কক্সবাজার জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কক্সবাজার
জেলা
কক্সবাজার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশে কক্সবাজার জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে কক্সবাজার জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°২৬′ উত্তর ৯১°৫৯′ পূর্ব / ২১.৪৩৩° উত্তর ৯১.৯৮৩° পূর্ব / 21.433; 91.983স্থানাঙ্ক: ২১°২৬′ উত্তর ৯১°৫৯′ পূর্ব / ২১.৪৩৩° উত্তর ৯১.৯৮৩° পূর্ব / 21.433; 91.983 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
প্রতিষ্ঠাকাল১ মার্চ, ১৯৮৪
আয়তন
 • মোট২৪৯১.৮৬ কিমি (৯৬২.১১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২২,৮৯,৯৯০
 • জনঘনত্ব৯২০/কিমি (২৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৯.৩০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৭০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ২২
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণের জেলা

আয়তন[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলার মোট আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার।[১]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা ২২,৮৯,৯৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১,৯৭,০৭৮ জন এবং মহিলা ১০,৯২,৯১২ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৯২০ জন। মোট জনসংখ্যার ৯৩% মুসলিম, ৫% হিন্দু এবং ২% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২০°৩৫´ থেকে ২১°৫৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫০´ থেকে ৯২°২৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে কক্সবাজার জেলার অবস্থান।[১] রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৪০২ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা; পূর্বে বান্দরবান জেলা, নাফ নদীমায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ এবং দক্ষিণে ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠাকাল[সম্পাদনা]

১৮৫৪ সালে কক্সবাজার থানা গঠিত হয় এবং ঐ বছরই কক্সবাজার, চকরিয়া, মহেশখালীটেকনাফ থানার সমন্বয়ে কক্সবাজার মহকুমা গঠিত হয়। পরে টেকনাফ থেকে উখিয়া, মহেশখালী থেকে কুতুবদিয়া এবং কক্সবাজার সদর থেকে রামু থানাকে পৃথক করে এই মহকুমার অধীনে তিনটি নতুন থানা গঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে কক্সবাজার জেলাকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়। ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পেকুয়া উপজেলাকে পৃথক করা হয়।[১]

নামকরণ[সম্পাদনা]

কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী। একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল। প্যানোয়া শব্দটির অর্থ হলুদ ফুল। অতীতে কক্সবাজারের আশপাশের এলাকাগুলো এই হলুদ ফুলে ঝকমক করত। ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। কক্স সাহেবের বাজার থেকে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আরব ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকগণ অষ্টম শতকে চট্টগ্রামআকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তী হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হত। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চন্দ্র চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ। ১৬৬৬ সালে মুঘলরা চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। মুঘল সেনাপতি বুজুর্গ ওমেদ খান কর্ণফুলির দক্ষিণের মাঘ কেল্লা দখল করে নেন এবং আরাকানবাসী রামু কেল্লাতে আশ্রয় নেয়, যা কিনা পরে মুঘলরা হঠাৎ আক্রমণ করে দখল করে নেয়। কক্সবাজারে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাষীদের মাঝে জমি বিতরণের এক উদারনীতি পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে চট্টগ্রাম ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এই এলাকায় আসতে থাকে। বার্মা রাজ বোধাপায়া (১৭৮২-১৮১৯) ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে নেন। প্রায় ১৩ হাজার আরাকানী বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য ১৭৯৯ সালে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। এদের পুনর্বাসন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হিরাম কক্সকে নিয়োগ দেয়। প্রতি পরিবারকে ২.৪ একর জমি এবং ছয় মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল। এ সময় ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। যা কক্স সাহেবের বাজার পরিচিত হয় স্থানীয়দের মাঝে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজার থেকেই কক্সবাজার জেলার নামের উৎপত্তি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হিরাম কক্স ১৭৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[১]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলা ৮টি উপজেলা, ৮টি থানা, ৪টি পৌরসভা, ৭১টি ইউনিয়ন, ১৮৮টি মৌজা, ৯৯২টি গ্রাম ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।[২]

উপজেলাসমূহ:

কক্সবাজার জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

ক্রম নং উপজেলা আয়তন
(বর্গ কিলোমিটারে)
আওতাধীন এলাকাসমূহ
০১ উখিয়া ২৬১.৮০ ৫টি ইউনিয়ন
০২ কক্সবাজার সদর ২২৮.২৩ ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন
০৩ কুতুবদিয়া ২১৫.৮০ ৬টি ইউনিয়ন
০৪ চকরিয়া ৫০৩.৭৮ ১টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন
০৫ টেকনাফ ৩৮৮.৬৮ ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন
০৬ পেকুয়া ১৩৯.৬৮ ৭টি ইউনিয়ন
০৭ মহেশখালী ৩৮৮.৫০ ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন
০৮ রামু ৩৯১.৭১ ১১টি ইউনিয়ন

[৩]

থানাসমূহ:

