নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নটর ডেম কলেজ, ঢাকা
Notre Dame College entrance.jpg
নটর ডেম কলেজের প্রবেশমুখে মাতা মেরির কোলাজচিত্র
লাতিন: Notre Dame College, Dhaka
প্রাক্তন নাম
সেন্ট গ্রেগরী কলেজ
নীতিবাক্য
ধরনবেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ
স্থাপিত৩ নভেম্বর, ১৯৪৯ (3 November, 1949)[১]
মূল প্রতিষ্ঠান
পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘ
ধর্মীয় অধিভুক্তি
খ্রিষ্টান ক্যাথলিক গির্জা
বৃত্তিদানক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
অধ্যক্ষহেমন্ত পিউস রোজারিও[২]
উপাধ্যক্ষলেনার্ড শংকর রোজারিও
শিক্ষার্থী৬০০০+
অবস্থান, ,
২৩°৪৩′৪৮″ উত্তর ৯০°২৫′১৬″ পূর্ব / ২৩.৭৩০০° উত্তর ৯০.৪২১১° পূর্ব / 23.7300; 90.4211স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৪৮″ উত্তর ৯০°২৫′১৬″ পূর্ব / ২৩.৭৩০০° উত্তর ৯০.৪২১১° পূর্ব / 23.7300; 90.4211
শিক্ষাঙ্গনশহর
ভাষাবাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম
রঙসমূহক্রিমকালো রঙ
         
ক্রীড়াবিষয়কস্প্রিন্ট, লম্ফঝম্প
সংক্ষিপ্ত নামএনডিসি (NDC)
অধিভুক্তি
ক্রীড়াবাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, ক্রিকেট
ওয়েবসাইটnotredamecollege-dhaka.com
Logo of Notre Dame College.jpg
মানচিত্রে নটর ডেম কলেজের অবস্থান

নটর ডেম কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা একাধিকবার দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ও রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় কলেজ হিসাবে বিবেচিত হয়।[৩] এই প্রতিষ্ঠানটি পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের দ্বারা ৩রা নভেম্বর, ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। ভারত বিভাগের পর কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে সরকারের আমন্ত্রণ পেয়ে তৎকালীন আর্চবিশপ লরেন্স গ্রেনারের তৎপরতায় ও পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি সম্প্রদায় কর্তৃক ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের পরিবর্ধিত রূপ হিসাবে সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে কলেজটিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি মতিঝিল থানার আরামবাগে স্থানান্তরিত করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে "নটর ডেম কলেজ" রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শুধু কলাবাণিজ্য বিভাগ থাকলেও ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বি.এ এবং ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে বি.এস.সি চালু করা হয়। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক পরিচালিত হলেও কলেজটি সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেবার ব্রত নিয়ে পরিচালিত হলেও পঁচাশি শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী বাঙালি মুসলিম[৪] নটর ডেম কলেজে তিনটি ছয় তলা বিশিষ্ট ও একটি তিন তলা বিশিষ্ট শিক্ষাভবন, চার তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ছাত্রাবাস ও ধর্মযাজকদের জন্য একটি আবাসালয় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে ২৪টি ক্লাব পরিচালিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

হ্যারিংটন ভবন নির্মাণকাজ
হ্যারিংটন ভবন নির্মাণকাজ পরিদর্শনে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মার্টিন
নটর ডেম কলেজ সম্প্রসারণ
নটর ডেম কলেজের মাঠ সম্প্রসারণ

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ বিভাগের পর সদ্য স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানে সরকার তৎকালীন ক্যাথলিক গির্জা প্রধানকে কয়েকটি কলেজ চালু করার অনুরোধ জানান। সরকারের আমন্ত্রণ পেয়ে তৎকালীন আর্চবিশপ লরেন্স গ্রেনার পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের যাজক-যাজিকাদেরকে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদাভাবে কলেজ স্থাপনের নির্দেশ দেন। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা নভেম্বর মাসে ঢাকার ৮২ মিউনিসিপ্যাল অফিস স্ট্রিট, লক্ষ্মীবাজারে হলি ক্রসের সিদ্ধান্ত অনুসারে রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি সম্প্রদায় কর্তৃক সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের পরিবর্ধন হিসেবে স্কুল ভবনেই সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ১৯ জন ছাত্র নিয়ে কলেজটি যাত্রা শুরু করে।[৫] পরবর্তীতে ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ৬১/১ সুভাষ বোস এভিনিউ, লক্ষ্মীবাজারে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত হয়। একই বছর নটর ডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৫০ শিক্ষাবর্ষে যেসব ছাত্র ভর্তি হন, তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। তিনি সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হন।[৬] সে বছর যে ৮ জন ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তাদের ৫ জন প্রথম বিভাগ লাভ করে। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে ছাত্রসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫ তে। সে বছরই তিন রাত্রি কলেজের ছাত্ররা সেন্ট গ্রেগরি স্কুল প্রাঙ্গনে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের নাটক দ্য টেমপেস্ট মঞ্চস্থ করে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ছাত্রদের মধ্যে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও ছিলেন। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে রিচার্ড উইলিয়াম টিম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিতর্ক ক্লাব "নটর ডেম ডিবেটিং ক্লাব" শুরু করেন।[১] ১৯৫২-৫৩ খ্রিষ্টাব্দে কলেজে বিএ ক্লাস চালুর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে। ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যক্ষ রিচার্ড উইলিয়াম টিম কলেজে প্রথম বিজ্ঞান শাখা চালু করেন। মূল ভবনের পাশে একটি টিনের ঘরে ব্যবহারিক ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর রিচার্ড উইলিয়াম টিম দেশের প্রথম অপ্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময়েই প্রথম কলেজের সাপ্তাহিক চিট-চ্যাট[টীকা ১] ও বার্ষিক ব্লু অ্যান্ড গোল্ড[টীকা ২] নামে কলেজের প্রকাশনা শুরু হয়। একই সময়ে নটর ডেম ফটোগ্রাফি ক্লাবসাহিত্য গিল্ড নামে ক্লাব গড়ে ওঠে।[১] ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে লক্ষ্মীবাজার হতে কলেজটি আরামবাগে স্থানান্তর করা হয়। তখন এটির নামকরণ করা হয় নটর ডেম কলেজ[৭][৮] কলেজটি প্রথমে কলা ও বাণিজ্য বিষয়ে পড়ালেখা চালু করলেও পরবর্তীতে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বি.এ কোর্স চালু করে। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সেরা কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[৯] ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে বি.এস.সি চালু হয়।

মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন রিচার্ড উইলিয়াম টিম। যুদ্ধকালীন সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে অন্যান্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো নটর ডেম কলেজেও নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য সরকার থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ছাত্র অনুপস্থিতির জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এসময় ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে চালু হওয়া বিএসসি বন্ধ করে দেওয়া হয়। [১০] যুদ্ধকালীন শেষ কয়েক সপ্তাহ প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গন রেডক্রস-জাতিসংঘের সুরক্ষিত স্থান[১১] হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং জাতিসংঘের ৪৪ জন কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তরুণ দুইজন চিকিৎসক আজহারুল হক এবং হুমায়ূন কবিরকে আল বদর বাহিনীর সদস্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে এবং নটর ডেম কলেজের পাশে লাশ ফেলে রাখে।[১২] ১৯৫৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কলেজে আইকম বন্ধ থাকে, পরবর্তীতে তা আবার চালু করা হয়। ১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিএসসি কোর্সের বদলে দিবা ভাগে বিকম কোর্স চালু হয়।

নটর ডেম কলেজের সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন এস্থানে ডা. আজহারুল হক ও ডা. এবিএম হুমায়ুন কবিরের মৃতদেহ পাওয়া যায়, যেখানে বর্তমানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।[১৩]

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অধ্যক্ষ রিচার্ড উইলিয়াম টিম শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজে অংশ নেন। তিনি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে দেশের ত্রাণ, পুনর্বাসন, মানবাধিকার প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। নটর ডেম কলেজের ছাত্ররাও তখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সাথে প্রান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সহায়তার জন্য গমন করে।

১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানের জনশক্তি ত্রাণকাজে নিয়োগ করা হয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ রিচার্ড টিম ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংস্থা কোর গঠন করেন। দিনে প্রায় এক হাজার পাঁচশত মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে খাবার ব্যবস্থা করা হতো। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যা ও দুর্ভিক্ষেও প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারকে সাহায্য করে। সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যক্ষ রিচার্ড উইলিয়াম টিমকে ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাগসেসাই পুরষ্কারে ভূষিত হন।[১০]

১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার স্কুল-কলেজে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে বাধ্যতামূলক করলে নটর ডেমেও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা চালু হয়। ফলে অনেকের জন্য শিক্ষাগ্রহণ আরও সহজ হয়ে যায়। পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি চর্চার জন্য ধর্মযাজক বেনাস ইংরেজি ভাষার একটি কোর্স চালু করেন, যাতে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া যে কেউ অংশ নিতে পারত। প্রথম দিকে শিক্ষকদের জন্য চালু হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।[৯] বর্তমানে কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকেরা কোর্সটি পরিচালনা করেন।

বিবরণ[সম্পাদনা]

নামকরণ ও মূলনীতি[সম্পাদনা]

নটর ডেম শব্দ দুটো ফরাসি ভাষা নোত্র্‌ দাম (ফরাসি: Notre Dame) শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে। যার বাংলা অনুবাদ হলো আমাদের মহীয়সী। রোমান ক্যাথলিকগণ নটর ডেম বলতে যিশুর মা মেরিকে বুঝিয়ে থাকেন। ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত এই কলেজটির নাম মেরিকে উৎসর্গ করে রাখা হয়েছে।[১৪][১৫]

