মুন্সিগঞ্জ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মুন্সিগঞ্জ
জেলা
বাংলাদেশে মুন্সিগঞ্জ জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে মুন্সিগঞ্জ জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°২০′উত্তর ৯০°১২′পূর্ব / ২৩.৩৩° উত্তর ৯০.২০° পূর্ব / 23.33; 90.20স্থানাঙ্ক: ২৩°২০′উত্তর ৯০°১২′পূর্ব / ২৩.৩৩° উত্তর ৯০.২০° পূর্ব / 23.33; 90.20
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৯৫৪.৯৬ কিমি (৩৬৮.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট ১৫,০২,৪৪৯
 • ঘনত্ব ১৬০০/কিমি (৪১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬০.১%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা তথ্য বাতায়ন

মুন্সিগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। মুন্সিগঞ্জ ঢাকা বিভাগের একটি জেলা। মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন নাম বিক্রমপুর

ভৌগোলিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জ জেলার উত্তরে ঢাকা জেলা, দক্ষিণে ফরিদপুর জেলা, পূর্বে মেঘনা নদী ও কুমিল্লা জেলা এবং পশ্চিমে পদ্মা নদী ও ফরিদপুর জেলা অবস্থিত।আয়তন: ৯৫৪.৯৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°২৩´ থেকে ২৩°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°১০´ থেকে ৯০°৪৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।মোট আয়তন ২৩৫৯৭৪ একর যার মধ্যে ১৩৮৪৭২ একর চাষযোগ্য এবং ৫৬০৯ একর নিচু জমি। মুন্সিগঞ্জ সমতল এলাকা নয়। জেলার কিছু কিছু অঞ্চল যথেষ্ট উচু যদিও জেলায় কোনো পাহাড় নেই। মুন্সিগঞ্জের বেশির ভাগ এলাকা নিম্নভূমি বলে বর্ষায় পানিতে অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।

পূর্বে-কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও হোমনা উপজেলা, চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলা যা মুন্সিগঞ্জের সাথে প্রবাহিত মেঘনা নদীর দ্বারা বিভাজিত।

পশ্চিমে-শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলাকে পদ্মা নদী বিভাজিত করেছে।

উত্তরে-ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও দোহার উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা।

দক্ষিণে-পদ্মা নদী যার অপর পাশে শরিয়তপুর জেলা।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জের জলবায়ু সমভাবাপন্ন। তবে আর্দ্রতা ও দূষনযুক্ত এলাকার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এখানকার জলবায়ু ঋতু বিশেষে পরিবর্তনশীল। শীতকালে শীতের তীব্রতা দেশের অন্যান্য স্থানের মতো তত প্রবল নয়। এলাকাটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলভূক্ত।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা ১২৯৩৯৭২ জন। পুরুষ ৬৫৫৫৮৫ জন,মহিলা ৬৩৮৩৮৭ জন।

মুসলিম ১১৮১০১২ জন, হিন্দু ১১০৮০৪ জন , বৌদ্ধ ১৯২২ জন , খ্রিস্টান ১০৩ জন এবং অন্যান্য ৩০৮ জন।

নামকরন[সম্পাদনা]

মোঘল শাসনামলে মুন্সিগঞ্জ এর নাম ছিলো ইদ্রাকপুর । ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইদ্রাকপুর কেল্লার ফৌজদারের নাম ছিলো ইদ্রাক । ধারণা করা হয় তার নাম অনুসারেই তখন এখানকার নাম হয়েছিলো ইদ্রাকপুর ।চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময়ে রামপালের কাজী কসবা গ্রামের মুন্সী এনায়েত আলীর জমিদারভুক্ত হওয়ার পর তার মুন্সী নাম থেকে ইদ্রাকপুরের নাম মুন্সিগঞ্জ হিসেবে অভিহিত হয় । আবার অনেকের মতে , মোঘল শাসনামলে এলাকার ফৌজদারী আদালতের প্রধান হায়দার আলী মুন্সীর নামানুসারে মুন্সিগঞ্জ নামের উৎপত্তি।আবার অন্য এক জনশ্রুতিতে জানা যায় , শোলঘর ও বজ্রযোগিনী এলাকার মুন্সী উপাধিধারী হিন্দু জমিদারের নামানুসারে এই এলাকার নাম হয় মুন্সিগঞ্জ ।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৬১.২০%; পুরুষ ৬১.০৮%, মহিলা ৫৯.১২%। কলেজ ১৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮৮টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৪৯টি, মাদ্রাসা ২৯টি।

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বালিঁগাও উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭১)

প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড.ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ(২০০০)

মাকহাটী জি, সি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৫)

রাড়ীখাল জে.সি বসু ইন্সটিটিউশন ও কলেজ (১৯২১)

হাঁসাড়া কে.কে উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৭৯)

গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসা (১৯৮০)

গজারিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৮)

গজারিয়া পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

বজ্রযোগিনী জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৩)

