পঞ্চগড় জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পঞ্চগড় জেলা
জেলা
বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৬°১৫′উত্তর ৮৮°৩০′পূর্ব / ২৬.২৫° উত্তর ৮৮.৫০° পূর্ব / 26.25; 88.50স্থানাঙ্ক: ২৬°১৫′উত্তর ৮৮°৩০′পূর্ব / ২৬.২৫° উত্তর ৮৮.৫০° পূর্ব / 26.25; 88.50
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রংপুর বিভাগ
আয়তন
 • মোট ১৪০৪.৬৩ কিমি (৫৪২.৩৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১০,২৬,১৪১
 • ঘনত্ব ৭৩০/কিমি (১৯০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫১.০৮%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট


পঞ্চগড় জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

পঞ্চগড় জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে ঠাকুরগাঁওদিনাজপুর জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।[২] ২৬ ডিগ্রি ২০মিনিট উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮ ডিগ্রি ৩৪ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত পঞ্চগড় "জেলা" হিসেবে নবগঠিত ও আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এর পারিপার্শ্বিক ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে স্যার সিরিল রেডক্লিফ কর্তৃক নির্দেশিত এই জেলার সীমান্ত রেখা অত্যন্ত আঁকাবাঁকা ও ভঙ্গুর। পঞ্চগড় জেলার তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এই সীমান্ত অঞ্চল ১৮০মাইল বা ২৮৮ কিলোমিটার।[২] জেলার মোট আয়তন ১,৪০৪.৬৩ বর্গ কিঃমিঃ।[৩]

জনপদের নামকরণ[সম্পাদনা]

"পঞ্চ" (পাঁচ) গড়ের সমাহার "পঞ্চগড়" নামটির অপভ্রমংশ "পঁচাগড়" দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল। কিন্তু গোড়াতে এই অঞ্চলের নাম যে, 

'পঞ্চগড়ই' ছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকতে পারে না। বস্তুত ভারতীয় উপমহাদেশে "পঞ্চ" শব্দটি বিভিন্ন স্থান নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। 

যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটী, পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। "পঞ্চনগরীর" দূরত্ব পঞ্চগড় অঞ্চল থেকে বেশি দূরে নয়। 

পঞ্চগড় জেলায় বেশ কিছু গড় রয়েছে তাদের মাঝে উল্লেখ করার মত গড়গুলো হল

১.ভিতরগড়,

২.মিরগড়,

৩.রাজনগড়,

৪.হোসেনগড়,

৫.দেবনগড়।

‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ, আর ‘গড়’ অর্থ বন বা জঙ্গল। ‘পঞ্চগড়’ নামটি এভাবেই এসেছে।

বিশ্বাস করা কঠিন হলেও সত্য যে, দেশ বিভাগের আগ পর্যন্তও এই অঞ্চলটি ছিল জনমানুষ বিরল একটি বড় বন-জঙ্গল পূর্ণ এলাকা। 

সে জঙ্গলে বাঘ পর্যন্ত ছিল। তবে মানুষের সংখ্যা বারার সাথে সাথে পরিবর্তন এসেছে অনেক দ্রুত।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

ইতিহাস ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

আধুনিক এই জনপদটি আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এর প্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক ইতিবৃত্ত অত্যন্ত সম্বদ্ধ।অতি প্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক ইতিবৃত্ত সম্বদ্ধ করেছে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বোত্তরের এই জনপদকে।পঞ্চগড় জেলার

নামই এর যথার্থ স্বাক্ষ্য বহন করে।হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগে পুন্ড্র বর্ধন নগরীর অনতিদূরেই ছিল আজকের পঞ্চগড়ের অবস্থান।পঞ্চগড় একটি প্রাচীন জনপদ।প্রাচীন ও মধ্য যুগে এই ভূখন্ডের পাশেই ছিল মগধ, মিথিলা, গৌর, নেপাল, ভূটান, 

সিকিম ও আসাম রাজ্যের সীমান্ত। আধুনিককালের মত অতীত কালেও জনপদটি ছিল সীমান্ত অঞ্চল। এই ভূখন্ডটি পর্যায়ক্রমে শাসিত হয়েছে প্রাগজ্যোতিষ, কামরূপ, কামতা, কুচবিহার ও গৌর রাজ্যের রাজা, বাদশা, সুবাদার এবং 