কলেজের মূলনীতি লাতিন ভাষায় রচিত। মূলনীতিটি কলেজের প্রতীকে অপরিবর্তিতভাবে ব্যবহার করা হয়। মূলনীতিটি হলো: Diligite Lumen Sapientiae, যার বাংলা ভাবানুবাদ জ্ঞানের আলোকে ভালোবাসো। ক্যাথলিক ধর্মমতে, যিশুর মা মেরি হলেন জ্ঞানের প্রতীক। "জ্ঞান" (লাতিন: Sapientiae) শব্দটি কলেজের মুখ্য উদ্দেশ্য তথা একাধারে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানের উৎস স্রষ্টাকে লাভ করার প্রতি ইঙ্গিত করে। "আলো" (লাতিন: Lumen) শব্দটি দ্বারা অন্ধকারকে দূরীভূত করা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারার প্রতি ইঙ্গিত করে। আর "ভালোবাসো" (লাতিন: Diligite) শব্দটি দ্বারা ভালোবাসার সাথে জ্ঞান আহরণের প্রতি ইঙ্গিত করে।[১৫]

প্রতীক ও দর্শন[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজের প্রবেশদ্বারে মোজাইক করা প্রতীক

নটর ডেম কলেজের প্রতীকের সবচেয়ে উপরে রয়েছে একটি খোলা বই, যার বাম পাতায় বড় ছাদের গ্রিক বর্ণ আলফা (Α) এবং ডান পাতায় বড় ছাদের ওমেগা (Ω) রয়েছে। আলফা এবং ওমেগা হলো গ্রিক বর্ণমালার যথাক্রমে প্রথম ও শেষ অক্ষর। এর দ্বারা একই সাথে সমগ্র জ্ঞান এবং বাইবেলের রহস্যোদ্ঘাটন অধ্যায়ের যিশুর একটি উক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে। এছাড়া বই হচ্ছে জ্ঞানের বাহন। সম্মিলিতভাবে এই প্রতীকগুলো প্রকাশ করছে: যুগ যুগ ধরে আহরিত যাবতীয় জ্ঞান বইয়ের মধ্যে সঞ্চিত হয়ে আছে এবং তা অর্জন করতে পারলেই জীবন আলোকময় হয়ে উঠবে।

প্রতীকটির নিচের অংশে তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে। বাম দিকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ৭টি পদ্মফুল। পদ্ম হলো বিশুদ্ধতার প্রতীক। প্রতীকে ৭টি পদ্ম দ্বারা মেরির জীবনের সাতটি শোককে প্রকাশ করা হয়েছে। তার জীবনের সাতটি দুঃখময় ঘটনার স্মরণে তাকে "সপ্তশোকের জননী" বলা হয়ে থাকে। এটি কষ্টসাধ্য জ্ঞানার্জনকে ইঙ্গিত করে। ডানদিকের ক্ষেত্রটির জলময় নদী, চলমান নৌকা, সোনালি ধানক্ষেত আর সীমাহীন নীলাকাশ-শোভিত দৃশ্যটি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের বুকে কলেজটির অবস্থান প্রতীকায়িত করে। নিচের ক্ষেত্রটিতে আড়াআড়িভাবে স্থাপিত দুটি নোঙরের বুকে স্থাপিত থেকে আলোক রশ্মি বিচ্ছুরণরত ক্রুশ যা পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের প্রতীককে নির্দেশ করে। এই প্রতীক দ্বারা প্রতিকায়িত করা হয়: ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে যিশুর মৃত্যু যেমন মানব জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছিলেন, তেমনি ক্রুশার্পিত সেই যিশুকে নোঙরের ন্যায় আঁকড়ে ধরে পরিত্রাণ লাভ সম্ভব। ক্রুশ থেকে চারদিকে যে আলো ছড়িয়ে পড়েছে, তা যিশুখ্রিষ্টের জ্ঞানের আলো ও মহানুভবতাকে প্রতীকায়িত করে।[১৫]

কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি দর্শন ও কর্মপ্রচেষ্টা নির্ধারণ করেছেন। দর্শনটির মর্মবাণী নটর ডেম কলেজের ছাত্র: 'নিবেদিত, সৃজনশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল'। প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনটি হল-

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে গোটা ব্যক্তির সামগ্রিক বিকাশ-ছাত্রদের আত্মনিবেদিত, সৃজনশীল, সেবাব্রতী, বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনে ও তা প্রয়োগে নিবিষ্ট ও দক্ষ, এবং যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা।[১৬]

পোশাক বিবরণী[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজে সকল ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরা আবশ্যক। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে শুরু করে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট পোশাক নির্ধারিত ছিল না। তখন শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মার্জিত পোশাকেই ক্লাস করত। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করে। ছাত্রদের ক্রিম রঙের শার্ট, কালো রঙের প্যান্ট এবং কালো রঙের জুতা পরা বাধ্যতামূলক। ডিগ্রি অধ্যায়নরত ছাত্রদের জন্য আকাশি রঙের শার্ট, কালো রঙের প্যান্ট এবং কালো রঙের জুতা নির্ধারিত।

গ্রুপ বিভাজন ও সময়সূচী[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজে বর্তমানে মোট ২৫টি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি বিজ্ঞান শাখার (গ্রুপ ১ থেকে ১৪ পর্যন্ত বাংলা মাধ্যম; গ্রুপ ১৫, ১৬ ইংরেজি ভার্সন), ৭টি ব্যবসায় শিক্ষা (গ্রুপ থেকে এফ) ৩টি মানবিক বিভাগের (গ্রুপ জি, এইচডাব্লিউ)[টীকা ৩] গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম চালু আছে।

প্রতি সপ্তাহে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা হতে ১২:৪০ পর্যন্ত প্রথম বর্ষ এবং দুপুর ১টা হতে বিকেল ৫:৪৫ পর্যন্ত দ্বিতীয় বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম চলে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।[১৭] তবে কলেজের ক্লাব কর্মসূচির বেশিরভাগই শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় কলেজ খোলা থাকে। কলেজটিতে ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং সকল বিভাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজ, রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্ররাই এখানে অধ্যয়ন করতে পারে। পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের যাজকদের দ্বারা কলেজটি পরিচালিত হয়। তবে এতে যাজক-যাজিকা ছাড়াও অযাজকীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।[১৪] কলেজটির শিক্ষাঙ্গনের আয়তন ৫ একর (২০,০০০ মি)। উচ্চতর শিক্ষার বিস্তৃতির লক্ষ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকেবিঘা জমি অনুদান দেয়।[১]

মাতা মেরী[সম্পাদনা]

কলেজের প্রবেশমুখে মেরির কোলাজচিত্র

নটর ডেম কলেজের সবচেয়ে প্রতীকী স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয় মূল প্রবেশদ্বার থেকে কিছুটা সামনে মেরীর কোলাজচিত্র "জ্ঞানের আসন" (ইংরেজি: Seat of Wisdom) ও তৎসংলগ্ন এলাকা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে মাতা মেরী নামেই জনপ্রিয়। ৬ ফুট × ৮ ফুটের এ কোলাজচিত্রটি হ্যারিংটন ভবনের পূর্বদিকে মুক্তভাবে স্থাপিত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটি যিশুর মা মেরীর স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত বলে দীর্ঘসময় ধরে পরিকল্পনা করে কলেজটির একটি প্রতীক হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে।

এতে দেখা যায় মেরী শিশু যিশুকে বর্ণমালা শিক্ষা দিচ্ছেন আর পাশ থেকে উজ্জ্বল দীপ্তি পুরো পরিবেশ আলোকিত করে রেখেছে, যা খ্রিষ্ট ধর্মমতানুযায়ী যিশুর পৃথিবীর আলোক উৎস হবার ধারণাকে প্রতীকায়িত করে। এতে মেরীকে সাধারণ বাঙালি শাড়িযিশুকে পাজামা-পাঞ্জাবি পরে থাকতে দেখা যায়, যা তাদের শিক্ষার বিশ্বজনীনতাকে প্রতিনিধিত্ব করে।[টীকা ৪]

কোলাজচিত্রটির শিল্পী হলেন মির্জা রবিউল আলম খোকন। নটর ডেম কলেজের এ কোলাজচিত্রটির পেছনে তিনি তার দলসহ টানা একমাস ব্যয় করেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি কিছু টালি বাংলাদেশে না পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা থেকে এনেছিলেন। ১৯৯৯ সালের ২৯ অক্টোবর কাজ শেষে এটি স্বস্থানে বসানো হয়।[১৮]

ভবন[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজের ভবনসমূহ (ঘড়ির কাটার দিক অনুসারে ফাদার হ্যারিংটন ভবন, মার্টিন হল, ফাদার গাঙ্গুলি ভবন, ফাদার পিশোতো ভবন, ফাদার টিম ভবন, ম্যাথিস হাউজ)

নটর ডেম কলেজে মোট ৪টি শিক্ষা ভবন, একটি ছাত্রাবাস, একটি মসজিদ, একটি খাবারঘর ও একটি যাজকাবাস রয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে তিন তলা বিশিষ্ট হ্যারিংটন ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর নিচ তলা অধ্যক্ষের কক্ষ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় তলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও রসায়ন গবেষণাগার, উপাধ্যাক্ষ ও ছাত্রপরিচালকের কক্ষ রয়েছে। তৃতীয় তলা শিক্ষাতয়নিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬০ সালে নির্মাণ করা হয় ছাত্রবাস মার্টিন হল। পরবর্তীতে ৯০-এর দশকে ছাত্র সংকুলান না হওয়ার কারণে ছয়তলাবিশিষ্ট গাঙ্গুলি ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়। গাঙ্গুলি ভবনের নিচতলা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ষষ্ঠ তলা ক্লাব পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। বাকিসব তলায় শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে হ্যারিংটন ভবন ও গাঙ্গুলি ভবনে বিজ্ঞান শাখার সকল গ্রুপের ক্লাস পরিচালিত হয় এবং ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করা হয়।

১৯৫২ সালে ছাত্রসংখ্যা ৯২ তে উন্নীত হয়। এতে আবাসিক ভবনে স্থানাভাব দেখা দিলে মূলত কলেজের জন্য নতুন জায়গা দেখার কাজ শুরু হয়।

১৯৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকার মতিঝিল[টীকা ৫] এলাকায় কলেজের জন্য একটি নতুন জমি কেনা হয়। ১৭ জানুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বোম্বের কার্ডিনাল ভ্যালেরিয়ান গ্রাসিয়াস ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং যিশুর মা মেরির নামে কলেজের নামকরণ করা হয় নটর ডেম কলেজ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডাব্লিউ এ জেনকিন্স ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর চৌধুরী খালিকুজ্জামান[১]

