বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড
Bangladesh Mathematical Olympiad 2.JPG
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০০৮-এ অতিথিবৃন্দের সাথে বিজয়ীরা
শুরুর তারিখএপ্রিল, ২০০১
দেশবাংলাদেশ
আয়োজকবাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি
পৃষ্ঠপোষকডাচ্-বাংলা ব্যাংক
ব্যবস্থাপনায়প্রথম আলো
ওয়েবসাইটmatholympiad.org.bd
বিডিএমও অনলাইন ওয়েবসাইটonline.matholympiad.org.bd
স্লোগান: গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের গণিতের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এর আয়োজন করে থাকে। দৈনিক প্রথম আলো এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অলিম্পিয়াড আয়োজনে সহায়তা দিয়ে থাকে। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়। তখন থেকে প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই অলিম্পিয়াড তিনটি স্তরে সম্পন্ন হয়ে থাকে: বাছাই অলিম্পিয়াড, আঞ্চলিক অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় অলিম্পিয়াড। বাছাই অলিম্পিয়াডের নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীরা আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডে এবং আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডের নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব প্রদর্শনকারীদের নিয়ে জাতীয় গণিত ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, আর সেখানে থেকেই বাছাই করা হয় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় গণিত দল।

এছাড়াও গণিতের জাগরণকে মুখরিত রাখতে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গণিত ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রম ও অনলাইন গণিত ফোরাম চালু করেছে। এসকল ফোরাম ও ক্লাবে গণিত বিষয়ে নানা সমস্যার আলোচনা ও সমাধান করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূলত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গাণিতিক মেধার উৎকর্ষ সাধন এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের (আইএমও) জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন-এই দুই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়।

২০০১ সালের এপ্রিল মাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা দৈনিক প্রথম আলোর পাতাতে একটি গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করার প্রস্তাব করেন। প্রথম আলোর সম্পাদক সম্মতি দিলে এই কার্যক্রম শুরু হয়।[১] আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিঃ নামক রেডিক্যাশ কার্ডের স্বত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান এই কর্মকান্ডকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে সম্মত হয়।

২০০১ সালের ১৭ জুন প্রথম প্রথম আলোর বিজ্ঞান বিষয়ক সাপ্তাহিক আয়োজন বিজ্ঞান প্রজন্ম পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নিউরনে অনুরণন - প্রথম আলো রেডিক্যাশ গণিত অলিম্পিয়াডঅধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালঅধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ নিউরনে অনুরণন পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এছাড়া সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেন মুনির হাসান। সেই থেকে প্রথম আলোর বিজ্ঞান প্রজন্ম পাতায় প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি করে গণিতের সমস্যা ছাপানো শুরু হয়। সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধান কখনো প্রকাশ করা হয় না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সমাধান প্রথম আলো কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। নিউরনে অনুরণনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হতো, সমাধান সঠিক হয়েছে কি না। একজন সমম্বয়কারী কাজ করেতেন যিনি শিক্ষার্থীদের পাঠানো সমাধান মিলিয়ে দেখতেন এবং সমাধান সঠিক হলে পোস্টকার্ডের মাধ্যমে সমাধানকারীকে জানিয়ে দিতেন। একই সাথে সকল সমাধানকারীদের একটি ডেটাবেসও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

এই কার্যক্রমের কিছুটা বিকাশের পর আঞ্চলিক পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে এবং ১৯ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলাতে আঞ্চলিক গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। দেশের বরেণ্য গণিতবিদদের অনেকেই এই অলিম্পিয়াডগুলোয় যোগ দেন। গণিতবিদদের মধ্যে ছিলেন খুলনা থেকে অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত মজুমদার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌরাঙ্গ দেব রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ গণিত সমিতির সভাপতি ড. মুনিবুর রহমান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। ২৬ জানুয়ারি ঢাকার আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডে অধ্যাপক গৌরাঙ্গ দেব রায় ২০০২ সালের জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড সিলেটে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ গণিত সমিতি প্রতি দু’বছর অন্তর একটি আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলন করে থাকে। ২০০২ সালের সম্মেলনটি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় একই সময়ে গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রথম গণিত অলিম্পিয়াড[সম্পাদনা]

দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। বাংলাদেশ গণিত সমিতির অনুমতিক্রমে ৩১ জানুয়ারি ও ১লা ফেব্রুয়ারি, দুই দিনের এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে। সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১০৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী প্রথম বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। এই আয়োজনে আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে দৈনিক প্রথম আলো[২]

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি[সম্পাদনা]

আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড-২০০৩ সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই কার্যক্রমকে একটি বাৎসরিক ইভেন্টে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৩ সালের ১৩ এপ্রিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠিত হয়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি (সংক্ষেপে BdMOC) নামের এই কমিটি বর্তমানে দেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সকল দায়িত্ব পালন করছে।

বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। তবে কোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অলিম্পিয়াডের ‘হোস্ট’ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

২০০৪ সাল থেকে দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড দেশজুড়ে আয়োজিত গণিত উৎসবের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত আছে।

বিন্যাস[সম্পাদনা]

অংশগ্রহণের বিভাগ[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড কেবল অনূর্ধ্ব ২০ বছর বয়সী উচ্চ-বিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। সে হিসেবে বয়স বিবেচনায় এবং দেশে গণিতকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ৪টি বিভাগে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হচ্ছে। বিভাগগুলো হলো:

  1. প্রাথমিক: তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি বা সমমান এবং স্ট্যান্ডার্ড-৩ থেকে স্ট্যান্ডার্ড-৫।
  2. নিম্ন মাধ্যমিক: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি বা সমমান এবং স্ট্যান্ডার্ড-৬ থেকে স্ট্যান্ডার্ড-৮।
  3. মাধ্যমিক: নবম, দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থী বা সমমান এবং ও–লেভেল এবং ও–লেভেল পরীক্ষার্থী।
  4. উচ্চ মাধ্যমিক: একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী বা সমমান এবং এ–লেভেল এবং এ-লেভেল পরীক্ষার্থী।

তবে জাতীয় গণিত ক্যাম্পে কোনও বিভাগ থাকে না। সবাইকে একই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।[৩]

অলিম্পিয়াডের ধাপসমূহ[সম্পাদনা]

গণিত অলিম্পিয়াড তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ধাপগুলো হলো:—

  • অনলাইন বাছাই অলিম্পিয়াড: প্রথমে গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত দিনে “অনলাইন বাছাই গণিত অলিম্পিয়াড” অনুষ্ঠিত হয়।
  • আঞ্চলিক পর্ব: বাছাই অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের নিয়ে আঞ্চলিক পর্ব আয়োজন করা হয়। কেবলমাত্র বাছাই পর্ব থেকে নির্বাচিতরাই আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।
  • জাতীয় গণিত উৎসব: আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা দু’দিন ব্যাপী জাতীয় গণিত উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
    • জাতীয় গণিত ক্যাম্প: জাতীয় পর্বের নির্বাচিত নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় গণিত ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এই ক্যাম্পের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে ৬ (ছয়) সদস্যের জাতীয় দল নির্বাচন করা হয়।

অলিম্পিয়াডের প্রশ্নপত্র ও ধরন[সম্পাদনা]

একাডেমিক উপ-কমিটি অলিম্পিয়াডের জন্য প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ করে। বাছাই, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে বাংলাইংরেজি উভয় ভাষাতেই প্রশ্ন করা হয়।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

গণিত অলিম্পিয়াডের সাইটে গিয়ে অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াডের নিবন্ধনের জন্য “নিবন্ধন” বোতামে ক্লিক করতে হয়। ক্লিক করার পর নিবন্ধন সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা আসে। পূর্বের বছরের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজ অ্যাকাউন্টে লগইন করে, নিজ নিজ তথ্য হালনাগাদ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারে। প্রথমবারের মতো অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করার জন্য “প্রথমবার অংশগ্রহণকারী” বোতামে ক্লিক করতে হয়। উল্লেখ্য যে, পূর্বের বছরের ডিসেম্বর মাসে অধ্যয়নরত শ্রেণি অনুসারে নিবন্ধন করতে হয় এবং সেই শ্রেণি অনুসারে শ্রেণী নির্বাচিত হয়। নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়া হলে ফরমে উল্লিখিত ইমেইলে নিবন্ধনের ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ডসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়।[৪]

অংশগ্রহণকারী[সম্পাদনা]