বৈকুন্ঠপুর অঙ্গ- রাজ্যের দেশীয় রাজা ও ভূ-স্বামীদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে।খ্রীস্টীয় ২য়, ৩য় শতকের মধ্যে রাজা ‘শালিবাহন’ রাজা ‘পৃথু’ এবং রাজা ‘জল্লেশ’ পঞ্চগড়ের শালবাহান ও ভিতরগড় এলাকায় রাজ্য, নগর ও সমৃদ্ধ জনপদ

গড়ে তুলেছিলেন। মৌর্য, গুপ্ত ও পাল(দেবপাল,ধর্মপাল),রাজন্যবর্গও এই অঞ্চল শাসন করেছিলেন।

মধ্যযুগের শুরুতেই প্রথম মুসলিম বঙ্গবিজীয় সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন খলজি তাঁর বহু বিতর্কিততিববত অভিযানেরএক পর্যায়ে পঞ্চগড় জনপদের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সুলতান হোসেন শাহ

এবং কামতার রাজা নীলধ্বজ তেঁতুলিয়া থানার দেবনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে কোন কোন ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করেন। সুলতান জালাল উদ্দিন ফাতেশাহ, সুলতান বারবক শাহ, শেরশাহ, খুররম খাঁ (শাহজাহান), 

মীরজুমলা, সুবাদার ইব্রাহীম খাঁ ফতে জঙ্গ এবং অন্ত মধ্যযুগে দেবী চৌধুরাণী, ভবানী পাঠক, ফকির মজনুশাহ প্রভৃতি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পঞ্চগড় জনপদের নাম ও স্মৃতি নিবিড়ভাবে জড়িত। ষোড়শ শতকে কুচবিহার রাজ্য

গঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পঞ্চগড় অঞ্চল মূলত কোচ রাজন্যবর্গের দ্বারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাসিত হয়েছে।

ভিন্নমতে,গৌড় রাজ্যকে এক সময় বলা হতো পঞ্চগৌড়।পঞ্চগড় জনপদে মানব বসতি শুরু হয়েছে সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে। বাংলাদেশের এই প্রান্ত অঞ্চলে দীর্ঘকাল ব্যাপ্ত পুন্ড্র, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসকগণের সংস্পর্শে সৃষ্টি হয়েছে

অসংখ্য প্রত্ন নিদর্শন। এ সবের মধ্যেই রয়েগেছে অতীতের বহু গৌরব-গাঁথা বহু দীর্ঘশ্বাস ও প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের অগনিত স্মৃতি চিহ্ন। একটি শহরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে উপাদান প্রয়োজন তার সবই 

বিদ্যমান রয়েছে পঞ্চগড় জেলায়। পঞ্চগড় জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের যে কোন জেলার চেয়ে ভাল। পঞ্চগড়ের মানুষজন অতি সহজ সরল এবং অতিথি পরায়ন। পঞ্চগড় থেকে হেমন্ত ও শীতকালে পর্যক্ষেণ করা যায় 

কাঞ্চনজংঘার অপরূপ দৃশ্য যা পর্যটকদের অতি সহজে আকৃষ্ট করে। পঞ্চগড়ে রয়েছে সমতল ভূমিতে চা বাগানের  আনন্দ সৌন্দর্য্য। রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম। রয়েছে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক 

ডাকবাংলো যেখান থেকে দুই বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষা ক্ষেত্রে পঞ্চগড় জেলার অবস্থান বেশ ভালো। জেলার শিক্ষার হার ৫১.০৮% এছাড়া এখানকার শিক্ষা ব্যাবস্থা দিন দিন বেশ উন্নতির পথে আগিয়ে চলেছে। জেলায় প্রায় ১৮৮৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি কলেজ এবং ১৮৬৫টি বিদ্যালয় রয়েছে।

নৃতাত্তিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত এবং বর্তমানে পূর্ণিয়া, পশ্চিম দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী পঞ্চগড় জেলার জনগোষ্ঠীর নৃতাত্তিক বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের সামগ্রিক রূপের সঙ্গে অভিন্ন হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র বিদ্যমান। এ জেলার জনপ্রবাহের মধ্যে রয়েছ- হিন্দু ও মুসলিম প্রধান জনধারা, রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও, হাড়ি, ভূইমাল, কামার-কুমার, বেহারা, কাহার, সুনরী প্রভৃতি। এই বিচিত্র জনধারার মিশ্র রূপায়ণেই গড়ে উঠেছে পঞ্চগড় জেলার নৃ-তাত্ত্বিক ভিত্তি।