মতিঝিলে নতুন ত্রিতল ভবন নির্মাণের পরপরই ১৯৫৫ সালের মে মাসে লক্ষ্মীবাজার ত্যাগ করে নতুন স্থানে কলেজ স্থানান্তরিত হয় এবং ৮ জুলাই নতুন ভবনে প্রথম ক্লাস শুরু হয়। ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যবহৃত টিনের ঘরটি বর্তমান ম্যাথিস হাউজের পেছনে স্থানান্তরিত করে খাবারঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এ সময়ে নটর ডেম কলেজ ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের অধীনে আইএ পরীক্ষায় অত্যন্ত ভালো ফলাফল অর্জন করে। এই আট বছরের মধ্যে সাত বছরই সম্মিলিত মেধা তালিকায় কলেজের ছাত্ররা প্রথম স্থান অধিকার করে।[৯] ১৯৫৪ সাল থেকে কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকলে মূল কলেজ ভবনের উত্তরে আরেকটি চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় আবাসিক ছাত্রাবাস ও নিচতলায় মিলনায়তন স্থাপন করা হয়। ১৯৬০ সালে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঐ বছরের ২১ মার্চ অধ্যক্ষ জেমস এল মার্টিন টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নামানুসারে নতুন ভবনের নামকরণ করা হয় মার্টিন ভবন। এরপর থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী প্রথম বাঙালি অধ্যক্ষ হিসেবে জেমস মার্টিনের স্থলাভিষিক্ত হন।[টীকা ৬][১৯] তিনি মাত্র সাত মাস কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ঢাকা ধর্মমহাপ্রদেশের সহকারী বিশপ মনোনীত হন। পরবর্তীতে তিনি প্রথম বাঙালি বিশপ ও ঢাকার আর্চবিশপ পদেও অধিষ্ঠিত হন।[১৯]

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মূল ভবনের দক্ষিণে যাজকদের জন্য ম্যাথিস হাউজ সংযোজিত হয়। সে বছর ৮ ডিসেম্বর মেরির অমলোদ্ভবা পর্বদিবসে অধ্যক্ষ অমল গাঙ্গুলী ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে পবিত্র ক্রুশ সংঘের ফাদারদের মিশনারি কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্যোক্তা মাইকেল ম্যাথিসের নামে ভবনের নামকরণ করা হয় ম্যাথিস ভবন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই ভবনের নিচতলা সেমিনারিয়ান ও ব্রাদারদের পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর ধর্মযাজক হেমন্ত পিউস রোজারিও অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর "ফাদার টিম ভবন"-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে ৪ বিঘা জমি অনুদান দেয়, যেখানে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে পরিসর বাড়ানোর জন্য ছয়তলা বিশিষ্ট টিম ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়। টিম ভবনে ব্যবসায় শিক্ষা শাখামানবিক শাখার সকল গ্রুপের ক্লাস পরিচালিত হয়। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে সদ্যসমাপ্ত হওয়া "ফাদার টিম ভবন" উদ্বোধন করা হয়। [৯] ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। ২রা ডিসেম্বর তিনি নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গনে যুব সমাবেশে বক্তব্য দেন।[২০] এদিনই তিনি কলেজের সদ্যনির্মিত ফাদার টিম ভবন ও নির্মাণাধীন ফাদার পিশোতো ভবন' এর নামফলক উদ্বোধন করেন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে "ফাদার পিশেতো ভবন"-এর কাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে তা উদ্বোধন করা হয়। ফাদার পিশেতো ভবনের নিচ তলার পুরোটা জুড়ে ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে এবং দোতলায় কলেজের জিমনেশিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ভবনটিতে নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়। অ্যাসোসিয়েশনকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জানুয়ারি মাসে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ৭০ বছর পূর্তি আয়োজন করে।

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

ফাদার রিচার্ড নোভাক মেমোরিয়াল লাইব্রেরির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের প্রতিষ্ঠার সময় কলেজের অভ্যন্তরে "সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ লাইব্রেরি" নামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের নাম পরিবর্তন করে নটর ডেম কলেজ রাখা হলে গ্রন্থাগারের নামও পরিবর্তন করে রাখা হয় "নটর ডেম কলেজ লাইব্রেরি"। কলেজের নতুন ভবনের (আর্চবিশপ গাঙ্গুলী ভবন) নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট গ্রন্থাগারটি কলেজের যুক্তিবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক রিচার্ড নোভাককে উৎসর্গ করে "ফাদার রিচার্ড নোভাক মেমোরিয়াল লাইব্রেরি" নাম রাখা হয়। "ফাদার রিচার্ড নোভাক মেমোরিয়াল লাইব্রেরি"র উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকার আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান[২১] ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালীন ১৬ জানুয়ারি রিচার্ড নোভাক একটি পরিবারকে দেখতে সাইকেল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাবার পথে নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পার হবার সময় উগ্রবাদীদের হাতে পড়েন এবং তাকে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে দেয়া হয়।[২২][২৩] রিচার্ড নোভাকের বড় ভাই মাইকেল নোভাক একজন প্রখ্যাত মার্কিন লেখক, তার লেখা ও সংগ্রহের অনেক বই এই গ্রন্থাগারে দান করেছিলেন এবং আমৃত্যু গ্রন্থাগারের জন্য নিয়মিত অর্থ অনুদান দিয়ে গেছেন। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে টেম্পলটন পুরস্কারের অর্থের একটি অংশও তিনি গ্রন্থাগারে দান করেন। এছাড়া নতুন গ্রন্থাগার-কক্ষ নির্মাণের জন্যও তিনি অনুদান দেন।[২১]

আর্চবিশপ গাঙ্গুলি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত গ্রন্থাগারটির মোট ১৩০ আসনবিশিষ্ট দুটি পাঠকক্ষ রয়েছে। কলেজে ভর্তির সাথে সাথে ছাত্ররা গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে যায় এবং লাইব্রেরি কার্ড পেয়ে যায়। গ্রন্থাগারে নিয়মিত ৬টি দৈনিক পত্রিকা, ৪টি সাপ্তাহিক ও ৪টি মাসিক ম্যাগাজিন রাখা হয়। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকী ও প্রবন্ধপ্রন্থ অনিয়মিতভাবে রাখা হয়। বইসমূহ লাইব্রেরি কার্ডের প্রেক্ষিতে ধার নেয়া যায়। তবে অভিধান, বিশ্বকোষ, পাঠ্যবই ইত্যাদি দুষ্প্রাপ্য বইসমূহ কেবল গ্রন্থাগারেই ব্যবহার্য। গ্রন্থাগারটিতে প্রয়োজনীয় বই ফটোকপিরও ব্যবস্থা আছে।[১৪]

প্রাকৃতিক পরিবেশ[সম্পাদনা]

হ্যারিংটন ভবনের সামনে পানির ফোটা আকৃতির বাগান

১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পরিবেশবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার হাত ধরে কলেজ প্রাঙ্গণে গাছ লাগানো শুরু হয়। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নটর ডেম কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রথমে শুধুমাত্র ছাত্রদের ব্যবহারিক পাঠের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে বৃক্ষরোপণ করা হলেও পরবর্তীতে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ উইলিয়াম টিম ও জেমস বেনাসের উৎসাহে কলেজে বিস্তৃত পরিসরে সবুজায়ন করা হয় এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন মালিকে নিয়ে আসা হয়।[২৪][২৫] নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গনে অবস্থিত বিরল গাছগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাগলিঙ্গম গাছ। কলেজ ক্যাম্পাসের মিলনায়তনের পাশে সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় গাছদ্বয়ের দেখা মেলে। সমগ্র বাংলাদেশে থাকা মাত্র ৫২টি নাগলিঙ্গম গাছের মধ্যে দুইটিই এখানে রয়েছে।[২৬][২৭] ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে তিনটি তালিপাম গাছের চারা রোপণ করা হয়। এগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবীর সর্বশেষ প্রাকৃতিক তালিপাম গাছটির বংশধর।[২৮] কলেজ প্রাঙ্গনে বিভিন্ন পরিচিত, বিরল প্রজাতির ফুল-ফলগাছ এমনকি বৃহৎ কাষ্ঠল উদ্ভিদও শোভাবর্ধন করছে। পরিচিত ফুলগাছগুলোর মধ্যে রয়েছে: কদম, রাজ অশোক, শিমুল, পলাশ, সোনালু বা বাঁদর লাঠি, কনকচাঁপা, লালসালু, বকুল প্রভৃতি। বিরল প্রজাতির ফুল জাতীয় গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে: কান্তিবাবলা, রক্তকাঞ্চন, বোতল ব্রাশ, পারিজাত বা মান্দার, পরশপিপুল, নাগেশ্বর, উদয়পদ্ম, শিবজটা, রক্তচিতা, লাল গুলাচি, কুরচি ফুল বা ইন্দ্রযব প্রভৃতি। শোভাবর্ধক বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে: লক্ষ পাকুর, মহাকর্পূর, কর্পূর, হিজল, ছাতিম, গগনশিরীষ, ইপিল ইপিল প্রভৃতি। অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধক উদ্ভিদগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিলাতি ঝাউ, সাইকাস, কয়েক প্রজাতির পাতাবাহার, লালপাতা, পান্থপাদপ, দেবদারু প্রভৃতি।[২৯] ২০২০ সালে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবলীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে শতাধিক বৃক্ষ রোপণ করা হয়।[৩০]

নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি নটর ডেম কলেজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩-২৪শে জানুয়ারি নটর ডেম কলেজে বিশ্বের ১৭টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।[৩১][৩২]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজ একটি গভর্নিং বডির অধীনে পরিচালিত হয়। ঢাকা ধর্মমহাপ্রদেশের আর্চবিশপ পদাধিকারবলে এই গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কলেজের প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একজন অধ্যক্ষের অধীনে একজন উপাধ্যক্ষ ও একজন ছাত্র পরিচালক থাকেন। ঢাকা পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের আদেশ অনুসারে খ্রিষ্টধর্মের ক্যাথলিক যাজক ও ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা এটি পরিচালিত হয়। স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন যাজক এই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বাংলাদেশি ও বাঙালি অধ্যক্ষ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী[১৯]

