যশোর জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
যশোর
জেলা
Central Jessore Town
কেন্দ্রীয় যশোর শহর
বাংলাদেশে যশোর জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে যশোর জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′উত্তর ৮৯°১২′পূর্ব / ২৩.১৭° উত্তর ৮৯.২০° পূর্ব / 23.17; 89.20স্থানাঙ্ক: ২৩°১০′উত্তর ৮৯°১২′পূর্ব / ২৩.১৭° উত্তর ৮৯.২০° পূর্ব / 23.17; 89.20
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২৬০৬.৯৪ কিমি (১০০৬.৫৫ বর্গমাইল)
উচ্চতা ৭ মিটার (২৩ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১ আদমশুমারি)[১]
 • মোট ২৭,৬৪,৫৪৭
 • ঘনত্ব ১১০০/কিমি (২৭০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৯৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৭৪০০
ওয়েবসাইট জেলা তথ্য বাতায়ন


যশোর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন অঞ্চল। এর অন্য একটি প্রচলিত বানান যশোহরব্রিটিশ আমলে খুলনা ছিল যশোর জেলার অধিভুক্ত একটি মহুকুমা। এ কারনেই যশোর নামে পরিচিত

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

উত্তরে ঝিনাইদহ জেলামাগুরা জেলা, দক্ষিণ পূর্বে সাতক্ষীরাজেলা, দক্ষিণে খুলনাজেলা, পশ্চিমেভারত। পূর্বে নড়াইল জেলা

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

এ জেলায় ৮টি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি পুলিশ থানা রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

যশোর একটি অতি প্রাচীন জনপদ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে মিশরীয়রা ভৈরব নদের তীরে এক সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলে। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রীস্টাব্দের দিকে পীর খান জাহান আলী সহ বারজন আউলিয়া যশোরের মুড়লীতে ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রধান কেন্দ্র স্থাপন করেন। ক্রমে এ স্থানে মুড়লী কসবা নামে একটি নতুন শহর গড়ে উঠে। ১৫৫৫ খ্রীস্টাব্দের দিকে যশোর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর-খুলনা-বনগাঁ এবং কুষ্টিয়াফরিদপুরের অংশ বিশেষ যশোর রাজ্যের অন্তভুর্ক্ত ছিলো। ১৭৪৭ খ্রীস্টাব্দের দিকে যশোর নাটোরের রাণী ভবানীর রাজ্যের অন্তভুর্ক্ত হয়। ১৭৮১ খৃষ্টাব্দে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জেলা। ১৮৬৪ সালে ঘোষিত হয় যশোর পৌরসভা। ১৮৩৮ খৃষ্টাব্দে যশোর জিলা স্কুল, ১৮৫৪ খৃষ্টাব্দে যশোর পাবলিক লাইব্রেরি, বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে যশোর বিমান বন্দর এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কলকাতার সাথে যশোরের রেল-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন হওয়া জেলাটি যশোর।[২]


অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বেনাপোল স্থল বন্দর[সম্পাদনা]

যশোরের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেনাপোল স্থল বন্দর যা শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বেনাপোলে অবস্থিত। ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সিংহভাগ এর মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ওপারে আছে পেট্রাপোল। সরকারি আমদানী শুল্ক আহরণে বেনাপোল স্থল বন্দরটির ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এখানকার মানুষের জীবিকার অন্যতম সূত্র বেনাপোল স্থল বন্দরের কাস্টমস্‌ ক্লিয়ারিং এজেন্টের কাজ।

নওয়াপাড়া[সম্পাদনা]

যশোরের ব্যাবসা বাণিজ্যর প্রাণ কেন্দ্র বলা যায় নওয়াপাড়াকে। এখানকার এবং আশেপাশের উদ্যোক্তাদের কারণে এখানে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া নৌপথে আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে। যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

  • ফুলের হাট গদখালি
  • সাগরদাড়ী, বাংলা পদ্যর জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর বাড়ি
  • তাপস কুটির (কাস্টমস অফিস)
  • বেনাপোল স্থল বন্দর
  • যশোর বিমানবন্দর ও যশোর সেনানিবাস
  • পাঁচ পুকুর বাগআঁচড়া
  • গাজীর দর গাহ
  • গদখালি কালীবাড়ী
  • কেশবপুরের ভরতের দেউল
  • অভয়নগরের খানজাহান আলী জামে মসজিদ
  • শ্রীধরপুর জমিদার বাড়ি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধি ।
  • জগদীশপুর তুলা উন্নয়ন ও বীজ বর্ধন খামার, জগদীশপুর, চৌগাছা

বিনোদন ও প্রাকৃতিক স্থান[সম্পাদনা]

  • মনিহার সিনেমা হল
  • কালেক্টরেট পার্ক
  • পৌর পার্ক
  • লালদীঘির পাড়
  • বিনোদিয়া পার্ক
  • যশোর বোট ক্লাব
  • জেস গার্ডেন পার্ক

নদ-নদী, বাওড় ও বিল[সম্পাদনা]

  • ভৈরব নদ
  • কপোতাক্ষ নদ
  • চিত্রা নদী
  • রাজগঞ্জ বাওড়
  • ভবদহ বিল
  • শার্শা কন্যাদাহের আশ্চার্য বাওড়