কক্সবাজার জেলায় ৮টি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম মোট ৮টি থানার অধীন। থানাগুলো হল:

ক্রম নং থানা আওতাধীন এলাকাসমূহ
০১ উখিয়া উখিয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০২ কক্সবাজার সদর কক্সবাজার পৌরসভাকক্সবাজার সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৩ কুতুবদিয়া কুতুবদিয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৪ চকরিয়া চকরিয়া পৌরসভাচকরিয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৫ টেকনাফ টেকনাফ পৌরসভাটেকনাফ উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৬ পেকুয়া পেকুয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৭ মহেশখালী মহেশখালী পৌরসভামহেশখালী উপজেলার সকল ইউনিয়ন
০৮ রামু রামু উপজেলার সকল ইউনিয়ন
পৌরসভাসমূহ:

কক্সবাজার জেলায় মোট ৪টি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভাগুলো হল:

ক্রম নং পৌরসভা আয়তন
(বর্গ কিলোমিটারে)
অবস্থান
০১ কক্সবাজার ৩২.৯০ কক্সবাজার সদর উপজেলা
০২ চকরিয়া ১৫.৪২ চকরিয়া উপজেলা
০৩ টেকনাফ ৪.০৫ টেকনাফ উপজেলা
০৪ মহেশখালী ৭.৬৮ মহেশখালী উপজেলা

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলার সাক্ষরতার হার ৩৯.৩০।[১] এ জেলায় রয়েছে:

  • বিশ্ববিদ্যালয় : ১টি
  • মেডিকেল কলেজ : ১টি
  • স্নাতকোত্তর কলেজ : ২টি
  • কামিল মাদ্রাসা : ৪টি
  • ডিগ্রী কলেজ : ১১টি
  • ফাজিল মাদ্রাসা : ১২টি
  • উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ : ১৯টি
  • আলিম মাদ্রাসা : ১৯টি
  • কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : ১টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় :১৪০টি
  • দাখিল মাদ্রাসা : ১০৪টি
  • নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ৫২টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় : ৭০১টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভূ-প্রকৃতি[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার মত কক্সবাজার জেলাও পাহাড়, নদী, সমুদ্র, অরণ্য, উপত্যকা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে অন্যান্য জেলা থেকে স্বতন্ত্র। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,৩৭৮ মিলিমিটার।[২] উপকুলবর্তী এলাকা হওয়ায় এ জেলা প্রায়ই সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, হারিকেন, সাইক্লোন ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হয়।

নদ-নদী[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলার মূল ভূখণ্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান নদীগুলো হল মাতামুহুরী নদী, বাঁকখালী নদীরেজু খালমায়ানমার সীমান্তে প্রবাহিত হচ্ছে নাফ নদী। এছাড়া কুতুবদিয়ামহেশখালী দ্বীপদ্বয়কে কক্সবাজার জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক করেছে যথাক্রমে কুতুবদিয়া চ্যানেলমহেশখালী চ্যানেল। আবার মহেশখালী উপজেলা থেকে মাতারবাড়ীধলঘাটা ইউনিয়নদ্বয়কে পৃথক করেছে কোহেলিয়া নদী[৪]

দ্বীপ ও বনাঞ্চল[সম্পাদনা]

প্রধান দ্বীপ

[২]

প্রধান বন
  • ফুলছড়ি রেঞ্জ
  • ভুমারিয়াঘোনা রেঞ্জ
  • মেহেরঘোনা রেঞ্জ
  • বাঁকখালী রেঞ্জ

[২]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

আকাশপথ

কক্সবাজার বিমানবন্দর এ জেলায় আকাশপথে যোগাযোগের মাধ্যম। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশ বিমান সহ আরও বিভিন্ন ফ্লাইটে যোগাযোগ করা যায়।

সড়কপথ

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ অনেক এসি/নন-এসি বাস যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে মার্সা নামের একটি গাড়ী বেশ আলোচিত, চট্টগ্রাম যাতায়াত করার জন্য।

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলার মানুষ সাধারণত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে, তবে কথ্য ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে কক্সবাজার কেন্দ্রিক শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের মানুষের সাথে বর্তমান মায়ানমার (পূর্বে যাকে আরাকান নামে অভিহিত করা হত) এর সাথে ব্যাপক যোগাযোগের সম্পর্ক ছিল যা এখনও সীমিত আকারে হলেও অটুট রয়েছে। এ কারণে আরকানের ভাষার কিছু কিছু উপাদান কক্সবাজারের কথ্য ভাষায় মিশ্রিত হয়ে গেছে। এ উপজেলায় নৃতাত্বিক রাখাইন জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এদের ভাষার প্রভাবও স্থানীয় ভাষায় লক্ষ্য করা যায়।[৫]