অধ্যক্ষ দায়িত্বকাল
জন হ্যারিংটন ১৯৪৯-১৯৫৪
জেমস মার্টিন ১৯৫৪-১৯৬০
থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী ২৯ মার্চ, ১৯৬০ - অক্টোবর, ১৯৬০[১৯]
উইলিয়াম গ্রাহাম ১৯৬০-১৯৬৭
জন ভ্যান্ডেন বোস ১৯৬৭-১৯৬৯
জোসেফ পিশোতো ১৯৬৯-১৯৭০
রিচার্ড উইলিয়াম টিম ১৯৭০-১৯৭১[৩৩]
অ্যামব্রোস হুইলার ১৯৭১-১৯৭৬
জোসেফ পিশোতো ১৯৭৬-১৯৯৮
বেঞ্জামিন কস্তা ১৯৯৮-২০১২[৩৪]
হেমন্ত পিউস রোজারিও ১২ ডিসেম্বর, ২০১২-বর্তমান[২]

কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মোট ৯০ জন (২০১৯ সাল পর্যন্ত) শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও কলেজের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য ৩১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করে থাকেন এবং কলেজ ব্যবস্থাপনার কাজে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে ৩৬ জন কর্মচারী কাজ করেন। পাশাপাশি ৫ জনের একটি দল কলেজের কাজের বিনিময়ে অধ্যয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকেন। বিনামূল্যে দরিদ্র ও পথশিশুদের শিক্ষাদান কার্যক্রমে ২ জন শিক্ষক নিয়োজিত আছেন।[৯] নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বেনজামিন কস্তা, বাংলা বিভাগের বর্তমান প্রভাষক মিজান রহমান ও জীববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার অন্যতম লেখক।[৩৫]

শিক্ষা কার্যক্রম ও পদ্ধতি[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিরেক্টর অব স্টাডিজডিরেক্টর অব স্পোর্টস নামে পূর্বের দুটি পদ সৃষ্টির কথা পাওয়া যায়।[১০] তবে বর্তমানে ডিরেক্টর অব গাইডেন্স বা "ছাত্র পরিচালক" তাঁর দপ্তর থেকে নিয়মিত পাঠ কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয় তত্ত্বাবধান করে থাকেন।[১৪] কলেজে উপস্থিতি আশি শতাংশের কম হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে দুটি বাধ্যতামূলক কুইজ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হয় এবং এর ফলাফল শিক্ষার্থীর সার্বিক ফলাফলে যুক্ত হয়। নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান গবেষণাগারগুলো সমস্থানীয় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাগারগুলোর তুলনায় সমৃদ্ধ বলে বিবেচনা করা হয়।[১০] বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য সপ্তাহে গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা চারটি বিষয়ের ব্যবহারিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে সম্পাদন করতে হয়। ব্যবহারিক পাঠে সামান্যতম ত্রুটি কিংবা অবহেলা দৃষ্টিগোচর হলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের অনুমোদন স্থগিত করে দেয়া হয়।[১৪] এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতেও এসব কার্যক্রমে সামান্যতম ছাড় দেয়া হয়নি। পাঠ্যক্রম, সংক্ষিপ্ত সময়, আয় সংকোচন, ছাত্রসংখ্যার মাত্রাতিরিক্ত স্ফীতি ও অনৈতিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মতো সমস্যা মোকাবেলা করেও সেরকম পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।[১]

প্রতিষ্ঠানে প্রতি সপ্তাহে এক ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় শুধুমাত্র সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। প্রায় সপ্তাহেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠানে কোনো না কোনো সহশিক্ষা সংগঠনের উৎসব আয়োজিত হয়। প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রতিষ্ঠানের আদর্শ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সময় ব্যবহার করে মূল্যবোধ পাঠ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।[১৪]

ভর্তি প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

প্রথম থেকেই নটর ডেম কলেজে নিজস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১০ মে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে, যাতে ভর্তি পরীক্ষার কোনো উল্লেখ নেই।[৩৬][৩৭][৩৮] বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং "নটর ডেম শিক্ষা ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি" নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।[৩৯] অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের বিপরীতে গিয়ে উচ্চ আদালতে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য অ্যাডভোকেট কদম আলী মল্লিক উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন[৩৬] এবং ফলাফল হিসেবে প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।[৪০][৪১] নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও নটর ডেম শিক্ষা ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির পক্ষে আইনি লড়াই ও নৈতিক সমর্থন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়ান প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থী ১১৫ জন ব্যারিস্টার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৩০০ অধ্যাপক।[৪২] পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।[৪৩][টীকা ৭][১৪] আদালতের এই রায়ের ভিত্তিতে হলি ক্রস সংঘ পরিচালিত চার কলেজ নটর ডেম কলেজ, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হলিক্রস কলেজ এবং সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়।[৪৪] নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গন পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত অঞ্চল। কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদন ফর্মে বিজ্ঞপ্তি দেন যাতে ধূমপায়ী ছাত্রগণ না আবেদন করে।[৪৫] তবে ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নটর ডেম কলেজের নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করার আদেশ দেয়। যদিও ২ জুনের এক আদেশে ২০ জুনের মধ্যে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছিল।[৪৬] এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ কর্তৃক একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।[৪৭]

শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজে শুরু থেকেই শিক্ষা সহায়ক কর্মকান্ডে বাড়তি গুরুত্বারোপ করা হয়। পাঠ্য বহির্ভূত বিষয়ের নিয়মিত অনুশীলন, গবেষণা ও প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু বিশেষায়িত সংগঠন তৈরি করা হয়েছে। এরা প্রতিষ্ঠানে স্বীয় বিষয়ের চর্চা ও প্রচারে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ছাড়াও সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ববোধ, আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করে থাকে।

ছাত্র রাজনীতি[সম্পাদনা]

শুরু থেকেই নটর ডেম কলেজে ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল। ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তে সহশিক্ষা সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সবরকম প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকলে এ প্রতিষ্ঠানেও ছাত্র ইউনিয়ন-এর কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর চাপ তৈরি হতে থাকে। একপর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও গঠনতন্ত্র তৈরি করে ছাত্র ইউনিয়ন তৈরির অনুমতি দেয়। এমনকি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজের দায়িত্বও দেয়া হয়। কিন্তু প্রত্যাশানুযায়ী আচরণের বদলে সংগঠনটি ধ্বংসাত্মক প্রবণতা দেখাতে থাকে।[১০]

১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ১৯৭২ শিক্ষাবর্ষে যেসব ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের কারণে স্কুল থেকে পরীক্ষা না দিয়েই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল, তারা কলেজের নিয়ম অনুযায়ী সন্তোষজনক ফলাফল করে এইচএসসি দেবার সুযোগ পাবে না বুঝতে পেরে ছাত্র ইউনিয়নের সহায়তায় পরীক্ষা দেবার অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করে। ইউনিয়ন নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নেয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা সরে যায়। একপর্যায়ে কলেজ ক্যাম্পাস লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সাধারণ ছাত্ররা প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচন বর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নয় বছরের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।[৯]

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

সহশিক্ষা সংগঠন[সম্পাদনা]

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পর কলেজের ক্লাব কার্যক্রম আরো সুসংগঠিত করা হয়। বর্তমানে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের মূল্যবোধ উন্নয়নে ও চরিত্র গঠনে প্রতি মাসে একবার ঘন্টাব্যাপী মূল্যবোধের ক্লাস নিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির যেকোনো ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যক্ষ নিজে এবং ক্লাব সমন্বয়ক হিসেবে সহশিক্ষা সংগঠনগুলোর মূল তত্ত্বাবধানের কাজ করেন উপাধ্যক্ষ। প্রতিটি সংগঠনে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক/শিক্ষিকা পরিচালক (ইংরেজি: Moderator) পদে বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত অধিকার ও ক্ষমতা দ্বারা স্বীয় সংগঠনে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। প্রতিটি সংগঠনে মনোনীত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে গঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদ পরিচালক অথবা মডারেটরের নির্দেশনানুযায়ী সংগঠন পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।[১৪] ২০২০ সাল পর্যন্ত নটর ডেম কলেজে বর্তমানে মোট ২৪টি সহশিক্ষা সংগঠন (ক্লাব) রয়েছে।[৪৮] ক্লাব কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্তদের কলেজের সামগ্রিক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ ছাত্রদের অনারেবল মেনশন প্রদান করা হয়।[৯]নটর ডেম সায়েন্স ক্লাব উপমহাদেশের প্রথম বিজ্ঞান ক্লাব। এছাড়াও নটর ডেম ইংলিশ ক্লাব বাংলাদেশের প্রথম, সর্ববৃহৎ ইংলিশ ক্লাব ও সর্ববৃহৎ ইংরেজি উৎসবের আয়োজক। নটর ডেম নেচার স্টাডি ক্লাব ও তার সহযোগী সংগঠন নেচার স্টাডি সোসাইটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে, যেটি বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ প্রিজারভেশন সহ প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এর আজীবন সদস্যপদ লাভ করেছে। নটর ডেম কলেজে ১৭ টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে হওয়া দুবারের আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সম্মেলনের আয়োজনে প্রধান সহযোগী ছিল এই সংগঠন।[৪৯] বিভিন্ন ক্লাব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কর্মশালার আয়োজন করে থাকে।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজের প্রধান প্রকাশনা হল "ব্লু অ্যান্ড গোল্ড"। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী রঙ হল নীলসোনালি। এই ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে অনুষ্ঠানিক প্রকাশনাটির নাম ব্লু অ্যান্ড গোল্ড রাখা হয়। প্রতি বছর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্লু অ্যান্ড গোল্ড প্রকাশিত হয়।[১] এছাড়াও প্রতি ৩ মাস পরপর ঢাক-ঢোল নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের হয়।

