দিনাজপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দিনাজপুর
জেলা
দিনাজপুর জেলা
বাংলাদেশে দিনাজপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে দিনাজপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৭′৪৮″ উত্তর ৮৮°৩৯′০″ পূর্ব / ২৫.৬৩০০০° উত্তর ৮৮.৬৫০০০° পূর্ব / 25.63000; 88.65000স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৭′৪৮″ উত্তর ৮৮°৩৯′০″ পূর্ব / ২৫.৬৩০০০° উত্তর ৮৮.৬৫০০০° পূর্ব / 25.63000; 88.65000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
সংসদীয়৬টি
আয়তন
 • মোট৩৪৪৪.৩০ কিমি (১৩২৯.৮৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট৩১,০৯,৬২৮
 • জনঘনত্ব৯০০/কিমি (২৩০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৫২.৫%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ২৭
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এই অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ইন্ডিয়ান প্লেটের অংশ যা আদি জুরাসিক যুগে সৃষ্টি হওয়া গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ ছিল। এজন্য এই এলাকাকে গন্ডোয়ানাল্যান্ড বলা হত।[২]

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়নীলফামারী জেলা, দক্ষিণে জয়পুরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রংপুর ও নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যর পশ্চিম দিনাজপুর (উত্তরদক্ষিণ দিনাজপুর জেলাদ্বয়) অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫৩৬ মিলিমিটার। প্রধান নদীসমূহ পূনর্ভবা, আত্রাই।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার উপজেলা সংখ্যা ১৩টি। এগুলি হল

নামকরনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।

জেলা গঠনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়। সেই সময় লক্ষনৌতী, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, পানজারা, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি সরকারের অংশ নিয়ে দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়। ১৭৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা হিসেবে ঘোষিত হয়। দিনাজপুর সদরে জেলা সদর গঠিত হয়।[৩]

দিনাজপুর একসময়ে একটি নামকরা জনপদ পুন্দ্রবর্ধনের অংশ ছিল। লাখনাউটির রাজধানি দেভকটের অবস্থান ছিল এর ১১ মাইল দক্ষিণে। ততকালীন ইংরেজ শাসকদের “The British Administrative Control” এখানে ১৭৮৬ সনে গঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে দিনাজপুরের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে চলে যায় এবং তার নাম হয় পশ্চিম দিনাজপুর জেলা। এ জেলার জনগনেরা তেভাগা আন্দোলনে অংশগ্রহন করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

ভৌগলিক আবহাওয়া[সম্পাদনা]

দিনাজপুর তীব্র শীতের জন্য পরিচিত হলেও গ্রীষ্মকালে গরমের তীব্রতাও কম দেখা যায় না ৷ দিনাজপুরের বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫৩৬ মিলিমিটার।

শিল্প ও বাণিজ্য[সম্পাদনা]

দিনাজপুর একটি কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। সেজন্য এ জেলাতে যেসব শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই কৃষি ভিত্তিক। দিনাজপুর জেলায় বড় শিল্প ও কারাখানার মধ্যে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লিঃ এবং দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস লিঃ অন্যতম। দিনাজপুরের বিরলে একটি জুট মিলস রয়েছে। কৃষিই এই জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের চালিকা শক্তি। কাটারী ভোগ, কালাজিরা চাল, চিড়া, আম ও লিচুর জন্য এই জেলা বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়াও ধানচাষ নির্ভর এই জেলা দেশের সিংহভাগ চালের যোগান দেয়। এজন্য দিনাজপুরকে দেশের শষ্য ভান্ডার বলা হয়। ধান এই জেলার প্রধান কৃষি পণ্য হওয়ায় এই জেলায় শিল্প ও কলকারখানা বলতে প্রায় ২০০০ এর মত চাল কল আছে যার মধ্যে প্রায় ১০০ টির মত অটোমেটিক ও সেমি-অটোমেটিক চাল কল, বাকী সবগুলো চাতাল নির্ভর (হাস্কিং) চাল কল। মাশিমপুরের বেদেনা লিচু জগৎবিখ্যাত। বর্তমানে বেদেনা লিচু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

চিরিরবন্দরের কাছে রেলসেতু থেকে তোলা কাঁকড়া নদীর দৃশ্য।

দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১২টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে আত্রাই নদী, কাঁকড়া নদী, করতোয়া নদী, আপার করতোয়া নদী, ইছামতি নদী (দিনাজপুর), খড়খড়িয়া নদী, চিরনাই নদী, ছোট যমুনা নদী, টাঙ্গন নদী, ঢেপা নদী, নলশিশা নদী, পুনর্ভবা নদী এবং যমুনেশ্বরী নদী[৪]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

  1. কান্তজীর মন্দির
  2. রামসাগর
  3. স্বপ্নপূরী
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  5. দিনাজপুর রাজবাড়ি
  6. জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন
  7. গাওসুল আজম বি এন এস বি চক্ষু হসপিটাল
  8. দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
  9. পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন
  10. গোরে শাহ ঈদগাহ মাঠ
  11. কয়লাখনি
  12. এম আবদূর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
  13. ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মাহতাব হোসেন লেখক ও সাংবাদিক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দিনাজপুর জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. "বঙ্গীয় বদ্বীপ - বাংলাপিডিয়া"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-২৮ 
  3. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর-মালদহের মিশনারি যুগ, বরেন্দ্র সাহিত্য পরিষদ, মালদহ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪, পৃষ্ঠা ১-২
  4. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৪০৪।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]