সমুদ্র তীরবর্তী শহর হিসেবে কক্সবাজার জেলার সংস্কৃতি মিশ্র প্রকৃতির। পূর্ব হতেই বার্মার সাথে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক থাকায় এবং রাখাইন নামক নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী বসবাস করায় কক্সবাজারে বাঙালী এবং বার্মিজ সংস্কৃতির এক অভূতপুর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাখাইন সঙ্গীত এবং নৃত্যকলা এ অঞ্চলতো বটেই বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এছাড়া চাকমাও কক্সবাজার জেলায় বহু শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে তারা মূলত উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাতে বসবাস করে।কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী চাকমারকূল ও রাজারকূল চাকমাদের স্মৃতি বহন করে। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ প্রাচীনকাল হতেই নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উত্তাল সাগরের সাথে সংগ্রাম করে টিকে রয়েছে বিধায় স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম ও উপস্থাপনায় সংগ্রামের সেই চিত্র ফুটে ওঠে, বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়ের প্রাত্যাহিক জীবন।[৫]

পর্যটন[সম্পাদনা]

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত

পৃথিবীর দীর্ঘতম (১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ) কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে ২ শতাধিক বড় হোটেল, ৫ শতাধিক অন্যান্য হোটেল রয়েছে। এখানে একটি ঝিনুক মার্কেট ও একটি বার্মিজ মার্কেট রয়েছে, যেখানে মায়ানমার, থাইল্যান্ডচীনের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান পেশা: কৃষি, মৎস্যজীবি, কৃষি শ্রমিক, মজুর, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য।

প্রধান শস্য: ধান, আলু, ডাল, পিঁয়াজ, হলুদ, আঁদা, গম, আঁখ, তামাক, রাবার, সবজী, পান, সুপারি।

প্রধান ফল: আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, নারিকেল, লিচু, পেয়ারা, তাল।

কারখানা ও প্রতিষ্ঠান: চালের কল ৪৭৩টি, লবণের কল ৩৮টি, বরফের কল ৬৪টি, ময়দার কল ১৪৫টি, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (শুঁটকি) শিল্প ৩১টি, মৎস্য-খাদ্য কল ১টি, স'মিল, ছাপাখানা ১৮টি।

খনিজ পদার্থ: প্রাকৃতিক গ্যাস, জিরকন, লিমেনাইট, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট, মোনাজাইট, কোরালিন, লাইমস্টোন।

রপ্তানি পণ্য: পান, সুপারি, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, আনারস, চীনাবাদাম, কাঠ, চিংড়ি, শুঁটকি, লবণ, তামাক, মাছ, নারিকেল, রাবার।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত; পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, যেটি বিশ্বরেকর্ড করেছে ২০০২ সালে বিশ্বের সব দেশের নাগরিক গণ এই কক্সবাজার ভ্রমণ করে থাকে।
হিমছড়ির পাহাড় থেকে দেখা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

[৬][৭][৮]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী চকরিয়ায় ১৩ জন লোককে হত্যা করে এবং বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেয়। এসময় পাকবাহিনী টেকনাফ ডাকবাংলোতে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং রামু, উখিয়া ও টেকনাফ থেকে প্রায় ২৫০জন নিরীহ লোককে ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা করে।[১]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন
  • স্মৃতিস্তম্ভ ৩টি
  • বধ্যভূমি ১টি

[১]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১২] সংসদ সদস্য[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭] রাজনৈতিক দল
২৯৪ কক্সবাজার-১ চকরিয়া উপজেলা এবং পেকুয়া উপজেলা জাফর আলম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৯৫ কক্সবাজার-২ কুতুবদিয়া উপজেলা এবং মহেশখালী উপজেলা আশেক উল্লাহ রফিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৯৬ কক্সবাজার-৩ কক্সবাজার সদর উপজেলা এবং রামু উপজেলা সাইমুম সরওয়ার কমল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৯৭ কক্সবাজার-৪ উখিয়া উপজেলা এবং টেকনাফ উপজেলা শাহিনা আক্তার চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কক্সবাজার জেলা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org 
  2. "এক নজরে কক্সবাজার - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"www.coxsbazar.gov.bd 
  3. "উপজেলা - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"www.coxsbazar.gov.bd 
  4. "নদ নদী - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"www.coxsbazar.gov.bd 
  5. "ভাষা ও সংস্কৃতি - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"coxsbazar.gov.bd। ১০ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৮ 
  6. "Longest Unbroken Sea beach Cox's Bazar - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"coxsbazar.gov.bd 
  7. "পুরাকীর্তির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"coxsbazar.gov.bd 
  8. "দর্শনীয়স্থান - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"coxsbazar.gov.bd 
  9. "মহেশখালী হাইস্কুল জাতীয়করণের দাবি - সারাদেশ - The Daily Ittefaq" 
  10. http://www.coxsbazarnews.com/archives/144632.html
  11. "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব - কক্সবাজার জেলা - কক্সবাজার জেলা"coxsbazar.gov.bd 
  12. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  13. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  14. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  15. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  16. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  17. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]