৬ষ্ঠ গণিত উৎসব ২০০৮-এ শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন অতিথিরা
১১তম গণিত উৎসব ২০১৩-এ প্রতিযোগীরা
সাল আঞ্চলিক উৎসবের সংখ্যা আঞ্চলিক উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জাতীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা
২০০২ ১১৫ ১১৫
২০০৩ ২০০০ ২১৭
২০০৪ ৯০০০ ৩৬০
২০০৫ ১০ ১২০০০ ৬০০
২০০৬ ১৪ ১৫০০০ ৮৪০
২০০৭ ১৪ ১৫০০০ ৮৪০
২০০৮ ১৪ ১৫০০০ ৮৪০
২০০৯ ১৪ ১৫০০০ ৯০০
২০১০ ১৩ ১৫০০০ ৮৩০
২০১১ ১৩ ১৬০০০ ৮৪০
২০১২ ১৭ ২২০০০ ৮৫৬
২০১৩ ১৭ ২২০০০ ৮৩৮
২০১৪ ২২ ২৫০০০ ১০৫৫
২০১৫ ২৪ ৩০০০০ ১২৬১
২০১৬ ২৪ ৩২০০০ ১৩৫০
২০১৭ ১৫ ২২০০০ ১১২০
২০১৮ ৩৫ ২৫০০০ ১৩০০
২০১৯ ৬৬ ৫০০০০ ১৪০০

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ীরা[সম্পাদনা]

আইএমও ২০০৯-এ বাংলাদেশ দল
আইএমও ২০১৩-এ বাংলাদেশ দল

প্রতিবছর সারা বিশ্বের নিবন্ধনকৃত সদস্য দেশগুলোর গণিতবিদদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) প্রতিযোগিতা। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো আইএমওতে বাংলাদেশের পক্ষে সামিন রিয়াসাত এবং নাজিয়া চৌধুরী ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।[৫] ২০১২ সালে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম রৌপ্য পদক অর্জন করেন ধনঞ্জয় বিশ্বাস।[৬] আর ২০১৮ সালের বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণ পদক অর্জন করেন আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী। নিম্নে ২০২০ সাল পর্যন্ত পদকজয়ী বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হল:

সাল প্রতিযোগীর নাম পদক
২০০৯ সামিন রিয়াসাত ব্রোঞ্জ
নাজিয়া চৌধুরী ব্রোঞ্জ
২০১০ তারিক আদনান ব্রোঞ্জ
২০১১ ধনঞ্জয় বিশ্বাস ব্রোঞ্জ
২০১২ ধনঞ্জয় বিশ্বাস রৌপ্য
সৌরভ দাশ ব্রোঞ্জ
নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ ব্রোঞ্জ
২০১৩ নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ ব্রোঞ্জ
আদীব হাসান ব্রোঞ্জ
সৌরভ দাশ ব্রোঞ্জ
২০১৪ নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ রৌপ্য
আদীব হাসান ব্রোঞ্জ
২০১৫ মো. সানজিদ আনোয়ার রৌপ্য
আদীব হাসান ব্রোঞ্জ
আসিফ-ই-ইলাহী ব্রোঞ্জ
মো. সাব্বির রহমান ব্রোঞ্জ
সাজিদ আখতার তূর্য ব্রোঞ্জ
২০১৬ আসিফ-ই-ইলাহী রৌপ্য
আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী ব্রোঞ্জ
মো. সাব্বির রহমান ব্রোঞ্জ
সাজিদ আখতার তূর্য ব্রোঞ্জ
২০১৭ আসিফ-ই-ইলাহী রৌপ্য
আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী রৌপ্য
রাহুল সাহা ব্রোঞ্জ
তামজীদ মোর্শেদ রুবাব ব্রোঞ্জ
২০১৮ আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী স্বর্ণ
তাহ্‌নিক নূর সামীন ব্রোঞ্জ
জয়দীপ সাহা ব্রোঞ্জ
তামজীদ মোর্শেদ রুবাব ব্রোঞ্জ
২০১৯ এম. আহসান আল মাহীর ব্রোঞ্জ
২০২০ আহমেদ ইত্তিহাদ হাসিব রৌপ্য
এম. আহসান আল মাহীর ব্রোঞ্জ
মো. মারুফ হাসান রুবাব ব্রোঞ্জ
আদনান সাদিক ব্রোঞ্জ
সৌমিত্র দাশ ব্রোঞ্জ
রাইয়্যান জামিল ব্রোঞ্জ
২০২১ মো. মারুফ হাসান রুবাব ব্রোঞ্জ
তাহমিদ হামীম চৌধুরী ব্রোঞ্জ
আদনান সাদিক ব্রোঞ্জ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মুহম্মদ জাফর ইকবাল"আমাদের গণিত অলিম্পিয়াড"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১ 
  2. The First Math Olympiad ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে- বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইট
  3. তারিক আদনান মুন। "গণিত অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি: কিছু সাধারণ প্রশ্নের জবাব (FAQ): পর্ব ১"। মার্চ ২৯, ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২১ 
  4. "গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরসমূহ"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২১ 
  5. "Bangladesh at International Mathematical Olympiad 2009"আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২১ 
  6. "Bangladesh at International Mathematical Olympiad 2012"আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]