গ্রন্থাগার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গণগ্রন্থাগারে সার বেঁধে রাখা তাকে সাজিয়ে রাখা বই।

গ্রন্থাগার (ইংরেজি: Library) বা প্রকৃত অর্থে "পাঠাগার" হলো বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রির একটি সংগ্রহশালা, যেখানে পাঠকের প্রবেশাধিকার থাকে এবং পাঠক সেখানে পাঠ, গবেষণা কিংবা তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন।[১] বাংলা 'গ্রন্থাগার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে গ্রন্থ+আগার এবং 'পাঠাগার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাঠ+আগার পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রন্থসজ্জিত পাঠ করার আগার বা স্থান হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তি হলেন গ্রন্থাগারিক

ইতিহাস[সম্পাদনা]

গ্রন্থাগারের ইতিহাসের শুরু ২৬০০ খ্রীষ্ট্রপূর্বাব্দে[২], প্রাগৈতিহাসিক থেকে ঐতিহাসিক যুগের সন্ধিক্ষনে।[৩][৪] তক্ষশীলা ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীব সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব মিলেছে।

বিবরণ[সম্পাদনা]

গ্রন্থাগারের মূল লক্ষ্য থাকে তথ্যসংশ্লিষ্ট উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সংগঠন, সমন্বয় এবং পাঠকের জন্য তা উন্মুক্ত করা।

ধরণ[সম্পাদনা]

গণগ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

সাধারণ সকল জনগণের জন্য উন্মুক্ত গ্রন্থাগারকে গণগ্রন্থাগার বলা হয়। স্বাভাবিকভাবে এধরণের গ্রন্থাগার অন্যান্য সকল গ্রন্থাগার থেকে আকার এবং সংগ্রহের দিক দিয়ে যথেষ্ট বড় হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ঢাকায় রয়েছে এরকম একটি গণগ্রন্থাগার, যা পাবলিক লাইব্রেরি নামে বহুল পরিচিত।

বিদ্যালয় গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিভিন্ন স্কুলে ছাত্র ও শিক্ষকদের জ্ঞানপিপাসা মেটাবার জন্য এবং তাদেরকে জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট রাখার জন্য আকর্ষণীয় করে এধরণের পাঠাগার প্রস্তুত করা হয়। আন্তর্জাতিক গ্রন্থগার পরিষদ ও প্রতিষ্ঠান ও সংঘ বা IFLA বিদ্যালয় গ্রন্থাগার ইস্তাহার ১৯৯৯-তে বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সম্পর্কে যে দিকনির্দেশ করা হয়েছে তা এই রকম- " সকলের শিক্ষাদান ও শিক্ষণের নিমিত্ত বিদ্যালয় গ্রন্থাগার। আজকের তথ্য এবং জ্ঞান-নির্ভর সমাজে সফলভাবে কর্মনির্বাহের জন্য মৌলিক তথ্য ও ধারণাসমূহ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার যোগান দেয়। বিদ্যালয় গ্রন্থাগার বিদ্যার্থীদের আজীবন জ্ঞানার্জনের দক্ষতাসমূহ গড়ে তোলে এবং তাদের কল্পনাশক্তিকে উন্নত করে, যাতে তারা দায়িত্বশীল নাগরিকের জীবন নির্বাহ করতে সক্ষম হয়।"

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিদ্যালয় গ্রন্থাগার থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতর। সাধারণত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য এধরণের গ্রন্থাগার উচ্চমানসম্পন্ন তথ্য উপাদান সংরক্ষণ করে থাকে। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটি এরকমই একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার।

গবেষণা গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিশেষ কোনো বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনে আলাদা যে গ্রন্থাগার খোলা হয়, তাকে গবেষণা গ্রন্থাগার বলে। বাংলাদেশের ঢাকার বিজ্ঞানবিষয়ক এরকম একটি গ্রন্থাগার হলো ব্যান্সডক লাইব্রেরী

বিশেষ গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, জাদুঘর, ধর্মীয় সংগঠন তাদের নিজস্ব গ্রন্থাগার পরিচালনা করে থাকে, যেগুলো তাদের কর্মী বা সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আলাদা উপকরণ সংরক্ষণ করে।

সরকারি গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

পৃথিবীর অনেক দেশের সরকার থেকে বিশেষ কিছু গ্রন্থাগার পরিচালনা করা হয় দেশের এমনকি সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে তথ্য সরবরাহের স্বার্থে,যেগুলো সরকার ও দেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশী-বিদেশী তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে।

ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিভিন্ন দেশেই গাড়িতে করে বহনযোগ্য গ্রন্থাগার রয়েছে, যেগুলো পাঠকের দ্বারে দ্বারে তথ্যসামগ্রি পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশে এই কাজটি প্রথম চালু করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রভেনিজুয়েলায় মমবয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটি খচ্চরকে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহার করে পাহাড়ি গ্রামের মানুষদের বই সরবরাহ করে থাকে, গ্রামের লোকেরা যাকে বলে "বিবিলোমুলাস" (বাংলায়: বইয়ের খচ্চর)।

সামাজিক গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

একটি সমাজের সংঘবদ্ধ মানুষেরা তাদের কল্যাণার্থে এ ধরনের গ্রন্থালয় প্রতিষ্ঠা করে।তারা সদস্যদের দ্বারা বাড়িতে বাড়িতে বই পৌঁছে দেয়।

  1. "Library – Definition and More from the Free Merriam-Webster Dictionary"merriam-webster.com 
  2. Maclay, Kathleen (৬ মে ২০০৩)। "Clay cuneiform tablets from ancient Mesopotamia to be placed online"। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১২ 
  3. Renfrew, Colin. Prehistory The Making of the Human Mind, New York: Modern Library, 2008.
  4. Roberts, John Morris (১৭ জুলাই ১৯৯৭)। A short history of the world। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 35। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২