ক্রীড়া[সম্পাদনা]

হ্যারিংটন ভবনের সামনে অবস্থিত বাস্কেটবল মাঠ

কলেজ প্রাঙ্গণে ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি বহিরাঙ্গন খেলার সুবিধা দিতে বিশাল মাঠ রয়েছে। এছাড়া আছে বাস্কেটবল মাঠ। বাস্ককেটবল কোর্টসহ কলেজে মোট ৩টি মাঠ রয়েছে। কলেজের ছাত্রদেরকে খেলাধুলার সুবিধা দিতে রয়েছে একটি খেলার সরঞ্জাম ধার দেয়ার অফিস। সেখানে ছাত্ররা নিজেদের কলেজ পরিচয় পত্র প্রদর্শনপূর্বক বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলার সামগ্রী বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন।

উৎসব[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত নিয়মিত উৎসবগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় উৎসব নবীনবরণ[৫০] ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুন ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এর সহযোগিতায় নটর ডেম কলেজে আইসিটি দিবস উপলক্ষে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রকল্প প্রদর্শনী ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়, যাতে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মোহাম্মদ কায়কোবাদ সহ বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরা যোগ দিয়েছিলেন। [৫১] ২রা ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস নটর ডেম কলেজ পরিদর্শনে আসেন।[৫২][৫৩] এ উপলক্ষে একটি যুব সমাবেশ আয়োজন করা হয়, যাতে দশ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।[৫৪][৫৫] ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নটর ডেম কলেজ মায়ের কাছে মায়ের ভাষায় চিঠি লেখার ব্যতিক্রমী আয়োজন করে, যাতে ৩১০০ শিক্ষার্থী তাদের মায়ের কাছে চিঠি লেখে যেগুলো পরবর্তীতে ডাকযোগে পাঠানো হয়।[৫৬] ৩৯ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০১৮ উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গনে তিন দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও ঢাকা জেলা পর্যায়ের অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত হলেও নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাব এতে সক্রিয় সহযোগিতা করে।[৫৭] ২০১৫ সালের জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এর পাঁচ জেলার সমন্বয়ে হওয়া আঞ্চলিক পর্বও এ প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়।[৫৮] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গনে কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় দুই দিন ব্যাপী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি এর পুরষ্কার বিতরণী উৎসবে ঢাকার ২৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯৯৮ শিক্ষার্থীকে পুরষ্কৃত করা হয়।[৫৯] তাছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারি, বসন্ত বরণসহ[৬০] প্রায় প্রতিটি জাতীয় দিবস উপলক্ষেই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম বিতর্ক সংগঠন[১৪] নটর ডেম ডিবেটিং ক্লাব ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এনডিডিসি ন্যাশনালস নামে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যা এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলছে। তাছাড়া বাংলাদেশে ডিবেটার্স লীগ নাম দিয়ে বিতর্কে নতুন লীগ পদ্ধতির সূচনা করে এ সংগঠনটি।[৬১] সংবিধান প্রণেতা খ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এ সংগঠনের বিতার্কিক ছিলেন।[৬২] ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাবের আয়োজনে প্রথম আলোর সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক বিজ্ঞানমেলা ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৩৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।[৬৩]২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম নাট্যদল আয়োজিত অষ্টম জাতীয় নাট্যোৎসব ও কর্মশালা তে সারা বাংলাদেশের ৫০ টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে ডুব চলচ্চিত্রের প্রচারণার অংশ হিসেবে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, তিশা ও চিরকুট দল অংশগ্রহণ করে।[৬৪] ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ইংরেজি নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের প্রথম সহশিক্ষা সংগঠন নটর ডেম ইংলিশ ক্লাব ৪র্থ জাতীয় ইংরেজি উৎসব আয়োজন করে, যাতে সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং এটি ছিল ইংরেজি ভাষা নিয়ে হওয়া বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উৎসব।[৬৫] নটর ডেম কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কলেজের ছাত্ররা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। প্রতিবছর কলেজের ছাত্ররা বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে। ১৯৭৪-৭৫ খ্রিষ্টাব্দে নটর ডেম কলেজের রজত জয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) উৎসব পালিত হয়। এই উপলক্ষে কলেজে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয় এবং এতে প্রাক্তন ছাত্রদের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন।[৯] ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজটি ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষ্যে কলেজ বর্তমান ও পুরাতন ছাত্রদের নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সুবর্ণ জয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কলেজে মেরীর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে পালিত হয়েছে ৬০ বছর পূর্তি উৎসব। এতে সভাপতি ছিলেন সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন, অতিথি ছিলেন হাসানুল হক ইনু, রাশেদা কে. চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এস এ সামাদ প্রমুখ।[৬৬] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের ৭০ বছর পূর্তিতে স্মরণীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৭০ এর আহ্বানে জীবনের জয়গানে প্রতিপাদ্যে উদযাপিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ[৭]

ধর্মচর্চা[সম্পাদনা]

ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় কলেজের খ্রিষ্টান ছাত্রদেরকে প্রতি রবিবার বিশেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্রদেরই নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা কলেজে রয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গণে বাস্কেটবল মাঠের পাশেই বাগানের মধ্যে একটি একতলা পাঞ্জেগানা মসজিদ এবং ওজুখানা রয়েছে। এছাড়া, কলেজের গাঙ্গুলি ভবন-এর নিচতলায় একটি ধর্মবিষয়ক পাঠাগার রয়েছে। সেখানে সকল ধর্মের পুস্তকাদি সংরক্ষিত রয়েছে।

সামাজিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

কাজের বিনিময়ে অধ্যয়ন কর্মসূচি[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য "কাজের বিনিময়ে অধ্যয়ন" বা "নটর ডেম কলেজ ওয়ার্ক প্রোগ্রাম" নামে ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির মতো এটিও ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়। কর্মসূচিটি মূলত শুরু করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ জে এস পিশেতো। তাকে সহায়তা করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা আরো দুই ধর্মযাজক টিম বেনাস ও স্টিভ গোমেজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও বিদ্যালয়গুলোর সুপারিশে প্রতি বছর মে-জুন মাসে নয় দিনের শ্রমসাধ্য পরীক্ষামূলক কর্ম-অধিবেশন বা ট্রায়াল ওয়ার্ক সেশন এর মাধ্যমে এই প্রকল্পের জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচনকালে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, মেধা, প্রয়োজন, কর্মীসুলভ মনোভাব প্রভৃতি যাচাই করা হয়। এই কর্মসূচির একজন পরিচালক, তত্ত্বাবধান ও বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজন সহকারী নিয়োজিত থাকেন। কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গবেষণাগার সহকারী, অফিসের হিসাবরক্ষক, নিরাপত্তারক্ষী, টেলিফোন অপারেটর, বাগান পরিচর্যা এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্বও পালন করে থাকে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কারিতাসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় গিয়ে প্রতি সপ্তাহে তাদের কাজে সাহায্যও করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ বর্তমান কর্মচারী এই প্রকল্পের মাধ্যমেই নির্বাচিত।[১৪][১০]

নটর ডেম লিটারেসি স্কুল[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজ শিক্ষা অঙ্গনের দক্ষিণ পার্শ্বে নটর ডেম লিটারেসি স্কুল ভবন

নটর ডেম কলেজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় এরকম একটি সেবামূলক উদ্যোগ হলো নটর ডেম লিটারেসি স্কুল, যা মূলত একটি নৈশ্য বিদ্যালয়। প্রকল্পটি নটর ডেম কলেজের স্টুডেন্ট ওয়ার্কিং প্রোগ্রাম এর অংশ। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এখানে চলছে কর্মজীবী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষাদান। সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খ্রিষ্টান ফাদারদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুল। প্রথম দিকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তা উন্নীত করা হয়। এখান থেকে পাশ করে অনেকে নটর ডেম কলেজেও পড়ার মতো যোগ্যতাও অর্জন করে থাকে। নটরডেম লিটারেসি স্কুলে বর্তমানে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে যারা ১৮০ টি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।[৬৭] মূলত এই সেবামূলক কার্যক্রমে নটর ডেম কলেজের ছাত্ররাই স্বেচ্ছায় শিক্ষাদান করছেন। তবে নটর ডেম কলেজ ছাড়াও পড়ান বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক ছাত্রও। কলেজশিক্ষক, ছাত্র এবং বিভিন্ন অনুদান থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এই স্কুলে রয়েছে মর্নিং শিফট, ডে শিফটইভনিং শিফট[৬৮] এছাড়াও এই উদ্যোগের সাথে রয়েছে নটর ডেম জাগরণী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, নটর ডেম ন্যাভিন সিক শেল্টার, নটর ডেম ফিডিং প্রোগ্রাম, নটর ডেম সিউইং সেন্টার, এবং নটর ডেম বয়েজ' হোম[১০] করোনা মহামারী চলাকালীন নটর ডেম লিটারেসি স্কুল তাদের সাথে সম্পৃক্ত ১৮০টি পরিবারের মধ্যে দূর্দশাগ্রস্ত ৭৫ পরিবারের শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্য বিতরণ করে, যার আনুমানিক সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩৩০ জন।[৬৭]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজ পরিদর্শনে এ কে ফজলুল হক
নটর ডেম কলেজ পরিদর্শনে তৎকালীন পূর্ববাংলার গভর্নর এ কে ফজলুল হক
নটর ডেম কলেজে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
নটর ডেম কলেজে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
হেমন্ত পিউস রোজারিও এর পদক গ্রহণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও এর পদক গ্রহণ

নটর ডেম কলেজকে এ যাবৎ চারবার (১৯৫৯, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭) জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৯ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষায় প্রশংসনীয় সাফল্য লাভের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত একটানা সাতবার প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে।[৭] দেশ স্বাধীনের পর শিক্ষা বিস্তারের স্বীকৃতস্বরূপ ১৯৮৮, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পায়। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এই কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুশান্ত কুমার সরকারকে ও ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জীববিজ্ঞান বিভাগের গাজী আজমলকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়।[৬৯][১]

