কুমিল্লার খাদিশিল্প
কুমিল্লা খাদিশিল্পের তৈরি কাপড় দেশ/বিদেশের সকল শ্রেনির মানুষের কাছে অনেক প্রিয় কাপড়। ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় এ কাপড়ের জনপ্রিয়তা বেড়ে উঠে। "স্বদেশী পণ্য গ্রহণ কর আর বিদেশী পণ্য বর্জন কর" এই শ্লোগানের ওপর ভিত্তি করেই তৎকালীন সময়ে খাদিশিল্পের উৎপত্তি হয়।[১][২][৩][৪]
নামকরণ
[সম্পাদনা]খাদি কাপড়ের নামকরণ নিয়ে রয়েছে মতবাদ। দেশে যখন খাদি কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যায় তখন সাধারণ মানুষের কাপড়ের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাটির নিচে গর্ত করে পায়ে চালানো প্যাডল দ্বারা এ কাপড় তৈরি হতো। খাদ থেকে তৈরি হতো বলে এর নাম হয় খদ্দর বা খাদি। আবার অনেকে বলে থাকে খদ্দর শব্দটি গুজরাত শব্দ। এই শব্দ থেকে খাদি বা খদ্দর হচ্ছে।[৫]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রাচীন কাল থেকেই এ উপমহাদেশে কুমিল্লার তৈরি খাদি বা খদ্দর কাপড়ের চাহিদা ছিল প্রচুর। এই চাহিদা কে ধরে রাখার জন্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তৎকালীন কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ও বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড.আখতার হামিদ খান ও তৎকালীন গভর্নর ফিরোজ খান নুনের সহযোগীতায় দ্য খাদি এন্ড কটেজ ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন কুমিল্লার অভয়াশ্রমে, চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘ, আর নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে খাদি বা খদ্দর কাপড় বোনা হতো। তখন চান্দিনাতে ড.আখতার হামিদ খান প্রতিষ্ঠিত দি খাদি কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড এর হাল ধরেন চান্দিনার শৈলেন গুহ ও তার ছেলে বিজন গুহ। তারা এই খাদিশিল্পের সুনাম ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অনবরত কাজ করে গেছেন। শৈলেন গুহ মারা যাবার পর তার ছেলে বিজন গুহ এ শিল্প কে ধরে রাখছেন কোন মতে। চান্দিনাতে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত একটি তাঁতশিল্প রয়েছে আজও। ১৯৯৪ সালে কুমিল্লার খাদিশিল্প তাদের গুণগত মানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।[৬]
বর্তমান অবস্থা
[সম্পাদনা]কুমিল্লার চান্দিনা, মুরাদনগর ও দেবিদ্বারে সহস্রাধিক তাঁতশিল্প রয়েছে। এই সব অঞ্চলের তাঁতশিল্পীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ সুনাম খ্যাত শিল্প কে ধরে রাখার জন্য। কিন্তু বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির তৈরি করা কাপড়ের সাথে টিকে থাকাটা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তাছাড়া অপরদিকে রয়েছে কাপড় তৈরিকরণ কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি।[৭]
পৃষ্ঠপোষকতা
[সম্পাদনা]কুমিল্লার স্বনামধন্য খাদিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগীতা প্রয়োজন। তাঁতের আসল খাদির চাহিদা আছে সব সময়ই, তবে কাঁচামালের অভাবে বিলুপ্ত প্রায় তাঁতের খাদি ফিরিয়ে আনতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। শেষ প্রজন্মে তাঁতের দক্ষ কারিগর যারা টিকে আছেন তাদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেছে মসলিনের চেয়েও সহজে খাদিও উত্তরণ সম্ভব।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "নকশার বৈচিত্র্যে কুমিল্লার খাদি পোশাকের বিক্রি ভালো"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "আজও অদ্বিতীয় কুমিল্লার খাদি – আলোকিত বাংলাদেশ"। alokitobangladesh.com। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ মামুন, কুমিল্লা থেকে সাদিক। "সম্ভাবনা ও সঙ্কটে খাদিশিল্প"। DailyInqilabOnline (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "কুমিল্লা জেলা"। www.comilla.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ BanglaNews24.com। "কুমিল্লার খাদি দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়"। banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "কুমিল্লার খাদি কাপড়ের কদর এখন বিশ্বজুড়ে [ভিডিও]"। একুশে টেলিভিশন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "The story of Khadi"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ "কুমিল্লার তাঁতে তৈরি আসল খাদি এখন বিলুপ্তির পথে"। www.comillarkagoj.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।