স্মৃতিসৌধ ও স্মারক[সম্পাদনা]

  • বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল
  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (এম এম কলেজ)
  • চেতনায় চিরঞ্জীব (এম এম কলেজ)
  • অদম্য '৭১ যবিপ্রবি
  • স্বদেশ চত্বর (যশোর পলিটেকনিক ইন্সিটিউট)

আধুনিক স্থাপত্য[সম্পাদনা]

  • হাইটেক পার্ক
  • নির্বাচন কমিশন অফিস
  • যশোর নতুন পৌরসভা
  • সার্কিট হাউস

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • ঈদগাহ ময়দান
  • রামকৃষ্ণ আশ্রম
  • ক্যাথলিক চার্চ
  • চৌরাস্তা জামে মসজিদ
  • মাড়োয়াড়ি রাধাকৃষ্ণ মন্দির
  • এইচ এম এম রোড মসজিদ
  • সিদ্ধেশ্বরী কালিবাড়ি মন্দির
  • বেজপাড়া পূজার মঠ
  • নীলগঞ্জ মহাশশ্মান
  • জোড়া শিব মন্দির
  • চাঁচড়া শিব মন্দির

সাংষ্কৃতিক প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • জেলা শিল্পকলা একাডেমী
  • উদীচি
  • সুরবিতান
  • সুরধনী
  • বিবর্তন
  • পুনশ্চ

বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

যশোর শিক্ষা বোর্ড ছাড়া উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এ জেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • যশোর মেডিকেল কলেজ
  • আদ দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ

কলেজ[সম্পাদনা]

  • সরকারী এম. এম. কলেজ সরকারী মাইকেল মধুসুদন কলেজ,
  • সরকারি সিটি কলেজ
  • সরকারি মহিলা কলেজ
  • শিক্ষা বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ
  • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
  • দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ
  • বিএএফ স্কুল এন্ড কলেজ
  • এসএম সুলতান ফাইন আর্টস কলেজ
  • ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজ।

বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • যশোর জিলা স্কুল
  • যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় (মোমিন গার্লস)
  • পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • নারিকেল বাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • নবকিশলয় প্রিক্যাডেট নার্সারি স্কুল

তথ্যপ্রযুক্তি[সম্পাদনা]

যশোর বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শহর। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রার যশোর অন্য সব জেলার রোল মডেল। যশোরে নির্মিত হচ্ছে হাইটেক পার্ক

হাসপাতালসমূহ[সম্পাদনা]

  • যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল
  • সিএমএইচ হসপিটাল
  • আদ দ্বীন সখিনা হাসপাতাল
  • ফাতিমা হসপিটাল
  • জেনেসিস হসপিটাল
  • নোভা মেডিকেল সেন্টার
  • কুইন্স হসপিটাল
  • দড়াটানা হাসপাতাল
  • মর্ডান হসপিটাল

বিখ্যাত খাবার[সম্পাদনা]

  • জামতলার সাদেক গোল্লা ।
  • জলযোগের সকালের নাস্তা,
  • জনির সন্ধ্যার কাবাব (চার খাম্বার মোড়),
  • বিলাতী মদের দোকান (রেল রোড),
  • ধর্মতলার দুধ চা
  • দেবু সুইসট এর বিখ্যাত রসমালাই, দই ও সন্দেশ
  • অনন্যা ঘোষ ডেয়ারির মিষ্টি
  • যশোর পৌরসভার পাশে ১ টাকার সিঙ্গারা
  • দুলালের পারফেক্ট লাল চা (চার খাম্বার মোড়)
  • ২ টাকার ডাল পুরি (রেল রোড - আদ দ্বীন হসপিটালের পাশে)
  • ঝিকরগাছার কবিরের হোটেল (টাটকা তাজা মাছ ও মাংস)
  • ক্যাফে ডে লাইটের হট কফি ও চিকেন বার্গার

স্থানীয় পত্রিকা ও প্রকাশনা[সম্পাদনা]

  • দৈনিক গ্রামের কাগজ
  • দৈনিক সমাজের কথা
  • দৈনিক লোকসমাজ
  • দৈনিক স্পদন
  • দৈনিক সমাজের কাগজ
  • দৈনিক সত্যপাঠ
  • দৈনিক রানার

ব্যাংক ও এনজিও ভূমিকা[সম্পাদনা]

যশোর প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবসা বাণিজ্য অগ্রসর। যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন ব্যাংক ব্যবসা করছে। যশোরের সঞ্চয়ী জনগনের কাছ থেকে অলস অর্থ সংগ্রহ করে, ব্যবসায়ীদের ঋণ হিসাবে দান করছে, এবং উন্নয়নের অংশীদার হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সাহায্য করছে যশোরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্তসামাজিক উওন্নয়নে।। এনজিও এর ভিতর জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন, আশা, আর আর এফ অন্যতম।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে যশোর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৯ জুন, ২০১৬ 
  2. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "যশোর জেলার পটভূমি"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২২ জুন, ২০১৪ 
  3. http://jessore.info/index.php?option=content&value=1030  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  4. http://jessore.info/index.php?option=content&value=1031  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  5. http://jessore.info/index.php?option=content&value=1032  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  6. http://jessore.info/index.php?option=content&value=1101  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]