাকাছি পাবনা রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত। কাছাকাছি রেল স্টেশনগুলি তেবুনিয়া, চাটমোহর উপজেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত। ঈশ্বরদী উপজেলা উত্তর বাংলার এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলওয়ে শাখা। এই জেলায় নয়টি রেলওয়ে স্টেশন আছে: ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী বাইপাস, পাকশি, মুলাদুলী, চাটমোহর, ভঙ্গুর, বরল সেতু, শারত নগর, দিলপশার এবং গুয়াকারা।

ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি বিমানবন্দর রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীতে সপ্তাহে দুইবার বিমান পরিচালনা করত। তবে, এই মুহূর্তে কোনও উড়োজাহাজ কোম্পানি ঈশ্বরদীতে কোন বিমান পরিচালনা করছে না।

কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

কুখ্যাত ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, তিনি পাকিস্তানীদের পক্ষে যোগ দেন। এই সময় তিনি পাবনাতে প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বুদ্ধিজীবী হত্যার ক্ষেত্রে তিনি মূখ্য ভূমিকা রাখেন।

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজামী এবং দলের আরো কয়েকজন প্রধান নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক তাড়াশ ভবন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৮) বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালের ১৫ জুলাই "পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১" প্রণয়ন করার মাধ্যমে পাবনা জেলার নগরবাড়ী মহাসড়কের উত্তর পাশে গয়েশপুর ধোপাঘাটা নামক স্থানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর জারি করা হয় এসআরও (নং ২৭৮)। শুরুতে রাজাপুরের টিটিসি ক্যাম্পাসকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে পাবনা শহরের ৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে রাজাপুর নামক স্থানে মূল ক্যাম্পাস চালু করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ জুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম উদ্বোধন করেন তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, বীর উত্তম। ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মূল ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউজিসি-র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।
  • পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (২০০৬) ব্রিটিশ ভারতের টেক্সটাইল প্রকৌশলীর চাহিদা মেটাতে ১৯১৫ সালে পাবনা সরকারি বুনন স্কুল নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলার তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। ১৯৮০ সালে ২বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়। তখন এর নাম হয়, পাবনা জেলা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট। সময়ের চাহিদা মেটাতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে ৩বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু হয়। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৪বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালুর. নির্দেশ দেন। তখন এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ছিল এবং নামকরণ করা হয় পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কলেজটি বর্তমানে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।
  • পাবনা মেডিকেল কলেজ (২০০৮) প্রধানমন্ত্রীর নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা অনুযায়ী ২২-০৯-২০০৮ ইং তারিখে পাবনা মানসিক হাসপাতালের পেছনে দুটি পরিত্যক্ত ভবনে প্রশাসনিকভাবে পাবনা মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। পরের বছর একই জায়গার ৩০ একর জমির উপর এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালে ৬তলা প্রশাসনিক ভবনের কাজ শেষ হলেও নির্মাণ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
  • পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট (১৯৯৪) পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োগ ঘটে। এটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত শিক্ষাক্রমগুলো হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন হেল্থ টেকনোলজি, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল)। বোর্ড এর অধীনে চার বছর মেয়াদী শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়।
  • পাবনা এডোয়ার্ড কলেজ (১৮৯৮) ১৮২৮ সালে পাবনা জেলার ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারিত হওয়ার পর, এ অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারের কথা চিন্তা করা হয়। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে শ্রী গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী পাবনায় প্রথমে “পাবনা ইনস্টিটিউশন” (বর্তমান গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউট) নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে এ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষেই গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী এডওয়ার্ড কলেজের কার্যক্রম শুরু করেন। একই বছর ডিসেম্বরে এফ.এ স্ট্যান্ডার্ড কলেজ নামে কলেজটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। প্রথমদিকে কলেজটি মাত্র ২৬ জন শিক্ষার্ত্রী নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী ১৯০৬ সাল পর্যন্ত কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এবং সেসময় এর নাম পরিবর্তন করে পাবনা কলেজ নামকরণ করা হয়। ১৯১১ সালে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ভারতের তৎকালীন সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের নামানুসারে এডওয়ার্ড কলেজ করা হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় ও প্রথমদিকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন তাড়াশের জমিদার রায় বনমালী রায় বাহাদুর, কুষ্টিয়ার আমলা সদরপুরের জমিদার, নীলবিদ্রোহের নেত্রী প্যারীসুন্দরী দেবী (মতান্তরে দাসী)র উত্তরাধিকারী গোপী সুন্দরী দাসী ও দেবেন্দ্র নারায়ণ সিংহ, অধ্যাপক হেম চন্দ্র রায়, গোপালচন্দ্র লাহিড়ী, রাধিকা নাথ বসুসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
  • পাবনা ইসলামিয়া কলেজ
  • পাবনা জিলা স্কুল (১৮৫৩) পাবনা জেলা স্কুল পাবনা জেলার সবচেয়ে পুরাতন উচ্চ বিদ্যালয় এবং এটি বাংলাদেশ এর অন্যতম পুরানো বিদ্যালয়। বাংলাদেশের সেরা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এটি তৃতীয় শ্রেণী হইতে এস. এস. সি. পর্যন্ত শিক্ষা দিয়ে থাকে। এই বিদ্যালয়এ দুইটি শিফট রয়েছে। এগুলো হল প্রভাতী ও দিবা। প্রভাতী শাখা সকাল ৭.১৫ মিঃ থেকে এবং দিবা শাখা দুপুর ১২.০০ মিঃ শুরু হয়। এটি শুধুমাত্র ছেলেদের স্কুল হলেও এখানে পুরুষ ও মহিলা উভয় শিক্ষক রয়েছেন। এই স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক এবং দিবা ও প্রভাতী শাখার জন্য পৃথক পৃথক শিক্ষক রয়েছেন। পাবনা জিলা স্কুলে বিশালাকার একটি খেলার মাঠ এবং তিনটি বড় স্তাপনা রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে প্রশাসনিক,একাডেমিক ও বিজ্ঞান ভবন নামে পরিচিত। এছাড়া এখানে একটি হল রুম , একটি ছাত্রাবাস এবং একটি মসজিদ রয়েছে। এখানে তিনটি সুসমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব ছারাও চারটি পৃথক ল্যাব রয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, বায়োলজি এবং কৃষি শিক্ষার জন্য। এখানে আরও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী রয়েছে ।
  • পাবনা ক্যাডেট কলেজ (১৯৮১) পাবনা ক্যাডেট কলেজ বাংলাদেশের পাবনার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের প্রাচীন দশটি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে অন্যতম; যা ১৯৮১ সালের ৭ আগষ্ট 'পাবনা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ' থেকে 'ক্যাডেট কলেজ'-এ রূপান্তরিত হয়। এই কলেজটি পাবন শহর থেকে ১০ কি.মি. দূরে পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। আজ পর্যন্ত পাবনা ক্যাডেট কলেজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ অন্যান্য বিষয়ে সাফল্য বজায় রেখেছে।
  • পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৩) পাবনা জেলার প্রাচীনতম মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির একটি। স্কুলটি তিন থেকে দশ শ্রেণী (এসএসসি) থেকে শিক্ষা প্রদান করে। বিদ্যালয়টি প্রভাতী ও দিবা এই দুই সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে - প্রভাতী শাখার শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিট হতে এবং দিবা শাখার শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ১২টা ৩০ মিনিট হতে। এই বিদ্যালয়টি কেবল মেয়েদের জন্য হলেও এখানে পুরুষ এবং মহিলা - উভয় ধরনের শিক্ষকই রয়েছেন। প্রভাতী ও দিবা এই দুই শাখার জন্য একজনই প্রধান শিক্ষক হলেও উভয় শাখার জন্য শিক্ষকগণ ভিন্ন। এখানে একটি খেলার মাঠ, তিনটি ভবন এবং একটি মসজিদ আছে। এছাড়াও এখানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং কম্পিউটার শিক্ষার জন্য পৃথক গবেষণাগার আছে।
  • ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ
  • ঈশ্বরদী ইক্ষু গবেষণা উচ্চবিদ্যালয়
  • চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ, ঈশ্বরদী
  • শহীদ বুলবুল আহম্মেদ কলেজ
  • পাবনা মেরিন একাডেমি
  • ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
  • পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসা
  • পাকশী রেলওয়ে কলেজ
  • আরিফপুর জে,ইউ, এস ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসা, পাবনা
  • আলহাজ্ব আছির উদ্দীন সরদার শিশু একাডেমী ও উচ্চ বিদ্যালয়, পাবনা
  • বেড়া কলেজ
  • আমিনপুর আয়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়

