দিনাজপুর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দিনাজপুর
জেলা
বাংলাদেশে দিনাজপুর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে দিনাজপুর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৮′উত্তর ৮৮°৩৯′পূর্ব / ২৫.৬৩° উত্তর ৮৮.৬৫° পূর্ব / 25.63; 88.65স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৮′উত্তর ৮৮°৩৯′পূর্ব / ২৫.৬৩° উত্তর ৮৮.৬৫° পূর্ব / 25.63; 88.65
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রংপুর বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৩৪৪৪.৩০ কিমি (১৩২৯.৮৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট ৩১,০৯,৬২৮
 • ঘনত্ব ৯০০/কিমি (২৩০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫২.৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট


দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে এই এলাকায় মূর্খ লোকদের বসবাস ছিল যাদের আঞ্চলিক ভাষায় গন্ড বলা হত। এজন্য এই এলাকাকে গন্ডোয়ানাল্যান্ড বলা হত।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়নীলফামারী জেলা, দক্ষিণে জয়পুরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রংপুর ও নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যর পশ্চিম দিনাজপুর (উত্তরদক্ষিণ দিনাজপুর জেলাদ্বয়) অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫৩৬ মিলিমিটার। প্রধান নদীসমূহ পূনর্ভবা, আত্রাই।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

দিনাজপুর জেলার উপজেলা গুলি হল

নামকরনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।

জেলা গঠনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়। সেই সময় লক্ষনৌতী, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, পানজারা, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি সরকারের অংশ নিয়ে দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়। ১৭৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা হিসেবে ঘোষিত হয়। দিনাজপুর সদরে জেলা সদর গঠিত হয়।[২]

দিনাজপুর একসময়ে একটি নামকরা জনপদ পুন্দ্রবর্ধনের অংশ ছিল। লাখনাউটির রাজধানি দেভকটের অবস্থান ছিল এর ১১ মাইল দক্ষিণে। ততকালীন ইংরেজ শাসকদের “The British Administrative Control” এখানে ১৭৮৬ সনে গঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে দিনাজপুরের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে চলে যায় এবং তার নাম হয় পশ্চিম দিনাজপুর জেলা। এ জেলার জনগনেরা তেভাগা আন্দোলনে অংশগ্রহন করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

শিল্প ও বাণিজ্য[সম্পাদনা]

দিনাজপুর একটি কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। সেজন্য এ জেলাতে যেসব শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই কৃষি ভিত্তিক। দিনাজপুর জেলায় বড় শিল্প ও কারাখানার মধ্যে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লিঃ এবং দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস লিঃ অন্যতম। কৃষিই এই জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের চালিকা শক্তি। কাটারী ভোগ, কালাজিরা চাল, চিড়া, আম ও লিচুর জন্য এই জেলা বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়াও ধানচাষ নির্ভর এই জেলা দেশের সিংহভাগ চালের যোগান দেয়। এজন্য দিনাজপুরকে দেশের শষ্য ভান্ডার বলা হয়। ধান এই জেলার প্রধান কৃষি পণ্য হওয়ায় এই জেলায় শিল্প ও কলকারখানা বলতে প্রায় ২০০০ এর মত চাল কল আছে যার মধ্যে প্রায় ১০০ টির মত অটোমেটিক ও সেমি-অটোমেটিক চাল কল, বাকী সবগুলো চাতাল নির্ভর (হাস্কিং) চাল কল।

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

চিরিরবন্দরের কাছে রেলসেতু থেকে তোলা কাঁকড়া নদীর দৃশ্য।

দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১২টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে আত্রাই নদী, কাঁকড়া নদী, করতোয়া নদী, আপার করতোয়া নদী, ইছামতি নদী (দিনাজপুর), খড়খড়িয়া নদী, চিরনাই নদী, ছোট যমুনা নদী, টাঙ্গন নদী, ঢেপা নদী, নলশিশা নদী, পুনর্ভবা নদী এবং যমুনেশ্বরী নদী[৩]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

  1. কয়লাখনি
  2. কান্তজীর মন্দির
  3. রামসাগর
  4. রাজবাড়ি
  5. স্বপ্নপূরী
  6. হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বেগম খালেদা জিয়া, খুরশীদ জাহান হক, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, সাহিত্যিক শেখ ফজলুল করিম , ফকির মজনুশাহ, আলহাজ্ব মোহাম্মদ তৈমুর, স্বভাব কবি মোঃ নূরুল আমিন, পন্ডিত মহেশচন্দ্র তর্কচুড়ামনি, জেহের উদ্দিন মোক্তার, পীর শাহ সুফি মতলুব মিয়া, নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার শ্রী শিবপ্রসাদ কর, খাঁন বাহাদুর মাহতাব উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল কাফি, সাবেক এমপি.[৪][৫], শ্রী মাধব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাওলানা আয়েন উদ্দিন আহমদ, ডাঃ সুকুমার সেন গুপ্ত, অধ্যাপক আব্দুল বাকী, জয়নব রহিম, ডাক্তার সারদা কান্ত রায়, ডাঃ হাজী মফিজউদ্দিন আহমদ, কবি নূর মোহাম্মদ, মির্জা কাদের বকস্, গোলাম রব্বানী আহমেদ, চারণ কবি আমিরুদ্দিন সরকার, ডাঃ আনোয়ারা খাতুন, রহিম উদ্দিন আহমদ, ডাক্তার নইমউদ্দিন আহমদ, লায়লা সামাদ, এ বি এম আব্বাস, সুসাহিত্যিক আমিনুল হক (খাঁন বাহাদুর), হাসান আলী, ফুটবলের যাদুকর সামাদ, আলহাজ্ব হেমায়ের আলী টি.কে, মহর্ষি ভুবন মোহন কর, তাজউদ্দিন আহমদ, ওস্তাদ কসির উদ্দিন আহমদ, নুরুল হুদা চৌধুরী, সেরাজউদ্দিন চৌধুরী, ইয়াসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মেহেরাব আলী চৌধুরী, হাজী আব্দুর রউফ, অধ্যক্ষ তসিরউদ্দিন আহমদ, ডক্টর গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ফজলে হক, আফতাবউদ্দিন চৌধুরী, গুরুদাশ তালুকদার, ডক্টর আফতাব আহম্মদ রহমানী, মাওলানা জহির উদ্দিন নূরী, ডাঃ ওয়াসিমুদ্দিন খাঁন, খতিব উদ্দিন আহমেদ, এস এ বারী, এ্যাডভোকেট গোলাম রহমান, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, মইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, পন্ডিত গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য, শহীদ সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, কবি আঃ কাঃ শঃ নূর মোহাম্মদ, শহীদ মেজর মাহবুব (বীর উত্তম), কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ, খাঁন বাহাদুর একিনউদ্দিন আহমদ, শামসুজ্জোহা মানিক লেঃ জেঃ (অবঃ) মাহাবুবুর রহমান, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দিনাজপুর জেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৪ 
  2. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর-মালদহের মিশনারি যুগ, বরেন্দ্র সাহিত্য পরিষদ, মালদহ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪, পৃষ্ঠা ১-২
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৪০৪।
  4. "Dinajpur-1"Election Commission Bangladesh। সংগৃহীত ১২ মার্চ ২০১৬ 
  5. "Obituary reference for Kafi in JS"bdnews24.com। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৫। সংগৃহীত ১২ মার্চ ২০১৬ 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]