২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বিএফএফ-এসপিএসবি শিশু কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এমপেমবা ইফেক্ট প্রকল্পের জন্য সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেপার অব কংগ্রেস লাভ করেন।[৭০] ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত ৪৭ তম আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় এ প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী।[৭১] ২০১৬ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ৫৭ তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় এ প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষার্থী।[৭২] একই বছর অনুষ্ঠিত ২৮ তম এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াড, এপিএমও তে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।[৭৩][৭৪] ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নটর ডেম সায়েন্স ক্লাবের দুই সদস্য পৃথকভাবে ব্রোঞ্জ পদক ও এক সদস্য "সম্মানসূচক স্বীকৃতি" লাভ করে।[৭৫] ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালে অনুষ্ঠিত ৪৯তম আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে এ প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী পৃথকভাবে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।[৭৬] ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক অর্জন করেন নটর ডেম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী।[৭৭][৭৮] ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ কার্যক্রমে এ কলেজের এক শিক্ষার্থী দেশসেরা প্রথম বার জনের একজন হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করেন এবং বিজয়ী দলের সঙ্গে পাঁচ দিনের শিক্ষা সফরে তুরস্ক ভ্রমণ করেন।[৭৯] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইতে অনুষ্ঠিত ২১ তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড|আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী দল প্লান্টিবট ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।[৮০] ৫৩ তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সম্মানসূচক স্বীকৃতি লাভ করেন এ কলেজের শিক্ষার্থী তানজীম শরীফ, যিনি ২০১০ সালে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠে চ্যাম্পিয়ন[৮১] হয়েছিলেন। [৮২] তাছাড়া, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হন।[৮৩]

পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে চ্যানেল আই এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রকৃতি মেলায় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিওকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।[৮৪]

সহোদরপ্রতিম প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজ মূলত খ্রিষ্টান মিশনারি সংগঠন পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘ পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘ উনিশ শতক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এদের মধ্যে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্ট মেরীস কলেজ, অরেগন অঙ্গরাজ্যে পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে কিংস কলেজ, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে স্টোনহিল কলেজ, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নটর ডেম হাইস্কুল, কানাডার মন্ট্রিলে নটর ডেম কলেজ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে সেন্ট জর্জ কলেজ, ব্রাজিলে নটর ডেম কলেজ উল্লেখযোগ্য।[১] বাংলাদেশে পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘ পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয়ে নটর ডেম কলেজের পরামর্শ গ্রহণ করে এবং কলেজটিও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সংঘ পরিচালিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে থাকে। এরাই নটর ডেম কলেজের ভাতৃপ্রতিম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভাতৃপ্রতিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠান অবস্থান
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা
হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়হলি ক্রস কলেজ তেজগাঁও, ঢাকা
সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাম্মদপুর, ঢাকা
নটর ডেম কলেজ, ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ
সেইন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
বান্দুরা হলিক্রশ হাই স্কুল এন্ড কলেজ নবাবগঞ্জ উপজেলা, ঢাকা জেলা
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র নটর ডেম, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় হাইতি পর্তোপ্রাঁস, হাইতি
সেন্ট ফিলিপস্ হাই স্কুল এণ্ড কলেজ দিনাজপুর সদর
সেন্ট বেনেডিক্ট বোর্ডিং ধানজুড়ি, বিরামপুর, দিনাজপুর জেলা

উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

রাজনীতি ও সামরিক ক্ষেত্র[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একজন সংগঠক।[৮৫] তাছাড়া দ্য ডেইলি স্টার এর সম্পাদক মাহফুজ আনামও এ প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন।[৮৬] মুক্তিযুদ্ধে নটর ডেম কলেজের সাবেক ছাত্র লে.আশফাকুস সামাদ[৮৭] ও মোহাম্মদ নাসিম মোহসিন আত্মহুতি দেন।[৯] তৎকালীন সময়ে ঢাকার গেরিলাদল ক্র্যাক প্লাটুনের তরুণ গেরিলাযোদ্ধা ক্রিকেটার আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা খ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ কামাল হোসেন এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।[৬২][৬] বর্তমান মন্ত্রিসভার চার সদস্য - স্থপতি ইয়াফেস ওসমান[৮৮], গোলাম দস্তগীর গাজী[৮৯], জাহিদ মালেক স্বপন এবং মুরাদ হাসান[৯০] এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাছাড়া সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে আব্দুল মঈন খান, প্রমোদ মানকিন[৯১], হাসানুল হক ইনু[৯২] এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাংসদদের ভেতর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু[৯৩], শমসের মবিন চৌধুরী[৯৪], সালমান এফ রহমান[৯৫] নটর ডেম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ।

বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ[৯৬], বর্তমান বিমান বাহিনীর প্রধান মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত[৯৭] ও সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী এ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। কূটনীতিক জন গোমেজ[৯৮]মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন[৯৯] নটরডেম কলেজে লেখাপড়া করেছিলেন।

বিনোদন ও গণমাধ্যম[সম্পাদনা]

বিনোদনজগতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নটরডেমিয়ান কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিত্রনায়ক আলমগীর, ইনামুল হক[১০০], তারেক মাসুদ[১০১], আলী যাকের[১০২], অভিনেতা সিয়াম আহমেদ[১০৩] এবং হলিউডের ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ ও অ্যানিমেশনকর্মী ওয়াহিদ ইবনে রেজা উল্লেখযোগ্য। সংগীত জগতে কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মাইলস এর হামিন আহমেদ[১০৪]শাফিন আহমেদ, দলছুট এর বাপ্পা মজুমদার[১০৫], তাহসান রহমান খান[১০৬], শিরোনামহীন এর জিয়াউর রহমান জিয়া সহ আরও অনেকে। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের মাঝে শাইখ সিরাজ[১০৭], ফরিদুর রেজা সাগর[১০৮]মাহফুজ আনাম[৮৬] এ কলেজের উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত[১০৯] এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাছাড়া ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী[১১০] এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী গিয়াসউদ্দিন আহমেদ[১১১] এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ধর্মযাজক প্যাট্রিক ডি’রোজারিও[১১২]জের্ভাস রোজারিও নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন[সম্পাদনা]

২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে এনডিএএ। অবশ্য ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দেই তৎকালীন অধ্যক্ষ জে. এল. মার্টিন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরি করে গিয়েছিলেন। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজের ৫০ বছর (সুবর্ণ জয়ন্তী) এবং ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ৬০ বছর (হীরক জয়ন্তী) উৎযাপনের সময় ছাত্ররা এ ব্যাপারে পুনরায় উৎসাহ প্রকাশ করলে তৎকালীন অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন কস্তা ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি কলেজের প্রাক্তন ১৬ জন ছাত্রের সাথে একটি সভা করে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র কামাল হোসেনকে সাম্মানিক সভাপতি, বেঞ্জামিন কস্তাকে সভাপতি, অধ্যাপক রাশিদ উদ্দিন আহমেদকে সহসভাপতি (১ম), ড. আব্দুল মঈন খানকে সহসভাপতি (২য়), ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জন গোমেজকে সাধারণ সম্পাদক, বকুল এস. রোজারিও-কে কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক এবং অ্যাডাম এস. পেরেরা-কে কোষাধ্যক্ষ করে সর্বমোট ১৯জন সদস্য নিয়ে গঠিত অ্যাড-হক কমিটি দিয়ে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনের।[১১৩] এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর কলেজ প্রাঙ্গণে বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা করা হয়।[৮] সংগঠনের গঠনতন্ত্র হিসেবে জে. এল. মার্টিন কর্তৃক ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর প্রণীত গঠনতন্ত্রের ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুনের পরিমার্জিত সংস্করণ গ্রহণ করা হয়।[১১৪][১১৫]

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বীয় স্থানে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের শাখা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ২৯ শে আগস্ট, ২০২০ বাংলাদেশ নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই নর্থ আমেরিকা, বিএনডিএএনএ পেন্সিলভেনিয়ার বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়াতে পুনর্মিলনী আয়োজন করে।[১১৬][১১৭] তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত নটরডেমিয়ানদের সংগঠন নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অস্ট্রেলিয়া ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সিডনির রাইডের সিভিল হলে ২৭৫ অতিথির অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী আয়োজন করে, যাতে অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও উপস্থিত ছিলেন।[১১৮][১১৯] কানাডার টরন্টোতে ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কানাডা যাত্রা শুরু করে, যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত , টরন্টোয় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল, ও কুইবেকে বাংলাদেশের সাবেক অনারারী কনসাল।[১২০]

নটর ডেম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও ক্লাব নটরডেমিয়ানস[১২১]শটস বাই নটরডেমিয়ানস[১২২] নামে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে গঠিত বেশ কিছু সংগঠনের নাম পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে ক্লাব নটরডেমিয়ানস এর সাংগঠনিক প্রতীক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এর এডিটরিয়াল বোর্ড চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ খান বাদল।[১২১][১২৩] সংগঠনটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ড. কামাল হোসেন[১২৪] এবং সাবেক অধ্যক্ষ জে এস পিশেতোকে সম্মাননা জানায়। তাছাড়া ধর্মযাজক জে এস পিশেতোকে সম্মানজনক সদস্যপদ[১২৩] প্রদান করে এবং তাঁর নামে স্ট্যান্ড উদ্বোধন করে, যে অনুষ্ঠানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।[১২৫]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

নটর ডেম কলেজের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পাঠকার্যক্রমের কঠোরতাকে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অপ্রয়োজনীয় ও বাড়াবাড়ি বলে মনে করে থাকেন।[১]