চা বাগান[সম্পাদনা]

যদিও বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে চা চাষ শুরু হয় ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের ক্লাব প্রাঙ্গণে, ১৮৫৪ সালে নিলেটে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু হয়। প্রায় ১৫০ বছর পরে ১৯৯৮ সালে এদেশের একজন শিল্পপতি লেঃ কর্ণেল (অবঃ) কাজী শাহেদ আহমদ পঞ্চগড় অঞ্চলের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতের চা চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পঞ্চগড়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সহায়তায় কিছু জমি কিনে চা চাষ শুরু করেন। তিনি চা বাগানের নামকরণ করেন "কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট"। এখানে অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদিত হয়। সিলেটে চা ভ্যালীতে ইপিলিপিল গাছ সেট ট্রি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পঞ্চগড়ে ঔষধি গাছ সেট ট্রি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট ৬/৭ বছরের মধ্যে চা পাতা আহরণ শুরু করে বছরে বর্তমানে ১ লক্ষ ৭২ হাজার কেজি চা উৎপাদন করছে। এ অঞ্চলে চা চাষের ক্ষেত্রে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট অগ্রপথিক। এ কোম্পানীর সফলতা অনুসরণ করে বর্তমানে এখানে আরো ৪টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এগুলো হলো: তেঁতুলিয়া চা কর্পোরেশন লিঃ, স্যালিন্যাল টি এস্টেট, করতোয়া টি এস্টেট ও ডাহুক টি এস্টেট।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

পঞ্চগড় জেলা বাংলাদেশের সর্বউত্তরের প্রান্তে জেলা হলেও এ জেলায় প্রথম বৃহৎ শিল্পের প্রসার ঘটে ১৯৬৯ সালে পঞ্চগড় সুগার মিলস লি: প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। পরবর্তীতে এ জেলায় কৃষি ভিত্তিক অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ :

পঞ্চগড় চিনিকল লিঃ:

পঞ্চগড় সুগার মিলস লি: ১৯৬৯ সালে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ১৯৮.৪৬ একর জমির উপর স্থাপিত হয়। মিলটি ১৯৬৯-৭০ সাল থেকে চিনি উতপাদন শুরু করে। মিলটির বাষির্ক চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ১০,১৬০ মেঃটন এবং দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা ১,০১৬ মেঃটন। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীন এই মিলটি ১০০% মালিকানা সরকারের। বর্তমানে মিলটিতে ৮১০ জন জনবল কর্মরত আছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে মিলটিতে ৮,১৫৮.৬০ মেঃটন এবং ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ৪,১৫৮.৮৫ মেৰটন চিনি উৎপাদিত হয়।

জেমকন লিমিটেড :

পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন ধাক্কামারা নামক স্থানে জেমকন লিঃ এবং ভজনপুরে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন লিঃ এর ২ টি বৈদু্তিক খুঁটি নির্মাণ কারখানা রয়েছে। জেমকন লিঃ ১৯৯৩ সালে এ জেলায় সর্বপ্রথথম বৈদু্তিক খুঁটি নির্মাণ শুরু করে। কারখানাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন ধাক্কামারা নামক স্থানে ৩৫.০০ একর জমির উপর স্থাপিত। পঞ্চগড়ে পাথর প্রাপ্তি সহজলভ্যতার কারণে এই অঞ্চলে বৈদু্তিক খুঁটি নির্মাণের কাচামাল স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে এই কারাখানাটিতে প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১,৫০০ জন লোক কর্মরত আছে। জেকমন এর ওয়েবসাইটের এই লিংকে ক্লিক করুন

জেমজুট লিমিটেড :

জেমজুট লিঃ ২০০৩ সালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলাধীন ময়দানদীঘি ইউনিয়নে মনিরাম জোত এলাকায় প্রায় ৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্মসঙস্থানের মাধ্যমেস্থানীয় জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব পণ্য উৎপাদনই হচ্ছে জেমজুটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জেমজুটে চটের কাপড় চটের ব্যাগ, দড়ি, সুতা, গুনচট ব্যাগ, কেনভাস ইত্যদি পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। কোম্পানিটির প্রধান অফিস ঢাকায় অবস্থিত। কোম্পানীর ওয়েব লিংক এ ক্লিক করুন