মুন্সিগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৫)

ভবেরচর ওয়াজীর অালী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৭)

লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৫)

মালখানগর উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৯)

এ.ভি.জে.এম. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২)

ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২)

স্বর্ণগ্রাম আর.এন উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৮)

আব্দুল্লাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৯)

ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০০)

আউটশাহী রাধা নাথ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০১)

ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০২)

পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৪)

বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯)

রায় বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন (১৯১৮)

পুরা ডি,সি উচ্চ বিদ্যালয়(১৮৬৫)

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা, ধলেশ্বরী নদীতীর

মুন্সিগঞ্জ জেলায় ছয়টি উপজেলা রয়েছে। ৬ টি উপজেলার মধ্যে ৬৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

উপজেলা ইউনিয়ন
মুন্সিগঞ্জ সদর ৯ টি
টঙ্গীবাড়ী ১২ টি
শ্রীনগর ১৪ টি
লৌহজং ১০ টি
গজারিয়া ৮ টি
সিরাজদিখান ১৪ টি

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে নিঃসন্দেহে মুন্সিগঞ্জ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। অঞ্চলটি খ্রিস্টীয় দশ শতকের শুরু থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল। মুন্সিগঞ্জ উল্লেখ ‘স খলু শ্রী বিক্রমপুর সমাবাসিত শ্রীমজ্জয়স্কন্ধবারাত’ (বিজয় অথবা রাজধানীর রাজকীয় স্থান যা মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত)-রূপে শ্রীচন্দ্রের তাম্রশাসনে সর্বপ্রথম দেখা যায় এবং পরবর্তী বর্মন ও সেন রাজবংশের শাসনামলে এ মর্যাদা অব্যাহত ছিল। এমনকি সেনদের শাসনামলে, যাঁরা বলতে গেলে প্রায় সমগ্র বঙ্গের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন, মুন্সিগঞ্জ তাঁদের রাজধানী রূপে বলবৎ ছিল এবং নদীয়ায় মুসলমান আক্রমণকারী বখতিয়ার খলজীর হাতে পরাজিত হওয়ার পর লক্ষ্মণসেন এ অঞ্চলে এসেছিলেন। তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন স্বল্পকালের জন্য এ অঞ্চল শাসন করেছিলেন। বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেনের তাম্রশাসনগুলিতে রাজধানী রূপে মুন্সিগঞ্জের উল্লেখ না থাকলেও তাঁরা যে ভূমি দান করেছিলেন তার অবস্থান ছিল মুন্সিগঞ্জ ভাগে। এতে এ অঞ্চলের ওপর তাঁদের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মুন্সিগঞ্জের খ্যাতি ১২৮০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিক পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। এসময় দনুজমাধব দশরথদেব কিংবা জিয়াউদ্দীন বরনীর দনুজ রায় সুবর্ণ গ্রামের (সোনারগাঁও) সন্নিকটে তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেন। তখন থেকে সমগ্র সুলতানি আমলে এ অঞ্চলটি বিস্মৃতির পাতায় থেকে যায়। এরপর মুগল যুগে রাজস্ব তালিকায় শুধু পরগনা হিসেবে এর নামের উল্লেখ পুনরায় দেখা যায়। মুগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জের জমিদার চাঁদ রায় ও কেদার রায়এর (বাংলার বারো ভূঁইয়াদের উল্লেখযোগ্য দুজন) বীরোচিত প্রতিরোধ মুন্সিগঞ্জকে কিছুটা স্বল্পস্থায়ী গৌরব প্রদান করে।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ ছাত্রজনতা সরকারি অস্ত্রাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট করে এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৯ মে পাকবাহিনী গজারিয়ায় অভিযান চালিয়ে চার শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসিকে গুলি করে হত্যা করে এবং ১৪ মে কেওয়ারে হামলা করে কিছুসংখ্যক যুবককে হত্যা করে। এর আগে ৩১ মার্চ পাকবাহিনী নারায়ণগঞ্জে আক্রমণ চালালে মুন্সিগঞ্জের তরুণরা নারায়ণগঞ্জবাসীদের সঙ্গে মিলিতভাবে আক্রমণ প্রতিহত করে। জুলাই মাসে ধলাগাঁও এলাকায় শত শত যুবককে রিক্রুট করে ট্রেনিং দেওয়া হয় এবং তারা বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেয়। ১১ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধারা শ্রীনগর থানা, ১৪ আগস্ট লৌহজং থানা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে টঙ্গিবাড়ী থানা আক্রমণ করে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তগত করে। মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলার শিবরামপুরে আক্রমণ চালিয়ে পাকবাহিনীর তিনটি গানবোট ডুবিয়ে দেয় এবং এতে বেশসংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। গোয়ালিমান্দ্রায় মুক্তিযোদ্ধারা ৬ জন রাজাকারকে হত্যা করে এবং পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক সম্মুখ লড়াইয়ে প্রায় ৩৫ জন পাকসেনা নিহত হয়। পাকবাহিনী শেখর নগর গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং নিরীহ লোকদের হত্যা করে। ২৭ রমজান শবে কদর রাতে ১১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনাদের ওপর সম্মিলিত আক্রমণ চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ শহর দখল করে নেয়। ৪ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা টঙ্গিবাড়ী থানা দখল করে নেয় এবং ১১ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৩৪.৬৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.১৭%, শিল্প ৪.৬৯%, ব্যবসা ২৩.১৭%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৭৫%, নির্মাণ ২.২৭%, ধর্মীয় সেবা ১.১৯%, চাকরি ১২.৮৭%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৫.৯৫% এবং অন্যান্য ৯.৩%।