২০১৯ সালে ফাদার পিশেতো ভবন এর নির্মাণকাজের সময় ভবনটির নির্মাণাধীন পঞ্চম তলা থেকে পড়ে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এতে নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।[১২৬]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. পরবর্তীতে সাপ্তাহিক প্রকাশনাটি ঢাক-ঢোল ও চিট-চ্যাট নামে ত্রৈমাসিক প্রকাশনায় পরিণত হয়।
  2. কলেজটির মূল ভাবাদর্শ নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক রঙ "নীল ও সোনালী"কে প্রতিকায়িত করা হয়
  3. অক্ষরগুলো চতুর্থ বিষয় যথাক্রমে ভূগোল, ইতিহাস ও সমাজকর্মের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর নির্দেশ করে।
  4. উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার আসনরূপে কল্পনা করলে এতে দেখা যায়, যিশু তার আসন হিসেবে মেরীর কোলে বসে ধর্মগ্রন্থসহ জ্ঞানের সকল আঙ্গিনায় পদার্পণ করেছেন। তাই খ্রিষ্ট ধর্মমত অনুযায়ী মেরীকে জ্ঞানের আসন (ইংরেজি: Seat of Wisdom) বলে অভিহিত করা হয়।
  5. বর্তমান ম্যাথিস হাউজের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সম্পূর্ণ অংশ ছিল জলমগ্ন জলাভূমি বা ঝিল, যে কারণে পরবর্তীতে এই এলাকার নাম হয় মতিঝিল
  6. এর পূর্বে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর তিনি অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর অব স্টাডিজ এবং পরবর্তীতে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি ডিরেক্টর অব স্টাডিজ পদে উন্নীত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ডিরেক্টর অব স্টাডিজ হওয়ার কিছুদিন পরেই দুর্ঘটনার জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং পরের বছরের ৮ জানুয়ারি দায়িত্ব পুনঃগ্রহণ করেন। একই বছরের পহেলা নভেম্বর তিনি ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যাক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত সহকারী হাউজ সুপারিয়র নিযুক্ত হন। ঐ মাসের ১৪ তারিখে তিনি কলেজের শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রিফেক্ট নিযুক্ত হন। তৎকালীন অধ্যক্ষ জেমস মার্টিন ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে আমেরিকা ফিরে যাবার প্রস্তুতি নিলে ২৯ মার্চ অমল গাঙ্গুলীকে উপাধ্যাক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে অমল গাঙ্গুলি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ে কোর্স নিতেন। অধ্যক্ষ মার্টিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে মার্টিনের মৃত্যুর পর কলেজের গভর্নিং বডি কর্তৃক ৩০ আগস্ট দায়িত্ব লাভ করেন।
  7. শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা প্রতিষ্ঠানের আদর্শ পরিপন্থী বলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিন"। আনন্দলোকে। ১১ জানুয়ারি ২০১৯। 
  2. "নটর ডেম কলেজের নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ"দৈনিক সংগ্রাম। ১৩ ডিসেম্বর ২০১২। ১০ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. "ঢাকার সেরা ১০টি কলেজ (সুনাম ও ফলাফলের দিক থেকে)"হৈচৈ বাংলা। ২০১৯-০৯-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০২ 
  4. অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, জেনারেল (ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯)। "Notre Dame College in Dhaka Celebrates its 70th Anniversary" [৭০ বর্ষপূর্তি উদযাপন করল ঢাকার নটর ডেম কলেজ]। পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘ (ইংরেজি ভাষায়)। জুন ১২, ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২০ 
  5. "অ্যাবাউট নটর ডেম কলেজ"নটর ডেম কলেজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. টোকাই (২০১৪-০৭-১১)। "হিস্টোরি ওয়্যর্স: কামাল হোসাইন ইন্টারভিউ (পার্ট ১)"আলাল ও দুলাল (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৯-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  7. বেঞ্জামিন কস্তা (২০১২)। "নটর ডেম কলেজ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  8. "নটরডেম কলেজে ছাত্রদের পুনর্মিলনী"ঢাকানিউজ২৪.কম 
  9. রহমান, আজিজুর, সম্পাদক (২০১৭–২০১৯)। "নটর ডেম কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৯৪৯-২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ)"। ব্লু অ্যান্ড গোল্ড। ঢাকা: নটর ডেম কলেজ: ৫–১২। 
  10. "গ্রাম-শহরের জন্য আলাদা প্রশ্ন থাকা প্রয়োজন"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২০১৯-০৪-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  11. "DACCA Diary from Intercontinental Hotel, Dec 16, 1971"Dhaka Tribune। ২০১৯-১২-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৫ 
  12. "মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং বিচার"। ৭ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০২০ 
  13. "ডা. এ বি এম হুমায়ুন কবীর"প্রথম আলো। ২০১৮-১২-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  14. "নতুন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত কলেজ পরিচিতি নির্দেশিকা বই"। "নবীনবরণ ও ছাত্র-অভিভাবক নির্দেশিকা"। নটর ডেম কলেজ (সংস্করণ:২০১৯ সাল)। 
  15. "নটর ডেম কলেজ পরিচিতি, নামকরণ ও প্রতীকের ব্যাখ্যা"নটর ডেম কলেজ, ঢাকা। ৮ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  16. "নটর ডেম কলেজ- এর দর্শন"। Chit-Chat ঢাক-ঢোল (এপ্রিল-জুন ২০১৯ সংস্করণ)। মতিঝিল, ঢাকা: নটর ডেম কলেজ। পৃষ্ঠা শেষের মলাট। 
  17. http://archive.prothom-alo.com/detail/news/345303
  18. টি বেনাস, জেমস (১৯৯৯)। আজমল, গাজী, সম্পাদক। "মোজাইক পিকচার অ্যাট নটর ডেম কলেজ" [নটর ডেম কলেজের মোজাইকচিত্র]। সুবর্ণ স্মারক (ইংরেজি ভাষায়)। নটর ডেম কলেজ (প্রকাশিত হয় ১১ নভেম্বর ১৯৯৯): ৯৩। 
  19. "নটর ডেম কলেজের প্রথম বাংলাদেশি অধ্যক্ষ টি এ গাঙ্গুলীর গল্প"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  20. "সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আজ আসছেন পোপ"প্রথম আলো। ৩০ নভেম্বর ২০১৭। ১৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২০ 
  21. "ফাদার রিচার্ড লাইব্রেরি ওপেনড বাই হিজ ব্রাদার মাইকেল নোভাক"আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৩  অজানা প্যারামিটার |প্রকাশের-তারিখ= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  22. "দ্য ডে মাই ব্রাদার ওয়াজ মার্ডার্ড"মাইকেল নোভাকের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  23. নোভাক, ম্যারি অ্যান (ডিসেম্বর ৫, ২০১৩)। দ্য মেকিং অব অ্যা মার্টিয়র:ফাদার রিচার্ড নোভাক, সিএসসি। মেরিলভিলে, ইন্ডিয়ানা: দ্য নোভাক ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন। ASIN B00HCIORA2আইএসবিএন 9781494439668ওসিএলসি 880376603 
  24. "অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার সাক্ষাৎকার"নেচার স্টাডি সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ২০১৩-১২-০৪। ২০২০-০৫-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  25. "আমি ঢাকার প্রায় সব গাছপালাই চিনি : দ্বিজেন শর্মা"বাংলা ট্রিবিউন। ২০২০-০৫-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  26. "মৃদু সুগন্ধিযুক্ত দুর্লভ ফুল 'নাগলিঙ্গম'"বাংলানিউজ২৪.কম। ২০১৯-০৩-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  27. "নাগলিঙ্গমের টানে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে"প্রথম আলো। ২০২০-০৫-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  28. "তালিপাম : জীবন যেখানে মৃত্যুর গল্প শোনায়"এনভারনমেন্টমুভ। ২০১৪-০৯-১৭। ২০১৮-০৮-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  29. বেনাস, জেমস টি; বণিক, অমল কৃষ্ণ (২০১৭)। ফাদার জেমস টি. বেনাস ও অধ্যাপক অমল কৃষ্ণ বণিক সংকলিত কলেজের উদ্ভিদরাজির চার্টজীববিজ্ঞান গবেষণাগার সহায়িকা (মূদ্রিত)। ১ম। ঢাকা: নটর ডেম কলেজ (প্রকাশিত হয় জুলাই ২০১৭)। 
  30. "রাজধানীতে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৪ 
  31. "নটর ডেম কলেজে প্রকৃতি সম্মেলন"প্রথম আলো। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২০ 
  32. "সবুজ পৃথিবীর জন্য"দৈনিক সমকাল। ২০২০-০৬-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  33. "Timm, Richard William"The Ramon Magsaysay Award। ২১ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২০ 
  34. "শিক্ষাবিদ বেঞ্জামিন কস্তা আর নেই"NTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-১৩। ২০১৭-১২-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৮ 
  35. "লেখকবৃন্দ - বাংলাপিডিয়া"বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি 
  36. "নটর ডেম কলেজে ভর্তি ঢাকা বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তি স্থগিত"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  37. "নটরডেমসহ তিন কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি"দৈনিক ইত্তেফাক। ২০২০-০৬-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  38. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২০ 
  39. "নটর ডেম কলেজ অধিকার পাবে কবে"দৈনিক সমকাল। ২০২০-০৬-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  40. "নটর ডেম কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি লাভ কার?"দৈনিক সংগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  41. "নটরডেম কলেজকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে"দৈনিক সংগ্রাম। ২০২০-০৬-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  42. "মিশনারী কলেজ নটর ডেম-এর ব্যাপারে সরকারকে উদারনীতি গ্রহণ করতে হবে"দৈনিক সংগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  43. "নটরডেমসহ তিন কলেজে ভর্তি পরীক্ষার আদেশ বহাল"দৈনিক সমকাল। ২০২০-০৬-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  44. "নটর ডেমসহ চার কলেজকে অনুমতি দেওয়ার পরদিনই ভর্তিপ্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ"কালের কণ্ঠ। ৩ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২০ 
  45. "ধূমপায়ীরা ভর্তি হতে পারবে না নটরডেমে"সময় নিউজ। ৭ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০২০ 
  46. "নটর ডেমসহ চার কলেজকে অনুমতি দেওয়ার পরদিনই ভর্তিপ্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ"প্রথম আলো। ৩ জুন ২০২০। ৪ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২০ 
  47. নটর ডেম কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম স্থগিত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি (পিডিএফ) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০২০ তারিখে, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা
  48. "নটর ডেম কলেজের ক্লাব দিবস ও পঞ্চম যুগপূর্তি উৎসব"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  49. "নটর ডেম কলেজে প্রকৃতি সম্মেলন"। প্রথম আলো। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২০ 
  50. "নটর ডেমে আনন্দঘন নবীনবরণ"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  51. "নটর ডেম কলেজে আইসিটি দিবস পালিত"প্রথম আলো। ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  52. "ফোনে মত্ত না থাকতে তরুণদের প্রতি পোপের আহ্বান"দ্য ডেইলি স্টার। ২০১৭-১২-০৩। ২০১৮-০৩-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  53. "মা-বাবাকে সময় দাও, তরুণদের পোপ"সমকাল। ২০১৭-১২-০২। ২০১৭-১২-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  54. "'Spend more time with family, less on digital devices'"ঢাকা ট্রিবিউন। ২০১৭-১২-০২। ২০১৯-১১-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  55. AsiaNews.it। "Young Bangladeshis say they are the future of the world, in freedom and harmony (video)"www.asianews.it। ২০১৯-০৯-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  56. "মায়ের কাছে ছেলের চিঠি"প্রথম আলো। ২০১৮-০৭-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  57. "নটরডেম কলেজে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন - banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২০ 