২১ জানুয়ারী, ২০০৬ তারিখে কোম্পানিটি ISO 9001:2000 সনদ লাভ করে।

মার্শাল ডিস্টিলারী :

মার্শাল ডিস্টিলারী ১৯৯৪ সালে পঞ্চগড় সদর জেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে স্থাপিত হয়। চিটাগুড় থেকে রেকটিফাইড স্পিরিট ও ডিনেচার্ড স্পিরিট এ কারখানায় উৰপাদিত হয়। স্পিরিট উৎপাদনের কাচামাল সংগৃহীত হয় দেশীয় চিনিকলসমূহ হতে। এ কারখানায় বর্তমানে ৯৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত আছেন। মার্শাল ডিস্টিলারীর প্রধান কার্যালয় ৬১ কাকরাইল, রমনা, ঢাকায় অবস্থিত।

চা শিল্প :

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চা বোর্ডের একটিসমীক্ষা দল চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসেপঞ্চগড় জেলায় আসেন এবং মাটি পরীক্ষা করতঃ অন্যান্য তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহকরেন। তাঁরা জানান পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৪০,০০০ একর জমি চা চাষের উপযোগীআছে। সে মোতাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইসি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেরযৌথ অর্থায়নে ৩.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৪১ একর জমিতে চা চাষের লক্ষ্যমাত্রানিয়ে জানুয়ারি/২০০১-ডিসেম্বর/২০০৬ মেয়াদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরঅনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ চা বোর্ড দেশের উত্তরাঞ্চলে ’’ক্ষুদ্রায়তন চা চাষপ্রকল্প’’ শিরোনামে ১টি প্রকল্প গ্রহণ করে। পঞ্চগড় জেলার চা চাষ একটুভিন্ন প্রকৃতির অর্থাৎ শ্রীমঙ্গল, সিলেট ও চট্টগ্রামের মত খাস জমি পঞ্চগড়েনা থাকায় সমতল ভূমিতে অন্যান্য ফসলের মত যার যতটুকু চা চাষের জমি আছে, সেটুকু জমিতে চা চাষ করবে এবং প্রতি সপ্তাহে সবুজ চা পাতা ফ্যাক্টরীতেবিক্রী করবে। ২০০৬ সালের শেষে পঞ্চগড় জেলায় মোট চা আবাদ হয় ১,৬৮৯.৪৮ একরজমিতে।এরইধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়ের সাথে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটজেলাকে যুক্ত করে ১০.৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিসেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত প্রকল্পটিবর্ধিত করে। পরবর্তীতে ২য় পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পঞ্চগড়জেলায় যে সব জমিতে চা আবাদ হচ্ছে সেগুলোর অধিকাংশই পূর্বে অনাবাদি ছিল।পঞ্চগড়ে চা চাষের ফলে ৩,০০০-৪,০০০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলায় মোট চা চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ ২২৫৫.৫৪ একর। ২০০৯ সালে পঞ্চগড় জেলায় মোট ৬৫৬০২৪ কেজি মেড টি উৎপাদিত হয়েছে। চা চাষে উৎসাহিত করার জন্য ক্ষুদ্র চাষীদের (০-৫ একর) চারা প্রতি ১ টাকা হিসেবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোট ৯,৪৯,০০০/- টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ২০০৯ সাল পর্যন্ত পঞ্চগড় চা বোর্ডের সুপারিশক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক চা চাষীদের মাঝে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

পঞ্চগড় জেলায় ৩ ক্যাটাগরীর চা চাষী আছেঃ-

ক) স্মল গ্রোয়ার= ০-৫ একর পর্যন্ত

খ) স্মল হোল্ডার= ৫-২০ একর পর্যন্ত

গ) টি এষ্টেট = ২০ একরের উর্দ্ধে।

পঞ্চগড়ে এ যাবৎ রেজিষ্ট্রেশন দেয়া হয়েছেঃ-

ক) স্মল গ্রোয়ার= ২৫৭ জন

খ) স্মল হোল্ডার= ১৫ জন

গ) টি এষ্টেট   = ০৮টি।

বর্তমানে চা বাগানের সংখ্যা :