পত্রিকা[সম্পাদনা]

দৈনিক ইছামতি, দৈনিক স্বতকন্ঠ, দৈনিক পাবনা বার্তা, দৈনিক জীবন কথা, দৈনিক বিবৃতি, দৈনিক সিনসা, সাপ্তাহিক ঈশ্বরদী, সময়ে ইতিহাস, পদ্মার খবর, মিরকামারী নিউজ, সাপ্তাহিক বাঁশপত্র, প্রযুক্তির সূর্য,pabnanews24.com

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

পাবনার অর্থনীতি বেশ সমৃদ্ধ। এখানে প্রচুর ছোটবড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। যেমন,

  • স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড
  • স্কয়ার ট্রয়লেটিজ লিমিটেড
  • স্কয়ার কনজুমার প্রডাক্ট লিমিটেড
  • ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড
  • নিয়ন ফার্মা
  • রশিদ রাইস ব্রান ওয়েল
  • বেঙ্গল মিট
  • আসলাম এগ্রো ফুড
  • গাভী মার্কা সিমেন্ট

এছাড়া পাবনা শহরে বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে যেখানে যথেষ্ট সংখ্যক শিল্প কারখানা আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে পাবনা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. http://www.dcpabna.gov.bd/index.php?option=com_content&view=article&id=198&Itemid=84&limitstart=1
  3. http://www.pabna.gov.bd/site/page/14642512-1ab0-11e7-8120-286ed488c766http://www.pabna.gov.bd/site/page/14642512-1ab0-11e7-8120-286ed488c766