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মুন্সিগঞ্জ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।কয়েক বছরে এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় নগরী গরে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোক্তা সেখানে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে।তাছারা সেখানে একটি উন্নত আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়েছে তবে এখনো তারা সবাই প্লট বিক্রি করা শুরু করে নি। অতএব বলা যায় আর কয়েক বছরের মধ্যেই মুন্সিগঞ্জ অত্যন্ত উন্নত নগরী তে পরিনত হবে এবং এদের অর্থনীতির অতি দ্রুত প্রসার ঘটবে।

উন্নয়ন প্রকল্প

নাম মোট সংখ্যা
কৃষি ও খাদ্য ১৮
শিক্ষা ৫৫
পরিবার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য
দারিদ্র মোচন ২৯০
Rehabilit of des ৬৪৭
সড়ক ও যোগাযোগ ৮০

 শিল্প প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

১। হিমাগার-৬৭টি

২। সিমেন্ট ফ্যাক্টরী -১১টি

৩। লবন ফ্যাক্টরী -৩টি

৪। কাগজ ফ্যাক্টরী -৩টি

৫। টিস্যু -১টি(বসুন্ধরা)

৬। জাহাজ নির্মাণ শিল্প-৬টি

৭। ম্যাচ ফ্যাক্টরী -৩টি

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক[সম্পাদনা]

মুন্সিগঞ্জের কাগজ

সাপ্তাহিক মুন্সিগঞ্জ সংবাদ

খোলা কাগজ

কাগজের খবর

সত্য প্রকাশ

বিক্রমপুর

উৎসব[সম্পাদনা]

লোকসংস্কৃতি দুর্গাপূজা, নববর্ষ, চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে যাত্রা, পালাগান, কবিগান, কীর্তনলীলা, বাউল গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শ্যামসিদ্ধির মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী ঝুলন মেলার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া রথ যাত্রা, নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান,অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, রাজা শ্রীনাথের বাড়ি, রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, হাসারার দরগা, সোনারং জোড়া মন্দির, পদ্মার চর, ইদ্রাকপুর কেল্লা, রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি, শ্যামসিদ্ধির মঠ, শুলপুরের গির্জা, মেঘনা ভিলেজ টুরিস্ট গার্ডেন।

প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার[সম্পাদনা]

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নসম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে চালানো খনন কাজের মাধ্যমে এ বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ব খনন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এরই মধ্যে বৌদ্ধ বিহারের পাঁচটি ভিক্ষু কক্ষ উন্মোচিত হয়েছে। একেকটি ভিক্ষু কক্ষের পরিমাপ ৩ দশমিক ৫ মিটার (দৈর্ঘ্য) ও ৩ দশমিক ৫ মিটার (প্রস্থ)। ধারণা করা হচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্মের জ্ঞান তাপস অতীশ দ্বীপঙ্করের সঙ্গে এ বৌদ্ধ বিহারের সম্পর্ক রয়েছে।

আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহারের নকশা অনুযায়ী এর একটি প্রাচীর দেয়াল উত্তর দিকেও অপর আরেকটি দেয়াল পশ্চিম দিকে ধাবমান বলে নিশ্চিত হয়েছেন খননকারীরা। যেসব ভিক্ষু কক্ষ উন্মোচিত হয়েছে তা বৌদ্ধ বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত।মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মের পণ্ডিত ও বিশ্বের দ্বিতীয় বুদ্ধ অতীশ দ্বীপঙ্করের বাস্তুভিটার কাছে সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ও রামপাল অঞ্চলে প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ উদ্ধারে ২০১১ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব জরিপ ও খনন কাজ হাতে নেয়া হয়। অগ্রসর বিক্রমপুর নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্প এখন কাজ করে আসছে। প্রত্নতত্ত্ব খনন কাজের গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল প্রত্ন-খননকারী এ খনন কাজ করে আসছেন।

বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কারের ফলে বিক্রমপুর অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বে জায়গা করে নেবে আবিষ্কৃত এ বৌদ্ধ বিহার এমনটাই জানিয়েছেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৬ জুন, ২০১৪ 

আনুসঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]