ক) স্মল গ্রোয়ার = ১৭০ টি

খ) স্মল হোল্ডার = ১৯ টি

গ) টি এষ্টেট = ১৯ টি।

মোট = ২০০টি

চা চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ-

ক) স্মল গ্রোয়ার= ৩৭২.২৬ একর

খ) স্মল হোল্ডার= ১০৮.৭৫ একর

গ) টি এষ্টেট = ১৭৭৪.৫০ একর

মোট = ২২৫৫.৪৫ একর

চা প্রসেসি ইউনিটের সংখ্যা ০৩ টি।

ক) কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেটের অর্গানিক কারখানা, তেঁতুলিয়া

খ) তেঁতুলিয়া টি কোম্পানী লি:

গ) করতোয়া চা বাগানের কারখানা

পঞ্চগড় জেলায়উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চা বাগানের নাম :

· আগা টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

· করতোয়া চা বাগান, জগদল সাতমেরা, পঞ্চগড়।

· কাজী এন্ড কাজী চা বাগান, প্রযত্নে খালেক কোচ কাউন্টার, পঞ্চগড়।

· গ্রীন কেয়ার চা বাগান, বুড়াবুড়ি, পঞ্চগড়।

· ডাহুক চা বাগান, বুড়াবুড়ি, পঞ্চগড়।

· ময়নাগুড়ি চা বাগান, তেঁতুলিয়া রোড, পঞ্চগড়।

· পঞ্চগড় চা কোম্পানী, বুড়াবুড়ি, পঞ্চগড়।

· কাজী ফার্মস লিঃ বুড়াবুড়ি, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

· স্যালিলেন টি এস্টেট, প্রযত্নে খালেক কোচ কাউন্টার, পঞ্চগড়।

· এম এম টি এস্টেট, হাড়িভাসা, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়।

· আর ডি আর এস চা বাগান, জগদল, পঞ্চগড়।

· গ্রীন গোল্ড চা বাগান লিঃ দশমাইল, সাতমেরা, পঞ্চগড়।

· হক টি এস্টেট, লোহা কাচি, তেতুলিয়া, পঞ্চগড়।

নাহিদটি এস্টেট, ভদ্রেশ্বর, ভজনপুর, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

· আরিব টি এস্টেট, জিয়াবাড়ী, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়।

· জেসমিন টি এস্টেট, কালান্দিগঞ্জ মাঝি পাড়া, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

· কুসুম টি এস্টেট, শালবাহান রোড, মাঝিপাড়া, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

· জেড এন্ড জেল টি এস্টেট, অমরখানা, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়।

এ ছাড়াও স্মল হোল্ডিং এবং স্মল গোয়ার্স এর আওতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে শুরু হয়েছে ব্যাপক চা চাষ।

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

দেবীগঞ্জের কাছে তোলা করতোয়া নদীর দৃশ্য।

জেলায় ১৬টি নদী রয়েছে, এগুলো হল

পঞ্চগড় সদরঃ

১. করতোয়া নদী

২. তালমা নদী

৩. চাওয়াই নদী

৪. পাঙ্গা নদী

৫. কুরুম নদী

৬. পাম নদী

বোদাঃ

১. পাথরাজ নদী

২. ঘোড়ামারা নদী

দেবীগঞ্জঃ

১. মরা তিস্তা নদী

২. আতরাই নদী

৩. ভূল্লী নদী

আটোয়ারীঃ

১. নাগর নদী

২. সিংগিয়া নদী

৩. বহু নদী

৪. রসেয়া নদী

তেঁতুলিয়াঃ

১. মহানন্দা নদী

২. ডাহুক নদী

৩. তিরনই নদী

৪. রনচন্ডি নদী

৫. বেরং নদী

৬. জ়োড়াপানি নদী

৭. সাও নদী

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে পঞ্চগড়"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৪ 
  2. ২.০ ২.১ "ভৌগোলিক প্রোফাইল"। Dcpanchagarh.gov.bd। সংগৃহীত ২০১০-০৭-২৭ 
  3. "এক নজরে জেলা"। Dcpanchagarh.gov.bd। সংগৃহীত ২০১০-০৭-২৭ 
  4. "দর্শনীয় স্থান"। Dcpanchagarh.gov.bd। সংগৃহীত ২০১০-০৭-২৭ 

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]


পঞ্চগড় জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ তেঁতুলিয়া | বোদা | দেবীগঞ্জ | আটোয়ারী | পঞ্চগড় সদর