  58. "Hundreds ignited minds, dreams blossom"Dhaka Tribune। ২০১৫-০১-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৫ 
  59. "বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ উত্সব | রাজধানী"ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৫ 
  60. "নটর ডেম কলেজে অনুষ্ঠিত হলো বসন্তবরণ উৎসব | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৪ 
  61. "যে মঞ্চ কেউ ছেড়ে যায় না"প্রথম আলো। ৩ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  62. "ড. কামাল হোসেনসহ ৬ জনকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিল নটর ডেম"প্রথম আলো। ২০১৮-১১-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  63. "নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান মেলা শুরু"প্রথম আলো। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ২২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  64. "'ডুব' আর তিশাকে নিয়ে অন্য রকম স্লোগান"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  65. "The biggest english carnival in the country"The Daily Star। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ২৬ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২০ 
  66. "৬০ বছর পূর্তিতে নটর ডেম কলেজে প্রাণের মেলা"www.prothom-alo.com। ২০০৯-১১-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  67. "নটরডেম লিটারেসি স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে 'রোটারি করোনা সাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ'"। জুলাই ১, ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  68. গোমেজ, জেভিয়ার (জুন ৪, ২০১৪)। "অ্যা ডিসকাশন উইথ জেভিয়ার গোমেজ, ম্যানেজার, নটর ডেম লিটারেসি স্কুল, ঢাকা, বাংলাদেশ"বার্ক্লেয় সেন্টার ফর রিলিজিয়ন, পিস অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (ইংরেজি ভাষায়)। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন ডিসি। ২০১৬-০৪-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  69. জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল, গাজী আসমত; ষষ্ঠ রঙিন সংস্করণ, জুন ২০১৯, গাজী পাবলিশার্স, ঢাকা
  70. "শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অ্যাওয়ার্ড পেল ৫০ শিক্ষার্থী"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  71. "লাল-সবুজের বিজয় নিশান | ক্যাম্পাস | The Daily Ittefaq"archive1.ittefaq.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৫ 
  72. জুয়েল, বাইজিদ। "৫৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ গণিত দল ঘোষণা"বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। ২০২০-০৬-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২২ 
  73. জুয়েল, বাইজিদ (২৬ মে ২০১৬)। "২৮তম এপিএমও তে বাংলাদেশের ১টি রৌপ্য ‌ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন"বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। ২০২০-০৬-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২২ 
  74. "APMO - Asian Pacific Mathematics Olympiad"APMO Official Website (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১২-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২২ 
  75. হাসান, মুনির। "গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সোনা জয়"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৮ 
  76. "বাংলাদেশের চার পদক"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  77. "বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ছয় পদক"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  78. "৬ খুদে বিজ্ঞানযোদ্ধা ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছে"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৯ 
  79. "সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে চলতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম দরকার"www.bhorerkagoj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৬ 
  80. "আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে স্বর্ণসহ ১০টি পদক জিতল বাংলাদেশ - তথ্যপ্রযুক্তি"ittefaq। ২২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  81. BanglaNews24.com। "এবারের চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ হয়েছেন মুগ্ধ"banglanews24.com। ২২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  82. "৫৩তম আইএমওতে বাংলাদেশ গণিত দল"www.prothom-alo.com। ২০১২-০৮-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  83. "গানে গণিতে মুগ্ধ"www.prothom-alo.com। ২০১৩-০২-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  84. "চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রকৃতি মেলা | বাংলাদেশ প্রতিদিন"দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০২০ 
  85. "তাঁর কর্মময় জীবন আমাদের অনুপ্রেরণা"দৈনিক যুগান্তর। ৭ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২০ 
  86. "NotreDamian freedom fighters honoured"নিউ এজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২২ 
  87. কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (২০১২)। "আশফাকুস সামাদ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743 
  88. "মাননীয় মন্ত্রী: স্থপতি ইয়াফেস ওসমান"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ২২ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৭ 
  89. "মাননীয় মন্ত্রী|জনাব গোলাম দস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক, এমপি"বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২১ 
  90. "মাননীয় প্রতিমন্ত্রী | ডা: মো: মুরাদ হাসান, এমপি"তথ্য মন্ত্রণালয়। ৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২০ 
  91. "প্রোফাইল: প্রমোদ মানকিন"m.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২১ 
  92. "নটর ডেমে মেধাবী মুখের মিলনমেলা"দৈনিক সমকাল। আগস্ট ২৪, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ মে ১৯, ২০২০ 
  93. "আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুবার্ষিকী আজ"banglanews24.com। নভেম্বর ৪, ২০১৯। ২০২০-০৬-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৮ 
  94. চৌধুরী, সমশের মবিন (১১ ডিসেম্বর ২০১৬)। "বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়"সমকাল। ২০২০-০৬-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়ার সময়েই বুঝতে পারি- আমাদের এ বাংলাদেশ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের মাথাব্যথা নেই। 
  95. "যেভাবে শিল্পপতি হলেন সালমান এফ রহমান"একুশে টিভি। ২৩ মে ২০১৯। ২০১৯-০৫-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২২ 
  96. "লে. জেনারেল আজিজ আহমেদ নতুন সেনাপ্রধান"দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৩-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  97. "মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিমানবাহিনীর নতুন প্রধান"ইনকিলাব। ৬ জুন ২০১৮। ২০২০-০৬-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩নটরডেমিয়ান এ কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীর দীর্ঘ চাকুরীজীবনে দেশে ও বিদেশে পেশাগত বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। 
  98. "জন গোমেজ নিউ এনভয় টু দ্যা ফিলিপাইন্স"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ অক্টোবর ২০১২। ৭ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৮ 
  99. "ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত"বাংলাদেশ দূতাবাস, যুক্তরাষ্ট্র (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৯-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৯-০৯ 
  100. "আজ ৭৫ পূর্ণ করছেন ড. ইনামুল হক"ইনকিলাব। ২৯ মে ২০১৮। ২০২০-০৬-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 
  101. "একনজরে তারেক মাসুদ"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  102. নূর, জাহীদ রেজা (২০১৯-০৪-২৭)। "আলী যাকেরের সারা জীবন"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  103. "পানিবন্দি জন্মদিন সিয়ামের"Sarabangla.net। ২০২০-০৩-২৯। ২০২০-০৬-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  104. Islam, Mahbubul (২০২০-০২-০৭)। "আড্ডা ও গান নিয়ে লাইভে আসছেন মাইলসের হামিন আহমেদ"DHAKA18.COM। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 
  105. শাহ আলম সাজু (মে ১৪, ২০১১)। "Bappa Mazumder @DS Café"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৪ 
  106. "প্রিয় পোশাক স্যুট"দৈনিক সমকাল। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১২ 
  107. "শাইখ সিরাজের জন্মদিন আজ"কালের কণ্ঠ। ২০১৪-০৯-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  108. "ফরিদুর রেজা সাগর্স ড্রীম ডিউরিং ঈদ"দৈনিক অবজার্ভার। ২০১৭-০৫-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  109. "পানি, জলবায়ু এবং একজন আইনুন নিশাত | পথিকৃত্"archive1.ittefaq.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  110. "লিভিং লিজেন্ড সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৬-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  111. "Martyred Intellectuals' Day Special"archive.thedailystar.net। ২০১৩-১২-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২০ 
  112. "তুমি তো আছই | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। ২০২০-০৬-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  113. "গঠিত হলো নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন"প্রথম আলো। ঢাকা। ৭ মার্চ ২০১১। ২০১১-০৩-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৩ 
  114. স্মরণিকা। নটর ডেম কলেজ, ঢাকা: নটর ডেম এ্যালামনাই এসোসিয়েশন (এনডিএএ) (প্রকাশিত হয় ২২ ডিসেম্বর ২০১২)। ২০১২। 
  115. মার্টিন, জে. এল. (ডিসেম্বর ৮, ১৯৫৯)। নটর ডেম অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র। ঢাকা: নটর ডেম অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন (প্রকাশিত হয় জুন ৩০, ২০১২)। 
  116. "নর্থ আমেরিকা নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই পুনর্মিলনী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  117. "নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ২৯ আগস্ট"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  118. "সিডনিতে নটর ডেম অ্যালামনাইয়ের পুনর্মিলনী ২৯ ফেব্রুয়ারি"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  119. "নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  120. "কানাডায় নটর ডেম কলেজ অ্যালামনাই গঠন"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-১৭ 
  121. "Logo of Club NotreDamians unveiled"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৬-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  122. "Shots by NotreDamians - Young Observer - observerbd.com"The Daily Observer। ২০২০-০৬-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  123. "Inu calls upon ex-Notre Damians to help people in need"ঢাকা ট্রিবিউন। ২০১৭-১১-১১। ২০১৯-১০-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  124. "Club NotreDamians honours Dr Kamal"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  125. "Club NotreDamians sets up lounge named after Fr Peixotto"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৬-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২৪ 
  126. "Construction worker dies after falling off building in Dhaka"New Age | The Most Popular Outspoken English Daily in Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৬ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]